10/07/2026
গত ৩রা জুলাই, ২০২৬। রাজস্থানের জয়পুরের প্রতাপ নগর এলাকা। আর পাঁচটা দিনের মতোই সকালটা শুরু হয়েছিল ৪৫ বছর বয়সী মহিলা নীরজ শর্মার জন্য। নিজের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (differently-abled) ছেলেকে কোচিং ক্লাসে নামিয়ে দিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। ঠিক তখনই চারদিকের শান্ত পরিবেশকে চিরে দিয়ে ধেয়ে এল একটি কালো রঙের স্করপিও গাড়ি।
গতি কত ছিল জানেন? ঘণ্টায় প্রায় ১৩০ কিলোমিটার!
চোখের পলক ফেলার আগেই গাড়িটি সজোরে ধাক্কা মারল নীরজ দেবীকে। তীব্র আঘাতে প্রায় ১০০ ফুট দূরে গিয়ে ছিটকে পড়লেন তিনি। ঘটনাস্থলেই শেষ হয়ে গেল একটি মায়ের জীবন। চারদিকের মানুষ ছুটে এল। সবাই ভাবল, এটা একটা সাধারণ 'হিট অ্যান্ড রান' দুর্ঘটনা। ঘাতক গাড়িটি ততক্ষণে চম্পট দিয়েছে।
এরকম ঘটনা হামেশাই ঘটে, কারো গাড়ির গতির জন্য মৃত্যু হয় অন্য কারো!🤫
কিন্তু পুলিশের বিষয়টা খটকা লাগে এবং এই ঘটনার তদন্ত শুরু করলে, কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে যা বেরিয়ে এল, তা শুনে খোদ দুঁদে পুলিশ অফিসারদেরও পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজ এবং নীরজ দেবীর ভাইয়ের বয়ানের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ যখন আসল অপরাধীকে হাতকড়া পরাল, তখন জানা গেল— এই খুনের মাস্টারমাইন্ড আর কেউ নয়, খোদ নীরজ দেবীর ২৩ বছরের নিজের মেয়ে, আয়ুষি শর্মা!
হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। নিজের জন্মদাত্রী মা-কে নির্মমভাবে খুন করার জন্য ৭ লক্ষ টাকার সুপারি দিয়েছিল তাঁর নিজের মেয়ে! কিন্তু কেন? একটা মেয়ে কতটা নিচে নামলে নিজের মা-কে মারার ছক কষতে পারে?
কারণটা হলো— 'লোভ' আর 'সরকারি চাকরি'। ⚖️
বছরখানেক আগে আয়ুষির বাবা বিজয় কুমার শর্মা (যিনি আদালতে ক্লার্কের চাকরি করতেন) মারা যান। নিয়ম অনুযায়ী, বাবার মৃত্যুর পর তাঁর মা নীরজ দেবী 'অনুকম্পামূলক' (compassionate appointment) সরকারি চাকরিটি পান। আর এটাই মেনে নিতে পারেনি আয়ুষি। তার মনে হয়েছিল, মা তার ভবিষ্যতের সরকারি চাকরিটা কেড়ে নিয়েছে!
এখানেই শেষ নয়, মায়ের নামে জয়পুরে প্রায় ৪ কোটি টাকার দুটো বাড়ি আর ভরতপুরের হাইওয়ের পাশে প্রায় ১০ কোটি টাকার জমি ছিল। এই বিপুল সম্পত্তি আর সরকারি চাকরির লোভ আয়ুষির মাথা পুরো খেয়ে নিয়েছিল।
বিগত ৩ মাস ধরে নিজের জ্যাঠা (মোহন স্বরূপ) আর খুড়তুতো ভাই (বলরাম)-এর সাথে মিলে মা-কে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছিল আয়ুষি। ভরতপুর থেকে ৭ লক্ষ টাকায় ভাড়া করা হয়েছিল শার্প শুটার এবং কন্ট্রাক্ট কিলার। প্ল্যান ছিল একটাই— মা-কে এমনভাবে গাড়ি চাপা দিয়ে মারা হবে, যাতে সবাই এটাকে সাধারণ পথ দুর্ঘটনা মনে করে।
কিন্তু পাপ তো আর চাপা থাকে না! ❌
নীরজ দেবীর ভাইয়ের সন্দেহের ভিত্তিতে জয়পুর পুলিশের ডিসিপি (ইস্ট) রঞ্জিতা শর্মার নেতৃত্বে এক দুর্দান্ত তদন্ত চালানো হয়। আর তাতেই পর্দাফাঁস হয় এই কলিযুগের 'রাক্ষসী' মেয়ের। পুলিশ ইতিমধ্যেই আয়ুষি শর্মা এবং সুপারি কিলারসহ মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। খুড়তুতো ভাই বলরাম এখনও পলাতক, তবে পুলিশ তার খোঁজ চালাচ্ছে।
যে মা ১০ মাস ১০ দিন পেটে ধরে আগলে রেখেছিলেন, যে মা নিজের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছেলেকে নিয়ে প্রতিনিয়ত লড়াই করছিলেন— সেই মায়ের জীবন কেড়ে নিল তাঁরই নিজের রক্ত!
টাকার লোভ মানুষকে কতটা অন্ধ করে দিতে পারে, এই ঘটনা তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। এই কলঙ্কিত মেয়ের কী শাস্তি হওয়া উচিত বলে আপনারা মনে করেন? কমেন্টে আপনাদের মতামত জানান। 👇
#ছবি , লেখা ফেসবুক থেকে সংগৃহিত 🙏🙏🙏