13/09/2024
সাধুর নগরে বেশ্যা মরেছে পাপের হয়েছে শেষ,
বেশ্যার লাশ হবে না দাফন এইটা সাধুর দেশ।
জীবিত বেশ্যা ভোগে তো আচ্ছা মরিলেই যত দোষ,
“দাফন কাফন হবে না এখানে”, সবে করে ফোঁসফোঁস।
বেশ্যা সে তো ছিল খাস মাল তোদের রাতের রানী,
দিনের বেলায় ভুরু কোচকাও, মরিলে দাও না পানি।
সাধু সুনামের ভেক ধরিয়া দেখালি দারুন খেলা,
মুখোশ তোদের খুলবে অচিরে, আসবে তোদের বেলা।
রাতের আধারে বেশ্যার ঘর স্বর্গ তোদের কাছে,
দিনের আলোতে চিনোনা তাহারে, তাকাও নাকো লাজে।
চিনি চিনি ভাই সব সাধুরেই, হরেক রকম সাজ,
সুযোগ পেলেই দরবেশী ছেড়ে দেখাও উদম নাচ।
নারী আমাদের মায়ের জাতি, বেশ্যা বানালো কে?
ভদ্র সমাজে সতীর ছেলেরা খদ্দের সেজেছে।
গরিবের বৌ সস্তা জিনিস সবাই ডাকো ভাবি,
সুযোগ পেলেই প্রস্তাব দাও, আদিম পাপের দাবি।
স্বামী যখন মরলো ভাবির দুধের শিশু কোলে,
ভদ্র দেবর সুযোগ খোঁজে সহানুভূতির ছলে।
দিনের মতো দিন চলে যায় হয় না তাতে দোষ,
মরা লাশের সুযোগ পেয়ে কাঠ মোল্লার রোষ।
মোল্লা সাহেব নায়েবে রসুল ফতোয়া ঝাড়িয়া কয়,
“পতিতা নারীর জানাজা কবর এই এলাকায় নয়।”
সুধাই আমি, “ওরে মোল্লা জানাজায় যত দোষ,
বেশ্যার দান নিয়েছো ঝোলায়, তুমি বেটা নির্দোষ।”
বেশ্যার তবু আছে পাপ বোধ নিজেকে সে ভাবে দোষী,
তোমরা তো বেটা দ্বীন বেচে খাঁও, হচ্ছো খোদার খাসি।
আল্লাহর ঘর মসজিদেও আছে বেশ্যার দান,
কলেমা পড়েছে সেওতো তবে নামেতে মুসলমান।
“বেশ্যা নারী, বেশ্যা নারী” পুরুষেরা সব সৎ,
জানি ও মোল্লা খুলবেনা মুখ, চাকরি যাওয়ার পথ।
আর কতকাল থাকবি অমন মুখোশধারীর দল,
আসবো এবার মশাল নিয়ে ভাঙতে তোদের কল।
সত্যের আলো জ্বলবে যখন চিনবে তোদের সবে,
লেবাসধারী মুখোশধারীর মুখোশ উপড়ে যাবে।
এইভাবে আর চালাবি কত ছলচাতুরির খেলা,
আসছেন তিনি এবার তোদের বিদায় নেওয়ার পালা।
২০১৯ সালের শেষদিকে খুলনার রূপসার রহিমনগর এলাকায় একজন পতিতা খুন হন। এসময় তার জানাজা পড়া ও তাকে দাফন করা নিয়ে এলাকায় অনেক বাজে পরিস্থিতির তৈরি হয়। এই ঘটনা অবলম্বনে শেখ সাজ্জাদুল ইসলাম ২০১৯ সালে ‘সাধুর নগরে বেশ্যা মরেছে’ শীর্ষক কবিতাটি লিখেছিলেন এবং পরবর্তীতে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন।