Borhan photography

Borhan photography This is a photography and videography page this page photography and videography

**মানসিক ভাবে ভালো থাকার উপায়**    গরু আমাদের দুধ দেয় না, আমরা কেড়ে নি। গাধাও মোট বয় না, ধোপারা এককালে জোর করে কাজটি...
05/05/2024

**মানসিক ভাবে ভালো থাকার উপায়**

গরু আমাদের দুধ দেয় না, আমরা কেড়ে নি। গাধাও মোট বয় না, ধোপারা এককালে জোর করে কাজটি করাতো। হিসেব মত সিংহীও দুধ দেয়, সিংহও ওজন বইতে সক্ষম। কিন্তু সিংহকে দিয়ে ওসব করানো মানুষের ক্ষমতার বাইরে।

ওই জন্য একটু বোকা আর ভালো মানুষদের গরু কিংবা গাধার সাথে তুলনা করা হয়। এই দুটো প্রাণীর নামে কোনো মানুষকে ডাকা মানে সেটা অপমান করা। কিন্তু কাউকে সিংহ বললে সে উল্টে গর্ববোধ করবে। সেই সিংহ, যে আজ অবধি মানুষের উপকার করল না, যার সামনে মানুষ গেলে মুহূর্তের মধ্যে পরপারে চলে যাবে, সেই সিংহ হচ্ছে মানুষের চোখে রাজা। উপকারী গাধা হচ্ছে হাসির বস্তু।

অতিরিক্ত ভালো হওয়ার সমস্যাই এটা। অতিরিক্ত ভালো মানুষরা কারোর কাছে গুরুত্ব পায় না। তুমি নিঃস্বার্থভাবে ত্যাগ করতে থাকো, ভালো মনে কারোর ক্রমাগত উপকার করতে থাকো, আঘাতের পর আঘাত সহ্য করেও হাসিমুখে কাউকে ভালোবাসতে থাকো, তুমি তার চোখে 'গাধা' ছাড়া আর কিছুই হবে না। যদি মনে করো সে একদিন এগুলোর মূল্য বুঝবে, তাহলে তুমি সত্যিই গাধা। কারুর কাছে নিজের দাম পেতে গেলে একবার অন্তত সিংহের মত হতেই হয় ।

মৃত্যুর পরও ব্যাংকে আপনার টাকা রয়ে যায়। দান করবেন বলে কথা দিয়েও হয়তো কয়েকজনকে দেন নাই অথচ আমরা আমাদের জীবদ্দশায় খরচ করার জন্য প্রয়োজনীয় টাকা পাই না।

নিরেট সত্যটি হচ্ছে-অধিক ধনবান হওয়ার চেয়ে দীর্ঘ জীবন লাভ করা বেশি জরুরি। তাই অধিক ধনবান হওয়ার জন্য অবিরাম শ্রম না দিয়ে দীর্ঘ এবং সুস্থ্য জীবন যাপন করার চেষ্টা করা উচিত এবং নিজেকে সেভাবে গড়া উচিত।
আমাদের জীবনের নানা ঘটনাতেই এই সত্যটি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করা যায় :
দামি এবং অনেক সুবিধা সম্পন্ন একটি মোবাইল ফোনের ৭০% অব্যবহৃতই থেকে যায়।
মাদক ব্যাবসা করতো বা করে বা ভালো হয়ে গিয়েছে এমন বন্ধু বা পরিচিত কাউকে কখন ও বিশ্বাস করবেন না । এরা বেইমানী করবেই কারনে অকারনে ।
একটি মূল্যবান এবং দ্রুতগতি গাড়ির ৭০% গতির কোনো দরকারই হয় না।

প্রাসাদতুল্য মহামূল্যবান অট্টালিকার ৭০% অংশে কেউ বসবাস করে না।
কারো কারো এক আলমারি কাপড়-চোপড়ের বেশির ভাগ কোনদিনই পরা হয়ে উঠে না।
সারা জীবনের পরিশ্রমলব্ধ অর্থের ৭০% আসলে অপরের জন্যই। আপনার জমানো অর্থ যাদের জন্য রেখে যাবেন, বছরে একবারও আপনার জন্য প্রার্থনা করার সময় তাদের হবে না। এমনকি বেঁচে থাকতেই আপনার অর্থের প্রাচুর্যে বেড়ে ওঠা মানুষগুলো আপনাকে বৃদ্ধাশ্রমে ছুড়ে আসতে পারে। তাই বেঁচে থাকতেই ১০০% এর সুরক্ষা এবং পূর্ণ সদ্ব্যবহার করাই শ্রেয়।

করণীয় কী ?
১) অসুস্থ না হলেও মেডিকেল চেকআপ করুন।
২) অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করবেন না।
৩) মানুষকে ক্ষমা করে দিন।
৪) রাগ পুষে রাখবেন না। মনে রাখবেন কেউ-ই রগচটা মানুষকে পছন্দ করে না। আড়ালে-আবডালে পাগলা বলে ডাকে।
৫) পিপাসার্ত না হলেও জল পান করুন।
৬) সিদ্ধান্তটি সঠিক জেনেও কখনো কখনো ছাড় দিতে হয়।
৭) যতই বয়স হোক না আর ব্যস্ত থাকুন না কেন, জীবনসঙ্গীকে মাঝে মাঝে নিরিবিলি কোথাও নিয়ে হাত ধরে হাঁটুন, হোটেলে খাওয়াতে না পারলে বাদাম বা ঝালমুড়ি খান। আর তাকে বুঝতে দিন, সেই আপনার সবচেয়ে আপন। কারণ, আপনার সবরকম দুঃসময়ে সেই পাশে থাকে বা থাকবে।
৮) ক্ষমতাধর হলেও বিনয়ী হোন।
৯) আর্থিক সঙ্গতি থাকলে আর সুযোগ পেলেই পরিবার পরিজন নিয়ে নিজের দেশ এমনকি ভিন্নদেশকে দেখতে বেড়িয়ে পড়ুন। দান করুন ।
১০) ধনী না হলেও তৃপ্ত থাকুন।
১১) মাঝে মাঝে ভোরের সূর্যোদয় ,রাতের চাঁদ এবং সমুদ্র দেখতে ভুল করবেন না। বৃষ্টির জলে বছরে একবার হলেও ভিজবেন। আর দিনে ১০ মিনিট হলেও শরীরে রোদ লাগাবেন।
১২) মহাব্যস্ত থাকলেও নিয়মিত ব্যায়াম করুন আর ৩০ মিনিট হাঁটুন। আর মহান সৃষ্টিকর্তাকে নিয়মিত স্মরণ করুন। মিথ্যা ত্যাগ করুন ।
১৩.সর্বদা হাসিখুশি থাকুন। সুযোগ পেলেই কৌতুক পড়বেন। পরিবারের সবার সঙ্গে মজার ঘটনাগুলো শেয়ার করবেন। মাঝে মাঝে প্রাণবন্ত ভাবে হাসবেন।
১৪) সবার সাথে মিশবেন ছোটো বড় ভাববেন না।
--------------
(লেখাটি "WORLD MENTAL HEALTH DAY"
উপলক্ষে প্রকাশিত জার্নাল থেকে নেওয়া , কিছুটা পরিমার্জিত)

যোগ্য ব্যক্তির মুখে সত্য শোনায় অহংকারের মতো।অযোগ্য ব্যক্তির মুখে সত্য শোনায় বিনয়ের মতো।
05/05/2024

যোগ্য ব্যক্তির মুখে সত্য শোনায় অহংকারের মতো।
অযোগ্য ব্যক্তির মুখে সত্য শোনায় বিনয়ের মতো।

দুনিয়ার মানুষ মায়া কইরা কত্তো কিছু  করে—বাপে কবুতর পালে। জোড়া থেকে একটা কবুতর উইড়া চইলা যায়। বাকি একটা কবুতর একা হয়।গোলা...
05/05/2024

দুনিয়ার মানুষ মায়া কইরা কত্তো কিছু করে—

বাপে কবুতর পালে। জোড়া থেকে একটা কবুতর উইড়া চইলা যায়। বাকি একটা কবুতর একা হয়।গোলার ধান বেইছা বাপে গঞ্জে গিয়া নতুন সঙ্গী আরেকটা কবুতর কিন্ন্যা আনে। বাপেরে জিগাই কেন করেন এসব আব্বা? বাপে কয়, একলা কবুতর দেখতে ভাল্লাগে না, কবুতরটার লাইগা মায়া লাগে।

মায়েরে দেখতাম সারাজীবন বাপের লগে ঝগড়া হইলেই কইতো, চইলা যামু বাপের বাড়ি, করবো না এই সংসার। মায়ের চুল পাইকা গেছে বাপের লগে ঝগড়া করতে করতে, তবুও বাপেরে ছাইড়া যায় নাই। মায়েরে জিগাইলাম, যাইবা যাইবা কও যাও না কেন মা? মায়ে কয় এই সংসারের লাইগা মায়া লাগে।

ভাইরে দেখলাম ব্যাবসা কইরা প্রতি বছরি লস গুনে। মাঠের জমি বেইচা বেইচা ব্যাবসাতে নিয়া ঢুকায়। ভাইরে কইলাম, এত লস হয় ব্যাবসাখান ছাড়ো না কেন? ভাইয়ে কইলো ব্যাবসা কইরাই বড় হইছে, ছাড়তে পারুম না রে, মায়া লাগে।

বোনের একটা মেয়ে। মেয়েটার দুইটা কিডনি ই নষ্ট। ডাক্তার কইসে একটা কিডনি দিতে পারলে মেয়েটা বাঁইছা যাবে। কিডনির ম্যালা দাম, অত টেকা কই পাবে? মেয়েরে বাঁচাইতে বোন আমার নিজের কিডনি দিতে চায়। কইলাম কেন এমন করো বুবু? কিডনি দিলে তো তুমি মইরা যাইবা। বইনে কইলো, কিডনি না দিলে তো আমার মাইয়া মইরা যাবে! মাইয়াটার লাইগা আমার বড়ো মায়া লাগে, আমি তো মা।

এই দুনিয়ার মানষে মায়া কইরা কত্তো কিছু করে।

বন্ধুরে দেখলাম এক তরুনী প্রেমে মজনু হইয়্যা তারে হারানোর পর, সারা জীবন একলা থাকলো, একলা হাঁটলো। নতুন কইরা নিজেরে ডুবাইলো না চুবাইলো না কারোর প্রেমে। ধরলো না আর কারোর হাত। বন্ধুরে কই কেন এমন করোস? একটা বিবাহ কর, সংসার কর। ওয় আমারে কয়, তারে ছাড়া নিজেরে আমি আর কাউরে দিতে পারুম না, হেয় যে পিরিতখান রাইখা গেছে সেই পিরিতের লাইগা আমার মায়া লাগে; আমি তারে ভালোবাসি। আমি তো নতুন কইরা আর কাউরে ভালোবাসতে পারুম না।

দুনিয়ার মানুষ মায়া কইরা কত্তো কিছু যে করে, তুমিও করলা। মায়া কইরা ভিক্ষুকরে ভিক্ষা দিলা, ক্ষুাধার্ত্বরে খাবার দিলা, ফুলেরে ছুঁইয়্যা দিলা, নদীর জলে পা ভিঁজাইলা, চাঁন দেইখা রাত্তি জাগলা, বৃষ্টির জলে নিজেরে ভিঁজাইলা, কবিতার লাইনে নিজেরে হারাইলা, গানের সুরে নিজেরে খুঁজলা।

মায়া কইরা তুমি কত অচেনা অজানা মানুষের লাইগা কাইন্দা দুনিয়াদারি এক করলা, শুধু আমার লাইগা একচিমটি আফসোস করলা না। মায়া কইরা তুমি পাখি পুষলা, কুকুর পুষলা, বিড়াল পুষলা শুধু আমারে পুষলানা।

কী এমন হইতো আমারে কদ্দুর মায়া করলে? কী এমন হইতো কদ্দুর ভালোবাসলে? আমি বুঝি এতই সহজলভ্য? আমার চাওয়ায় বুঝি এতোই পাপ? আমারে ভালোবাসলে বুঝি তোমার পাপ হইয়্যা যাইতো? আমারে ভালোবাসার অপরাধে খোদায় বুঝি তোমারে ছুঁইড়া ফেলতো নরকে?

লেখা: আরিফ হুসাইন

ভাত যাতে গরমে নষ্ট না হয়, তাই একসময় জল ঢেলে রাখা হত। সেটাই পরের দিন সকালে পান্তা ভাতে পরিণত হত। এই সমস্যা থেকে বাঁচার জন...
05/05/2024

ভাত যাতে গরমে নষ্ট না হয়, তাই একসময় জল ঢেলে রাখা হত। সেটাই পরের দিন সকালে পান্তা ভাতে পরিণত হত। এই সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য ফ্রিজ আবিষ্কার হল। এখন মানুষ বেশি টাকা দিয়ে রেস্টুরেন্টে গিয়ে পান্তা ভাত কিনে খায়, ফেসবুকে পান্তা নিয়ে আদিখ্যেতা করে।

প্লেট সহজলভ্য ছিলো না বলে মানুষ একসময় কলাপাতা কেটে তাতে খাবার খেত। এখন সবার বাড়িতে প্লেট, কিন্তু নামী রেস্তোরাঁয় কিংবা কখনো বাড়িতেও কলাপাতায় খাবার সুযোগ পেলে মানুষ সেটাকে লাক্সারি মনে করে।

ধুতি-পাঞ্জাবি কিংবা শাড়ি পরাটাই একসময় চল ছিল। ঘরে-বাইরে প্রতিটা জায়গায় ওগুলোই ছিল স্বাভাবিক পোশাক। ওগুলো পরার ঝামেলা বলেই পরবর্তীকালে প্যান্ট-শার্ট মানুষের মাঝে জনপ্রিয় হল। এখনকার ছেলেমেয়েরা ধুতি কিংবা শাড়ি পরে ভীষণ স্পেশাল অকেশনে কিংবা উৎসবের সময়।

গ্রামের জীবনযাত্রাকে অত্যাধুনিক করার জন্য এবং মানুষের জীবনকে আরামদায়ক বানাবার জন্যেই শহরের সৃষ্টি হল। কুঁড়েঘর ভেঙে ফ্ল্যাট তৈরি হল, চাষের জমিতে কারখানা তৈরি হল, গাছ কেটে চওড়া রাস্তা বানানো হল। কিন্তু এখন যেকোনো শহরবাসীকে জিজ্ঞেস করুন তার শহর পছন্দ নাকি গ্রাম। বেশিরভাগই উত্তর দেবে, 'গ্রাম'। প্রকৃতির সান্নিধ্য পাওয়া এখন লাক্সারি। পাহাড়ে-জঙ্গলে ঘুরতে যাওয়া এখন খরচা সাপেক্ষ। অথচ জঙ্গল কেটেই আমাদের এই নগরের সৃষ্টি, কারণ আমরা জঙ্গলের বদলে নগর চেয়েছিলাম।

এগুলো থেকে স্পষ্ট যে কিছু জিনিস জীবন থেকে হারিয়ে গেলেই সেগুলো মূল্যবান হয়ে যায়। সাথে থাকাকালীন কেউ মূল্যই বোঝেনা। কখনো নিজের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য হারিয়ে যাওয়া ভীষণ প্রয়োজন।

নেছারত দাদা যে জাহান্নামে যাবে, আমরা সবাই সেটা জানতাম। জুমার খুতবায় জান্নাতের সার্টিফিকেট পাওয়া দশ সাহাবীর নাম শুনেছিল...
08/04/2024

নেছারত দাদা যে জাহান্নামে যাবে, আমরা সবাই সেটা জানতাম।

জুমার খুতবায় জান্নাতের সার্টিফিকেট পাওয়া দশ সাহাবীর নাম শুনেছিলাম। আর শুনেছিলাম আবু লাহাব, আবু তালিবদের নাম। আবু তালিবের কথা বলতে গিয়ে নজরুল নানা কান্না করে দিতেন। নবিজীরে এতো আদর করলো, এতো ভালোবাসলো, অথচ সেই আবু তালিবকে দেওয়া হবে জাহান্নামে!!

আহারে!আহারে!!

তবে নেছারত দাদার জন্য কেউ চোখের পানি ফেলে নাই। বরং উনি জাহান্নামে যাবে, কথাটা বলার সময় সবাইকে বেশ খুশি খুশিই দেখাতো। যেন কারো জাহান্নামে যাওয়াটা বিরাট আনন্দের ব্যাপার!!

নেছারত দাদাকে আমরা ছোটরা দূর থেকে দেখতাম। জাহান্নামি মানুষ কেমন হয়, দেখার খুব শখ ছিলো কি না!!

সেই নেছারত দাদাই একদিন আমারে হুট করে ডাকলেন, এই সাদিক, এদিক আয়।

ভয়ে আতঙ্কে আমার প্রাণ উড়ে গেল। পা জমে গেল। আমি বিড়বিড় করে আয়াতুল কুরসি পড়ার চেষ্টা করি। পারি না। কেন জানি আয়াতুল কুরসি আমার মনে থাকে না কখনোই।

আমাকে থমকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে নেছারত দাদা আবার হাঁক দিলেন, কী রে? তোরে আসতে বললাম না?

আমি ধীর পায়ে এগোনো শুরু করলাম। কাছে গিয়ে দেখি উনার হাতে একটা দা। আমারে কেটে কুটে খেয়ে ফেলবে না তো আবার? জাহান্নামি মানুষ, খাইতেও পারে।

উনি ডেকে বললেন, ডাব খাবি? আমি মাথা নাড়ি। যদিও মনে মনে খেতে ইচ্ছে করছিলো, কিন্তু আম্মুর কড়া নির্দেশ, অন্য কেউ কিছু খাইতে দিলে শুরুতেই খাওয়া যাবে না। বেশি জোরাজুরি করলে তখন আবার নিতে হবে। তখন না নেওয়াটা বেয়াদবি।

নেছারত দাদা কোন জোরাজুরি করলেন না। ডাবটা আমার হাতে দিয়ে বললেন, ঐ যে লোকটা দেখছিস, বসে আছে গাছের নিচে? ওরে যাইয়া ডাবটা দিয়া আয়। আমি যে দিয়েছি, বলবি না।

আমি ডাবটা বুকের সাথে আটকে ধরি। তারপর সেই লোকটার সামনে যাইয়া বলি, নেন, ডাব খান।

লোকটার পাশে একটা লাল রঙের ঝোলা। দেখে বুঝলাম, ফকির। উনি ডাবটা এক চুমুকে শেষ করলেন। তারপর আমার মাথায় হাত দিয়ে দুআ করলেন, আল্লাহ তাআলা রোজ হাশরের দিন তোমার পিপাসা দূর করুক বাবা!!

আমার লজ্জা লাগে। কারণ, ডাবটা আসলে দিয়েছে নেছারত দাদার। বাট জাহান্নামী মানুষের জন্য দুআ কোন কাজে লাগে নাকি? কে জানে!!

২.
এতোদিন আমি জানতাম, ঈদ সবার।

কিন্তু আজকে জানলাম, ঈদ শুধু রোজাদারদের।

মসজিদ কমিটির মিটিং। এই মিটিং থেকেই ঈদের জামাত কখন হবে, কটায় হবে ঠিক করা হয়। যদিও মিটিংটা বড়দের, বাট আমরা ছোটরাও বিপুল উৎসাহে সেই মিটিং এর আশেপাশে ঘুরাঘুরি করি। সাড়ে আটটায় নামাজের কথা উঠতেই মুয়াজ্জিন না না করে উঠলো। আহলে হাদিস হয়েও এতো পরে নামাজ পড়লে হানাফীদের সাথে আমাদের পার্থক্য থাকলো কী? তারচে চলেন, আমরাও হানাফী হয়ে যাই?

