Jewel Tazim

Jewel Tazim Life is the Beautiful lie and Death is the painful truth!

একটা ফোন কলের দূরত্বে ১০ হাজার মানুষের চাকরি!বিষয়টি আপনি সমাধান করছেন না কেন, পিএম সাহেব? আপনার তো মাত্র একটা ফোন কলই যথ...
10/08/2026

একটা ফোন কলের দূরত্বে ১০ হাজার মানুষের চাকরি!
বিষয়টি আপনি সমাধান করছেন না কেন, পিএম সাহেব? আপনার তো মাত্র একটা ফোন কলই যথেষ্ট—অন্তত ভুক্তভোগীদের এতদিনের অপেক্ষা দেখে সেটাই মনে হয়!
একটা ভুল করেছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী—ভুলটি ছোট ছিল না, অন্যায় হলে তার বিচার হওয়া উচিত, সেটিও ঠিক। কিন্তু সেই ভুলকে রাজনৈতিকভাবে ২০০ শতাংশ কাজে লাগানোর কৃতিত্ব যদি কাউকে দিতে হয়, তাহলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর নামটি বেশ জোরেশোরেই উচ্চারণ করতে হয়।
নির্বাচনের আগে ১০ হাজার চাকরিচ্যুত মানুষকে ঘিরে তৈরি হলো এক মহাশোকের আবহ। শুধু ওই ১০ হাজার মানুষ নয়—তাদের পরিবার, শ্বশুরবাড়ি, আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী—সবাই যেন হঠাৎ রাজনৈতিক সমীকরণের গুরুত্বপূর্ণ ভোটার হয়ে গেলেন। সভা-সমাবেশে দরদ উথলে উঠল, বক্তব্যে প্রতিশ্রুতির বন্যা বইল। বলা হলো—“আমরা ক্ষমতায় গেলে চাকরি ফিরিয়ে দেব।”
ব্যস! প্রতিশ্রুতির বাজার জমে গেল।
জামায়াতের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, আওয়ামী লীগের প্রতি ক্ষোভ, নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের হতাশা—সবকিছুর সঙ্গে মিশে গেল ধানের শীষের প্রতি সহানুভূতি। ভোটের বাক্সে তার প্রতিফলনও দেখা গেল।
তারপর?
তারপর নির্বাচন হলো।
ক্ষমতায় এলো বিএনপি।
২১২ আসনের বিশাল ম্যান্ডেট।
সরকারের বয়সও এখন ছয় মাস।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়—যে ১০ হাজার মানুষের চাকরি ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এত আবেগ তৈরি করা হয়েছিল, সেই প্রতিশ্রুতিটিই যেন এখন সরকারি ফাইলের কোনো অন্ধকার ড্রয়ারে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে!
নির্বাচনের আগে তাঁরা ছিলেন “ভুক্তভোগী”।
নির্বাচনের পরে তাঁরা হয়ে গেলেন “বিষয়টি বিবেচনাধীন”।
নির্বাচনের আগে তাঁদের চোখের পানি ছিল রাজনৈতিক সম্পদ।
নির্বাচনের পরে সেই চোখের পানি যেন প্রশাসনিক নথিতে শুকিয়ে কাঠ!
এখন আর কেউ বিষয়টি মুখে আনতে চান না। মাঝে মাঝে জনসভায় জামায়াতকে একটু খোঁচা দিতে গিয়ে ভুক্তভোগীদের প্রতি দরদ দেখানো হয়। বক্তৃতায় আবেগ থাকে, শব্দ থাকে, হাততালি থাকে—শুধু থাকে না চাকরি ফেরানোর আদেশ!
কী চমৎকার রাজনৈতিক কৌশল!
যে সমস্যাটি সমাধান করতে একটি ফোন কল যথেষ্ট হতে পারে, সেটিকে বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রেখে তাকে নির্বাচনী ইস্যু হিসেবে সংরক্ষণ করা—এ যেন রাজনীতির নতুন “সাসপেন্স মডেল”।
আজ নয়, কাল হবে।
কাল নয়, পরশু হবে।
এই সরকার করবে।
ওই মন্ত্রণালয় দেখবে।
কমিটি হবে।
পর্যালোচনা হবে।
তারপর আবার পরবর্তী নির্বাচন চলে আসবে।
অর্থাৎ চাকরি ফিরবে কি না—তা এখন আর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; মনে হচ্ছে এটি নির্বাচনী ক্যালেন্ডারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকাশ করার মতো কোনো বিশেষ রাজনৈতিক ঘোষণা!
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, বর্তমানে প্রশাসন, ব্যাংক, আর্থিক খাত, বিভিন্ন সেক্টর—সবকিছুর ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ক্ষমতার চাবিকাঠি হাতে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। সংসদে শক্তিশালী ম্যান্ডেট আছে।
তাহলে সমস্যা কোথায়?
সমস্যা কি ফাইলে?
নাকি ফাইলের ওপর রাখা হয়েছে আরেকটি ফাইল?
নাকি সেই ফাইলের ওপর রাখা হয়েছে—“পরবর্তী নির্বাচনের আগে খুলবেন না” লেখা একটি বিশেষ নোট?
ভুক্তভোগীরা অবশ্য রাজনীতি বোঝেন না। তাঁরা শুধু বোঝেন—তাঁদের চাকরি নেই। সংসারে অনিশ্চয়তা আছে। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা আছে। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা আছে। তাঁরা ভোটের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিকে এখনো প্রতিশ্রুতিই মনে করেন; নির্বাচনী কৌশল মনে করেন না।
তাই পিএম সাহেবের কাছে বিনীত প্রশ্ন—
১০ হাজার মানুষের জীবন কি শুধু একটি নির্বাচনী ইস্যু ছিল?
যদি না হয়ে থাকে, তাহলে আর কত অপেক্ষা?
আর যদি হয়ে থাকে, তাহলে দয়া করে আগেই জানিয়ে দিন—চাকরি ফেরানোর তারিখটি কোন নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোষণা করা হবে?
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন?
নাকি পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন?
কারণ জনগণ এখন একটু বিভ্রান্ত। তাঁরা বুঝতে পারছেন না—সরকার কি সমস্যার সমাধান করতে চায়, নাকি সমস্যাটিকে রাজনৈতিকভাবে “জীবিত” রাখতে চায়?
পিএম সাহেব,
একটা ফোন কলই যদি যথেষ্ট হয়, তাহলে ফোনটা করুন।
১০ হাজার মানুষের জীবনকে নির্বাচনী স্লোগান বানাবেন না।
কারণ মানুষ ভোট দিতে পারে একবার,
কিন্তু প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের হিসাব—
মানুষ অনেকদিন মনে রাখে।

প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman 'র  বাঁশখালী আগমন: বন্যার ক্ষত পেরিয়ে সম্ভাবনার নতুন বাঁশখালীসমুদ্র, পাহাড়, নদী আর সবুজের অ...
08/08/2026

প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman 'র বাঁশখালী আগমন: বন্যার ক্ষত পেরিয়ে সম্ভাবনার নতুন বাঁশখালী

সমুদ্র, পাহাড়, নদী আর সবুজের অপূর্ব সমন্বয়ে গড়ে ওঠা বাঁশখালী প্রকৃতির এক অনন্য জনপদ। এই জনপদের মানুষের জীবন যেমন প্রকৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত, তেমনি প্রকৃতির রুদ্ররূপের সঙ্গেও তাদের পরিচয় দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা আবারও সেই বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, নদীর পানি বৃদ্ধি ও জোয়ারের পানিতে বাঁশখালীর বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কোথাও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কোথাও কৃষিজমি তলিয়ে গেছে, কোথাও সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বহু মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে দাঁড়িয়েছে। পানি কমতে শুরু করলেও বন্যার ক্ষত এখনো মানুষের জীবন থেকে মুছে যায়নি।

এমন এক সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের বাঁশখালী আগমন স্থানীয় মানুষের কাছে নিছক একটি রাষ্ট্রীয় সফর নয়; বরং এটি দুর্যোগে বিপর্যস্ত মানুষের পাশে রাষ্ট্রের সরাসরি উপস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্দশা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা, ক্ষয়ক্ষতির বাস্তব চিত্র দেখা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বাঁশখালীবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

বাঁশখালীর মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই উন্নয়ন ও নিরাপত্তার কিছু মৌলিক প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষা করছেন। সাম্প্রতিক বন্যা সেই প্রত্যাশাগুলোকে আরও জরুরি করে তুলেছে। কারণ বন্যা কেবল একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়; এটি উপকূলীয় মানুষের জীবন, কৃষি, অর্থনীতি, যোগাযোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে শুধু ত্রাণ বিতরণ বা ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই ও বাস্তবভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা।

বাঁশখালীর প্রধান সড়ককে চার লেনে উন্নীত করা অথবা টেকসই বেড়িবাঁধের সঙ্গে মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ এখন সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি হতে পারে। একটি উন্নত ও নিরাপদ সড়কব্যবস্থা শুধু মানুষের চলাচল সহজ করবে না, বরং দুর্যোগের সময় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমকেও দ্রুততর করবে। একই সঙ্গে একটি শক্তিশালী ও টেকসই বেড়িবাঁধ উপকূলীয় মানুষের জানমাল রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ হলে যোগাযোগব্যবস্থার পাশাপাশি বাঁশখালীর পর্যটন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও নতুন মাত্রা পেতে পারে।

বাঁশখালীতে গভীর সমুদ্রবন্দর প্রতিষ্ঠার দাবিও দীর্ঘদিনের একটি বড় প্রত্যাশা। ভৌগোলিক অবস্থান, সমুদ্রসীমা এবং চট্টগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে পরিকল্পিতভাবে এমন একটি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাঁশখালী ভবিষ্যতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত হতে পারে। তবে এ ধরনের বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিবেশ, উপকূলীয় প্রতিবেশ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

এর পাশাপাশি বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকায় পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা যেতে পারে। শিল্পায়ন মানেই শুধু কারখানা নির্মাণ নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হবে কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশ এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন সুযোগ। বাঁশখালীর বহু তরুণকে জীবিকার সন্ধানে অন্যত্র ছুটতে হয়। নিজ এলাকায় পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন হলে তাদের একটি বড় অংশের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

বাঁশখালীর আরেকটি বড় সম্পদ হলো এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। একদিকে বঙ্গোপসাগর, অন্যদিকে পাহাড়, নদী ও সবুজের সমারোহ—সব মিলিয়ে এই উপজেলা পর্যটনের জন্য অসাধারণ সম্ভাবনাময়। সাগর-পাহাড়-নদীর সমন্বিত সৌন্দর্যকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগিয়ে বাঁশখালীকে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করা সম্ভব। তবে পর্যটনের উন্নয়ন হতে হবে পরিবেশ ও স্থানীয় সংস্কৃতিকে সুরক্ষিত রেখে। পর্যটন অবকাঠামো গড়ে উঠলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে, ক্ষুদ্র ব্যবসা সম্প্রসারিত হবে এবং বাঁশখালীর অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চারিত হতে পারে।

সাম্প্রতিক বন্যা আমাদের আরও একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে—বাঁশখালীর উন্নয়ন হতে হবে দুর্যোগসহনশীল উন্নয়ন। রাস্তা নির্মাণের সময় পানি নিষ্কাশনের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে, বেড়িবাঁধকে করতে হবে দীর্ঘস্থায়ী ও কার্যকর, নদী-খাল ও জলাধারের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাহাড় কাটা, অপরিকল্পিত স্থাপনা এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে এমন কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। কৃষক, জেলে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য আলাদা পুনর্বাসন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। কারণ একটি বন্যার ক্ষতি শুধু ঘরবাড়ি দিয়ে পরিমাপ করা যায় না; মানুষের আয়, সম্পদ, স্বপ্ন এবং ভবিষ্যতের ওপরও তার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়ে।

