04/06/2024
সাত মিনিটে সাতটি ভুল...
আজকের পোস্টটি একটু দীর্ঘ। ধৈর্যসহকারে পড়ার অনুরোধ।
নোমান আলী খান, সে এক কিউটের ডিব্বা। একদা বলেছিলেন: “কেউ যদি তোমার ভুল ধরিয়ে দেয়, এবং তাতে যদি তুমি অপমান বোধ করো, তাহলে (বুঝে নিবে) তোমার মাঝে ইগো সমস্যা আছে।”
কথাটি কতই না সুন্দর। আসুন আজকে আমরা একটি সামসময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। আর তা হচ্ছে মূর্তি ভাঙা নিয়ে, চলুন দেখে নেই এই বিষয়ে আমাদের নোমান ভাই কি বলেন:
www.youtube.com/watch?v=ZZ3U1_MgYqQ
১.১. নোমান আলি খান বলেন: ইসলামী সাহিত্যে (কুরআন, হাদীস, ইতিহাস) প্রতিমা বা মূর্তি ধ্বংস করার মাত্র দুটি উদাহরণ রয়েছে, ইবরাহীম (আ.) এর মূর্তি ভাঙা আর মুহাম্মাদ (সা.) এর মূর্তি ভাঙা।
পর্যালোচনা: এ দাবিটি সত্য নয়, কুরআনুল কারীমেই আরেকটি বিখ্যাত উদাহরণ রয়েছে এবং এটির উল্লেখ রয়েছে সূরা তাহা’র ৮০-৯৭ আয়াতে। যেখানে মূসা (আ.) আস-সামিরির স্বর্ণনির্মিত গোবৎস ধ্বংস করেছিলেন। হাদীসে এমন বহু ঘটনা আছে যা আমরা পরে উল্লেখ করবো ইনশাআল্লাহ।
১.২. তিনি আরও দাবি করেন যে, এই দুইজন নবি ব্যতীত অন্য কোনো নবি কখনো মূর্তি ধ্বংস করেননি।
পর্যালোচনা: আমরা উপরে জানতে পারলাম যে কুরআনে মূসা (আ.) এর ঘটনা বর্ণিত আছে। আর আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পৃথিবীতে অগণিত নবি ও রাসূল প্রেরণ করেছেন, প্রত্যেক গোত্রে, প্রত্যেক সময়ে তিনি বিভিন্ন নবি ও রাসূল প্রেরণ করেছেন। একটি দুর্বল বর্ণনায় পাওয়া যায়, তিনি এক লক্ষ চব্বিশ হাজার নবি ও রাসূল প্রেরণ করেছেন। তবে কুরআনুল কারীমে শুধু ২৫ জন নবি ও রাসূলের নামোল্লেখ হয়েছে।
যেই ২৫ জনের বর্ণনা মিলে, তাদেরও জীবনের সকল ঘটনা বর্ণিত হয়নি। কারণ কুরআন একটি জামে (সংক্ষিপ্ত, সারমর্ম) কিতাব, এটি কোনো জীবনী গ্রন্থ নয়। তাই এটা দাবি করা যে, এই দুইজন নবি ব্যতীত অন্য কোনো নবি কোনোদিন মূর্তি ভাঙেনি, একটি অযৌক্তিক দাবি ছাড়া কিছুই নয়।
১.৩. তিনি আরও দাবি করেন যে, ইবরাহীম (আ.)-এর মূর্তি ভাঙাটা শুধু মাত্র তার জন্য খাস। এটা অন্যদের জন্য অনুসরণীয় নয়। এর প্রমাণে তিনি নিচের আয়াতটি উল্লেখ করেন:
«أُولَئِكَ الَّذِينَ هَدَى اللَّهُ فَبِهُدَاهُمُ اقْتَدِه»
আর এটাই ছিল আমার যুক্তি-প্রমাণ, যা আমি ইবরাহীমকে তার স্বজাতির মুকাবিলায় দান করেছিলাম। [আল আনআম, ৬:৮৩]