আমি তখন আহলে হাদিস হানাফি বুঝি না। শুধু বুঝি নামাজ যত দ্রুত শুরু হয়, ততই মঙ্গল। আমরা ছোটরা হঠাৎই কট্টর আহলে হাদিস হইয়া উঠি।

জব্বার দাদা প্রস্তাবটা রাখলেন। যারা যারা রোজা থাকেনি, তাদের ফিতরা আমরা নেবো না। তাদের সাথে এক ঈদগাহে নামাজও পড়বো না।

শুনে আমি আতকে উঠলাম। মনসুর দাদা পিঠে কিল মেরে অভয় দিলো, আরে গাধা, ছোটদের জন্য এই নিয়ম নাই।

পরে বুঝেছিলাম, নিয়মটা ছিলো নেছারত দাদার জন্য।

মাইকে ঘোষণা করা হলো, যারা যারা রোজা রাখে না, তাদের তাদের ঈদগাহে আসার দরকার নাই।

রোজা এই পাড়াতে একজনই রাখে নাই, সেইটা সবাই জানতো।

মাইকে ঘোষণা শোনার পর মুরব্বিদের মুখে আমি চাপা আনন্দ দেখি। জাহান্নামী লোকজনের সাথে না মিশতে হলে সেটা আনন্দের ব্যপারই বটে। তবে আমার কেন জানি মন খারাপ হয়ে যায়। চোখ বন্ধ করলেই শুনি, এই সাদিক, ডাব খাবি?

৩.
আমাদের মসজিদের ইমাম নিয়োগ দেওয়া হয়েছিলো খুব ঢাক ঢোল পিটিয়ে।

আবার ইমাম বিদায় করেও দেওয়া হলো ঢাক ঢোল পিটিয়েই।

সালিশ ডেকে রীতিমত অপমান করে ইমাম সাহেবকে বের করে দেওয়া হলো। তার অপরাধ ছিলো, তিনি ফারুক মামার বিরুদ্ধে গীবত করেছেন। অপবাদ দিয়েছেন। ফারুক মামা নজরুল নানার ছেলে। ক্ষমতাবান মানুষ। তার বিরুদ্ধে ইমাম সাহেব কোন অপবাদ দিয়েছিলেন, আমি তখনও বুঝিনি।

তবে কানাঘুষা শুনে যতটুকু বুঝেছিলাম, ফারুক মামাকে নাকি আজাদ কাকার বৌ এর ঘর থেকে রাতের বেলা বের হতে দেখা গেছে। ইমাম সাহেব ঐটা দেখে ফেলেছিলেন।

আম্মুদের ফিসফিস করে এটা নিয়ে কথা বলতে শুনতাম। কিন্তু আমরা ছোটরা গেলেই তারা এই বিষয়ে কথা অফ করে দিতো। কাজেই, বিস্তারিত তেমন কিছু জানি না।

তবে সালিশটা প্রকাশ্যেই হয়েছিলো। স্পষ্ট মনে আছে, ইমাম সাহেব নজরুল নানার পা জড়িয়ে ধরে কাঁদছে। চাকরি বাঁচানোর জন্য। বয়স্ক একটা মানুষের এমন হাউমাউ কান্নার দৃশ্য দেখে পাথর গলে, তবে নজরুল নানার হৃদয় গললো না।

ইমাম সাহেব গাটকি বোচকা নিয়ে বাইরের বরই গাছের নিচে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকলেন। নজরুল নানার উপর কথা বলার কেউ ছিলো না।

তবে কথা না শোনার মতো একজনও ছিলো।

নেছারত দাদা সন্ধ্যার ঠিক আগে ইমাম সাহেবকে তার বাসায় নিয়ে গেলেন। এরপর মাস দুয়েক ইমাম সাহেব তার বাড়িতেই ছিলো।

অবশ্য জাহান্নামী মানুষের বাসায় থাকা যাবে কি না, এটা নিয়ে ইমাম সাহেবকে আমি কোনদিন কিছু বলতে শুনিনি।

৪.
আমার নিজের দাদাকে আমি কোনদিন চোখের দেখা দেখিনি।

দাদার স্মৃতি বলতে আমার কাছে ছিলো ঝোপঝাড় ওয়ালা একটা কবর। ছোটবেলা থেকেই গোরস্থান আমি ভয় পাই খুব। খালি, দাদার কবর চেনার পর থেকে আর ভয় লাগে না। মনে হয়, এখানে তো আমার দাদা আছে, আমারে কে কী করবে?

ঈদের খুতবায় নতুন হুজুর বললেন, জান্নাতি মানুষের কবরে অদ্ভুত সুন্দর সাদা রঙের একটা ফুল ফোটে।

নামাজ শেষে আব্বুর সাথে দাদার কবর জিয়ারতের সময় আতিপাতি করে খুঁজেও আমি সাদা ফুল দেখতে পাই নাই। তবে কি আমার দাদার জান্নাত নসিব হয় নাই? আমি আব্বুর দেখাদেখি বিড়বিড় করি, রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বানি ইয়ানি সাগিরা....

৫.
ঈদের দিন সবার বাড়িতে হয় আনন্দ।

আর নেছারত দাদার বাড়ি থেকে ভেসে আসে চিৎকার, চেচামেচি।

বুবু মুখ চেপে হাসে। বড় আব্বার কন্ঠে ভালো মানুষের অহংকার, রহমত জিনিসটা আল্লাহ সবার ঘরে দেন না। আল্লাহর সাথে নাফরমানির ফল ভালো হয় না।

আমার বড় আপুর কথা মনে পড়ে। বিয়ের সময় বড় আব্বা জামাইকে বাইক ফ্রিজ উপহার দেওয়ার পরেও বড় আপু এখন আমাদের সাথে থাকে। তিনিও কি নাফরমান? আমি জানি না। শুধু জানি, আপুর মতো সুইট মানুষ আমি এই পৃথিবীতে আর একটাও দেখিনি।

ঝগড়া গন্ডগোল দেখা সবসময়ই আনন্দের।

ঈদের দিন সেই আনন্দ বেড়ে গেল বহুগুণ। আমরা অধীর আগ্রহ নিয়ে নেছারত দাদার ঘরের ভাঙচুর দেখতে লাগলাম।

কাহিনী আর কিছু না। দাদা কোথা থেকে জানি তিনটা সাঁওতাল ছেলে মেয়েকে ঈদের দাওয়াত দিয়ে নিয়ে এসেছে। সেই দেখে দাদি চিৎকার চেচামেচি করে বাড়ি মাথায় তুলেছে। সাঁওতাল মেয়েটা কাচুমাচু হয়ে এক কোণায় বসে আছে।