প্রধানমন্ত্রীর বাঁশখালী সফর তাই স্থানীয় মানুষের কাছে একটি বড় প্রত্যাশার মুহূর্ত। তাঁরা আশা করেন, তিনি শুধু বন্যার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করবেন না; বাঁশখালীর দীর্ঘদিনের সম্ভাবনা ও সমস্যাগুলোকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন। তাঁরা চান, পুনর্বাসনের পাশাপাশি বাঁশখালীর জন্য একটি সুসংহত দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হোক। এমন একটি পরিকল্পনা, যেখানে থাকবে নিরাপদ উপকূল, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, কৃষির সুরক্ষা, পর্যটনের বিকাশ এবং সর্বোপরি মানুষের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন।

বন্যার পানি একদিন নেমে যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত ঘর আবার উঠবে। কৃষক আবার জমিতে বীজ বুনবেন। বাজারে আবার মানুষের কোলাহল ফিরবে। কিন্তু বাঁশখালীর এই দুর্যোগ যেন কেবল একটি ক্ষণস্থায়ী পুনর্বাসনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা। এই দুর্যোগকে শিক্ষা হিসেবে নিয়ে যদি বাঁশখালীর জন্য একটি টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া যায়, তাহলে আজকের ক্ষতই একদিন নতুন সম্ভাবনার ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের বাঁশখালী আগমন তাই মানুষের কাছে শুধু একজন প্রধানমন্ত্রীর সফর নয়; এটি তাদের আশা, আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি প্রত্যাশার মুহূর্ত। বাঁশখালীবাসী চান, তাঁদের দুর্যোগের কথা শোনা হোক, তাঁদের ক্ষতির হিসাব নেওয়া হোক এবং তাঁদের দীর্ঘদিনের স্বপ্নগুলো বাস্তব উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হোক।

বাঁশখালী আজ শুধু পুনর্বাসন চায় না; বাঁশখালী চায় পুনর্গঠন। শুধু ক্ষত সারাতে চায় না; চায় সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলতে। শুধু বন্যা থেকে বাঁচতে চায় না; চায় এমন একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাঁশখালী, যেখানে সমুদ্র হবে সম্ভাবনার দুয়ার, পাহাড় হবে সৌন্দর্যের সম্পদ, নদী হবে জীবনের অংশ, শিল্প হবে কর্মসংস্থানের উৎস এবং পর্যটন হবে অর্থনৈতিক বিকাশের নতুন পথ।

প্রধানমন্ত্রীর এই আগমন যদি বন্যার্ত মানুষের পুনর্বাসনের পাশাপাশি বাঁশখালীর দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে, তবে এই সফর হয়ে উঠতে পারে বাঁশখালীর ইতিহাসে একটি স্মরণীয় মাইলফলক।

বেতনবিলাসীদের বিপ্লবদেশে এখন নতুন এক বিপ্লবের সূচনা হয়েছে। আগে মানুষ বেতনের জন্য চাকরি করত, এখন মনে হচ্ছে কিছু মানুষ চাক...
07/08/2026

বেতনবিলাসীদের বিপ্লব

দেশে এখন নতুন এক বিপ্লবের সূচনা হয়েছে। আগে মানুষ বেতনের জন্য চাকরি করত, এখন মনে হচ্ছে কিছু মানুষ চাকরিটাই করেন বেতন বাড়ানোর জন্য।

একজন মাননীয় নেতা বললেন—মন্ত্রীদের বেতন ১০ লাখ, এমপিদের ৫ লাখ হওয়া উচিত। নিজেরটা একা বললে আবার মানুষ কী ভাববে! তাই উদারতার পরিচয় দিয়ে সবাইকে সঙ্গে নিলেন। একা মাছ খেলে বদনাম, তাই পুরো সংসদকেই দাওয়াত!

এদিকে দেশের সাধারণ মানুষও নিশ্চয়ই ভাবছে, "বাহ! আমাদেরও একটা সমস্যা কমল। এতদিন চাল, ডাল, তেল, গ্যাসের দাম নিয়ে চিন্তা ছিল। এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো—মন্ত্রী-এমপিদের মাস শেষে পকেট খালি হয়ে যাচ্ছে কি না!"

অবশ্য বিদেশেও এমন অভিযোগ আছে। ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর বেতনে তাঁর পোষায় না। তবে তিনি সমাধান হিসেবে জনগণের ট্যাক্স বাড়াতে বলেননি, বিদ্যুতের দাম বাড়াতে বলেননি, কিংবা মন্ত্রীদের বেতন বাড়ানোর আন্দোলনও করেননি। তিনি ভেবেছিলেন, "চাকরি ছাড়ি, বাইরে বক্তৃতা দিই, বেশি আয় করি।"

আমাদের এখানে সমাধানটা একটু আলাদা। যদি সংসার না চলে, তাহলে সংসারের খরচ কমানো নয়—জনগণের পকেট একটু বড় করে কেটে নেওয়া হোক!

অদ্ভুত এক অর্থনীতি! বাজারে আলুর দাম বাড়লে বলা হয় আন্তর্জাতিক সংকট। বিদ্যুতের দাম বাড়লে বলা হয় বৈশ্বিক পরিস্থিতি। ভ্যাট বাড়লে বলা হয় উন্নয়নের স্বার্থে। কিন্তু নিজেদের বেতন বাড়ানোর প্রসঙ্গ এলে সেটি নাকি রাষ্ট্র পরিচালনার মর্যাদার প্রশ্ন!

জনগণও বড় বিচিত্র। তারা ভোট দেয় এই আশায়—রাস্তা ভালো হবে, হাসপাতাল ভালো হবে, ঘুষ কমবে, বিচার সহজ হবে। পরে জানতে পারে, সবচেয়ে জরুরি সংস্কার ছিল বেতন স্কেল!

