23/10/2018
গল্পঃ জীবনের বাঁকে
লেখকঃ মেঘহীন শ্রাবণ
পর্বঃ ০১
আজ প্রায় ৫ বছর পর মোহনপুর এলাম। এক সময় এখানেই আমার সকাল হতো, প্রতিদিন ধরাবাঁধা রুটিনে চললেও ছুটির দিনগুলোতে ছিলাম সম্পূর্ণ স্বাধীন। ভোরের আলো ছড়িয়ে না পড়তেই শিশিরে ভেজা ঘাসের মাঠে ক্রিকেট খেলা, দুপুরবেলায় নদীতে সাঁতার কাঁটা, বিকেল হলে দল বেঁধে মোহনপুর ব্রিজের উপর আড্ডা দেয়া ইত্যাদি। তখন ছোটমামা এই মোহনপুরে একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন আর তারই সুবাদে এখানে তিনি বিয়েটাও সেরে ফেলেন। এখন অবশ্য বদলী হয়ে মানিকগঞ্জে আছেন। মামার কারণেই এই ছোট্ট উপ-শহরের সাথে আমার সম্পর্ক গড়ে উঠে। ক্লাস এইট পর্যন্ত গ্রামের হাইস্কুলে পড়াশোনা করি, জে.এস.সি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়ায় মামা আমার প্রতি খুব আগ্রহী হয়ে পড়েন। মামার কথা ছিলো এমন একটা মেধাবী ছেলে গ্রামে থাকলে জীবনে কোন উন্নতি আসবেনা। যেই বলা সেই কাজ, তিনি নিজে গিয়ে আমাকে নিয়ে এলেন মোহনপুর।
নির্মল রায়, নামটা আমার জীবনের সাথে এক প্রকার মিশে যাওয়া একটি নাম। তবে ওর সাথে পরিচয়ের পর থেকে কেমন যেন ওকে অসহ্য লাগতো, প্রথমদিকে ও যেমন ছিল আমার একমাত্র চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী অপরদিকে ছিল ঈর্ষার মানুষ। তবে ও যে এক সময় আমার জীবনের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হয়ে দাঁড়াবে এটা যেমন আন্দাজ করিনি কখনো, ঠিক তেমনিভাবে এটাও কখনো ধারণা করিনি যে, ওকে নিয়ে আজ এমন বিদঘুটে স্মৃতিচারণ করতে হবে।
ওর সাথে পরিচয়টা প্রথম ক্লাসেই, ভালো ছাত্র হবার দরুন আমি কখনো পিছনের ছিটে বসতাম না আর এই নতুন স্কুলেরও সবথেকে মেধাবী ছাত্র ছিল এই নির্মল রায়। এমনকি আমার থেকেও ভালো ছাত্র, গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া ছাত্র। বরাবরই একটা ধারণা ছিলো চশমা পড়া মানুষগুলো সত্যি সত্যিই বোঁকা হয়, আর একে দেখে তার ব্যতিক্রম মনে হয়নি কখনো মোটা ফ্রেমের আতশ কাঁচের মতো চশমা পড়তো। দেখতে নাদুস নুদুস ভারী গড়নের শরীর, ঘন আর মাঝারি সাইজের চুল, হালকা শ্যাম বর্ণের, গলায় হিন্দুয়ানীর চিহ্ন সমেত মালা। দেখে আপাত দৃষ্টিতে তেমন আহামরি কিছুনা তবে খুবই ভদ্র আর নম্র স্বভাবের ছিল, আমার ওকে দেখে দেবতা গণেশ মনে হতো। প্রথমদিনে শুধু নামটাই জানা হয়েছিলো, তবে নাম শুনে যখন বুঝলাম এই লোকটা হিন্দু কেমন যেন শরীরে কাঁটা দিয়ে উঠলো। এ কী সর্বনাশ প্রথম দিনেই হিন্দুর সাথে পরিচয়! একটু দূরে সরে বসলাম যেন গায়ে গা না লাগে। তারপর ফেরার সময় আমরা সবাই যখন রিক্সা, ইজি বাইকে চড়লাম তখন মলিন একটা ব্যাগ