27/10/2020
রোসেটা ফিলের গল্প!
কি হয়েছিলো ধুমকেতু 67p চুরিমোভ গ্যারাসিমেনকো তে?
---------------------------------------------------------------------
সেটা বলার আগে একটা কথা বলে নেই, ভুলেও 67p C/G তে লাফ দিবেন না।
লাফালেই আপনি দেখবেন যে সেই কবে লাফ দিয়ে উপরে যে উঠেছেন আর নামছেনই না বরং ধুমকেতুটির ভূপৃষ্ঠ আস্তে আস্তে আপনার কাছ থেকে দূরে চলে যাচ্ছে। আপনার কাছে কোনো মুভ করার মত জেট বা প্রপেলন্ট না থাকলে এটাই আল্লাহ হাফেজ।
কারন এই ধুমকেতুটির গ্রাভিটি এতোই কম, এতোই কম যে আপনি একটা লাফ দিলেই এর অভিকর্ষ বলকে ভেদ করে ডিরেক্টর মহাকাশে চলে যাবেন। 67p C/G এর ভূপৃষ্ঠের মুক্তিবেগ মাত্র ১ মিটার/সেকেন্ড। মানে ভালোমতো একটা লাফই যথেষ্ট মহাকাশে হাড়িয়ে যাবার মত। পায়ের নিচে মাটি না থাকা যে কি পরিমান ভয়াবহ শুধু চিন্তা করে অনুভব করার চেস্টা করুন।
ঠিক এই কারনে ২০১২-২০১৫ সালে ESA এর ধুমকেতু 67p C/G তে প্রোব ল্যান্ডিং মিশনটি একরকম বানচাল হয়ে যায়। মহাকাশযান অরবিটার রসেটা থেকে ল্যান্ডার প্রোব ফিলে যখন ধুমকেতুর ভূপৃষ্ঠে ল্যান্ড করে তখন ইম্পেক্টের ফলে ল্যান্ডার প্রোব ফিলে যাতে বাউন্স না করে তাই সেখানে ফিলের নিচে দুটি হার্পুন দেয়া হয়েছিলো, যেগুলা ইম্পেক্টের ঠিক সাথে সাথে ফায়ার করে সার্ফেসে গেথে যাবার কথা ছিলো। কিন্তু দূর্ভাগা ফিলে, দুটোর মধ্যে একটি হার্পুনও ফায়ার করেনি তখন, ফলে ফিলে তিন তিনবার বাউন্স খেয়ে, গরিয়ে, ডিগবাজি দিয়ে পার্ফেক্ট স্পট থেকে অনেক দুরে কোনো এক পাথরের চিপায় অন্ধকারে গিয়ে স্থির হয়েছিলো। যেহেতু ফিলে ছিলো সৌরশক্তি চালিত প্রোব তাই তার এই নতুন অবস্থান ছিলো তার কফিনের শেষ পেরেকের মতো। ব্যাটারি দিয়ে পরবর্তী ৬২ ঘন্টায় ফিলে তার সর্বোচ্চ যা গবেষণা করার সাধ্য তা করে তারপর চিরতরে নিশ্চুপ হয়ে যায়। ১ বছর পরে ২০১৪ তে আবার একবারের মত ফিলে চালু হয়েছিলো যেহেতু ধুমকেতু 67p C/G আস্তে আস্তে সূর্যের নিকটবর্তী হচ্ছিলো এবং এর মধ্যে ফিলের ব্যাটারি কিছুটা চার্জ হয়েছিলো। কিন্তু ১ মাস কাজ করার পর আবার ব্যাটারি ফুরিয়ে গেলে ফিলে এবার আসলেই চিরতরে নিশ্চুপ হয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা পরের ১ বছর অপেক্ষা করে কোনো সম্ভাব্য সমাধান না দেখে শেষমেষ অরবিটার রোসেটাকে ধুমকেতুটির উপরে Hard Landing মানে আছড়ে পরার শেষ কমান্ড দিয়ে মিশনটি শেষ করেন। মিশনটি আশানুরূপ যায়নি এবং খুবই ক্ষনস্থায়ী ছিলো কিন্তু এই মিশনের কারনে আমরা যে অসাধারণ তথ্যটি জানতে পেরেছি তা হলো,
ধুমকেতুতে থাকা পানিতে ডিউটোরিয়ামের পরিমান পৃথিবীর পানি হতে বেশি। মানে পৃথিবীর পানি আসলে ধূমকেতু হতে আসেনি।
২য় ছবিতে ল্যান্ডার ফিলের অদ্ভুত অবস্থানে অদ্ভুত কোনে ল্যান্ডিং সাইটটি দেখা যাচ্ছে।