Md. Al Amin

Md. Al Amin It's my travel content creator page

চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র ও স্বাধীনতার ঘোষনা প্রচার ঘিরে ঐতিহাসিক বিতর্ক ও বিকৃতি আমাদের স্কুল জীবন থেকে দেখে আসছি...
27/03/2026

চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র ও স্বাধীনতার ঘোষনা প্রচার ঘিরে ঐতিহাসিক বিতর্ক ও বিকৃতি আমাদের স্কুল জীবন থেকে দেখে আসছি। ৪ দশক পার করেও দেখছি একই বৃত্তে সেটি ঘুরপাক খাচ্ছে। ব্যাপারটি হতাশাজনক।
আমি নিজের কাছে পরিস্কার থাকার জন্য নির্দিষ্ট এই ঘটনাটি নিয়ে অনুসন্ধান করে সিদ্ধান্তে আসার চেষ্টা করেছি। যে সোর্সগুলোর ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে এসেছি সেগুলো হচ্ছে- স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, নবম খন্ড। লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে, রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম। স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র, প্রফেসর ডাঃ এম সুলতান উল আলম। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র, বেলাল মোহাম্মদ। বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ, ডাঃ মাহফুজুর রহমান।

এবার আসা যাক আমি কী কী জেনেছি।

২৬ মার্চ ভোরবেলা বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষনার টেলিগ্রাম পাওয়ার পর চট্টগ্রাম সংগ্রাম কমিটির নেতাদের উদ্যোগে হাজার হাজার কপি সাইক্লোস্টাইল করে বিতরনের পাশাপাশি শহরে মাইক দিয়ে ঘোষনা চলতে থাকে। এর আগের রাত সন্ধ্যা ৭টায় নেতৃবৃন্দের কাছে বঙ্গবন্ধুর টেলিফোন নির্দেশনার প্রেক্ষিতে রাত ৮.৪৫ মিনিটে পাকিস্তানী সেনা অবস্থানের উপর আক্রমনের মাধ্যমে সশস্ত্র যুদ্ধের সুচনা করেন ইপিআরের ক্যাপ্টেন রফিক। রফিকের নেতৃত্বে প্রতিরোধ যুদ্ধটি শহরের ভেতর ২৬ মার্চ তারিখেও চলমান থাকে৷
৮ম বেঙ্গল রেজিমেন্টের সহ অধিনায়ক জিয়াউর রহমান ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বিদ্রোহ করে, শহরের ভেতরের যুদ্ধে যোগ না দিয়ে ট্রুপ সহ ভোরবেলা যাত্রা শুরু করে কালুরঘাট পার হয়ে পটিয়ায় গিয়ে অবস্থান গ্রহন করেন।

২৬ মার্চ সকাল বেলা সংগ্রাম কমিটির নেতৃবৃন্দ সিদ্ধান্ত নেন, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষনাটি বেতারে সম্প্রচারের। ক্যাপ্টেন রফিকও সম্মতি দেন তবে একমাত্র অফিসার হিসেবে তিনি সামরিক কন্ট্রোলরুম ছেড়ে বেতারে যেতে পারবেন না বলে জানান। পরে নিরাপত্তার দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়- শহরের কেন্দ্র আগ্রাবাদে অবস্থিত চট্টগ্রাম বেতারের বদলে কালুরঘাট সম্প্রচার কেন্দ্রটি ব্যবহার করা হবে।

প্রথম অধিবেশনঃ ২৬ মার্চ দুপুর ১.১০ মিনিট
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে যান আওয়ামী লীগ নেতা জহুর আহমদ চৌধুরী, এম আর সিদ্দিকী, এম এ হান্নান, মোশাররফ হসেন, ডাঃ এম এ মান্নান, আতাউর রহমান খান কায়সার, আখতারুজ্জামান বাবু, ডাঃ আবু জাফর, মীর্জা মনসুর, ছাত্রলীগ নেতা রাখাল চন্দ্র বণিক ও শাহ-ই-জাহান চৌধুরী। কারিগরী ব্যবস্থাপনার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় বেতারের আঞ্চলিক প্রকৌশলী মীর্জা নাসিরউদ্দিন, প্রকৌশলী আব্দুস সোবহান ও দেলওয়ার হোসেনকে। প্রকৌশলীরা সম্প্রচারের জন্য বেতার চালু করেন।নেতারা মিলে ঘোষনার খসড়া রচনা করেন। রাখাল বণিকের কন্ঠ প্রথম ভেসে আসে- ‘ চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র, একটি বিশেষ ঘোষনা। একটু পরেই জাতির উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষনা দেবেন চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের বিপ্লবী সাধারন সম্পাদক এম এ হান্নান। আপনারা যারা রেডিও খুলে বসে আছেন তাঁরা রেডিও বন্ধ করবেন না’। এরপর এম এ হান্নান ঘোষনাটি পাঠ করেন। প্রথমে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র বললেও পরে রাখাল বণিক স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র বলতে থাকেন। এম এ হান্নানের ঘোষনা পাঠও প্রচারিত হতে থাকে।
এরপর নেতারা শহরে ফিরে আসেন। বেতার কেন্দ্রে রয়ে যান ছাত্রনেতা শাহ-ই-জাহান চৌধুরী।

