16/08/2023
আজ বুধবার ১৬/০৮/২০২৩
একটা short planing এ আমরা বেরিয়ে পড়লাম , গ্ন্তব্য পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাঁশবেড়িয়া ও হুগলি জেলার ব্যান্ডেলের রাজহাট নামের একটি গ্রামে । যেখানে রয়েছে “হংসেশ্বরী কালীমন্দির” ও “লাহিড়ী বাবা আশ্রম”।
কলকাতা থেকে হংসেশ্বরী কালীমন্দির এর দূরত্ব ৫৯ কিলোমিটার । রাজা নৃসিংহদেব ১৭৯৯ খ্রিষ্টাব্দে হংসেশ্বরী কালীমন্দিরের নির্মাণ শুরু করেন এবং তার মৃত্যুর পর ১৮১৪ খ্রিষ্টাব্দে তার বিধবা পত্নী রাণী শঙ্করী মন্দির নির্মাণ সম্পন্ন করেন। এই মন্দিরে তেরোটি রত্ন ও মিনার প্রতিটি প্রস্ফুটিত পদ্মের ন্যায় নির্মিত মন্দিরের গর্ভগৃহের উচ্চতা ৭০ ফুট। গোলাকার বেদীর ওপর পাথরে নির্মিত শায়িত শিব মূর্তির নাভি থেকে উদ্গত প্রস্ফুটিত পদ্মের ওপর দেবী হংসেশ্বরীর মূর্তি নির্মিত। দেবীমূর্তি নীলবর্ণা, ত্রিনয়নী, চতুর্ভূজা, খড়্গধারিণী ও নরমুণ্ডধারিণী। এই মন্দিরের পাশেই টেরাকোটা নির্মিত অনন্ত বাসুদেব মন্দির অবস্থিত। দুটি মন্দিরই ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগ দ্বারা সংরক্ষিত।
কলকাতা থেকে লাহিড়ী বাবার আশ্রম এর দূরত্ব ৫২ কিলোমিটার । লাহিড়ী বাবার মন্দিরে বা আশ্রমে ঢোকার জন্য কোন এন্ট্রি ফি লাগেনা। আপনি যদি লাহিড়ী বাবার আশ্রম যাওয়ার কথা ভাবছেন তাহলে একটি জিনিস আপনাকে মাথায় রাখতে হবে। পুরুষ ও মহিলা উভয়ের জন্যই মন্দির প্রাঙ্গণে ঢোকার আগে কিছু বস্ত্র বিশেষে নিয়ম কানুন মেনে চলতে হবে। মহিলাদের জন্য মন্দিরে ঢোকার আগে মাথায় অবশ্যই কাপড় ঢাকা দেওয়া আবশ্যক এবং হাটুর উপরে কোনো বস্ত্র পরা একেবারেই অনুমতি দেওয়া হয় না। পুরুষদের নিজের মাথা ঢেকে রাখা চলবে না। লাহিড়ী বাবার মন্দির থেকে প্রসাদ নেওয়ার সময় দুপুর ১২- ০১ টা। আপনাকে ভোগের কুপন অফিস কাউন্টার থেকে সংগ্রহ করতে হবে। এবার আসি প্রধান মন্দিরে।লাহিড়ী বাবার মন্দির এর কম্পাউন্ডে ঢোকার পরে আপনি একটি সুন্দর বাগান দেখতে পাবেন। এই বাগান বিভিন্ন রকমের ফুল দিয়ে ঘেরা।একটি কংক্রিটের রাস্তা দিয়ে কিছুটা হেঁটে যাওয়ার পরেই আপনি মূল মন্দিরে পৌঁছে যাবেন।এই মন্দিরটি একটি ছোট্ট পুকুরের উপর অবস্থিত। মন্দিরে পৌঁছানোর জন্য আপনাকে একটি ব্রিজের ওপর দিয়ে হেঁটে যেতে হবে পুকুরটি পেরোনোর জন্য।লাহিড়ী বাবার মন্দির সম্বন্ধে একটি জিনিস যে আমার খুব ভাল লেগেছিল সেটি হচ্ছে এটি একটি মন্দির নয় এর ভেতর একাধিক ছোট ছোট মন্দির রয়েছে।সমস্ত মন্দির প্রাঙ্গণ জুড়ে মহাদেব, নারায়ন, শ্রীকৃষ্ণ, মা দুর্গা থেকে বুদ্ধ, মাদার মেরি এবং যীশুখ্রিস্টের মত বিগ্রহ রাখা আছে যা আমাদের মানবজাতিকে বলে দেয় ধর্মনিরপেক্ষ হয়ে থাকতে এবং সবাইকে একসাথে হাতে হাত রেখে একে অপরকে সাহায্য করার জন্য কারণ ঈশ্বরের কাছে সব থেকে বড় ধর্ম হলো সেবা।প্রধান মন্দিরে ঢোকার পর আপনি নিচের দিকে যেতে পারেন যেখানে আপনি বিভিন্ন আসনের হাতের প্রতীক দেওয়ালে খোদাই করা দেখতে পাবেন এবং সেই চিন্হ গুলির মাঝে লাহিড়ী বাবার এক বিগ্রহ ও দেখতে পাবেন।মন্দিরের ভেতরে কোন রকম ছবি তোলা নিষিদ্ধ করা আছে।এই মন্দির নির্মাণ কিভাবে করা হয়েছে সেটিও দেওয়া আছে এই স্থানে।