পর্যালোচনা: মজার বিষয় হচ্ছে, এই আয়াত মূর্তি ভাঙার সাথে সম্পর্কিতই নয়। এটি হচ্ছে চন্দ্র সূর্য ও তারকার উপাসনার সাথে সম্পর্কিত এবং তার জাতি যখন তাকে এসবের ভয় দেখিয়েছিল তখন তিনি তাদেরকে সেসবের বিরুদ্ধে, আল্লাহর পক্ষে যেসব তর্ক যুক্তি দিয়েছিলেন তার কথা বলা হচ্ছে। [আল আনআম, ৬:৭৫-৮৩ দ্রষ্টব্য]
এসব আয়াতের পরেই আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইবরাহীম (আ.) ও তাঁর বংশ থেকে আগত কিছু নবির নাম উল্লেখ করে বলেন:
«أُولَئِكَ الَّذِينَ هَدَى اللَّهُ فَبِهُدَاهُمُ اقْتَدِه»
এরা তারাই, যাদেরকে আল্লাহ্ হিদায়াত দান করেছেন, কাজেই আপনি তাদের পথের অনুসরণ করুন। [আল আনআম, ৬:৯০]
এই আয়াত এবং এমন বহু আয়াত থেকে প্রমাণিত হয় যে ইবরাহীম (আ.) আমাদের সকলের জন্য অনুসরণীয় ব্যক্তি।
১.৪. এই মূর্তি ভাঙা যে শুধু ইবরাহীম (আ.) এর সাথে খাস, তা প্রমাণ করতে তিনি আরেকটি আয়াত পেশ করেন:
«وَإِذِ ابْتَلَى إِبْرَاهِيمَ رَبُّهُ بِكَلِمَاتٍ فَأَتَمَّهُنَّ»
আর স্মরণ করুন, যখন ইবরাহীমকে তাঁর রব কয়েকটি কথা দ্বারা পরীক্ষা করেছিলেন, অতঃপর তিনি সেগুলো পূর্ণ করেছিলেন। [আল বাকারাহ, ২:১২৪]
পর্যালোচনা: সকল নবিকেই আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করেছেন। কিছু খাস, কিছু আম। ইবরাহীম (আ.) কে করা এমন অনেক পরীক্ষা মুসলিম জাতিকেও দেওয়া হয়েছে যেমন, শরীয়তের বিধিবিধান, হাজ্জের নিয়ম-পদ্ধতি, কুরবানি, হিজরত, শিরক ও মুশরিকদের বিরোধিতা, খাতনা ইত্যাদি।
আরেকটি মজার বিষয় হচ্ছে, এই আয়াতের পরের অংশেই আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন:
«إِنِّى جَاعِلُكَ لِلنَّاسِ إِمَامًۭا»
‘নিশ্চয় আমি আপনাকে মানুষের ইমাম বানাবো’। [আল বাকারাহ, ২:১২৪]
এই আয়াতও প্রমাণ করে, ইবরাহীম (আ.) গোটা মানব জাতির জন্য একজন ইমাম হিসেবে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মনোনীত করেছেন, তিনি সবার জন্য একজন রোল মডেল।
১.৫. বিষয়টি খাস প্রমাণে আরেকটি আয়াত উপস্থাপন করেন:
«إِنَّ إِبْرَاهِيمَ كَانَ أُمَّةً»
নিশ্চয় ইবরাহীম ছিলেন এক উম্মাত। [আন নাহল, ১৬:১২০]
এই আয়াত দ্বারা তিনি দাবি করতে চেয়েছেন যে, ইবরাহীম (আ.) একজন মানুষ হলেও তাকে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তাআলা একটি উম্মাত বলে সম্বোধন করেছেন, এটা তার জন্য খাস, তাই মূর্তি ভাঙাটাও তার জন্য খাস।