দ্বিতীয় অধিবেশনঃ ২৬ মার্চ সন্ধ্যা ৭.৪০ মিনিট
২৬ মার্চ সকালে ডাঃ শফি ও বেগম মুশতারী শফির বাসায় বসে বেতার চালু করার আলোচনা করেন চট্টগ্রামে বেতারে কর্মরত কয়েকজন- বেলাল মোহাম্মদ, আবুল কাশেম সন্দ্বীপ, আব্দুল্লাহ আল ফারুক প্রমুখ। তারা প্রথমে যান রাজনৈতিক নেতাদের কাছে, তারা সবাই যখন ব্যস্ত ছিলেন যুদ্ধরত ইপিআরদের সাহায্য করতে। এখান থেকে প্রখ্যাত নাট্যকার মমতাজউদ্দিন যোগ দেন। সবাই মিলে যান আগ্রাবাদ বেতার কেন্দ্রে। একই উদ্দেশ্যে এসময় আগ্রাবাদ বেতার কেন্দ্রে হাজির হন ঐ এলাকার ডাঃ আনোয়ার আলী সহ কয়েকজন। ডাঃ আলীর কাছে ছিল বঙ্গবন্ধুর ঘোষনার কপি।
আগ্রাবাদ কেন্দ্রের আঞ্চলিক প্রকৌশলী কাহহার পরামর্শ দেন কালুরঘাট যেতে। পরামর্শ অনুযায়ী সবাই মিলে কালুরঘাট পৌঁছান। এখানে প্রথম ঘোষনা দেন আবুল কাসেম সন্দ্বীপ। সংবাদ পাঠ করেন সুলতান উল আলম। সন্ধ্যার পর ডাঃ জাফর ও এম এ হান্নান আবার আসলে বেলাল মোহাম্মদের অনুরোধে এম এ হান্নান আবার স্বাধীনতার ঘোষনা পাঠ করেন।

তৃতীয় অধিবেশন: ২৬ মার্চ রাত ১০টা
মাহমুদ হোসেন, ফারুক চৌধুরী (আগ্রাবাদ হোটেলের সহকারী ম্যানেজার), বেতার শিল্পী রঙ্গলাল দেব চৌধুরী রাত ১০টায় বেতার চালু করেন।

চতুর্থ অধিবেশন : ২৭ মার্চ সকাল ১০.৩০ মিনিট
এই অধিবেশনটি পরিচালনা করেন ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের নেতারা। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষনা পাঠের সাথে বাংলা ও ইংরেজী সংবাদ এবং কথিকা পাঠ করা হয়।

পঞ্চম অধিবেশনঃ ২৭ মার্চ সন্ধ্যা ৭টা, বঙ্গবন্ধুর পক্ষে মেজর জিয়ার ঘোষনা পাঠ
এদিন সকাল বেলা বেলাল মোহাম্মদ পটিয়ায় গিয়ে মেজর জিয়াকে অনুরোধ করেন, বেতার ভবনের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য। মেজর জিয়া তৎক্ষনাৎ কয়েকজন সৈন্য পাঠিয়ে দেন। তিনি নিজে বেতার কেন্দ্রে আসেন বিকেল ৫টায়। বেলাল মোহাম্মদের সাথে অধ্যাপক মমতাজউদ্দিন আহমদও ছিলেন। তাঁরা মেজর জিয়াকে অনুরোধ করেন স্বাধীনতার ঘোষনা পাঠ করতে। মেজর জিয়া বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে স্বাধীনতার ঘোষনা পাঠ করেন।

যষ্ঠ অধিবেশন: ২৭ মার্চ রাত ৯.৩০ মিনিট- মেজর জিয়ার নিজেকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধান ঘোষণা
মেজর জিয়া হঠাৎ করেই আবার বেতারে আসেন রাত ৯.৩০ মিনিটে তার সামরিক অফিসারদের নিয়ে। আবার বেতার চালু হয়। আমিনুর রহমান ও আবদুস শুকুর নামে দুজন বেতার কর্মী ছাড়া উল্লেখযোগ্য কেউ ছিলেন না তখন। এবারের ভাষনে মেজর জিয়া নিজেকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ঘোষণা দেন।

সপ্তম অধিবেশনঃ ২৮ মার্চ সকাল ৯টার পর
এই অধিবেশনে বেলাল মোহাম্মদ, অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ, সেকান্দর হায়াত খান, ল্যাফটেনেন্ট শমসের মবিন চৌধুরী, ক্যাপ্টেন সুবিদ আলী ভুঁইয়া উপস্থিত ছিলেন। মেজর জিয়ার নিজেকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধান ঘোষনাটি পুনঃ প্রচার হয়। দিনের বেলা সম্প্রচারে এই ঘোষনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়। এম এ হান্নানের নির্দেশে চট্টগ্রাম ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সাধারন সম্পাদক সাবের আহমদ আসগরী এসে মেজর জিয়াকে জানান- অবিলম্বে ঘোষনা বদলাতে হবে, না হলে সংগ্রাম পরিষদ অন্য কোন সেনা অফিসার দিয়ে নতুন করে ঘোষনা দেয়াবে। কিছুক্ষন চিন্তা করে জিয়া বেতার কেন্দ্রে যান।