এরই মধ্যে আবার শোনা যাচ্ছে, সংস্কারের নামে যেসব পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছিল, সেগুলোর অনেকগুলোই নাকি পুরোনো আলমারিতে ভাঁজ করে তুলে রাখা হয়েছে। নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় সংস্কার যেন পুরোনো ফাইলের ধুলো ঝেড়ে আবার টেবিলে সাজিয়ে দেওয়া।

বিচার বিভাগ? পুরোনো পথে।
মানবাধিকার? পুরোনো পথে।
ওষুধের দাম? পুরোনো পথে।
সিস্টেম? পুরোনো পথে।

শুধু বক্তৃতাগুলো নতুন।

শেষ পর্যন্ত মনে হচ্ছে, আমাদের দেশে সরকার বদলায়, স্লোগান বদলায়, পোস্টার বদলায়, কিন্তু "সিস্টেম" নামের সেই মহারাজা একই সিংহাসনে বসে থাকেন। তিনি শুধু নতুন নতুন অভিনেতাকে মুকুট পরিয়ে দেন।

জুলাইয়ের স্বপ্ন ছিল বৈষম্যহীন রাষ্ট্র। বাস্তবতা যেন দাঁড়িয়েছে—বৈষম্য থাকবে, শুধু কার বেতন কত হবে, সেই তালিকাটা একটু আপডেট হবে।

জনগণ তাই এখন নতুন একটি দাবির কথা ভাবতে পারে—

"মন্ত্রী-এমপিদের বেতন যত খুশি বাড়ান, তবে আগে জনগণের জীবনটাকে এমন করুন যেন তারা অন্তত বাজারে গিয়ে ক্যালকুলেটর নয়, শুধু বাজারের ব্যাগ নিয়ে ফিরতে পারে।"

কারণ ইতিহাস বলে, রাষ্ট্র টিকে থাকে জনগণের কাঁধে। আর জনগণের কাঁধে যদি শুধু কর, ভ্যাট, মূল্যবৃদ্ধি আর প্রতিশ্রুতির বস্তা চাপানো হয়, তাহলে একদিন কাঁধই থাকবে—রাষ্ট্রকে বহন করার মানুষ থাকবে না।

হে আল্লাহ!আপনি আমাদের জন্য কল্যাণের দরজাগুলো খুলে দিন।বরকতের দরজাগুলো খুলে দিন।আপনার অসংখ্য নেয়ামতের দরজাগুলো খুলে দিন।...
07/08/2026

হে আল্লাহ!
আপনি আমাদের জন্য কল্যাণের দরজাগুলো খুলে দিন।
বরকতের দরজাগুলো খুলে দিন।
আপনার অসংখ্য নেয়ামতের দরজাগুলো খুলে দিন।
হালাল রিজিকের দরজাগুলো খুলে দিন।
শক্তি ও সামর্থ্যের দরজাগুলো খুলে দিন।
সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার দরজাগুলো খুলে দিন।
এবং আমাদের জন্য জান্নাতের দরজাগুলো উন্মুক্ত করে দিন।
হে আল্লাহ!
আমাদেরকে দুনিয়ার সকল বিপদ-আপদ, বালা-মুসিবত থেকে এবং আখিরাতের শাস্তি থেকে হেফাজত করুন। আমীন।

ছবি: হযরত মাওলানা আলাউদ্দিন (রা:) জামে মসজিদ। সাধনপুর, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।

গার্মেন্টস শিল্পে মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়, একসঙ্গে পথচলা হয়, আবার একসময় বিচ্ছেদও ঘটে। কেউ বদলি হয়, কেউ পদোন্নতি পায়, কেউ ...
06/08/2026

গার্মেন্টস শিল্পে মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়, একসঙ্গে পথচলা হয়, আবার একসময় বিচ্ছেদও ঘটে। কেউ বদলি হয়, কেউ পদোন্নতি পায়, কেউ নতুন দায়িত্বে যায়। কিন্তু কিছু মানুষ থাকে, যাদের স্মৃতি কোনো অফিস অর্ডারের সঙ্গে বদলি হয় না। রেজাউল করিম রেজা তেমনই একজন মানুষ।

আমার কর্মজীবনের শুরু ২০০৫ সালে। রেজাউল করিম রেজা যোগ দেয় ২০০৭ সালের শুরুতে, একজন সাধারণ টেবিল কিউসি হিসেবে।

সেই সময় আমরা চট্টগ্রামের বিভিন্ন নিট কারখানায় কাজ করতাম। নিয়মিত বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে ফলোআপে যেতে হতো। দায়িত্বশীল ও দক্ষ কিউসিদেরই সাধারণত সেই দলে রাখা হতো। রেজাউলও ছিল তাদের একজন। সেখান থেকেই আমাদের প্রথম পরিচয়।

এরপর আমার পথ বদলে যায়। আমি মার্চেন্ডাইজিং বিভাগে যোগ দিই। অন্যদিকে রেজাউল নিজের কর্মদক্ষতা আর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে থাকে। কোয়ালিটি সুপারভাইজর, কোয়ালিটি ইনচার্জ—তারপর একসময় প্রোডাকশন বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।

ভাগ্যের অদ্ভুত খেলায় আবার আমাদের দেখা হয়। আমি তখন একটি কারখানার ফ্যাক্টরি ম্যানেজার, আর সে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোডাকশন ম্যানেজার।

মানুষটাকে দেখে মনে হয়েছিল, পদবি বদলেছে, দায়িত্ব বেড়েছে; কিন্তু মানুষটা বদলায়নি।

কথায় বিনয়, কাজে আন্তরিকতা, পোশাকে রুচি, সহকর্মীদের প্রতি সম্মান—সবকিছু আগের মতোই।

ম্যানেজমেন্টের প্রতি দায়িত্বশীল, আবার কর্মীদের প্রতিও সমান সহানুভূতিশীল ছিল সে। খুব সহজেই মানুষের মন জয় করার এক বিরল ক্ষমতা ছিল তার।

কিছুদিন একসঙ্গে কাজ করার সময়ে অসংখ্য মধুর-তিক্ত স্মৃতি জমেছিল। পরে আবার আমার বদলি হয়ে যায়। একই কর্মস্থলে না থাকলেও মোবাইল আর হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ ছিল নিয়মিত। কোনো সমস্যা হলে ফোন করত, পরামর্শ চাইত।

এরই মধ্যে সে প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসেবে পদোন্নতি পেল। নতুন কারখানায় দায়িত্ব নিল। কিছুদিন পর আমিও আবার বদলি হয়ে সেই একই কারখানায় এলাম। আবার শুরু হলো একসঙ্গে পথচলা।