পর্যালোচনা: এ আয়াতে (امة) বা উম্মাত শব্দটি কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়। এর প্রসিদ্ধ অর্থ হলো, দল ও সম্প্রদায়। মুজাহিদ (রাহি.) এখানে এ অর্থই গ্রহণ করেছেন। [ তাফসীর ইবনু কাসীর] তখন অর্থ হবে, ইবরাহীম (আ.) একাই এক ব্যক্তি, এক সম্প্রদায় ও কওমের গুণাবলি ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী ছিলেন। অর্থাৎ তিনি একাই ছিলেন একটি উম্মাতের সমান।
যখন দুনিয়ায় কোনো মুসলিম ছিল না তখন একদিকে তিনি একাই ছিলেন ইসলামের পতাকাবাহী এবং অন্যদিকে সারা দুনিয়ার মানুষ ছিল কুফরীর পতাকাবাহী। আল্লাহর এ একক বান্দাই তখন এমন কাজ করেন যা করার জন্য একটি উম্মাতের প্রয়োজন ছিল। তিনি একক ব্যক্তি ছিলেন না, ব্যক্তি হয়েও তিনি ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান।
‘উম্মাত’ শব্দের আরেক অর্থ হচ্ছে, জাতির অনুসৃত নেতা ও গুণাবলির আধার এবং যিনি মানুষকে কল্যাণের শিক্ষা দেন। অধিকাংশ মুফাসসির এখানে এ অর্থই নিয়েছেন। [তাবারী; বাগভী; কুরতুবী, ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর] [ড.আবু বাকর যাকারিয়া, কুরআনুল কারীম, ১/১৪৫৯ দ্রষ্টব্য]
এই আয়াতের ব্যাখ্যা থেকেও আমরা বুঝতে পারলাম যে, ইবরাহীম (আ.) একজন শ্রেষ্ঠ মানব, যিনি ছিলেন একাই একশো। এমন এক নেতা যার অনুসরণ করা (করতে) হয়। এই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় যখন কিছু আয়াত পরে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইবরাহীম (আ.) বেশ কিছু গুনাবলি ও প্রশংসা উল্লেখ করে রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বলেন:
«ثُمَّ أَوْحَيْنَآ إِلَيْكَ أَنِ ٱتَّبِعْ مِلَّةَ إِبْرَٰهِيمَ حَنِيفًۭا»
তারপর আমরা আপনার প্রতি ওহী করলাম যে, আপনি একনিষ্ঠ ইবরাহীমের মিল্লাত -আদর্শ- অনুসরণ করুন। [আন নাহল, ১৬:১২৩]
{আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের কে কুরআনের আরও বেশ কিছু জায়গায় ইবরাহীম (আ.)-এর অনুসরণ করার আদেশ দেন, যেমন: আল বাকারাহ, ২:১৩০,১৩৫; আন নিসা, ৪:১২৫; আল মুমতাহিনাহ, ৬০:৪,৬}
১.৬. তিনি আরও বলেন যে, ইবরাহীম (আ.) এর মূর্তি ভাঙা সম্পর্কিত আয়াতগুলি মাক্কি। রাসূলুল্লাহ (সা.) তখন মাক্কায় ছিলেন, কাবা তার হাতের নাগালে ছিল। কিন্তু তাও তিনি মূর্তিগুলো ভাঙেননি। ইবরাহীম (আ.) মূর্তি ভাঙা যদি তার জন্য আদর্শ হতো তাহলে তিনি তো তা ভাঙতেন, যা তিনি করেননি।
পর্যালোচনা: খান সাহেবের এই আয়াতগুলো থেকে এমন অর্থ নেওয়ার কারণ হয়তোবা তার এই আয়াত বা কর্ম কে ইবরাহীম (আ.) এর সাথে খাস মনে করার কারনে হতে পারে। রাসূলুল্লাহ (সা.) মাক্কায় থাকাবস্থায় মূর্তিগুলোকে ভাঙেননি, একথা সত্য। এর কারণ কী হতে পারে?
