21/05/2026
এক সময় বিপদে-আপদে প্রতিবেশীরাই সবার আগে এগিয়ে আসত, হয়ে উঠত পরম নির্ভরযোগ্য আশ্রয়। কিন্তু বর্তমান শহুরে যান্ত্রিক জীবনে সেই প্রতিবেশীরূপী কিছু মানুষের ভেতরেই যে লুকিয়ে আছে হিংস্র হায়না, তার এক ভয়ানক ও নৃশংস প্রমাণ মিলল রাজধানীর পল্লবীতে। মাত্র ৭ বছরের শিশু রামিসা, যে গতকালও বাবা-মায়ের কোলে হেসে-খেলে ঘুম থেকে উঠেছিল, আজ সে আর দুনিয়াতে নেই। বিকৃত মানসিকতার এক প্রতিবেশীর পাশবিক লালসা ও নৃশংসতার শিকার হয়ে অকালেই ঝরে গেল দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এই নিষ্পাপ শিশুটি।
নিখোঁজ থেকে রক্তহিম করা আবিষ্কার
প্রতিদিনের মতো বড় বোনের সাথে সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল রামিসার। কিন্তু আকস্মিকভাবেই সকালবেলা বাসা থেকে নিখোঁজ হয় সে। মেয়েকে না পেয়ে চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মা। আশেপাশের বিভিন্ন বাসায় খোঁজ নিতে নিতে এক পর্যায়ে তিনি একটি বন্ধ দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ান। দীর্ঘক্ষণ কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে কেউ দরজা খুলছিল না। অথচ দরজার বাইরে পড়ে ছিল রামিসার একপাটি জুতো।
ভেতরে কেউ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় একপর্যায়ে দরজা ভাঙা হয়। কিন্তু ততক্ষণে ভেতরে ঘটে গেছে মানব ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস হত্যাকাণ্ড। জানা যায়, দরজা যখন বাইরে থেকে ধাক্কানো হচ্ছিল, তখন ঘরের ভেতরে ৩৪ বছর বয়সী সোহেল রানা নামের ওই ঘাতক রামিসার নিথর দেহ কেটে টুকরো টুকরো করার কাজে লিপ্ত ছিল।
পরবর্তীতে ঘরের ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে খাটের নিচ থেকে শিশুটির শরীরের নিচের অংশ এবং বাথরুমের প্লাস্টিকের বালতি থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।
অপরাধের নেপথ্যে বিকৃত মানসিকতা ও স্ত্রীর সংশ্লিষ্টতা
জনতার উপস্থিতি টের পেয়ে ঘাতক সোহেল রানা ঘরের গ্রিল কেটে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও, রান্নাঘর থেকে পুলিশ ও স্থানীয় জনতা তার স্ত্রী স্বপ্নাকে আটক করে। পরবর্তীতে স্বপ্নার জবানবন্দিতে বেরিয়ে আসে এক গা শিউরে ওঠা সত্য।
"রানা তীব্র বিকৃত যৌনাচারে অভ্যস্ত ছিল এবং তার নিজের স্ত্রীর ওপরও প্রায়শই নির্যাতন চালাত। শিশু রামিসার ওপর আগে থেকেই নজর ছিল রানার। আর সেই বিকৃত উদ্দেশ্য সফল করতেই মাত্র দুই মাস আগে তারা এই এলাকায় বাসা ভাড়া নেয়।"
ঘটনার দিন সকালে সুযোগ বুঝে রামিসাকে ঘরে ডেকে নেয় রানা। কিন্তু পাশবিক নির্যাতনের একপর্যায়ে শিশুটির প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হলে সে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এরপরই ধরা পড়ার ভয়ে রামিসাকে নৃশংসভাবে খুন করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে দু'ভাগ করা হয়। বাইরে রামিসার মায়ের আকুল আর্তনাদ ও দরজায় টোকা পড়ার শব্দ শুনে ঘাতক রানাকে পালাতে সরাসরি সাহায্য করে তার স্ত্রী স্বপ্না।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ঘাতক সোহেল রানার এটিই প্রথম অপরাধ নয়। এর আগেও বিভিন্ন অপরাধের দায়ে সে জেল খেটেছে, তবে প্রতিবারই আইনের ফাঁকফোকর ও অর্থের জোরে জামিনে বেরিয়ে এসেছে।
আমাদের সচেতনতা ও কিছু জরুরি শিক্ষা
এই ঘটনাটি বর্তমান সমাজের নৈতিক অবক্ষয় এবং শহুরে জীবনে শিশুদের নিরাপত্তাহীনতার এক চরম বাস্তবতাকে আমাদের সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে। এই নির্মম tragedy থেকে আমাদের
কিছু বিষয়ে কঠোরভাবে সচেতন হওয়া জরুরি:
👉অন্ধবিশ্বাস পরিহার করুন: "পাশের বাসার মানুষ ভালো" কিংবা "পরিচিত প্রতিবেশী"—এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে আপনার সন্তানকে একা রেখে কোথাও যাবেন না।
👉চোখের আড়াল নয়: সন্তান যত ছোট বা বড়ই হোক না কেন, বিশেষ করে কন্যাসন্তানদের সুরক্ষায় বাবা-মাকে সবসময় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। সন্তান যেন কোনোভাবেই আপনার চোখের সীমানার বাইরে না যায়।
👉নিরাপদ আশ্রয় কেবল পরিবার: বর্তমান সময়ে নিজের পরিবার এবং সচেতন বাবা-মা ছাড়া একটি শিশুর জন্য দ্বিতীয় কোনো শতভাগ নিরাপদ আশ্রয় নেই।
#রামিসা
fans