13/06/2025
ভাই, শোনো একটু...
অনেকেই ভাবেন, "রাষ্ট্র আর রাজনীতি নিয়ে এত মাথা ঘামানোর কী দরকার? আমি নিজে সৎ থাকবো, সততার পথে চলবো, ভালো মুসলিম হয়ে জীবন কাটাবো। ব্যাস, এটাই যথেষ্ট; জান্নাত তো আমার জন্যই অপেক্ষা করছে!"
ভাই, এই চিন্তাটা একেবারেই ভুল।কেন ভুল, তা একটু খোলাসা করে বলি।
তুমি কি কখনো ভেবে দেখেছ, যে রাষ্ট্রে আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠিত নেই, যেখানে শাসন ব্যবস্থা কুরআন-সুন্নাহর আলোকে গঠিত নয় – সেখানে ব্যক্তিগতভাবে ভালো মুসলিম বা মুমিন হওয়া আদৌ সম্ভব কিনা? বাস্তবতা তো করুণ চিত্রই তুলে ধরে:
1.চাকরি-বাকরি: ঘুষ ছাড়া চাকরি মেলে না, পদোন্নতি তো দূরের কথা।
2.অর্থনীতি: ঋণ নিতে গেলেই সুদের ফাঁদ। হালাল উপায়ে টাকা পাওয়া দুষ্কর।
3.ব্যবসা-বাণিজ্য: ভেজাল ছাড়া পণ্য পাওয়াই কষ্টকর। সততা দিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা চরম চ্যালেঞ্জ।
4.বিচার ব্যবস্থা: আদালতে গেলেই টাকার খেলা, ইনসাফের জন্য 'কথা' (রিশওয়াত) ছাড়া গতি নেই।
5.মিডিয়া ও প্রযুক্তি: টিভি, ফোন খুললেই চোখে পড়ে অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, নগ্নতার ছড়াছড়ি। হালাল কনটেন্ট খুঁজে পাওয়াই কষ্টকর।
6.ইবাদতগাহ:পবিত্র মসজিদেও ঢুকে গেছে ধর্মব্যবসা। স্বার্থান্বেষী ইমাম ও কমিটির দাপটে ঈমানী পরিবেশ বিষিয়ে উঠতে দেখা যায়।
এখন ভাবুন তো...
রাষ্ট্রে যদি চলে দুঃশাসন আর জুলুম।
রাজনীতিতে যদি চলে দলাদলি, হানাহানি আর স্বার্থপরতা।
অর্থনীতির ভিত্তি যদি হয় সুদ আর শোষণ,
অফিস-আদালতে যদি ঘুষ আর দুর্নীতির ছড়াছড়ি।
আদালতে যদি অবিচার আর স্বজনপ্রীতি চূড়ান্ত রূপ ধরে,
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যদি মারামারি আর ভণ্ডামি রাজত্ব করে,
বাজারে যদি সিন্ডিকেট আর ভেজালেরএকচ্ছত্র আধিপত্য,
মসজিদ-মাদ্রাসায় যদি ধর্মব্যবসা আর কূপমণ্ডূকতা..
ভাই, এমন একটি ব্যবস্থার ভেতর থেকে ব্যক্তিগতভাবে ভালো মুসলিম হয়ে উঠতে চাওয়ার চেষ্টা, একদম নদীর তীব্র স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটার মতোই অসম্ভব এক সংগ্রাম।সমাজের প্রতিটি স্তর, প্রতিটি প্রতিষ্ঠান যদি পাপ আর অন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ায়, তাহলে একজন মানুষ কীভাবে একা সত্য আর সততার পথে অবিচল থাকবে? এই ব্যবস্থা সততাকে শাস্তি দেয়, অসততাকে পুরস্কৃত করে। অন্যায়কে সহজ করে দেয়, আর ন্যায়কে করে তোলে কণ্টকাকীর্ণ।
তাহলে উপায় কী?
উপায় হলো: ব্যক্তিগত সততার পাশাপাশি, সমষ্টিগতভাবে আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়া।তাওহীদের ভিত্তিতে আমাদের জাগতে হবে। আমাদের দাবি জানাতে হবে:
"আল্লাহর দেওয়া কুরআনের বিধান অনুসারেই গড়ে উঠুক আমাদের:
> রাষ্ট্র ব্যবস্থা,
> অর্থব্যবস্থা,
> বিচার ব্যবস্থা,
> শিক্ষা ব্যবস্থা,
> ব্যবসা-বাণিজ্যের নীতিমালা,
> সরকার পরিচালনার পদ্ধতি।"
কেন?
কারণ, শুধুমাত্র আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠিত হলেই আমরা পেতে পারি এমন একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ
যেখানে:
ন্যায়কে উৎসাহিত করা হবে আর অন্যায়কে দমন করা হবে।
সততার পথ হবে সহজ, প্রশংসিত ও নিরাপদ।
অন্যায়ের পথ হবে কঠিন, নিন্দিত ও বিপজ্জনক।
ভাই, সততার পথে চলতে গেলে শুধু নিজের মনকে শক্ত করলেই হবে না, সমাজের বাতাসকেও সততার অনুকূলে বদলাতে হবে।আর সেটা সম্ভব শুধুমাত্র রাষ্ট্রের সর্বস্তরে আল্লাহর দীন কায়েমের মাধ্যমেই। এটাই আমাদের প্রকৃত দায়িত্ব, এটাই জান্নাতে পৌঁছার সত্যিকারের সিঁড়ি। নিজেকে বদলানোর পাশাপাশি, ব্যবস্থাটাকেও বদলানোর সংগ্রামে নামতে হবে। এটাই তাওহীদের দাবি, এটাই মুমিনের কর্তব্য।
#ইসলামীসমাজ #আল্লাহরবিধান #সত্যেরপথ #মুমিনেরদায়িত্ব #দ্বীনকায়েম #ইসলামিকরাষ্ট্র #ন্যায়বিচার #সুদমুক্তসমাজ #ঘুষমুক্তসমাজ #ভেজালমুক্তসমাজ #অশ্লীলতামুক্তসমাজ #ধর্মব্যবসামুক্তসমাজ #কোরআনওসুন্নাহ #ইসলামীআন্দোলন #তাওহীদেরঐক্য #সতসমাজগঠন #জান্নাতেরপথ #ইসলামীজীবনব্যবস্থা #হকওবাতিল #স্রোতেরবিপরীতেসাতার