অষ্টম অধিবেশনঃ ২৮ মার্চ দুপুর ২টার পর
এই অধিবেশনে মেজর জিয়া বঙ্গবন্ধুর পক্ষে আবারো স্বাধীনতা ঘোষনা পাঠ করে বিভ্রান্তির অবসান ঘটান। এরপর থেকে এই ঘোষনাটি বারবার প্রচার হতে থাকে।

কালুরঘাট থেকে মোট ১৪টি অধিবেশনে অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়। ৩০ মার্চ বেতার কেন্দ্র লক্ষ্য করে পাকিস্তানীরা বিমান আক্রমন করলে সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। ৩১ মার্চ ট্রান্সমিটারটি খুলে পটিয়া, বান্দরবন, রামগড় ঘুরে বিএসএফ এর সহযোগীতায় ৮ এপ্রিল বিলোনিয়ার এক পাহাড়ে আবার চালু হয়।

ছবি ও লেখা সংগৃহীত
Hasan Murshed

আধাসামরিক ইপিআর-এর ওয়্যারলেস এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা৭ মার্চের ভাষণের প্রতিক্রিয়া এভাবে ধাপে ধাপে ২৫ মার্চ পর্যন্ত পেী...
25/03/2026

আধাসামরিক ইপিআর-এর ওয়্যারলেস এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা

৭ মার্চের ভাষণের প্রতিক্রিয়া এভাবে ধাপে ধাপে ২৫ মার্চ পর্যন্ত পেীছে। ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করলেন, কখন দেশবাসীর কাছে তার সেই বাণী পৌছে দিতে সহায়ক হয়ে উঠল আধাসামরিক বাহিনীর একটি ওয়্যারলেস সেট। পাকিস্তানি সৈন্যরা ২৫ মার্চ রাতে কামান, মর্টার ও রাইফেল ইত্যাদি নিয়ে অতর্কিতে বাঙালির ওপর যখন ঝাঁপিয়ে পড়ে, বঙ্গবন্ধু তখন গ্রেফতার হওয়ার ঠিক পূর্বমুহূর্তে তার সর্বশেষ বাণী বাংলার মানুষের কাছে পাঠান এই মর্মে :
This may be my last message. From today Bangladesh is independent. I call upon the people to Bangladesh wherever you might be and with whatever you have, to resist army of occupation to the last. Your fight must go on until the last soldier of the Pakistan occupation army is expelled from the soil of Bangladesh and final victory is achieved.
[স্বাধীনতার দলিল, ৩য় খণ্ড]
[এটাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। বাংলাদেশের জনগণ, তোমরা যে যেখানেই আছ এবং যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শেষ পর্যন্ত দখলদার সৈন্য বাহিনীকে প্রতিরোধ করার জন্য আমি তোমাদের আহ্বান জানাচ্ছি। পাকিস্তান দখলদার বাহিনীর শেষ সৈনিকটিকে বাংলাদেশের মাটি থেকে বিতাড়িত করে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তোমাদের যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে।’ (সূত্র: অসমাপ্ত আত্মজীবনী)]

এ প্রসঙ্গে জেনারেল টিক্কা খানের জনসংযােগ অফিসার সিদ্দিক সালিক সাক্ষ্য দিয়েছেন :
পাকিস্তান রেডিওর সরকারি তরঙ্গের (ওয়েভ লেংথ-এর) কাছাকাছি একটি তরঙ্গ থেকেও ২৫ মার্চ রাতে শেখ মুজিবের এই ঘোষণা ক্ষীণ কণ্ঠে ভেসে উঠেছিল। [সিদ্দিক সালিক, নিয়াজীর আত্মসমর্পণের দলিল (ভাষান্তর : মাসুদুল হক), ঢাকা : নভেল পাবলিকেশন্স, ১৯৮৮, পৃষ্ঠা ৮৫]। সিদ্দিক সালিক ১৯৭১ সালে ঢাকায় হানাদার পাকিস্তানিদের গণসংযোগ অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন- লেখক।

বাংলার অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যখন ইপিআর ওয়্যারলেসযোগে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করছিলেন, তখন সবে পাকবাহিনী ক্যান্টনমেন্ট থেকে বের হচ্ছে। এরা ফার্মগেট এসে পৌছামাত্র প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়। তারপর তারা পিলখানায় ইপিআর ও রাজারবাগে পুলিশের দুর্গ দুটিতে আক্রমণ চালায়। বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হওয়ার পূর্বমুহূর্তে এ খবর পেয়েছিলেন। ফলে তিনি আরেকটি বার্তা ঢাকার টিঅ্যান্ডটি মারফত পাঠান। ঢাকার টিঅ্যান্ডটির (টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন) এক্সচেঞ্জ তখনো খোলা ছিল। সর্বশেষ যে বার্তাটি তিনি পাঠান, তাতে বলা হয় ।
পাকিস্তানি সৈন্যবাহিনী পিলখানায় পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের সদর দপ্তর আর রাজারবাগ পুলিশ লাইনের ওপর আক্রমণ করেছে। সমস্ত শক্তি জড়ো করে প্রতিরোধ করুন আর স্বাধীনতার জন্যে প্রস্তুতি নিন। [রবার্ট পেইন : ম্যাসাকার (বাংলাদেশ- গণহত্যার ইতিহাসে ভয়ংকর অধ্যায়, ভাষান্তর : গোলাম হিলালী), ঢাকা : ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড, প্রকাশের তারিখ নেই, পৃষ্ঠা ১৬-১৭]

