10/07/2025
গল্পঃ*আবার ফিরে এলে*
লেখক: পুস্পেন্দু পাল
ফাদার ডিকেন্স হোলি ইনস্টিটিউশনে তখন ক্লাস 11 এর ফাইনাল সেমিস্টারের অঙ্ক পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষা শেষ হতে বাকি মাত্র ৩৫ মিনিট। অগত্যা ছাত্র ও ছাত্রীদের মধ্যে কলম চালানোর প্রতিযোগিতা তুঙ্গে। এই শেষ ৩৫ মিনিটেই গত ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিটে মনে না আসা, বুঝতে না পারা প্রবলেম গুলোই কেমন দিনের আলোর মত ঝকঝকে তকতকে হয়ে উঠেছে। গাণিতিক আরোহণ তত্ত্বের একটি প্রবলেম অর্ক দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা করেও করে উঠতে পারছে না। এমনিতে অর্ক কখনোই কারো থেকে দেখে বা শুনে পরীক্ষায় আজও পর্যন্ত কোনোদিনও লেখেনি, কিন্তু এবার কি করবে বুঝে উঠতে না পেরে ওর সামনের বেঞ্চে বসা দিতিপ্রিয়াকে ডাকলো।
অর্ক - দিতি এই দিতি।
দিতিপ্রিয়া একটু অবাক হয়ে আলগোছে পেছনে তাকিয়ে ফিসফিস করে বললো, কি হয়েছে ? স্যার দেখলে খাতা কেড়ে নেবে, ডাকছিস কেন ?
অর্ক - 5 এর C টা না আটকে গেছে, কিছুতেই হচ্ছে না, তুই করেছিস ?
দিতি - হ্যাঁ করেছি তো।
অর্ক - একটু দেখা না, মানে ১০ টা নম্বর রয়েছে, বেঁচে যাবে।
দিতি একটু হেসে বললো, ভূতের মুখে রামনাম!! আচ্ছা তাড়াতাড়ি দেখ, বলে খাতাটা হালকা কাত করে একটু দেখিয়ে দিল যে জায়গাটায় অর্কের আটকে গেছিল।
অর্ক তড়িঘড়ি করে অঙ্কটা শেষ করতে না করতেই পরীক্ষা শেষ হওয়ার ঘন্টাও পড়ে গেল।
*******
আপনি তো ভারী বোরিং মশাই। হা করে পড়ে যাচ্ছেন অথচ মনে একবার প্রশ্ন জাগলো না যে কে এই অর্ক বা কে এই দিতিপ্রিয়া!!! হ্যাঁ তা এখন আর হেসে মাথা চুলকে কি হবে, আমিই বলে দি।
অর্কপ্রভ দাশগুপ্ত, ক্লাস 11, সাইন্স ডিপার্টমেন্ট, ৩৬ রোল।
আর দিতিপ্রিয়া সেন, ক্লাস 11, সাইন্স ডিপার্টমেন্ট ৩৪ রোল।
আমাদের মধ্যে ক্লাসে এমন অনেকে থাকে, যাদের নিজেদের বিশেষ কোনো পরিচিতি থাকেনা। ক্লাস মনিটর, বা ক্লাসের ফার্স্ট বয়, ফার্স্ট গার্ল এদের বন্ধু হিসেবে পরিচিতি পায়। ঠিক তেমনই আমাদের অর্কপ্রভ বা অর্ক ফার্স্ট বয় প্রতীকের বন্ধু। তেমনি দিতিপ্রিয়া বা দিতি ক্লাসের ফার্স্ট গার্ল তানিয়ার বান্ধবী। এই হিসেবেই এই দুজনের পরিচয় গোটা ক্লাসে। কিন্তু এর আগে অর্কর সাথে দিতির তেমন কোনো কথাবার্তা হয়ে ওঠেনি।
দিতি গ্যারেজ থেকে সাইকেল নিয়ে বের হচ্ছিল, অর্ক পেছন থেকে ডাক দিল; দিতি, এই দিতি !
দিতি অবাক হয়ে পেছনে ফিরে দেখল অর্ক হাত তুলে ডাকছে আর দাড়াতে বলছে ওকে।
অর্ক সাইকেল নিয়ে এসে দিতির পাশে এসে হাঁটা শুরু করল।
অর্ক - কি বলে যে তোকে থ্যাংকস বলব, সত্যি বুঝতে পারছি না। এমনিতেই তো আমি অঙ্কে লবোডন্কা, তার ওপর ওই প্রবলেমটায় ছাক্কা ১০ মার্কস ছিল। আমি এমনিতে করেই এসেছিলাম, কিন্তু প্রশ্নটা দেখে সব কেমন গুবলেট হয়ে গেল। থ্যাংকস আ লট ইয়ার।
দিতিপ্রিয়া হেসে উঠে বলল, বাপরে বাপ কি ফর্মালিটি। তাইতো ভাবি ঘার গুঁজে সারাজীবন লিখে এসে এখন নাকি ১০ মার্কসের জন্য এত গাদা থ্যাংকস। আর তাছাড়া ওটা পারছিলি না !!! সহজ ছিল তো !!
অর্ক - হুম সহজই ছিল, তাই তো বলছি, করেও এসেছিলাম, কিন্তু....
দিতি - থাক থাক হয়েছে ভাই, এত explanation চেয়েছি আমি !! আচ্ছা আমি আসি রে। পড়ে কথা হবে !!
অর্ক - কিন্তু কি করে কথা হবে !! তোর ফোন নম্বরই তো নেই আমার কাছে।।
দিতি - স্কুলে কথা হবে !! ফোন নম্বর নিয়ে কি করবি আবার !!
বলে হেসে সাইকেল নিয়ে চলে গেল।
অর্ক কিছুক্ষণ বোকার মত দাড়িয়ে থেকে হেসে মাথা চুলকে নিয়ে সাইকেল নিয়ে ওর বাড়ির পথে রওনা দিল।
পর্ব:১
ক্রমশঃ....
পরবর্তী পর্ব পড়তে সাথে থাকুন