দেখলাম, সময় তাকে বয়স দিয়েছে, দায়িত্ব দিয়েছে; কিন্তু তার ভদ্রতা, পরিপাট্য আর বিনয়কে একচুলও বদলাতে পারেনি।

ইতোমধ্যে সে দাদা হয়েছে—খবরটা শুনে খুব আনন্দ হয়েছিল।

তবে তার হাসির আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প।

একদিন বলেছিল, তার স্ত্রীর জটিল অসুস্থতার কথা। দীর্ঘদিন চিকিৎসা চলছে। অর্থের টানাপোড়েন নিত্যসঙ্গী। বড় ছেলে আলাদা সংসার করেছে, ছোট ছেলে তখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। সংসারের ভার যেন একাই বহন করছিল।

অভাব ছিল, কিন্তু মন ছিল উদার।

আমি প্রায়ই বলতাম, "এত হাত খুলে খরচ করো কেন? এটা তোমার বদঅভ্যাস।"

সে হাসত।

বলত, "স্যার, আপনার কাছ থেকেই একটু শিখেছি।"

আমি বলতাম, "তাহলে তো আমারই দোষ!"

আজ সেই কথাগুলোই বারবার মনে পড়ছে।

রেজাউলের আরেকটি বিশেষ অভ্যাস ছিল।

সে সবসময় পরিপাটি পোশাক পরত। আমার রুমে এলে প্রায়ই সুগন্ধি ব্যবহার করে আসত।

একদিন জিজ্ঞেস করেছিলাম,

"এত সুগন্ধি মেখে আসো কেন?"

সে মৃদু হেসে বলেছিল,

"স্যার, পরিপাটি থাকার চেষ্টা করি। গার্মেন্টসে চাকরি করি বলে কি আমাদের রুচির অকাল হবে?"

আজও কথাটা কানে বাজে।

মাঝেমধ্যে সে বুকের ব্যথার কথা বলত।

কখনও বলত গ্যাস্ট্রিক, কখনও বলত এমনিতেই ব্যথা।

একদিন ব্যথার তীব্রতায় ঘেমে একাকার হয়ে গিয়েছিল। তাকে ডাক্তারের রুমে বিশ্রামের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। অফিস শেষে নিজের গাড়িতে করেই বাসায় পৌঁছে দিয়েছিলাম।

পথে অনেক কথা হয়েছিল।

আমি বলেছিলাম,

"একজন ভালো ডাক্তার দেখাও।"

সে হয়তো দেখিয়েছিল।

হয়তো দেখায়নি।

তারপর আবার তার বদলি হয়ে গেল অন্য কারখানায়।

বিদায়ের সময় একটি কথাই বারবার বলছিল—

"স্যার, আমার বার্ষিক ইঙ্ক্রিমেন্টের ব্যাপারে একটু সুপারিশ করবেন।"

আমি তাকে বুঝিয়েছিলাম, যেহেতু সে আমার দায়িত্বাধীন কারখানা থেকে বদলি হয়ে গেছে, তাই বাস্তবে আমার কিছু করার সুযোগ খুবই সীমিত। কিন্তু তার চোখে ছিল অদ্ভুত এক আশাবাদ। সে বিশ্বাস করত—এবার হয়তো তার ভালো একটি ইঙ্ক্রিমেন্ট হবে।

আমাদের শেষ দেখা হয়েছিল গত ২৪ জুলাই।

কোম্পানির অ্যাওয়ারনেস এজিএম-এ একসঙ্গে গিয়েছিলাম। মিটিং শেষে পাশাপাশি বসে ফিরেছি। সহকর্মীদের সঙ্গে হাসিঠাট্টা, গল্প—সবই হয়েছিল।

কেউ জানত না, সেটিই হবে শেষ দেখা।

গতকাল গভীর রাতে খবর এল—

রেজাউল করিম রেজা আর নেই।

খবরটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল।

আজ বারবার মনে হচ্ছে, আমি কি আরও একটু খোঁজ নিতে পারতাম না? তার বুকের ব্যথাকে আরও গুরুত্ব দিতে পারতাম না? একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যেতে আরও জোর করতে পারতাম না?

হয়তো কিছুই বদলাত না।

আবার হয়তো অনেক কিছুই বদলে যেত।

এই 'হয়তো' শব্দটাই এখন সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়।

কয়েক দিনের মধ্যেই হয়তো কোম্পানি তার বার্ষিক ইঙ্ক্রিমেন্ট ঘোষণা করবে।

হয়তো তার প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হবে।

হয়তো হবে গতানুগতিক, আর পাঁচজনের মতোই।

কিন্তু সেই খবর আর কোনো দিন জানতে পারবে না রেজাউল করিম রেজা।

যে মানুষটি বিদায়ের সময় সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বাস নিয়ে নিজের ইঙ্ক্রিমেন্টের কথা বলেছিল, সেই মানুষটাই ফল প্রকাশের আগেই পৃথিবীর চাকরি ছেড়ে চিরস্থায়ী ঠিকানায় চলে গেল।

জীবনের চেয়ে বড় কোনো পদোন্নতি নেই।

মৃত্যুর চেয়ে বড় কোনো বদলিও নেই।

আজ বুঝতে পারছি, আমরা প্রতিদিন উৎপাদনের হিসাব রাখি, শিপমেন্টের হিসাব রাখি, টার্গেটের হিসাব রাখি—কিন্তু মানুষের জীবনের হিসাব রাখি না।

অথচ একদিন হঠাৎ করেই উপস্থিতির তালিকা থেকে একটি নাম মুছে যায়, আর তখনই বুঝি—একজন মানুষ কেবল একজন কর্মী ছিল না; সে ছিল একটি সম্পর্ক, একটি আস্থা, একটি অভ্যাস, একটি সুগন্ধি মাখা পরিপাটি হাসিমুখ।

মহান আল্লাহর কাছে আমার একটাই প্রার্থনা—

তিনি যেন রেজাউল করিম রেজাকে তাঁর অসীম রহমতে আচ্ছাদিত করেন, সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেন, কবরকে প্রশস্ত ও নূরময় করে দেন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসকে তাঁর স্থায়ী আবাস বানিয়ে দেন।