বস্তুত এভাবে বঙ্গবন্ধুর উক্তিতেও বাণীবদ্ধ হয়ে আছে আধাসামরিক বাহিনী ইপিআর (বর্তমান বিডিআর) ও পুলিশ বাহিনীর স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মত্যাগের কথাটি। আর সেদিন বঙ্গবন্ধুর বাণীও দেশবাসীর কাছে পৌছে দিয়েছিল এই আধাসামরিক বাহিনী। অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্য দিয়ে সেদিন তারা দেশবাসীর কাছে বঙ্গবন্ধুর বাণী পৌছে দিয়ে এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিল।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতেই পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে নিহত হয় অসংখ্য ছাত্র, পুলিশ, সেনাবাহিনীর নিয়মিত সদস্য এবং ইপিআর বাহিনীর বাঙালি স্বাধীনতাকামী সদস্যরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইকবাল হল (জহুরুল হক হল), রাজারবাগ পুলিশ লাইন এবং পিলখানা ইপিআর সদর দপ্তরে এসব যুদ্ধ সংঘটিত হয়। পরদিন ২৬ ও ২৭ মার্চ সারা দিনই রাজধানী ঢাকা শহরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বাঙালি ছাত্র ও বাঙালি সৈনিকদের মধ্যে প্রকাশ্যে খণ্ডযুদ্ধ চলতে থাকে। ঢাকা সেনানিবাস থেকে বাঙালি লেফটেন্যান্ট আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে তেজগাঁও ড্রাম ফ্যাক্টরির কাছে ইপিআর, আনসার, মুজাহিদ ও ছাত্র-শ্রমিকদের এক বিশাল দল সম্মিলিতভাবে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ট্যাংক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যায়। ১ এপ্রিল পর্যন্ত দলটি ঢাকা শহরে সক্রিয় ছিল। পরে এদের সবাই হয় নিহত অথবা গ্রেফতার হয়ে যায়। [মেজর রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম, লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে, পৃষ্ঠা ৩০-৩১)

এই ঘটনাগুলোর কথা উদ্ধৃত করা হচ্ছে এ জন্যে যে, এসব মুক্তিযোদ্ধার জন্য স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে নতুন কোনো ঘোষণা দিতে হয়নি, কারণ ঢাকা শহরে তখন সব ধরনের আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থা ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। তারা বঙ্গবন্ধুর আগের নির্দেশ মোতাবেকই 'একটি গুলি চললেই প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু হবে' এই আহবানে উদ্দীপ্ত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

ইপিআর-এর ওয়্যারলেসযোগে ২৫ মার্চ গভীর রাতে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার এই ঘোষণা কোন কোন ব্যক্তির মাধ্যমে সারা দেশে পাঠানো হয়েছিল এবং ঘোষণাটি ওয়্যারলেসের মাধ্যমে পাঠানো হলে যারা সেদিন তা গ্রহণ করেছিলেন, তার বিবরণ ও তাদের নাম বাংলাদেশ সরকারের গণভবনে খোদাই করে লেখা ছিল। বঙ্গবন্ধুর প্রচুর সোর্স ও গোপন যোগাযোগ সূত্র ছিল এবং সেটা থাকারই কথা। স্বাধীনতার প্রত্যক্ষ ঘোষণার বিষয়টি ছিল একটি গোপন বিষয়ও। শত্রুপক্ষের অগোচরে একান্ত ঘনিষ্ঠজন ছাড়া তিনি তা শেষ পর্যন্ত গোপন রাখতে সমর্থ হয়েছিলেন। যে যুদ্ধ ঘোষণাটি তিনি ২৫ মার্চ গভীর রাতে পাঠিয়েছিলেন, তিনি তা পাঠাতে চেয়েছিলেন পাকিস্তানিদের আক্রমণ শুরুর পর পরই। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তৎকালীন সামরিক কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিককাল পর্যন্ত বিভিন্ন স্মৃতি গ্রন্থ থেকে এখন স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে, পরিকল্পনা ছিল ২৬ মার্চ থেকে পাকিস্তানিরা বাঙালিদের ওপর আক্রমণ শুরু করবে। টিক্কা খানের পিআরও সিদ্দিক সালিক ও জেনারেল ফজল মুকিম খানের লেখা গ্রন্থ থেকে ব্যাপারটা স্পষ্টভাবে অনুধাবন করা যায় ।

কিন্তু আক্রমণটি আরও একদিন এগিয়ে এনে ২৫ মার্চ রাত ১২টায় করা হয়। আবার ২৫ মার্চ রাত ১২টার একঘণ্টা আগেই অর্থাৎ রাত ১১টায়ই ক্যান্টনমেন্ট থেকে পাক সেনাবাহিনী বেরিয়ে পড়ে।