দাদা শেষপর্যন্ত চাল ডাল মাংস নিয়ে নিজেই রান্না শুরু করলেন। ওদের না নিয়ে উনি খাবেন না।

পুরো গ্রামে সাড়া পড়ে গেল। নজরুল নানা বললেন, যার সাথে যার উঠাবসা, তার সাথেই তার হাশর নাশর হবে।

৬.
মামুন ভাই মেডিকেলে চান্স পাওয়ার পর আমরা অবাক হইনি।

আমাদের স্কুলে ক্লাস ফাইভে বৃত্তি পেলে তার নাম একটা বোর্ডে লিখে রাখা হয়।

মামুন ভাইয়ের নাম ওখানে সবার উপরে লেখা ছিলো। হেডস্যারের রুমে গেলে আমরা ঐ নামের দিকে হিংসার চোখে তাকাইয়া থাকতাম।

সেই মামুন ভাইয়ের ভর্তির টাকা জোগাড় হলো না। নজরুল নানা বললেন, ইচ্ছা করলে টাকা দিতেই পারি। তবে কতদিন? ভর্তির পরেও মেডিকেল পড়ার অনেক খরচ আছে। তোমার ছেলেকে বরং অনার্স পড়াও।

গ্রামের মানুষও আর সামনে আগালো না। নজরুল নানা গ্রামের মাতবর। তার উপর কথা বলার সাহস কারো ছিলো না।

তবে শেষপর্যন্ত মামুন ভাই মেডিকেলে ভর্তি হয়েছিলেন। কীভাবে হয়েছিলেন, টাকা কোথায় পেয়েছিলেন, কেউ জানে না।

শুধু মেডিকেল ভর্তি হওয়ার ঠিক পরদিন নেছারত দাদার তিন বিঘার আম বাগানটা নজরুল নানার হয়ে গেল।

নেছারত দাদার শেষ সম্বল বিক্রি হয়ে যাওয়াতে সবাই হাহা করতে লাগলো।

বড় আব্বা বললেন, বরকত। আল্লাহ তাআলা নজরুলের নসিবে বরকত রেখেছে। নেছারতের নসিবে রাখেনি। নামাজ কালাম না পড়া মানুষের বরকত থাকবে কী করে?

যদিও শেষপর্যন্ত নেছারত দাদা নামাজ পড়েছিলেন।

৭.
সেবার রমজানে আমি ফুল মাস রোজা রাখা শুরু করি।

তবে তারচেয়েও অবাক করা ব্যাপার, নেছারত দাদা মসজিদে নামাজ পড়া শুরু করে।

একেকজন অবশ্য একেক কথা বলতো। বয়স হয়েছে, এখন মানুষের যাকাতের টাকার জন্য মসজিদে আসছে, এমন কথাও শুনেছিলাম।

কেউ কুরআন পড়লে পাশে গিয়ে বসতেন। শুনতেন। এইটাও যাকাত খাওয়ার জন্য করেছিলেন কি না, আমি জানি না।

তবে একদিন নামাজ পড়তে পড়তে হুট করে উনি মাথা ঘুরে পড়ে গেলেন। জ্ঞান ফেরার পর মসজিদ ছাড়লেন না। বাকি নামাজটা পড়লেন চেয়ারে।

তবে এরপর উনাকে আমরা আর মসজিদে দেখিনি। অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে গেলেন ।

৮.
রমজানের শেষদিকে এসে রোজা ২৯ টা হবে নাকি ৩০ টা, সেই তর্ক চরমে উঠলো।

সবার জোর ধারণা, রোজা এবার ২৯ টাই হবে। আগের তিন বছর টানা ৩০ টা হয়েছে।

আম্মুরা মশলা বাটা, সেমাই বানানো শুরু করলো।

মশলা শুধু হলো না নেছারত দাদার বাড়িতে। দাদা বললেন, রমজান ২৯ না, ৩০ টাই হবে। আমাকে না নিয়ে এই রমজান যাবে না। তোমারা আমাকে শাওয়ালের চাঁদ উঠার আগেই মাটি দিও।

আব্বু বললেন, সব বুজরুকি।

নজরুল নানা বললেন, দুইদিন নামাজ পড়েই নেছারত এখন পীর হতে চায়!!

৯.
বড় নানাদের ছাদ আতিপাতি করে খুঁজেও আমরা কোন চাঁদ পেলাম না।

পরদিন বিকেলে নেছারত দাদা মারা গেলেন।

তিনটার দিকে হইচই শুনে আমরা উনাদের বাসায় দৌড় দিলাম। আমাদের চোখের সামনে লা ইলাহা পড়তে পড়তে দাদা মারা গেলেন।

মাটি দেওয়ার তোরজোর শুরু হলো। এতোদিন উনার কথা কেউ না শুনলেও আজ শুনলো। মরা মানুষের কথার দাম এখানে জীবিত মানুষের চে বেশি।

দাদাকে মাটি দিয়ে এসে আমরা ইফতার করলাম।

১০.
অন্য সময় হলে, রমজানে কেউ মারা গেলে তার সম্মানে ইমাম সাহেব কথা বলতেন। কালিমা পড়তে পড়তে কেউ মারা গেলেও সবাই তাকে হিংসা করতো।

তবে নেছারত দাদার বেলায় সেটা হলো না।

বরং মানুষ আফসোসই করে গেল। নাফরমানির সারাজীবন কি আর ১৫ দিনের নামাজ আর কালিমা দিয়ে শোধ করা যায়?

নজরুল নানা বললেন, কালিমা তো মুনাফিকরাও পড়তো। আমলটাই বড় কথা।

নেছারত দাদার জন্য আমাদের মসজিদে কখনওই কোন দুআ হয় নাই কোনদিন।

১১.
ঈদের নামাজে আমার কাছে সবচে মজা লাগতো তাকবীর।

নামাজে আমার মন থাকতো কম। আমি মনের আনন্দে তাকবীর গুনতাম। আরো বেশি তাকবীর কেন হলো না, নামাজ শেষে সেইটা নিয়ে খুব দুঃখ হতো।।

কোলাকুলির পর্ব সেরে আব্বুর হাত ধরে গোরস্থানে গেলাম।

আব্বু সূরা ফাতিহা, ইখলাস আর দরুদ শরিফ পড়তে লাগলো। আরো অনেক মানুষ জোরে জোরে দুআ পড়ছে, গোটা গোরস্থান পরিণত হয়েছে এক মিলনমেলায় ।

আমি মোনাজাত ধরি।

আব্বুর চোখে পানি। মুখে পড়ে, রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বা ইয়ানি সাগিরা....