তার সহধর্মিণীকে সবর-এ-জামিল, সন্তানদের উত্তম ভবিষ্যৎ এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ও শক্তি দান করুন।

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

ভালো মানুষরা পৃথিবী ছাড়েন নীরবে।

কিন্তু তাদের অনুপস্থিতি অনেক দিন ধরে কথা বলে।

রেজাউল করিম রেজাও হয়তো আর কোনো মিটিংয়ে থাকবে না, কোনো প্রোডাকশন রিপোর্টে তার নাম থাকবে না, কোনো ইঙ্ক্রিমেন্ট লিস্টে নিজের নাম খুঁজবে না। তবু যারা তাকে কাছ থেকে দেখেছে, তাদের স্মৃতিতে সে থেকে যাবে—একজন পরিপাটি, বিনয়ী, কর্মনিষ্ঠ এবং মানুষকে ভালোবাসতে জানা সহকর্মী হিসেবে।

কিছু মানুষের জীবন দীর্ঘ হয় না, কিন্তু তাদের চরিত্র দীর্ঘস্থায়ী হয়।

রেজাউল করিম রেজা সেই বিরল মানুষদের একজন।

আজ আপনাদের কাছে একটি মানবিক আবেদন।CCPC-এর মেধাবী সাবেক শিক্ষার্থী সাজিন আমিন আজ ক্যানসারের সঙ্গে কঠিন লড়াই করছে। যে সময...
06/08/2026

আজ আপনাদের কাছে একটি মানবিক আবেদন।

CCPC-এর মেধাবী সাবেক শিক্ষার্থী সাজিন আমিন আজ ক্যানসারের সঙ্গে কঠিন লড়াই করছে। যে সময়ে তার স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, সেই সময়ে সে লড়ছে জীবনের জন্য।

আপনার সামান্য অনুদানও হতে পারে তার নতুন আশার আলো। আর একটি শেয়ার পৌঁছে দিতে পারে এই আবেদন এমন কারও কাছে, যিনি তার পাশে দাঁড়াতে পারবেন।

আসুন, মানবতার হাত বাড়িয়ে দিই। হয়তো আমাদের ছোট্ট সহায়তাই সাজিনের জীবনে ফিরিয়ে আনবে নতুন করে বেঁচে থাকার আশা।

সমুদ্রকে দূর থেকে দেখলে মনে হয়—কী শান্ত, কী স্থির! কিন্তু সেই শান্ত নীল জলের নিচে লুকিয়ে থাকে অসংখ্য অদেখা স্রোত, ঘূর্...
05/08/2026

সমুদ্রকে দূর থেকে দেখলে মনে হয়—কী শান্ত, কী স্থির! কিন্তু সেই শান্ত নীল জলের নিচে লুকিয়ে থাকে অসংখ্য অদেখা স্রোত, ঘূর্ণাবর্ত আর গভীর খাদ। মানুষের সম্পর্কও অনেকটা তেমনই। বাইরে থেকে একটি সংসারকে যতই সুখী ও স্বাভাবিক মনে হোক না কেন, তার ভেতরে হয়তো প্রতিদিন একজন মানুষ নীরবে ভেঙে পড়ছে, ডুবে যাচ্ছে, সাহায্যের জন্য চিৎকার করেও কোনো শব্দ তুলতে পারছে না।

আমাদের সমাজে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখাকে অনেক সময় জীবনের চেয়েও বড় মূল্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। "সংসার করতেই হবে", "মানিয়ে নাও", "সব পরিবারেই সমস্যা থাকে"—এ ধরনের কথাগুলো অনেককে এমন এক মানসিক কারাগারে আটকে রাখে, যেখানে প্রতিদিন আত্মসম্মান ক্ষয় হয়, আত্মবিশ্বাস ভেঙে যায়, আর জীবনের প্রতি ভালোবাসা হারিয়ে যেতে থাকে।

কিন্তু একটি সত্য আমাদের কখনো ভুলে যাওয়া উচিত নয়—সম্পর্কের আগে মানুষ, আর মানুষের আগে জীবন। একটি সম্পর্ক তখনই মূল্যবান, যখন সেখানে নিরাপত্তা, সম্মান, ভালোবাসা এবং মানসিক শান্তি থাকে। যদি কোনো সম্পর্ক প্রতিনিয়ত একজন মানুষকে ভয়, অপমান, সহিংসতা কিংবা গভীর বিষণ্নতার দিকে ঠেলে দেয়, তবে সেই সম্পর্ক ধরে রাখাই সবসময় সমাধান নয়।

অনেকে মনে করেন, একসঙ্গে থাকলেই হয়তো একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা সব সময় তেমন নয়। আগুনকে পর্দা দিয়ে ঢেকে রাখলে যেমন আগুন নেভে না, বরং ধীরে ধীরে পুরো ঘরটাই পুড়িয়ে দেয়, তেমনি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত দ্বন্দ্ব, নির্যাতন বা বিষাক্ত আচরণও একসময় একটি মানুষকে সম্পূর্ণ ভেঙে দিতে পারে। বাহ্যিক হাসির আড়ালে তখন জমতে থাকে অদৃশ্য ক্ষত, যার পরিণতি কখনো কখনো ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

একটি ভেঙে যাওয়া সংসার আবার নতুন করে গড়ে তোলা সম্ভব। কিন্তু হারিয়ে যাওয়া একটি জীবন, আত্মহত্যায় নিভে যাওয়া একটি স্বপ্ন, কিংবা দীর্ঘ নির্যাতনে ভেঙে পড়া একটি মানুষের অস্তিত্ব আর কখনো আগের মতো ফিরে আসে না। তাই সম্পর্ক রক্ষার পাশাপাশি মানুষের জীবন, মানসিক স্বাস্থ্য ও মর্যাদাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