ফলে বাঙালিদের ওপর পাকবাহিনীর আক্রমণ পরিকল্পনার তারিখ ও সময় ঘন ঘন পরিবর্তন হওয়ায় বঙ্গবন্ধুর পাকবাহিনীর হামলা প্রতিরোধ সংক্রান্ত রণকৌশল কিছু কিছু ক্ষেত্রে হোঁচট খেয়েছে। তিনি তার ঘোষণা ও বার্তা রেখে যাওয়ার জন্যে যেসব সোর্স এ ওয়্যারলেস ব্যবহার করবেন ভেবেছিলেন, তার অন্তত দুটির সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে, যা নিয়ে উৎকণ্ঠার অন্ত ছিল না।

[এসব উৎকণ্ঠার একটি ছিল প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. নুরুল উলার, যিনি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ওয়্যারলেস সেট তৈরি রেখেও শেষপর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ২৫ মার্চ রাতে যোগাযোগ করে উঠতে পারেননি। দ্বিতীয় উৎকন্ঠাটি এসেছিল ওয়ারির বলধা গার্ডেনে অবস্থিত একজন বাঙালি ইপিআর সদস্যের কাছ থেকে, যে ওয়্যারলেসটি শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে বলধা গার্ডেনের পুকুরে নিরাপত্তার স্বার্থে ফেলে দেয়া হয়েছিল]।

#বাংলাদেশ
#বঙ্গবন্ধু
#মুক্তিযুদ্ধ


Bangladesh Awami League

NO BOAT NO VOTE
30/01/2026

NO BOAT NO VOTE

27/09/2025

তাঁর গৌরবোজ্জ্বল প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় দেশ
এম. নজরুল ইসলাম

বাংলাদেশকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন তিনি। তাঁকে নিয়েও স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশ। যে স্বপ্ন নিয়ে ১৯৭১ সালে স্বাধীন হয়েছিল বাংলাদেশ, সপরিবারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মধ্য দিয়ে সেই স্বপ্নের সমাধি গড়তে চেয়েছিল প্রতিক্রিয়াশীল অপশক্তি। যাঁর নেতৃত্বে এই অপশক্তিকে রুখে দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ, তিনি শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের রাজনীতিতে চার যুগেরও বেশি সময় ধরে সক্রিয় তিনি। তাঁর হাত ধরে বাংলাদেশের ইতিবাচক সব অর্জন। ১৯৮১ সালে, যখন জান্তার বুটের তলায় পিষ্ট প্রিয় স্বদেশ, তিনি এসেছিলেন অবরুদ্ধ গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে। সেই থেকে জনকল্যাণের কঠোর ব্রত সাধনায় তাঁর দীর্ঘ পথচলা। বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়েছেন তিনি। পায়ে পায়ে পাথর সরিয়ে দেশের মানুষের জন্য তৈরি করেছিলেন গণতন্ত্রের এক শক্ত ভূমি। সেই পবিত্র ভূমি আজ আবার অপশক্তির দখলে। আজ তিনি আবার পরবাসে।
স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি একাত্তরে হেরে গেলেও তারা প্রতিশোধের, পাল্টা আঘাত হানার সুযোগ খুঁজতে থাকে। ১৯৭৫ সালে এবং তার পর থেকে আজ পর্যন্ত দেশের ইতিহাস উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার অপপ্রয়াস কম হয়নি। সর্বশেষ ইউনূস সাহেবও রিসেট বাটন টিপেছেন, আগের ইতিহাস মুছে দিয়ে নতুন ইতিহাস লেখার জন্য। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বড় দুঃসময়ে জাতির নেতৃত্ব হাতে নিয়েছিলেন তাঁরই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা। আজ তিনি একইভাবে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন। তাঁর সাহসী নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পুনর্গঠিত হয়েছে। দেশ এগিয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্বে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে। নতুন এই ষড়যন্ত্রও স্থায়ী হবে না। তিরিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশ কখনো পথ হারাবে না, হারাতে পারে না।
অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে একটি ’চেপে বসা অপশক্তি’ আজ আবার মুক্তিযুদ্ধের সব অর্জনকে নস্যাৎ করতে উঠেপড়ে লেগেছে। শেখ হাসিনা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার নেতৃত্বকে নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে, কুৎসা রটনা করা হচ্ছে এবং দিনেরাতে মিথ্যার বেসাতি চলছে। বাঙালিকে, বাংলাদেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চলছে। আমরা জানি, তারা অতীতেও সফল হয়নি, আজও সফল হবে না। ১৯৮১ সাল থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনা যে প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়ে চলেছেন, যে দৃঢ়তার পরিচয় দিয়ে চলেছেন, তা কখনো হেরে যাবার নয়। তিনি যে আদর্শ, যে প্রতিজ্ঞা মাথায় তুলে নিয়েছেন তাকে হারানো সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ আজকের রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক অগ্রযাত্রায় তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। বাংলাদেশের ইতিবাচক পরিবর্তনের অগ্রনায়ক তিনি। বলার অপেক্ষা রাখে না, তাঁকে ঘিরেই সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশ। স্বাধীনতার শত্রুদের অন্তর্জ্বালা সেখানেই। তাঁরা শেখ হাসিনাকে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে, মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত বাংলাদেশকে সহ্য করতে পারে না। সে কারণে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। চট্টগ্রামে, কোটালিপাড়ায় তাঁকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে গ্রেনেড হামলা করা হয়েছে। প্রতিবারই বাংলার মানুষের ভালোবাসার কাছে পরাজিত হয়েছে শক্র। তারপরও ষড়যন্ত্র বন্ধ হয়নি তাঁকে নিয়ে। সর্বশেষ আঘাত এসেছে ২০২৪ সালের আগস্টে।
কল্যাণমন্ত্রে যাঁর দীক্ষা, রবীন্দ্রনাথের ভাষায় ‘মানুষের ধর্ম’ যিনি ধারণ করেন হৃদয়ে, জনগণের সেবা যাঁর ব্রত, তিনিই তো অমৃতের সন্তান। সামরিকতন্ত্র ও ‘কার্ফিউ গণতন্ত্রে’র দেড় দশকের দুঃশাসন এবং গণতন্ত্রের নামে দুই দফায় এক দশকের অপশাসনের মূলোৎপাটন করে যিনি বাংলাদেশকে আজ নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়। যে অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চেতনা তিনি ধারণ করেন, তা বাস্তবায়নে তাঁর দার্ঢ্য আমাদের বিস্মিত করে। তাঁর এই দৃঢ়তার পরিচয় আমরা পেয়েছি ওয়ান-ইলেভেন নামের চেপে বসা শাসনামলেও। রাজনীতি থেকে তাঁকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা তখনো হয়েছে। মিথ্যা মামলা, দীর্ঘদিনের কারাবাস তাঁকে তাঁর লক্ষ্য থেকে বিচ্যূত করতে পারেনি। তাঁর এই অনমনীয় মনোভাব আজও অটুট। আজকের ‘মেটিকুলাসলি ডিজাইন’ করা ষড়যন্ত্রও কর্পুরের মতো উড়ে যাবে।
‘মানুষের দায় মহামানবের দায়, কোথাও সীমা নেই। অন্তহীন সাধনার ক্ষেত্রে তার বাস।...দেশ কেবল ভৌমিক নয়, দেশ মানসিক। মানুষে মানুষে মিলিয়ে এই দেশ জ্ঞানে জ্ঞানে, কর্মে কর্মে।...আমরাও দেশের ভবিষ্যতের জন্য বর্তমানকে উৎসর্গ করেছি। সেই ভবিষ্যকে ব্যক্তিগতরূপে আমরা ভোগ করব না।...ভবিষ্যতে যাঁদের আনন্দ, যাঁদের আশা, যাঁদের গৌরব, মানুষের সভ্যতা তাঁদেরই রচনা। তাঁদেরই স্মরণ করে মানুষ জেনেছে অমৃতের সন্তান, বুঝেছে যে তার সৃষ্টি, তার চরিত্র মৃত্যুকে পেরিয়ে।’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই কথাগুলো শেখ হাসিনার জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য। তিনি দেশের ভবিষ্যতের জন্য উৎসর্গ করেছেন নিজের বর্তমান। ব্যক্তিগতভাবে বর্তমানকে ভোগ করেন না তিনি। আর সে কারণেই তিনি যেমন চেনেন বাংলার শ্যামল প্রকৃতি, তেমনি বাংলার মানুষ চেনে তাঁকে। বাঙালির সঙ্গে নিবিড় যোগসূত্র তাঁর জন্মান্তরের। দেশের মানুষের আস্থা ও অস্তিত্বে তাঁর স্থায়ী আসন। মানুষের পাশে থাকেন সব সময়।
শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই ‘মানুষের ধর্ম’ তাঁর ব্রত। তাঁর বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘সর্বজনীন ও সর্বকালীন মানব’ হিসেবে বাঙালি জাতির হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। মানুষের জন্য জীবন উৎসর্গকারী এই মহামানবের কন্যা শেখ হাসিনাও নিজেকে উৎসর্গ করেছেন মানুষের কল্যাণে। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম, পারিবারিকভাবেই তাই ‘কল্যাণমন্ত্রে দীক্ষা’ হয়েছে শৈশবে। রবীন্দ্রনাথের কথা ধার করেই তাঁর সম্পর্কে বলা যেতে পারে, তিনি ‘সদা জনানাং হৃদয়ে সন্নিবিষ্টঃ’।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন, ‘মানুষ আছে তার দুই ভাবকে নিয়ে একটা তার জীবভাব, আর-একটা বিশ্বভাব। জীব আছে আপন উপস্থিতিকে আঁকড়ে, জীব চলছে আশু প্রয়োজনের কেন্দ্র প্রদক্ষিণ করে। মানুষের মধ্যে সেই জীবকে পেরিয়ে গেছে যে সত্তা সে আছে আদর্শ নিয়ে। এই আদর্শ অন্নের মতো নয়, বস্ত্রের মতো নয়। এ আদর্শ আন্তরিক আহবান, এ আদর্শ একটা নিগূঢ় নির্দেশ।’ পিতৃআদর্শের সেই আন্তরিক আহবান কিংবা নিগূঢ় নির্দেশেই সামরিক জান্তার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ফিরে এসেছিলেন পিতৃভূমিতে। তিনি ছিলেন নিতান্তই একা-এমনটি উপলব্ধি হতে পারে অনেকেরই। কিন্তু নিজ বাসভূমে মাটির সন্তানকে যে একাকীত্ববোধ গ্রাস করবে না, তা প্রমাণ হয়ে গিয়েছিল ১৯৮১ সালে। মানুষকে মুক্তির দিশা দিতে পারেন, এমন একজন মানুষের বড় প্রয়োজন ছিল তখন। ঐ সময়ের একমাত্র দাবি ছিল সেটাই। শুধু সময়ের দাবি মেটাতেই নয়, মুক্তিকামী মানুষকে নতুন করে মুক্তির দিশা দিতেই তিনি ফিরে এসেছিলেন এই বিরান বাংলায়। মানুষের স্বতঃস্ফ‚র্ত আহবান উপেক্ষা করতে পারেননি তিনি। মানুষের আকুল আহবান উপেক্ষা করবেন, এমন রক্তধারা তাঁর শরীরে প্রবহমান নয়। মাটির টান আর মানুষের প্রবল ভালোবাসা সেদিন তাঁকে জুগিয়েছিল অদম্য সাহস ও শক্তি। শক্তির বলেই তিনি সেদিন নিতে পেরেছিলেন সামরিকতন্ত্রকে উপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত। পেছনে ফেলে এসেছিলেন নারীর নিশ্চিত সংসার। ফেলে এলেন প্রিয়তম স্বামী ও দুই সন্তান। সেদিন বাংলার মানুষ তাঁকে বরণ করে নিয়েছিল অশ্রুবৃষ্টির ভেতর দিয়ে। সেদিনের বিশাল জনসমুদ্র তাঁকে জানিয়ে দিয়েছিল, তিনি একা নন। এই জাতি তাঁর সঙ্গে। জাতির সেই ভালোবাসা ও আস্থার জবাবে তিনিও জানিয়েছিলেন, বাংলার মানুষের দৈন্য দূর করতে তাঁর জীবন উৎসর্গীকৃত। সেদিন নিজেকে জাতির কাছে উজাড় করে দিয়েছিলেন তিনি। ‘কার্ফিউ’ গণতন্ত্রের ভিত্তি নাড়িয়ে দিয়ে মানুষের নতুন মুক্তির ভিত্তি রচনা হলো সেই দিন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির আন্তর্জাতিক গুরুত্ব ও স্বীকৃতির চিহ্ন হিসাবে শেখ হাসিনা ১৯৯৯ সালে ২২ সেপ্টেম্বর ইউনেস্কো শান্তি পুরস্কার পান। কৃষিতে অসামান্য অবদানের জন্য শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক সেরেস পুরস্কারে ভূষিত হন। ইউনেস্কো এবার শান্তিবৃক্ষ পদকে ভূষিত করেছে তাঁকে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক অর্জন তাঁর। কিন্তু সবচেয়ে বড় অর্জন দেশের মানুষের আস্থা ও ভালবাসা।