আমি দাদার কবরের দিকে তাকাই। ঝোপ জঙ্গলে অন্ধকার হয়ে আছে। ভেতরটা ভালো করে দেখা যায় না। তবুও আপন আপন লাগে। ওখানেই তো শুয়ে আছে আমার দাদা।

ডানে নেছারত দাদার কবরটা তখনও বাধাই করা হয়নি। বেড়া দেওয়াও হয়নি। সারা রাতের বৃষ্টিতে ধুয়ে গেছে উপরের লাল মাটি। সমতল বানিয়ে ফেলেছে কবরের উপরেরটাকে।

সেই সবুজ সমতলে ফুটে আছে অদ্ভুত সুন্দর একটা সাদা রঙের ফুল।


"৫ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে ১ তলা বাড়ি করবো। কত খরচ হতে পারে?" এমন কথা অনেকেই আমাদেরকে বলে থাকেন। তাদেরকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করি,...
04/04/2024

"৫ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে ১ তলা বাড়ি করবো। কত খরচ হতে পারে?"

এমন কথা অনেকেই আমাদেরকে বলে থাকেন। তাদেরকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করি, এটা কেন করবেন?

"আমার সামর্থ্য আছে এই ১ তলা করার, বাকিটা ছেলেমেয়েদের জন্য ভালো করে ফাউন্ডেশন করে রেখে দিলাম, যাতে করে তারা এখানে আরও ৪ তলা বাড়ি করতে পারে।"

হ্যাঁ। এটাই হলো বাবা মা। আমরা একটু আবেগে বেশিই পুড়ি, এজন্য আমাদের দেশে বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যা দিনেদিনে বেড়ে চলেছে।

পৃথিবীর কয়টা দেশে সন্তানের জন্য এমন ভবিষ্যৎ চিন্তা করে বাবা মা সারাজীবনের সঞ্চয় দিয়ে বাড়ি করে রেখে যায়? সন্তান হবার পর এই বাবা মা মাছের মাথাটাও নিজেরা খেতে পারেনা। বাবা ,মা ও সন্তান খেতে বসেছে অথচ ডিম রান্না করা আছে ২টা। তখন বাবা মায়েরা কি করি? সন্তানের প্লেটে আস্ত একটা ডিম দিই, বাকি একটা বাবা মা ভাগ করে খাই। একারনেই সন্তান আসলে নষ্ট হয়। আমরা সন্তানকে শেখাই যে বাবা মা হলেই ছাড় দিতে হয়। ছেলেও সেভাবে বড় হয়। কিন্তু আপনি যদি সন্তানকে শেখাতেন "বাবা, ডিম আছে ৩টা, এটাকে ৩ ভাগ করে খেতে হবে। তাহলে সন্তান সেভাবেই ছোট থেকে মানুষ হতো। সঠিকভাবে ভাগ করা শিখতো।

কয়টা বাবা মা শেষ বয়স পর্যন্ত সন্তানকে শাসন করতে পারে? নিজের সহায় সম্পত্তি যা আছে তা সন্তানকে একটা সময়ে লিখে দিতে হয়। বাবার যখন আয় থাকেনা তখন সন্তানের উপর ভরসা করে বাকিজীবন চলতে হয়।

এটা ভুল। সারাজীবনের সব সঞ্চয় সন্তানদের পিছনে ব্যয় করতে নেই। সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য এভাবে ফাউন্ডেশন দিয়ে রাখতে নেই। আপনার সন্তানের যখন সামর্থ্য হবে, তখন তার এই বাড়ির ডিজাইন পছন্দ নাও হতে পারে, বাড়ি পুরাতন হয়ে যেতে পারে। অথবা সন্তানের তো বাড়ি করার ক্ষমতা নাও হতে পারে। তখন আপনার এই রক্ত পানি করে আয় করা বাড়তি ফাউন্ডেশনের এই অর্থ খরচ মাটির নিচে শুধুশুধু পড়ে থাকবে।

সন্তানকে লেখাপড়া শেখাচ্ছেন না? হ্যাঁ এটুকুই আপনার দায়িত্ব। সে তার মতো করে তার জীবন গড়ে তুলুক। মাছের মাথা তুলে দিবেন, লেখাপড়া শেখাবেন, ব্যবসার জন্য টাকা দিবেন, টাকা নষ্ট করবে, আবারো টাকা দিবেন, ছেলে বিয়ে করবে, ঘরে বৌ আসবে, ২ দিন পরে আপনার কথা কেউ পাত্তাই দিবেনা। নিজের গাটের সব সঞ্চয় ঢেলে দিয়ে সন্তানের জীবন গড়তে যাবেন না। বাংলাদেশে বেশিরভাগ বাবা মা সন্তানের আয় দিয়ে বাকিজীবন খেয়ে পড়ে থাকতে চান। কিন্তু এটা বুঝতে চান না যে সন্তান আমাকে বাকিজীবন না খাওয়ালে আমার কি অবস্থা হবে? ঐ যে "আমার ঠিকানা এখন বৃদ্ধাশ্রম"

বাস্তবতা এটাই। খোঁজ নিন, এদেশের ৮০% বাবা মাকে শেষ বয়সে অনেক লাঞ্চনা, অপমান সহ্য করে থাকতে হয় শুধুমাত্র তার আয় রোজগারের সবকিছু সন্তানদের জন্য ব্যয় করার জন্যই। হাতের পাঁচ থাকলে আপনার কদর থাকবে, নয়তো নয়। সন্তানের জন্ম থেকে মৃত্যুর দিন পর্যন্ত ভালো রাখার দায়িত্ব আপনার নয়। ছেলে কর্মক্ষম হলে তার জীবন তাকে গড়তে দিন। আদরে আদরে মাথা খাইয়েন না।

অনেকের খারাপ লাগতে পারে উপরের কথাগুলো। যারা বিরোধিতা করবেন তারা প্লিজ একবার যেকোন একটা বৃদ্ধাশ্রমে ঘুরে আসবেন। তারপর আমার কথাগুলির প্রতিবাদ করবেন।

সংগৃহীত

 #বুয়েট পাস এমন একজনকে চিনি, যার বিবাহিত জীবনের ১৩টা বছর শুধু একটা বাচ্চা নেয়ার চেষ্টায় কাটিয়ে দিচ্ছে। তার জীবনে সফল...
18/09/2023

#বুয়েট পাস এমন একজনকে চিনি, যার বিবাহিত জীবনের ১৩টা বছর শুধু একটা বাচ্চা নেয়ার চেষ্টায় কাটিয়ে দিচ্ছে। তার জীবনে সফলতা আছে কিন্তু পূর্ণতা নাই।

#ব্যাংকের এ,জি,এম এমন একজনকে চিনি, যার বউ দুইটা বাচ্চা রেখে আরেকজনের সাথে পালিয়ে গেছে। তার জীবনে সফলতা-পূর্ণতা সবই ছিলো, কিন্তু ভালোবাসাটা কপালে জুটেনি।

#এম,বি,এ পাশ করা একজনকে চিনি, পড়ালেখা শেষ করে ভালো কিছু করার জন্যে চলে যান দেশের বাহিরে , তারপর বিবাহের প্রস্তাব দেন ১৪ বছরের ভালোবাসার মানুষটির পরিবারে। শুধুমাত্র ছেলে প্রবাসী বলে বিবাহ দেননি। ভালো চাকুরী মানেই কি সব কিছু??

