23/01/2022
ছবিটির মানুষটিকে চেনানো দরকার নেই। কারণ মানুষটি সম্পর্কে আমরা পূর্ব হইতেই পরিচিত।
যেটার সাথে পরিচিত নয় সেটি হলো তার মতবাদের ভিত্তিতে-
"স্বাধীনতার অর্থ কি?"
বিঃদ্রঃ:-আজকে আপনাদের সেটাই জানাবো।
বিভিন্ন বই এবং সেই সময়ের মানুষের বর্ণনায় এবং নেতাজির নিজস্বরে বক্তৃতার প্রত্যক্ষদর্শীদের থেকে সংগৃহীত তার এই স্বাধীনতার অর্থ। ভারত তথা বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম বিপ্লবী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৬ তম পুন্য জন্মদিবস উপলক্ষে নেতাজির কিছু বাণী এই লেখাটির মাদ্ধমে আপনাদের সামনে পরিবেশন করিতেছি।তাহলে চলুন শুরু করি।
১:- স্বাধীনতা বলিতে আমি বুঝি সমাজ ব্যক্তি, নর ও নারী, ধনী ও দরিদ্র সকলের জন্য স্বাধীনতা।
ইহা শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় বন্ধনমুক্তি নহে-ইহা অর্থের সমান বিভাগ, জাতিভেদ ও সামাজিক অবিচারের নিরাকরণ ও সাম্প্রদায়িকসংকীর্ণতা ও গোঁড়ামির বর্জনকেও সূচিত করে। এই আদর্শকে অবিবেচকেরা হয়তো অসম্ভব বলিবে- কিন্তু প্রানের ক্ষুধাকে ইহাই একমাত্র শান্ত করিতে পারে।
সম্পূর্ণভাবে মুক্ত ভারতবর্ষের ধ্যানমূর্তিই আমার হৃদয়কে অধিকার করিয়া রহিয়াছে।
জীবনের একটি মাত্র উদ্দেশ্য আছে ― তাহা হইতেছে সকল প্রকার বন্ধন হইতে মুক্তি।
সাধিনিতার জন্য উদগ্র আকাঙ্খাই হইতেছে জীবনের সুর!
জগতের সভ্যতার প্রতি ভারতবর্ষের একটা নব অবদান আছে।
স্বাধীনতাই জীবন-স্বাধীনতার সন্ধানে জীবনদানে আছে অবিনশ্বর গৌরব।
২:-সমগ্র সমাজের জন্য স্বাধীনতা বলিতে নারী ও পুরুষ এই উভয়ের স্বাধীনতা বুঝতে হইবে।
ইহাতে বুঝিতে হইবে কেবল উচ্চশ্রেণী নয়, অনুন্নত শ্রেণীকেও স্বাধীনতা দিতে হইবে। ধনী দরিদ্র , যুবা-বৃদ্ধা, সকল সম্প্রদায়, সংখ্যা লঘিষ্ঠ এবং সংখ্যা গরিষ্ঠ সমাজএবং সকল শ্রেণীর মানুষকেই স্বাধীনতা দিতে হইবে।
এই দিক থেকে বিচার করিলে মনে হয়, স্বাধীনতা মানেই সাম্য এবং সাম্য মানেই ভ্রাতৃত্ব।
৩:- আমরা যে নূতন সমাজ গড়িয়া তুলিতে চাই, সেই সমাজের গোড়ার কথা হইবে- সকলের জন্য সমান অধিকার,সমান সুযোগ, ঐশ্বর্যের উপর সকলের সমান অধিকার, বৈষম্যমূলক সামাজিক বিধান প্রত্যাহার জাতিভেদ প্রথার বিলোপ এবং বৈদেশিক শাসন হইতে মুক্তি।
৪:- আমরা জীবনের সকল ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ স্বাধীনতা চাই। রাজনৈতিক হউক , অর্থনৈতিক হউক বা সামাজিকই হউক - সকলের উপর পূর্ণ স্বাধীনতার মূল নীতিটাকে প্রয়োগ করার জন্য প্রস্তুত থাকিতে হইবে।
৫:- পূর্ণ সাম্যবাদের উপর্নতুন সমাজকে গড়িয়া তুলিতে হইবে। জাতিভেদের অচল আয়তনকে একেবারে ধূলিসাৎ করিতে হইবে। নারীকে সর্বভাবে মুক্ত করিয়া সমাজে ও রাষ্ট্রে পুরুষের সহিত সমান অধিকার ও দায়িত্ব প্রদান করিতে হইবে।
অর্থের বৈষম্য দূর করিতে হইবে এবং বর্ণ-ধর্ম-নির্বিশেষে প্রত্যেকে যাহাতে শিক্ষার ও উন্নতির সমান সুযোগ ও সুবিধা পায় তার বেবস্থা করিতে হইবে।
সমাজতন্ত্রমূলক সম্পূর্ণ স্বাধীন রাষ্ট্র যাহাতে স্থায়ী ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হয় তার জন্য সচেষ্ট হইতে হইবে।
ইতি
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু
#মুক্তিযোদ্ধা
#নেতাজি
#নেতাজি_সুভাষচন্দ্র_বসু