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আজ আবার তিনি পরবাসী। এবার তিনি অনেক বড় এক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, চট্টগ্রাম বন্দর ও করিডোর দিতে রাজি হননি বলে, বঙ্গোপসাগরে গ্যাস ও খনিজের একতরফা মালিকানা দিতে রাজি হননি বলে, বাংলাদেশে ঘাটি বানাতে দেননি বলে যুক্তরাষ্ট্র এক দীর্ঘ ষড়যন্ত্র করেছে। ইউনূসের ভাষায় যা মেটিকুলাসলি ডিজাইন করা ষড়যন্ত্র। ইউনূস আজ আমেরিকার সব চাওয়া পূরণ করছে। গোপন চুক্তির মাধ্যমে দেশ বিক্রির সকল বন্দোবস্ত সম্পন্ন করছে। আর সব সম্পন্ন করে আবার সে আমেরিকায় পালিয়ে যাওয়ার আয়োজন করছে। কিন্তু একজন শেখ হাসিনা জীবিত থাকতে, বঙ্গবন্ধুর সৈনিকেরা জীবিত থাকতে ষড়যন্ত্রকারীদের কোনো স্বপ্নই পূরণ হবে না। বাংলাদেশের এক ইঞ্চি মাটিও কোনো বিদেশি শক্তিকে দেওয়া হবে না। মাটি ও মানুষের টানে শেখ হাসিনা শিগগিরই ফিরে আসবেন। ষড়যন্তকারীরা তা বুঝতে পারছে এবং এখনই তারা পালানোর পথ খুঁজছে।
বাংলাদেশের সকল ইতিবাচক পরিবর্তনের অগ্রনায়ক তিনি। তাঁকে ঘিরেই সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশ। এ দেশের মানুষের আস্থার প্রতীক তিনি। আজ তাঁর জন্মদিনে আমাদের সশ্রদ্ধ প্রণতি। দীর্ঘজীবী হোন তিনি।

লেখক: সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং অস্ট্রিয়াপ্রবাসী মানবাধিকারকর্মী, লেখক ও সাংবাদিক

শুভ জন্মদিন বঙ্গবন্ধু তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনা ❤️❤️🇧🇩🇧🇩
27/09/2025

শুভ জন্মদিন বঙ্গবন্ধু তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনা ❤️❤️🇧🇩🇧🇩

