18/05/2026
মিডিয়ার নীরবতা এবং আমাদের দ্বিমুখী সমাজ ব্যবস্থা
একটি সুস্থ ও সভ্য সমাজের মেরুদণ্ড হলো নিরপেক্ষতা এবং বিবেক। কিন্তু আমাদের দেশের কিছু কিছু ক্ষেত্রে যে দ্বিমুখী নীতি (Double Standard) দেখা যায়, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও দুঃখজনক।
সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, নারী শিক্ষার একটি বড় এবং নিরাপদ মাধ্যম—মহিলা মাদ্রাসাগুলোর সামান্য কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি বা ভিন্নমত পেলেই একশ্রেণীর মানুষ সেগুলোর বন্ধের দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। অথচ একই দেশে যখন স্কুল, কলেজ কিংবা পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে নানাবিধ অনৈতিকতা, অশ্লীলতা এবং মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে, তখন চারপাশটা অদ্ভুতভাবে শান্ত হয়ে যায়!
সবচেয়ে বেশি অবাক লাগে আমাদের দেশের মূলধারার সাংবাদিক ও মিডিয়া মহলের ভূমিকা দেখে। তারা সমাজের আয়না হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু:
যেখানে মাদ্রাসা সংক্রান্ত যেকোনো নেতিবাচক খবর তারা ব্রেকিং নিউজ হিসেবে প্রচার করেন, সেখানে আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ঘটে যাওয়া ভয়ংকর অনৈতিকতা ও পশ্চিমা সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণে তরুণ সমাজের নৈতিক পতন নিয়ে তাদের কলম কেন স্তব্ধ হয়ে থাকে?
কেন সুস্থ ও শালীন পরিবেশের পক্ষে কথা না বলে, কেবল একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে টার্গেট করা হয়?
ইসলামের দৃষ্টিতে এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নারী শিক্ষা কোনো অপরাধ নয়, বরং তা আবশ্যক। মাদ্রাসাগুলো হাজার হাজার নারীকে দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলছে, যা একটি সমাজকে ভেতর থেকে সুন্দর করে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক ত্রুটি থাকে, তবে তা সংশোধন করা হোক। কিন্তু ঢালাওভাবে তা বন্ধের দাবি তোলা কখনোই কোনো সুস্থ মানসিকতার পরিচয় হতে পারে পারে না।
পক্ষান্তরে, আধুনিক শিক্ষার নামে শিক্ষাঙ্গনগুলোতে যে নৈতিক অবক্ষয় ও অশ্লীলতা জেঁকে বসছে, তা নিয়ে মিডিয়ার এই রহস্যজনক নীরবতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক বড় বিপর্যয় ডেকে আনছে।
আসুন, আমরা অন্ধ সমালোচনা ও সস্তা সেনসেশনাল সাংবাদিকতা পরিহার করি। সভ্য সমাজ গড়তে হলে সব জায়গার অনৈতিকতার বিরুদ্ধে সমানভাবে সোচ্চার হতে হবে। শিক্ষাঙ্গন হোক পবিত্র, নিরাপদ এবং নৈতিকতায় সমৃদ্ধ।
#বিবেক_জাগ্রত_হোক #দ্বিমুখী_নীতি #নৈতিক_অবক্ষয় #মিডিয়া_ভূমিকা #সুস্থ_সমাজ_চাই