#প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করা এক মেয়ের গল্পটা জানি, কি নিদারুণ অত্যাচার সহ্য করে একদিন গলায় বিষ ঢেলে দিলো। ভালোবাসার জন্যে ঘর ছেড়েছিলো, সফলতা আসেনি কখনও।

#দেশ সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া মেয়েটার গল্পটা জানি। শুধু গায়ের রঙটা কালো বলে প্রেমিকের বাবা মায়ের হাজারো অবহেলার কথা মাথায় তুলে নিয়ে রিলেশনটা ব্রেকাপ করতে হয়েছিলো। সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়েও সে সুখী হতে পারছে না।

#ক্যারিয়ার গঠনের জন্য যে মেয়ে, তার বাবা মাকে বিয়ের কথা উচ্চারণ করতে দেয়নি, সে মেয়েটির শেষ পর্যন্ত বিয়েই হয়নি। টাকা পয়সা সব আছে কিন্তু স্বামী সংসার নেই।

#চাকুরী না পাওয়া তরুণের গল্পটাও করুণ। বেকার থাকার সময়ে প্রেমিকার বিয়ের আয়োজনটা থামাতে পারে নাই। চাকুরীটা হাতে পাওয়ার আগেই বাবা মারা গেলো। "সফলতা মানেই সুখ" বাক্যটা তার কাছে সম্পূর্ণ মিথ্যা।

#পুলিশের একজন এসপি-কে জানি, যিনি ভাগ্যের গেড়াকলে পড়ে; সন্তান হারিয়েছেন, স্ত্রীকে হারিয়েছেন, সংসার ও চাকুরি সব হারিয়ে, এখন ক্ষমতাহীন নিঃস্ব জীবন-যাপন করছেন। সফলতা তার জীবনে সুখ আনতে আনতে পারেনি।

#একজন প্রফেসরের সাথে আমার কথা হয়েছিলো। তিনি বলেছিলেন, "বিবাহের চার বছর পর থেকে স্বামী অসুস্থ। আজ বারো বছর হলো দুই সন্তান ও অসুস্থ স্বামী নিয়ে সংসার করছি। জীবনে কি পেলাম?" সবই ছিলো, ভালো চাকুরী, দুই সন্তান। শুধু অর্থই জীবনের সব কিছু, একথা তার কাছে হাস্যকর।

#এক পরিচিত বড় ভাই ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার হয়েও এখন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক এবং হোমিওপ্যাথিক কলেজের প্রভাষক।

#একজন এম এ(ফার্স্ট ক্লাস ১৬তম)এলএল বি পাশ করে ওকালতি প্রাকটিস ও কলেজের প্রভাষক পদ ছেড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক!

আসলে জগতে কে সুখে আছে? টাকায় সুখ দিয়েছে কয়জনকে? জীবনে সফলতা মানেই কি সুখ? একটা জীবনে সুখী হয়ে মারা গেছে ক'জন!!

সুখী দেখেছিলাম আমার এলাকার নসু পাগলাকে, সে এক বেলা পেট ভরে খেয়ে কি আয়েশী হাসিটাই না হেসেছিলো!! শুধু ভরা পেটেই যে সুখে থাকতে পারে তার চেয়ে সুখী আর কেও নাই!! আমরা যারা মানুষ, তাদের মন ভরে সুখ কখনো আসে না। আমরা কখনো পরিপূর্ণভাবে সুখী হতে পারি না। বাস্তবতা বড় ফ্যাকাশে, স্বপ্নের মতো রঙিন হয় না।

একটু সুখের জন্যে অনেক কিছুর দরকার নেই। চলুন, আমরা মনটাকে একটু ভালো করি, ক্ষমতা ও অর্থের দম্ভ থেকে সরে আসি, হিংসা, লোভ, স্বার্থপরতা ত্যাগ করি, সৃষ্টিকর্তার তরে নিজেকে সপে দিই; আর কাউকে না ঠকাই।
আমাদের জীবন সুখের হবে।

Borhan photography

কেমন আছেন সবাই, অনেক অনেক দিন পর 🙂

29/07/2023

আসসালামুয়ালাইকুম সবাই কেমন আছেন, অনেক অনেক দিন পর একটা পোস্ট দিলাম,কার কি অবস্থা কমেন্ট করে জানাবেন

03/07/2023

আজ আমার জন্মদিন,🙂অথচ কেউ নেই উইশ করার,🌺 ভালো থাকুক পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ সুখ আর অনাবিল আনন্দ ভাগাভাগি করে, কেটে যাক মুহূর্ত গুলো আনন্দে, সবাই দোয়া করবেন, ইনশাআল্লাহ পেজ আসব এক সময় করে,🙂

একটা সময় পরে মানুষ একাকিত্ব ভয় পায়। একাকিত্বের ভয়ে ভুল মানুষ জেনেও কেবল সঙ্গীর শূন্যস্থান পূরণের জন্য কাউকে সে আকঁড়ে ধরে...
17/06/2023

একটা সময় পরে মানুষ একাকিত্ব ভয় পায়। একাকিত্বের ভয়ে ভুল মানুষ জেনেও কেবল সঙ্গীর শূন্যস্থান পূরণের জন্য কাউকে সে আকঁড়ে ধরে।

ধীরে ধীরে রাত গাঢ় হয়, একাকিত্বের বেদনা তাকে চারপাশ থেকে এমনভাবে জাপটে ধরতে থাকে যে, সেই মুহূর্তে নিজেকেই পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো বোঝা মনে হতে থাকে।

নিজের সামান্য নিয়ন্ত্রণটুকুও নিজের আয়ত্তে রাখতে নিজের সমস্ত শক্তি এক করে ফেলে মানুষ।
এই মুহূর্তগুলো এতটাই কঠিন যে, অনেকসময় অনেক দিক থেকে সফল মানুষটাও নিজের কাছে এসে কেমন জানি অসহায় হয়ে পড়ে। অজস্র মানুষকে রোজ আশার আলো দেখিয়ে বাঁচিয়ে রাখা মানুষটাও নিজের দিকে তাকিয়ে ভাবে, "নিজেকে এতটা জঞ্জাল মনে হচ্ছে কেন আমার?"