এর অনেকগুলো কারণ হতে পারে, রাসূলুল্লাহ (সা.) এর অবশ্যই তখন পূর্ণ ক্ষমতা ছিলনা, তিনি হয়তোবা ভেবেছেন যে, এখন যদি তিনি এই মূর্তিগুলোকে কোনোভাবে ভেঙেও দেন, তাহলে মুশরিকগন হয়তোবা সেগুলোকে আবার স্থাপন করবেন, হয়তোবা তাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য আরও বেশি করে মূর্তি নির্মাণ করবেন।
হয়তোবা এ কারনে যে তিনি জানতেন এই দীন একদিন বিজয় লাভ করবে এবং তিনি একজন পূর্ণ ক্ষমতাবান নেতা হবেন, যখন এই মূর্তিগুলোকে চিরকালের জন্য ভাঙলেও কেউ পুনরায় নির্মাণ করবেনা। রাসূলুল্লাহ (সা.) তখন মূর্তি না ভাঙলেও, তার দাওয়াতের শুরু থেকেই ছিল মূর্তি ভাঙা নীতি। নিচের হাদীসটি দ্রষ্টব্য:
আমর ইবনু আবাসাহ আস-সুলামী (রা.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কে? তিনি বলেন: আমি একজন নবি। আমি বললাম, নবি কী? তিনি বললেন: আল্লাহ আমাকে পাঠিয়েছেন। আমি বললাম, তিনি আপনাকে কোন জিনিস দিয়ে পাঠিয়েছেন? তিনি বলেন: তিনি আমাকে আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখতে, মূর্তিসমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে, আল্লাহ এক বলে- ঘোষণা করতে এবং তার সাথে কোনো কিছু শারীক না করতে প্রেরণ করেছেন। আমি তাকে বললাম, এ ব্যাপারে আপনার সাথে কারা আছে? তিনি বলেন: স্বাধীন ও দাসেরা।
আমি বললাম, আমিও আপনার অনুসারী হতে চাই। তিনি বলেন: বর্তমান পরিস্থিতিতে তুমি তাতে সক্ষম হবে না। তুমি কি আমার অবস্থা এবং (ঈমান আনয়নকারী) অন্যদের অবস্থা দেখছ না? বরং তুমি তোমার পরিবারে ফিরে যাও, যখন তুমি শুনতে পাবে যে, আমি বিজয়ী হয়েছি তখন আমার নিকট এসো। বর্ণনাকারী বলেন, তাই আমি আমার পরিবারে ফিরে এলাম।
রাসূলুল্লাহ (সা.) মাদীনায় আগমন করলেন, অতএব, আমি মাদীনায় এসে তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাকে চিনতে পেরেছেন? তিনি বলেন: হ্যাঁ, তুমি তো মাক্কায় আমার সাথে সাক্ষাৎ করেছিলে। [সহীহ মুসলিম, ৮৩২; হাদীস একাডেমী, হা/১৮১৫]
এটি একটি লম্বা হাদীস যা আমি সুবিধার্থে সংক্ষেপায়িত করেছি। এই হাদীস থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, ইসলামের শুরু থেকেই লক্ষ্য ছিল মূর্তিকে ধ্বংস করা এবং এখানে কিন্তু তিনি শুধু মাক্কা বা কাবা ঘরের মূর্তির কথা বলেছেন তা নয়। তিনি আম ভাবে সকল মূর্তির কথাই বলেছেন।
রাসূলুল্লাহ (সা.) জানতেন যে, তিনি বিজয়ী হবেন তাই তিনি এই সাহাবিকে তখন তার অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন, কারণ তখন মুসলিমদের উপর বেশ নির্যাতন করা হচ্ছিল। এই একই কারনেই তিনি মূর্তিও তখন ভাঙেননি, পরে ভেঙেছেন।
এর সাথে এও বলা যায় যে, হাজ্জের কথা সেই মাক্কায় নাযিল হয়, সূরা হাজ্জে, কিন্তু তিনি তাও হাজ্জ করেননি, তিনি তা করেছেন একে বারে তার জীবনের শেষের দিকে।
১.৭. খান সাহেব আরও বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) কাবা ঘরের মূর্তি ভেঙ্গেছেন কারণ সেগুলো মুসলিমদের ইবাদতের স্থানে ছিল তাই, নাহলে তিনি তা ভাঙতেন না।
