26/04/2026
কিম ইয়ং-হুন: "স্বল্পমেয়াদী কর্মীদের জন্য 'ফেয়ার অ্যালাউন্স' বা ন্যায্য ভাতা প্রবর্তন করা হবে... অবসরের বয়স বাড়ানোর বিষয়ে প্রথমার্ধেই সিদ্ধান্ত"
দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী কিম ইয়ং-হুন ঘোষণা করেছেন যে, যেসকল স্বল্পমেয়াদী কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা কম, তাদের জন্য একটি 'ফেয়ার অ্যালাউন্স' (ন্যায্য ভাতা) ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে।
২৬ এপ্রিল কেবিএস (KBS)-এর 'ইও-ডিনডান লাইভ' (Ilyojindan Live) অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মন্ত্রী কিম বলেন, "আমরা এমন একটি 'ফেয়ার অ্যালাউন্স' প্রবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সাথে আলোচনা করছি, যার মাধ্যমে চাকরির মেয়াদ যত কম হবে এবং কর্মসংস্থান যত বেশি অনিশ্চিত হবে, সেই কর্মীকে অতিরিক্ত ভাতা দেওয়া হবে।" তিনি আরও জানান, শীঘ্রই এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে।
'ফেয়ার অ্যালাউন্স' কী?
এটি এমন একটি ধারণা যেখানে স্বল্প মেয়াদে কর্মরত বা অস্থিতিশীল চুক্তিতে থাকা কর্মীদের অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ বা ভাতা প্রদান করা হয়।
মন্ত্রী কিম ব্যাখ্যা করেন, "আমরা এমন একটি পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছি যেখানে কাজের মেয়াদ কম হলে ভাতার পরিমাণ বাড়ানো হবে, যাতে কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তার কারণে তৈরি হওয়া মজুরি বৈষম্য দূর করা যায়। এর সংখ্যাতাত্ত্বিক হিসাব প্রস্তুত আছে এবং শীঘ্রই তা ঘোষণা করা হবে।"
অস্থায়ী কর্মী নীতি ও অন্যান্য বিষয়
'কিগানজেব' (Fixed-term Act)-এর সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক জায়গায় '১ বছর ১১ মাসের চুক্তি' বারবার নবায়ন করার যে কাঠামোগত সমস্যা রয়েছে, তা সমাধানের জন্য সরকার একটি জরিপ চালাবে বলেও তিনি জানান।
মন্ত্রী বলেন, "রাষ্ট্রপতির নির্দেশে আমরা স্বল্পমেয়াদী অস্থায়ী কর্মীদের সুরক্ষার উপায় খুঁজছি। নবগঠিত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও শ্রম কমিটিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্যসূচি হিসেবে রাখা হবে। সরকার এই বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠ আলোচনার জন্য তথ্য-উপাত্ত সরবরাহের লক্ষ্যে জুন মাস পর্যন্ত একটি বিস্তারিত জরিপ পরিচালনা করবে।"
অবসরের বয়সসীমা বৃদ্ধি
অবসরের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়ে মন্ত্রী কিম জোর দিয়ে বলেন যে, এই আলোচনা আগামী প্রথমার্ধের (জুন মাস) মধ্যে শেষ করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, "বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হয়েছে, এখন কেবল শ্রম, ব্যবস্থাপনা এবং সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা। তবে পদ্ধতিগত বিষয়ে মতভেদ রয়েছে; ব্যবসায়িক মহল আইনিভাবে অবসরের বয়স বাড়ানোর চেয়ে পুনরায় নিয়োগের (re-employment) পক্ষপাতী, অন্যদিকে শ্রমিকরা সরাসরি আইনিভাবে অবসরের বয়স বাড়ানোর পক্ষে। এই দুই মতামতের মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি করে কীভাবে কার্যকরভাবে তা বাস্তবে রূপদান করা যায়, আমরা তা নিয়ে কাজ করছি।"