06/06/2026
একটা মেয়ে আগে নাচ-গান সবই করত। তাদের পারিবারিক পরিবেশই ওরকম। পরিবারের উৎসাহেই সে নাচ-গান এবং ড্রাম বাজানো শিখেছিল।
কিন্তু হজ করার পর মেয়েটার মধ্যে পরিবর্তন এসেছে। সে নাচ-গান ছেড়ে দিয়েছে। হিজাব পরা শুরু করেছে।
ড্রামটা অবশ্য এখনও ছাড়তে পারেনি। কিন্তু তারপরেও সে প্রফেশনালি ড্রাম বাজায় না। তার ভাইয়ের একটা ব্যান্ড আছে, সেখানেই সে হিজাব পরে ড্রাম বাজায়।
অল্পবয়সী একটা মেয়ে। হজ করার পর যে ড্যান্স ছেড়ে দিয়েছে, হিজাব ধরেছে, এটাই তো কত পজিটিভ একটা ব্যাপার! কত সুন্দর একটা নিউজ!
ড্রামটা এখনও ছাড়েনি, কিন্তু এই আশা তো করাই যায় যে, আরেকটু বয়স হলে সে এটাও ছেড়ে দিবে।
এই নিউজটাকে সহজেই পজিটিভলি গ্রহণ করা যেত। "ড্রামার হয়েও সে হিজাব ধরেছে" - এভাবে দেখা যেত।
কিন্তু না। টক্সিক বাঙালি এটাকে দেখছে "হিজাব পরেও কেন ড্রাম বাজাচ্ছে" - এই অ্যাঙ্গেল থেকে।
সে যে ইসলামের পথে ৭ পা এগিয়েছে, সেটার কোনো গুরুত্ব নাই। বাকি ৩ পা কেন আগায়নি, সেটা নিয়ে সমানে হাসাহাসি চলছে, ট্রোল চলছে। তার সাথে যুক্ত হয়েছে অনলাইন সাংবাদিকদের উৎপাত।
অবস্থা এমন পর্যায়ে গেছে, মেয়ের বাবা ক্ষমা চাইছে।
খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর একবার তরুণদেরকে উদ্দেশ্য বলেছিলেন - বাবারা, তোমরা যদি সিনেমা হলে সিনেমা দেখতে যাও, তারপরেও নামাজ মিস দিও না। সিনেমা হল থেকে বের হয়েই নামাজটা পড়ে নিও।
তার যুক্তিটা হচ্ছে, সিনেমা দেখা পাপ - ঠিক আছে। কিন্তু সেটা এমন কোনো মহাপাপ না যে তার জন্য নামাজ কবুল হবে না।
সিনেমা দেখা ছাড়তে পারলে তো ভালোই। কিন্তু না পারলেও নামাজ যেন মিস না হয়। সিনেমা দেখা দুই দিন পরেও ছাড়া যাবে। কিন্তু নামাজ একবার ছাড়লে সেই ক্ষতি আর পূরণ হবে না।
কিন্তু বাঙালির চরিত্র এমন, এমনিতে লক্ষ লক্ষ মানুষ সিনেমা দেখতে যাচ্ছে - তাতে তাদের সমস্যা নাই। সেটা নিয়ে তাদের কোনো মন্তব্য নাই। কিন্তু কাউকে যদি তারা সিনেমা হল থেকে বের হয়ে নামাজ পড়তে দেখে, তাহলেই সেরেছে।
নামাজী হয়েও কেন সিনেমা দেখবে, সেইটা নিয়ে তারা এমন নেগেটিভ কমেন্ট করবে, ঈমান যথেষ্ট মজবুত না হলে ঐ বেচারার নামাজের প্রতি, বা অ্যাটলিস্ট এইসব সো কলড ঈমানদারদের প্রতিই বিতৃষ্ণা চলে আসবে।
এইটাই হচ্ছে খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরের মতো একজন বিজ্ঞ আলেমের আর ফেসবুকে নিজেদেরকে বিশাল ঈমানদার মনে করে অন্যকে নসিহত করতে যাওয়া পাবলিকের প্রজ্ঞার পার্থক্য।
Tanvir 001