পর্যালোচনা: এমন উদ্ভট কথা ইসলামের গত ১৪০০ বছরে কোনো আলিম বলেছেন কিনা আল্লাহই ভালো জানেন! অন্য কোনো স্থানে মূর্তি থাকার চেয়ে মাসজিদে মূর্তি থাকাটা বেশি মারাত্মক এটা সত্য কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সা.) এই কাবা ঘরের মূর্তি ভাঙার বাহিরেও অন্যান্য মূর্তি ভাঙার আদেশ দিয়েছেন যেমন:
১. জারীর (রা.)-কে যুলখালাসার মূর্তি ধ্বংস করতে পাঠিয়েছিলেন। [বুখারী, হা.৩০২০]
২. খালিদ ইবন ওয়ালীদ (রা.)-কে ‘আল-উযযার’ মূর্তি ধ্বংস করতে পাঠিয়েছিলেন। [নাসাঈ কুবরা, হা.১১৫৪৭]
৩. আমর ইবনুল আস (রা.)-কে ‘সুওয়া’ মূর্তি ধ্বংস করতে পাঠিয়েছিলেন। [তারীখুত ত্বাবারী, ৩:৬৬]
৪. সাদ বিন যায়িদ আশহালী (রা.)-কে ‘মানাত’ মূর্তি ধ্বংস করতে পাঠিয়েছিলেন। [যাদুল মা‘আদ ৩:৩৬৫]
৫. আলী (রা.) বলেন, আমি কি তোমাকে এমনকাজে পাঠাব না, যে কাজে রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে পাঠিয়েছিলেন? তা হচ্ছে কোনো (জীবের) প্রতিকৃতি বা ছবি দেখলে তা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিবে এবং কোনো উঁচু কবর দেখলে তা ভেঙ্গে দিবে। [সহীহ মুসলিম, হা.৯৬৯; হাদোস একাডেমী, হা.২১৩৩]
{মূর্তি ধ্বংস করার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ড. আসাদুল্লাহ আল-গালিব রচিত সীরাতূর রাসূল এর ৫৫০-৫৫২ পৃষ্ঠা পড়ুন}
শেষ কথা, খান সাহেবের এমন ভুল হওয়ার পিছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। যেমন তিনি নিজেই তার এক ফেইসবুক পোস্টে স্বীকার করেছেন যে, তিনি হাদীস তেমন অধ্যয়ন করেন না। তার কাছে হাদীস বিষয়টি বেশ জটিল ও কঠিন মনে হয়। যদিও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, তিনি হাদীসে বিশ্বাস করেন, তিনি কোনো হাদীস অস্বীকারকারী নন। হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বলতা ও অজ্ঞতাই তার ভুলের এক বড়ো কারণ বলে আমি মনে করি।
তিনি সাধারন মানুষের সামনে একজন কুরআনের অভিজ্ঞ ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেন, আমরা এই ভিডিয়োর মাধ্যমে জানলাম যে, তিনি তাফসীরের ক্ষেত্রেও মিসকীন। তিনি কতগুলো আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা করলেন। এটার কারণও হচ্ছে হাদীস অধ্যয়ন না করা বা হাদীস ভিত্তিক তাফসীর অধ্যয়ন না করা। তিনি যেসব ব্যাখ্যা করেন, সবই আরবী ভাষাভিত্তিক, যা অনেক সময়ই ভুল হতে পারে।
এই ভিডিয়োর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনীর ব্যাপারেও খান সাহেবের দৈন্যদশা প্রমাণিত হলো। তিনি যদি অন্তত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সীরাতটা ভালোমতো পড়তেন তাহলে এই বিষয়ে তিনি এমন ভুল করতেন না বলে আমার বিশ্বাস।
সতর্কীকরণ: মূর্তি ভাঙা বা যেকোনো ইসলামী হদ বা শাস্তি বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকার বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের। সাধারণ মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে না। এবং মূর্তি বলতে অমুসলিমদের উপাসনালয়ের মূর্তি বা প্রতিমা বোঝানো হয় নি। [না.নি.সে এপথেও]
আজ এতটুকুই থাক। আস সালামু আলাইকুম।
চলবে ইন শা আল্লাহ
Mohammad Omar Faruq Milky