মানুষ অন্যের ভার‌ সহ্য করতে পারলেও নিজের ভার সহজে সহ্য করতে পারে না। এজন্যই অনেকসময় ভুল মানুষের সাথে গড়া সম্পর্কগুলোও একভাবে টিকে যায়।

মানুষ জানে ও বোঝে, যে মানুষটার সঙ্গে সে আছে, সে আদৌ তার জন্য সঠিক মানুষ নয়, সে কখনোই তার যথাযথ মূল্যায়ন করবে না, দিনশেষে এই মানসিক দূরত্ব বাড়তেই থাকবে, কিন্তু তা সত্ত্বেও সে সেই মানুষটিকেই আকঁড়ে ধরে পড়ে থাকে এ কারণে নয় যে, সে তাকে ছাড়া বাঁচতে পারবে না; সে আসলে তার একাকিত্বের ভয়ে, নিজের সাথে লড়াইয়ে হেরে যাবার ভয়েই আঁকড়ে ধরে থাকে।

অসময়ের ফেরে জীবন শেখায়, কেবল মায়া কিংবা অভ্যস্ততায় নয়, মানুষ কখনো কখনো বাধ্য হয়েও নিজের অবাধ্য হয়!

ছবি টি কিছু সময় আগে তোলা

হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
দোহা কাতার

বেশিরভাগ প্রবাসী একটি পাকা ঘর করতে গিয়ে নিজের প্রবাসের অর্জিত মূলধন বেশির ভাগই ঘরের পিছনে ঢেলে দেয়। মা বাবা পরিবার প্র...
11/06/2023

বেশিরভাগ প্রবাসী একটি পাকা ঘর করতে গিয়ে নিজের প্রবাসের অর্জিত মূলধন বেশির ভাগই ঘরের পিছনে ঢেলে দেয়।
মা বাবা পরিবার প্রবাসী কে বলে অমুকের পাকা ঘর হয়ে গেছে আমাদের এখনো পাকা ঘর হয় নাই। বাবা আমাদের স্বপ্ন একটি সুন্দর পাকা ঘর। পাকা ঘরটা সম্পূর্ণ করে বাড়িতে আসিস তাহলে তোকে ভালো জায়গায় বিয়ে করাতে পারবো! ওই প্রবাসী ও বোকা নিজের কোন জমানো টাকা থাকে না এবং তারপর পাকা ঘরের কাজ ধরে নিজে কঠোর পরিশ্রম করে রাত দিন এরপর টাকা পাঠায় পাকা ঘর আস্তে আস্তে উঠে কিন্তু পাকা ঘরের কাজ শেষ হয় না। এদিকে পাকা ঘরের স্বপ্নে বিভোর প্রবাসী বিয়ের সময় পার হয়ে যায় সেদিকে কোন লক্ষ্য রাখেনা। হঠাৎ প্রবাসী যেকোনো কারণে দেশে একবারে চলে যেতে হল। এই পাকা ঘরের গেটের মত নিজের কাজ কমপ্লিট করতে পারল না এবং পাকা ঘর করতে গিয়ে সকল সম্পদ এক জায়গায় ডালার কারণে নিজে এত বছর প্রবাসে থাকার পরেও নিজের কোন জমানো টাকা থাকে না। পরবর্তীতে আফসোস করা ছাড়া ওই প্রবাসীর করার কিছু থাকে না।
তাই প্রবাসীদের বলব হ্যাঁ আমাদের সকলেরই স্বপ্ন থাকে একটি পাকা ঘর। আমি কাউকে পাকা ঘর করতে নিষেধ করতেছি না। আপনি তখনই পাকা ঘরের কাজ ধরবেন যখন আপনার কাছে ২০ লক্ষ টাকা থাকবে ১০ লক্ষ টাকার কাজ ধরবেন এবং ১০ লক্ষ টাকা যেন আপনার নিজের কাছে সবসময় জমানো থাকে যেন যে কোন বিপদে আপনি আপনার এই অর্থ দিয়ে যেকোনো কিছু করতে পারেন পুরুষ মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ টাকা।
পকেটে না থাকিলে মাল জীবনের থাকে না তাল! তাই জীবনের যেকোনো কিছু প্ল্যানিং করে করুন ভেবেচিন্তে করুন।

প্রবাসী

যেই ছেলে ১৩ টাকার বেনসন কিনে বন্ধু'দের সামনে অহংকারের ধোঁয়া ছাড়তো...সেই ছেলে এখন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মানুষের কাছে দো...
02/06/2023

যেই ছেলে ১৩ টাকার বেনসন কিনে বন্ধু'দের সামনে অহংকারের ধোঁয়া ছাড়তো...সেই ছেলে এখন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মানুষের কাছে দোয়া চায়...!!

মাসের ৫ তারিখের মধ্যে ভাড়া দিতে না পারলে,বাড়ী ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিতেন যেই হাজীসাহেব..উনি আজকে শ্বশুরবাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছেন ব্যাংক নিলামের শিকার হয়ে...!!

এক সময়কার নামকরা বিউটি সোপ কসকো আজ টয়লেটে ব্যবহৃত হচ্ছে।

পূর্ব পুরুষ হতে প্রজন্ম প্রজন্ম ধরে যারা আপনার বাড়িতে কাজ করে পেটের জ্বালা মিটাত তাদের সন্তানেরা আজ আপনার বংশধরদের ভিটেছাড়া করতে চায়!!

সময় খুব'ই নির্মম, খুব'ই অমানবিক আবার মাঝে মাঝে খুব'ই রোমান্টিক! কখন কি উপহার নিয়ে দাঁড়িয়ে যাবে আপনার সামনে, আপনি টেরই পাবেন না...!!

সময় কখনোই স্থির নয়, সব-সময় আপনার নয়, সারাজীবন আপনার পক্ষেও নয় আবার বিপক্ষেও নয়! সুতরাং এই সময়'কে সুযোগ দম্ভ, প্রতিশোধপরায়ন, হতাশ কিংবা আনন্দিত হবার কিছুই নাই, অহংকার কিংবা দাম্ভিকতারও কিছুই নাই...

চিরকাল কারো সমান নাহি যায়। আপনার এই কষ্টের সময়ও একদিন ফুরিয়ে যাবে। শুধু ধৈর্য্য ধরে সময়ের সদব্যাবহার করে বিধাতার উপর ভরসা রেখে পরিশ্রম করাই আমাদের কাজ।🙂

Address

Chandpur

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Borhan photography posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Borhan photography:

Share

Category