26/09/2025
22/06/2025

আস্থা যেখানে শেখ হাসিনা, সেখানে ক্লান্তির জায়গা নেই

জয় বাংলা বলেই বন্দি তবু হাল ছাড়ব না
----

রাজনীতি শুধু একটি পেশা নয় এটি একটি আদর্শিক সংগ্রাম, যেখানে ক্ষমতা নয়, আত্মত্যাগ ও বিশ্বাসই হয় মূল শক্তি।
আওয়ামী লীগ এই দেশের ইতিহাসে এমন একটি নাম, যার প্রতিটি অক্ষরের পেছনে রয়েছে রক্ত, ঘাম, কারাবরণ ও ত্যাগের দীর্ঘ ইতিহাস।

যখনই দলের জন্য কাজ করতে গিয়ে আপনি ক্লান্ত হয়ে পড়বেন, মনে রাখবেন এই ক্লান্তির ঊর্ধ্বে রয়েছে আমাদের সহযোদ্ধাদের আত্মদান, দেয়ালে লেখা সেই একটি বাক্য: “শেখ হাসিনাতেই আস্থা”।
এই একটি বাক্য লেখার অধিকার রক্ষার জন্য আমরা হারিয়েছি বহু সংগঠক, বহু অকুতোভয় যোদ্ধা।
কারও গায়ে জেল খাটার দাগ, কারও জীবনের গল্প মাঝপথে থেমে গেছে গুম হয়ে যাওয়ার ইতিহাসে।
কেউ হারিয়েছেন চাকরি, কেউ পরিবার, কেউবা হারিয়েছেন নিজের নামটিই।

আজ যারা রাজপথে আছেন, মাঠে আছেন, যারা এখনও আওয়ামী লীগের লাল-সবুজ পতাকা বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের মনে রাখতে হবে
আপনারা শুধু দলের কর্মী নন, আপনারা ইতিহাসের উত্তরসূরি।
আপনারা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের প্রহরী।

একটি স্বাধীন দেশের ভেতর দাঁড়িয়ে যখন “জয় বাংলা” স্লোগান দেওয়াও অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়, তখন বুঝতে হবে আমরা কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নয়, বরং ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধেও লড়ছি।

“মুক্তিযুদ্ধ”, “বঙ্গবন্ধু”, “শেখ হাসিনা” এই শব্দগুলোকে যারা ভয় পায়, তারা ইতিহাসের শত্রু।
তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে আজও আমাদের সহযোদ্ধারা জেলে, কেউবা আদালতের বারান্দায় বারবার হাজিরা দিচ্ছেন, কেউ নিখোঁজ।

কিন্তু আমরা হাল ছাড়ব না। কারণ আমরা জানি, ক্লান্তির চেয়ে বড় হয় আদর্শ।

আমরা যারা আওয়ামী লীগে আছি, আমরা কেবল একটি দলের সদস্য নই আমরা একটি আদর্শিক পরিবারের অংশ।
এই পরিবারে কেউ কাঁদলে আমরা কাঁদি, কেউ আক্রান্ত হলে আমরা প্রতিরোধ করি, কেউ পিছিয়ে পড়লে আমরা তাকে টেনে তুলি।

চক্রান্ত, হামলা, মামলা, অপবাদ এসবই ছিল, আছে, থাকবে।
কিন্তু আমাদের শক্তি হচ্ছে ঐক্য। আমাদের অস্ত্র হচ্ছে বিশ্বাস।

আমরা একসাথে হেরেছি, একসাথে জিতেছি, আবার একসাথেই ঘুরে দাঁড়াব।
কারণ, লীগ মানেই লড়াই, লীগ মানেই লাল সবুজের ইতিহাস।

শেখ হাসিনা কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন তিনি এই জাতির অস্তিত্ব, উন্নয়ন আর নিরাপত্তার প্রতীক।
বিশ্বসভায় বাংলাদেশের পরিচয় আজ যে মর্যাদার, তা তাঁর নেতৃত্বেই সম্ভব হয়েছে।
আর আজ সেই নেতৃত্বকে দুর্বল করতে গুটি গুটি চক্রান্তের জাল বোনা হচ্ছে, যেন মানুষ ক্লান্ত হয়, বিভ্রান্ত হয়, ছুটে যায় ভুল দিকে।

কিন্তু জনগণ জানে আস্থা যাঁর উপর, তিনি শেখ হাসিনা। আশ্রয় যাঁর ভিতরে, তিনি শেখ হাসিনা।

আমরা ভাঙি না, আমরা থামি না কারণ আমরা আওয়ামী লীগ

আমরা যেদিন “জয় বাংলা” স্লোগান দিয়েছিলাম, সেদিন থেকেই আমরা কারাগারের তালিকায়।
কিন্তু আমরা জানি এই ত্যাগ বৃথা যাবে না।

আমরা থামব না, হাল ছাড়ব না।
আমরা শেখ হাসিনার পাশে আছি, আমরা বঙ্গবন্ধুর চেতনায় অটল।
আমরা আওয়ামী লীগ। আমরা এক পরিবার।

Address

Nicosia
1016

Telephone

+35796433221

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Md. Al Amin posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Md. Al Amin:

Share