17/08/2023
যে সকল রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গরা স্লো-পয়জনিংয়ের শিকার হয়েছেন/মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছেন ........
এক.
ইরানের সঙ্গে ছায়া যুদ্ধের অংশ হিসেবে গত বিশ বছরে ৭ জন ইরানী পরমাণু বিজ্ঞানী ই+জ*রা+য়ে%লী গোয়েন্দা সংস্থা মো*সা+দে*র গুপ্ত হ*ত্যার শিকার হয়েছে। শুধুমাত্র ২০১০-১২ দুই বছরে চার ইরানী বিজ্ঞানীকে হ*ত্যা করে মো*সা+দ। ই*জ *রা*য়ে+লে -র গোয়েন্দা বিষয়ক প্রতিনিধি রনেন বার্গম্যান তার ছয় শতাধিক পৃষ্ঠার বই "রাউজ এন্ড কিল ফার্স্ট" বইতে উল্লেখ করেছেন শত্রুকে গায়েল করতে ই+জ*রা÷য়ে-লী কখনও গাড়িতে বো+মা স্থাপন অথবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে রিমোট কন্ট্রোলে পরিচালিত মেশিনগান, নির্ভুল নিশানায় বরাবরই সফল মো+সা*দ। গুপ্তহ+ত্যা*য় বিষাক্ত গ্যাস কিংবা ম্যাগনেটাইজ বো%মের মত ভয়ংকর অ*স্ত্রের ব্যবহার করেছে ই*স+রা*ই+লের এ গোয়েন্দা সংস্থা।টুটপেস্টে বিষ প্রয়োগ করছে। আবার কখনো সেনারা ড্রোন হামলা করছে।মুঠোফোন বিস্ফুরণ করছে, কিংবা দূর নিয়ন্ত্রিত ব্যাবস্থায় যানবাহনের টায়ার ফুটো করেও দেশটি নিজের ছায়াযুদ্ধে জয়ের চেষ্টা করেছে।
দুই.
ই +সরা*য়ে-লে%র বিষেই আরাফাত হত্যা;
==========
আল-জাজিরার একটি প্রতিবেদনে ইয়াসিন আরাফাতের (মুহাম্মদ আবদেল রহমান আব্দেল রউফ আরাফাত আল-কুদওয়া আল-হুসেইনী।শান্তিতে নোবেল বিজয়ী।জন্ম: আগস্ট ২৪, ১৯২৯ – মৃত্যু: নভেম্বর ১১, ২০০৪। প্রচলিত নাম ইয়াসির আরাফাত, ছিলেন একজন ফিলিস্তিনী নেতা।) শরীরে পোলনিয়ামের অস্তিত্ব থাকার তথ্য প্রকাশের পর ২০১২ সালের নবেম্বরে তার দেহাবশেষ উত্তোলন করে নমুনা সংগ্রহ করে সুইস, ফরাসি ও রুশ বিশেষজ্ঞরা।সুইজারল্যান্ডের লাওসেনের "ইনিস্টিউট ডি রেডিওফিজিক্স" নিশ্চিত করে পোলনিয়াম-২১০ নামের একটি বিরল এবং উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয় পদার্থ প্রয়োগে আরাফাতকে হত্যা করা হয়।
তিন.
২০০৬ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের চরম বিরোধী সাবেক কেজিবি কর্মকর্তা আলেকজান্ডার লিটভিনেনকোকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়। লিটভিনেনকো’র শরীরে পোলোনিয়াম-২১০ নামের তেজস্ক্রিয় পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিলো। সম্ভবত গ্রীণ-টিতে মিশিয়ে খাওয়নো হয়েছিল।
চার.
গুরুতর অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ওপরে বিষপ্রয়োগ (স্লো-পয়জনিং) করা হয়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ছিলো। আর এই কারনেই সরকার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দেয় নি। কেননা, বিদেশে পরীক্ষা নীরিক্ষায় বিষআক্রান্তের খবর ধরা পড়ে যেতে পারে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি অসম্ভব নয়। তখন তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর লিভার সিরোসিসে রক্তবমি সহ উচ্চ ডায়বেটিক, কিডনি ও লাংয়ের গুরুতর অসুস্থতার খবর চিকিৎসকরা প্রকাশ করেছেন। দেশের মধ্যে তাঁর চিকিৎসা সম্ভব নয় বিধায় উন্নত দেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন।কিন্তু সরকার পক্ষ তাতে সায় দেয় নি।
পাঁচ.
