11/05/2026
স্কুল ছুটির পর বিকেলের নরম আলোয় ভ্যানটা ধীরে ধীরে কাঁচা রাস্তা ধরে এগোচ্ছিল। ক্লান্ত শরীর নিয়ে আমি এক কোণে বসেছিলাম। হঠাৎ মাঝপথে এক লোক ভ্যানে উঠলো। তার হাতে ছোট্ট একটা প্যাকেট—দেখেই বুঝলাম শিশুর দুধ। মনে হলো হয়তো বাসায় ছোট্ট কেউ অপেক্ষা করছে।
লোকটা চুপচাপ বসে ছিল কিছুক্ষণ। তারপর একটা বাজারের সামনে এসে বললো,
— “একটু দাঁড়ান ভাই, একজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আসি।”
সে তাড়াহুড়ো করে নেমে গেল। ভ্যান দাঁড়িয়ে রইলো। অজান্তেই চোখ চলে গেল তার ব্যাগের দিকে। ব্যাগের মুখটা একটু খোলা ছিল। ভেতরে শিশুর দুধের প্যাকেটের পাশেই রাখা একটা সিগারেটের প্যাকেট।
অদ্ভুত এক অনুভূতি হলো আমার।
দুধ—যেটা একটা নতুন জীবনের শক্তি, বেঁচে থাকার অবলম্বন। আর সিগারেট—যেটা ধীরে ধীরে মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। দুই বিপরীত জিনিস একই ব্যাগে পাশাপাশি পড়ে আছে, যেন জীবন আর মৃত্যুই একসাথে পথ চলেছে।
হয়তো এতে খাবারের কোনো ক্ষতি হবে না। তবুও মনটা কেমন ভারী হয়ে গেল। মানুষটা চাইলে সিগারেটটা পকেটেও রাখতে পারতো। আলাদা কোথাও রাখতে পারতো। কিন্তু সে রাখেনি।
হয়তো এটাই বাস্তবতা—মানুষ একই হাতে সন্তানের জন্য দুধও কিনে, আবার নিজের জন্য ধোঁয়াও। একদিকে ভবিষ্যৎকে বাঁচানোর চেষ্টা, অন্যদিকে নিজেকেই একটু একটু করে শেষ করে ফেলা