পরিবার, বন্ধু, প্রতিবেশী কিংবা সহকর্মী—যদি কারও চোখে দীর্ঘদিনের ক্লান্তি, ভয়, অস্বাভাবিক নীরবতা বা অসহায়ত্ব দেখতে পান, তবে শুধু উপদেশ নয়, আন্তরিকভাবে তার পাশে দাঁড়ান। কখনো কখনো একজন মনোযোগী শ্রোতা, একটি সহানুভূতির হাত কিংবা সময়মতো পেশাদার সহায়তার পরামর্শ একটি জীবন বাঁচিয়ে দিতে পারে।

সুস্থ সম্পর্ক মানুষের জীবনকে সুন্দর করে, আর অসুস্থ সম্পর্ক ধীরে ধীরে জীবনকে গ্রাস করে। তাই সম্পর্ক বাঁচানোর আগে মানুষকে বাঁচানো জরুরি। কারণ, হারিয়ে যাওয়া সংসার আবার গড়া যায়—হারিয়ে যাওয়া মানুষ আর কখনো ফিরে আসে না।

 #জীবনসুন্দর (গল্প - গার্মেন্টস কর্মীর জীবন থেকে নেওয়া)আজ মাসের ১০ তারিখ। গার্মেন্টসে চাকরি করি। আমাদের কারখানার একটি ভা...
04/08/2026

#জীবনসুন্দর (গল্প - গার্মেন্টস কর্মীর জীবন থেকে নেওয়া)

আজ মাসের ১০ তারিখ। গার্মেন্টসে চাকরি করি। আমাদের কারখানার একটি ভালো দিক হলো—প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যেই বেতন পরিশোধ করা হয়। আজও যথাসময়ে বেতন হাতে পেলাম। হাতে টাকাটা নিয়ে বুকের ভেতর এক অদ্ভুত প্রশান্তি নেমে এলো। মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম, আজ আব্বার জন্য গরুর মাংস কিনব। অনেকদিন ধরেই মানুষটা বলছিলেন, "গোশত খাইতে মন চাইতাছে।"

সন্ধ্যা নেমে আসছিল। কারখানা থেকে বের হয়েই কাঁচাবাজারের দিকে হাঁটা দিলাম। পেছন থেকে সহকর্মী শফিউল মজা করে কিছু একটা বলল। তার অভ্যাসই এমন—অন্যকে খোঁচা দিয়ে আনন্দ পাওয়া। আমি শুধু একবার ফিরে তাকিয়ে আবার নিজের পথে হাঁটতে লাগলাম। কিছু কথার জবাব নীরবতাই সবচেয়ে ভালোভাবে দিতে পারে।

বাজারে ঢুকতেই পরিচিত কোলাহল চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল। বিক্রেতাদের হাঁকডাক, মানুষের ভিড়, মাছের গন্ধ, কাঁচা মসলার সুবাস—সব মিলিয়ে এক ব্যস্ত সন্ধ্যার চিত্র। মাছের সারির সামনে এসে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম। বরফের ওপর সাজানো বিশাল বিশাল নদীর মাছগুলো আলোয় ঝলমল করছিল। মনে হচ্ছিল যেন হীরার টুকরো ছড়িয়ে রাখা হয়েছে।

কিন্তু এসব শুধু দেখেই তৃপ্ত থাকতে হয়। সংসারের বাজার আমি নিয়মিত করি, তবে এই অংশে খুব একটা আসা হয় না। আমার সাধ্যের বাজার বলতে ছোট মলা মাছ, পোনা কিংবা মাঝারি আকারের সিলভার কার্প পর্যন্তই। ভেতরের বড় মাছগুলোর দিকে তাকিয়ে ভালো লাগে, কিন্তু কেনার সাহস হয় না।

হাঁটতে হাঁটতে গরুর মাংসের দোকানের সামনে এসে দাঁড়ালাম। তাজা লালচে মাংসগুলো ঝুলছে। মনে হলো, আজ আব্বা নিশ্চয়ই খুশি হবেন।

দাম জিজ্ঞেস করতেই দোকানদার বললেন, "সাতশো টাকা কেজি।"

অভ্যাসবশত একটু দরদাম করার চেষ্টা করলাম। তিনি হেসে বললেন, "না ভাই, একদম দেশি গরু। এর চেয়ে ভালো মাংস এই বাজারে পাবেন না।"

আর কিছু বললাম না। পকেট থেকে তিনশো পঞ্চাশ টাকা বের করে বললাম, "আধা কেজি দেন।"

মাংস কাটার শব্দ কানে আসতেই মনটা হঠাৎ বহু বছর আগের এক পৃথিবীতে ফিরে গেল।

ছোটবেলায় আমাদের কাছে কোরবানির ঈদ মানেই ছিল বছরের সবচেয়ে আনন্দের দিন। নতুন জামার জন্য নয়, গরুর মাংস খাওয়ার জন্য। অভাব ছিল আমাদের নিত্যসঙ্গী। ঈদ ছাড়া গরুর মাংস খাওয়ার কথা কল্পনাও করা যেত না।

ঈদের সকালে নামাজ শেষ করেই আব্বা পুরোনো লুঙ্গি আর বিবর্ণ একটি শার্ট পরে গ্রামের সৈয়দ চাচার বাড়িতে চলে যেতেন। সৈয়দ চাচা প্রতি বছর দুটি বড় গরু কোরবানি দিতেন এবং আব্বাকে খুব স্নেহ করতেন। তাই আগেই বলে রাখতেন, "ভাই, নামাজ শেষ করেই চলে আসবেন।"

সারাদিন আব্বা গরু কাটা, মাংস ভাগ করা, মানুষের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া—সব কাজে সাহায্য করতেন। আর আমরা ভাইবোনেরা সারাক্ষণ বাড়ির উঠোনে বসে দূরের রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকতাম। কখন আব্বা ফিরবেন, কখন সেই ছোট্ট কাপড়ের পুঁটলিতে করে মাংস নিয়ে আসবেন—এই অপেক্ষাই ছিল আমাদের ঈদের সবচেয়ে বড় আনন্দ।

দূর থেকে আব্বাকে দেখা মাত্র মনে হতো, ঈদ যেন তখনই সত্যি সত্যি শুরু হলো।

বিকেল গড়াতেই রান্নাঘরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ত। আম্মা বড় হাঁড়িতে মাংস বসাতেন। আমরা রান্নাঘরের দরজায় বসে শুধু সেই গন্ধ শুঁকতাম। তখন মনে হতো, পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর সুগন্ধ এটাই।