আল্লামা সাঈদীর এই মৃত্যু কি স্বাভাবিক মৃত্যু ছিলো?
সংগৃহীত বিভিন্ন সূত্র থেকে জানলাম, কারাগারে আল্লামা সাঈদী তেমন কোন অসুস্থ ছিলেন না। তিনি অন্যান্য দিনের মত স্বাভাবিক ছিলেন।কারাগারে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এমন তথ্য কেউ নিশ্চিত করতে পারে নি।
আল্লামা সাঈদীকে বিকালে যখন হাসপাতালে নিয়ে আসার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, তখন তিনি কারারক্ষীদের প্রশ্ন করেন,'কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আমাকে?'প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে, চেকআপের জন্য বাইরে হাসপাতালে নেওয়া হবে।
ক- গাজীপুর তাজউদ্দীন মেডিকেলের কর্ত্যেব্যরত চিকিৎসকের টাইমলাইনের বর্ণনা অনুযায়ী আল্লামা সাঈদী স্বহস্তে মাগরিবের ওজু করে একজন পুলিশ সদস্যকে নিয়ে মাগরিবের নামাজ জামায়াতে পড়েছিলেন। আমরা ধরে নিতে পারি আল্লামা সাঈদী তখনও স্বাভাবিক ছিলেন।
খ- পিজি হাসপাতালে আনার পর তাঁকে সদা হস্যেজ্জল দেখা গেছে। তিনি হাসপাতালে গাড়ি থেকে নেমে স্বভাবসুলভ সকলকে সালাম দিয়েছিলেন। বাজ্যিকভাবে তেমন কোন অসুস্থই মনে হয়নি। হাসপাতালে গাড়ি থেকে নামার দৃশ্য যারা দেখেছেন তারা সকলেই একবাক্যে বলছেন তাঁকে তেমন কোন অসুস্থ বলে বোঝা যায়নি। তিনি হাশিখুশি ও স্বাভাবিক ছিলেন।
গ- হাসপাতালে আনার পর পরিবারের কারো সাথে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিনি পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলতে চেয়েছিলেন। কাউকে তাঁর কাছে যাওয়ার সুযোগ দেয়নি তখন।
ঘ- পিজি হাসপাতালে আল্লামা সাঈদীর চিকিৎসক 'মোস্তফা জামান' হলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক কমিটির সদস্য। ডিএমসি ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারীতে শাহবাগে কথিত গণজাগরণ মঞ্চে আল্লামা সাঈদীর ফাঁসির দাবীতে শ্লোগান দিয়েছিলেন। তাঁর কাছ থেকে কি আল্লামা সাঈদী সুচিকিৎসা পাওয়ার আশা রাখেন?
ঙ- আল্লামা সাঈদীর মৃত্যু পর কেন প্রশাসন লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেনি?কেন পুলিশ নির্জন রাতে তাদের দ্বায়িত্বে আল্লামাকে মাটির আড়াল করতে চেয়েছিলো?কেন সাঈদী প্রেমি জনতার ওপর সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার গ্যাস, গুলি, জলকামান, রায়ট কার দিয়ে হাজার হাজার মানুষকে ছত্রভঙ্গ করে?রাজধানীতে কেন জানাযা করতে দেয়নি?কেন পুলিশ কড়া নজরদারিতে পিরোজপুরে সময়ের আগেই জানাজা করে কবরস্থ করেছিলো?এইসকল প্রশ্নেই বলে দেয় আল্লামা সাঈদী রাষ্ট্রিয় কসাইদের কিলিংয়ের শিকার।
চ- ডাক্তার মোস্তাফা জামান কেনো গত রাতে দাদার দেশে পালিয়ে গেলো?যদি সে হত্যাকারীদের সঙ্গী না হয়?কেন মিডিয়ায় দুই ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে?
এই সমস্ত প্রক্রিয়াই বলে দিচ্ছে, আল্লামা সাঈদী সাহেবের মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না। কারাগারে স্বাভাবিক মৃত্যু হলে অন্যদের ক্ষেত্রে যেভাবে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়, সেভাবেই দেয়া হতো। এতে পরিষ্কার হয়ে যায়, সাঈদী সাহেবের মৃত্যু একটি রাষ্ট্রীয় হত্যা।
রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের ওপরে স্লো-পয়জনিংয়ের বিশ্ববাপি নজির রয়েছে ভুরি ভুরি।
রায়হান আহমদ
১৭ আগস্ট'২৩
কানাইঘাট