09/03/2026
পাহাড়ে সশস্ত্র সংগঠন Kuki-Chin National Front (KNF)–এর কর্মকাণ্ডের অজুহাতে পুরো বম (Bawm) জনগোষ্ঠীকে সন্দেহের চোখে দেখা আজ এক গভীর মানবাধিকার সংকটে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্র যদি কিছু সংখ্যক বিপথগামী ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো একটি জাতিগোষ্ঠীর উপর চাপিয়ে দেয়, তবে তা শুধু অন্যায় নয় বরং সভ্য রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য লজ্জাজনক।
২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে বান্দরবানের বিভিন্ন গ্রামে সামরিক অভিযানের সময় ১৪২ জন বম নারী, পুরুষ ও শিশুদের গ্রেফতার করা হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা Amnesty International–এর তথ্য অনুযায়ী গ্রেফতার হওয়া ১৪২ জনের মধ্যে দীর্ঘ সময় পরেও কমপক্ষে ৫৯ জন বম এখনও বিচার ছাড়াই কারাগারে বন্দী, যাদের মধ্যে একাধিক শিশু পর্যন্ত রয়েছে!!
এই বন্দীদের অনেকেই শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে আটক হয়েছেন। অধিকাংশ বন্দীদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ বা স্বচ্ছ বিচারপ্রক্রিয়া উপস্থাপন না করেই পুরো বম জনগোষ্ঠীকে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের দায়ে সমষ্টিগত শাস্তির মুখোমুখি করে রেখেছে রাষ্ট্র।
একাধিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছেন। অন্তত ৩ জন বন্দী কারাগারে চিকিৎসার অভাবে মা/রা গেছেন, এখনো অনেক বন্দী অসুস্থবস্থায় মৃ/ত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো অপরাধীর বিচার করা—নিরপরাধ মানুষকে বন্দী না। কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে তার বিচার অবশ্যই হতে হবে কিন্তু সেই বিচার হতে হবে ব্যক্তিগত দায়ের ভিত্তিতে, কোনো জাতিগোষ্ঠীকে সামষ্টিকভাবে শাস্তি দিয়ে না।
আজ ৭০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে মাত্র ১৩ হাজারের মতো একটা জাতির একাধিক সদস্যকে বন্দী রেখেছে। রাষ্ট্র তাঁর কোন নাগরিক'কে বিনা বিচারে বছরের পর বছর বন্দী রাখে বলে সভ্য কোন রাষ্ট্রের নজির আছে বলে আমার জানা নেই। রাষ্ট্রের এই আচরণে ছোট্ট এই জনগোষ্ঠী বিলুপ্তির পথ আরো সুগম হলো। অবিলম্বে বন্দী বমদের নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে পূর্নবাসনের ব্যবস্থার জোড়ালো দাবি রাখছি।
হবে।