04/09/2026
এই ইভেন্টের কথা আমি জীবনে ভুলবো না। আমি অসম্ভব রকমের প্যানিক এট্যাক খেয়ে গেসি! পোস্ট টা পড়লে নিজেকে ওই অবস্থায় রেখে ভাবলেও দেখবেন কেমন যেনো লাগতেসে!
ঢাকার বাহিরে, নওগা,গেলাম একজন ফটোগ্রাফার ও একজন সিনেমাটোগ্রাফার। আমাদের সাথে সহকারী টিম মেম্বার ২ জন।
ছেলের হলুদ, বিয়ে, বাশি বিয়ে,রিসিপশন, আউটডোর আলাদা দিনে.. ৫ দিনের প্রোগ্রাম...
ছেলের হলুদ সন্ধ্যায় হবার কথা হলেও ১১:৫৫ রাতে শুরু হয়। আমরা ১১ টায় যেয়ে রতন ভাইয়ার সাথে ছবি তোলার জন্য প্রিপারেশন নিলাম। লাইট সেটাপ করলাম। শুরু করি সর্বদা ডেকরেশনের ছবি দিয়ে কারন সাজানো প্রতিটা জিনিস যাদের বিয়ে তাদের কাছে স্পেশাল।
ডেকোরেশন নিয়ে হলুদ শুরু। ভাইয়ার এন্ট্রি নিবো, আমার ক্যামেরা নষ্ট! সে যে গেলো আর এলো না... রতন ভাইয়া বুকিং থেকে শুরু করে আমাদের পৌছানো সব কিছু দেখেন। আমি প্রফেশনাল হিসেবে শেয়ার করলাম যে ভাইয়া এটা গেছে আজকে ছবি হবে তবে ভিডিও থেকে অলসো সামান্য। আগামীকাল সকালে ১১ টা থেকে বিয়ের রিচুয়াল শুরু। আমি ভাইয়াকে ইনফর্ম করতে করতে কল দিলাম বগুড়াতে পরিচিত ফটোগ্রাফারকে। উনি আমাকে একটা ক্যামেরা রেন্ট ও একজন ফটোগ্রাফার ম্যানেজ করে দিলো।
আমি পরের দিন আমার সহকারীকে পাঠালাম বগুড়া, ক্যামেরা ফিক্স করতে।
আমি হায়ার করা ক্যামেরা দিয়ে পরের দিন কাজ শুরু করলাম।
ভাগ্যিস রতন ভাই সহযোগিতা করে আর ইলেক্ট্রনিক্স জিনিস নষ্ট হতেই পারে ভেবে ছাড় দেন।
আমার অগ্রীম পেমেন্টের থেকে ক্যামেরা ৬ হাজার দিয়ে ফিক্স করা হয়। তবে প্রতিদিন ক্যামেরা ভাড়া করা থেকে অবশ্যই সাশ্রয়ী। আমার কপাল এতোটাও মন্দ ছিলো সেই মাসে, ইভেন্টে গেলাম ক্যামেরা নষ্ট। ঢাকায় এসে ইভেন্টে গেলাম আমি অসুস্থ। আলহামদুলিল্লাহ বিপদ আপদ কেটে উঠে। বাশি বিয়ের দিন সকালে ক্যামেরা হতে পাই।
যাবার সময় পুরো বৃষ্টি। ক্যামেরা বাদে বাকি সব ভিজেছে আর যা ভিজেছিলো তা কিছুই নষ্ট হয়নই,
হট শু থেকে শর্ট সার্কিট হয়ে ক্যামেরা ডিসপ্লে চলে গিয়েছিলো সেটাই ফিক্স করানো হয়।।নওগা এর আশে পাশে আর শহর বা ক্যামেরা ফিক্স এর দোকান নেই, পাঠালাম বগুড়া ৭ মাথা, একটাই দোকান তাই এক দামেই ফিক্স করতে হলো। ঢাকায় হলে ৪ হাজারেই হতো। হয়তো লস গেছে কিন্তু ইভেন্ট আলহামদুলিল্লাহ সব গুলোই কাভার হয়।
এই ৫টা দিনে আমাদের থাকা খাওয়া কোনো কিছুর অভাব ছিলো না। আমরা না চাইতেও বেশ ভালো থাকি। সেখানে সেরা হোটেলে টিমকে রাখতে ছেলেদের জন্য বড় একটা রুম, আমার জন্য এনাফ বড় একটা রুম।
আরামের জন্য যেনো গ্রুমের বাড়িতে ঢাক ঢোলে যখন তখন ঘুম না ভাঙে।
আমি প্রচুর পরিমানে নয়ন ভাইয়া, রতন ভাইয়া আর তিশা আপুর প্রতি কৃতজ্ঞ। তিশা আপু আজ থেকে ১৩ বছর আগের পরিচয় সুবাদে আমার কাজে আমাকে ভরসা করেন।
যদিও আমার প্রচুর পরিমানে অসুস্থতার কারনে বাকি ফাইল দেয়া হয়নি আজ প্রায় ২ মাস ( ক্ষমা স্বীকার অবশ্যই)। ভুল করলে তা মেনে নিতেই হবে।
ভাইয়া অনেক understanding... আমাকে অনেক সময় দিয়েছেন।
আমি এখন বাকি জিনিসগুলো হস্তান্তর করতে প্রস্তুত।
আলহামদুলিল্লাহ।
আমার জীবনে এটাই ছিলো একই সাথে কিভাবে একজন প্রফেশনাল মানুষ হয়ে সিচুয়েশন হ্যান্ডেল করতে হয় সেই অভিজ্ঞতাটা সম্পূর্ন ভাবে একটা ইভেন্টে (৫) পুরোপুরি ভাবে কাকে লাগে।
১২ টা বছর এর অভিজ্ঞতা আর পরিচিতি যখন ঢাকা ও ঢাকার বাহিরে কাজে দেয়... এ এক অন্য রকম অভিজ্ঞতা।
Photographer : Zannat Meem
Copyrights: Bridal Ambience
Hello : 01680-072077.
Flickr: https://www.flickr.com/photos/zannatmeem/
113463679@N08" rel="ugc" target="_blank">https://www.flickr.com/photos/113463679@N08