খাওয়ার সময় আব্বা আমাদের সামনে বসে থাকতেন। নিজে খুব বেশি খেতেন না। বরং আমাদের খাওয়া দেখেই যেন তাঁর তৃপ্তি হতো। হাসিমুখে বলতেন, "আরেকটু নাও। দেশি গরুর গোশত, ভালো করে খাও।"

তখন বুঝিনি, আজ বুঝি—একজন বাবার তৃপ্তি নিজের পেট ভরায় নয়; সন্তানের মুখভরা হাসিতে।

আম্মা তখন আরেকটা প্লেটে ভাত নিয়ে আব্বার পাশে বসতেন। মৃদু হেসে বলতেন, "ওদের দিকে চাইয়া থাকতে থাকতে আর খাবা না। নাও, আমার সাথে খাও।"

দু'জনের সেই একসাথে বসে খাওয়ার দৃশ্যটি আজও আমার স্মৃতির সবচেয়ে উজ্জ্বল ছবিগুলোর একটি।

তারপর একদিন সবকিছু বদলে গেল।

হঠাৎ করেই আম্মা চলে গেলেন। সেদিন প্রথম দেখেছিলাম, একজন শক্ত মানুষ কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে পড়ে। আব্বা শুধু বলেছিলেন, "আমার ঘরের লক্ষ্মী চলে গেল।"

তারপর থেকে তিনি আর আগের মতো রইলেন না। ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়লেন। আজ বেশিরভাগ সময়ই বিছানায় কাটান। আর সংসারের সমস্ত দায়িত্ব নিঃশব্দে এসে পড়ল আমার কাঁধে।

কখন যে বাড়ি ফিরে এসেছি, বুঝতেই পারিনি।

অনেক যত্ন করে মসলা বাটলাম। মায়ের রান্নার স্বাদ মনে করার চেষ্টা করে গরুর মাংস রান্না করলাম। রান্না শেষ হলে ভাত আর মাংস একটি থালায় সাজিয়ে আব্বার ঘরে গেলাম।

হেসে বললাম, "আব্বা, গোশত দিয়ে ভাত খাইবা?"

শব্দগুলো শোনামাত্রই তাঁর মুখে শিশুর মতো উজ্জ্বল হাসি ফুটে উঠল। ধীরে ধীরে খেতে শুরু করলেন। প্রথম লোকমা মুখে দিয়েই বললেন, "আম্মা... অনেক মজা হইছে।"

আমার বুকটা হঠাৎ কেঁপে উঠল। মনে হলো, তিনি যেন আমাকে নয়—আমার মাকেই ডাকছেন।

আমি চুপচাপ বসে তাঁর খাওয়া দেখছিলাম। হঠাৎ উপলব্ধি করলাম, আজ আমি ঠিক সেই জায়গাটাতেই বসে আছি, যেখানে একদিন আমার আব্বা বসতেন। সেদিন তিনি তাঁর সন্তানদের খাওয়া দেখে তৃপ্তি পেতেন, আর আজ আমি আমার বৃদ্ধ বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে সেই একই তৃপ্তি অনুভব করছি।

সময় সত্যিই নিঃশব্দে মানুষের পরিচয় বদলে দেয়।

একদিন যিনি আমার হাত ধরে হাঁটতে শিখিয়েছিলেন, আজ তাঁকেই ধীরে ধীরে ধরে বসাতে হয়। যিনি একসময় আমাকে খাইয়ে দিয়েছেন, আজ তাঁর থালায় ভাত তুলে দিই আমি। বাবা কখন যে সন্তানের মতো হয়ে যান, মানুষ তা বুঝতেই পারে না।

চোখের কোণে জল এসে জমল। কিন্তু সেই জল দুঃখের ছিল না। ছিল গভীর কৃতজ্ঞতার। আল্লাহ আমাকে এতটুকু সামর্থ্য দিয়েছেন যে, আমার শিশুসুলভ হয়ে যাওয়া বৃদ্ধ বাবার ছোট্ট একটি ইচ্ছা পূরণ করতে পেরেছি।

হয়তো আমি বড়লোক নই। প্রতিদিন বাবার সামনে রাজকীয় খাবারের আয়োজনও করতে পারি না। কিন্তু সেদিন তাঁর মুখের সেই হাসিটুকু দেখে মনে হলো, আমি পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী মানুষ।

সেদিন নতুন করে উপলব্ধি করলাম—সুখ বড় বাড়িতে থাকে না, ব্যাংকের মোটা অঙ্কের হিসাবেও নয়। সুখ লুকিয়ে থাকে বৃদ্ধ বাবার তৃপ্তির হাসিতে, মায়ের শেখানো রান্নার স্বাদে, অনেক কষ্টে কেনা আধা কেজি গরুর মাংসে, আর একটি সাধারণ পরিবারের একসঙ্গে বসে খাওয়ার নিঃশব্দ ভালোবাসায়।

আমাদের মতো নিম্নবিত্ত মানুষের সুখগুলো আকাশছোঁয়া স্বপ্ন দেখে না। তারা বিলাসিতার ভাষা বোঝে না। তারা শুধু জানে, প্রিয় মানুষের মুখে এক চিলতে হাসি ফোটাতে পারার মধ্যেই জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি লুকিয়ে থাকে।

সেদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আব্বার ঘরে উঁকি দিয়ে দেখলাম, তিনি শিশুর মতো নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছেন। আমি নীরবে আকাশের দিকে তাকিয়ে বললাম, "আলহামদুলিল্লাহ।"

কারণ, সেদিন আমি বুঝেছিলাম—জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ ধন-সম্পদ নয়; সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো, যাঁদের হাত ধরে আমরা পৃথিবী চিনেছি, তাঁদের শেষ বয়সে একটু শান্তি, একটু ভালোবাসা আর এক চিলতে হাসি উপহার দিতে পারা।

সত্যিই, জীবন সুন্দর।

খুব, খুব বেশি সুন্দর।

Address

Chittagong

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Jewel Tazim posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share