কল্পনার রাজ্য

কল্পনার রাজ্য 📜 প্রতিটা গল্পের শেষে লুকিয়ে থাকে একটা না বলা অনুভূতি।

 #নীলাদ্রি_পাহাড় #উর্মিলা #পর্বঃ০৬ (❌গল্পটি কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ❌)সকালের প্রথম আলো জানালার কাঁচ ভেদ করে আয়ানের ঘরে ঢ...
01/07/2026

#নীলাদ্রি_পাহাড়
#উর্মিলা
#পর্বঃ০৬

(❌গল্পটি কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ❌)

সকালের প্রথম আলো জানালার কাঁচ ভেদ করে আয়ানের ঘরে ঢুকতেই তার ঘুম ভাঙল।গত রাতের কথাগুলো এখনও মাথার ভেতর ঘুরছে।আরাফ রহমানের ভাঙা কণ্ঠ...রোশনির আঁকা সেই ছোট্ট ছবিটা...আর "নীলাদ্রি পাহাড়"—এই দুটি শব্দ।বিছানা ছেড়ে উঠে সে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল।শীতের সকালের নরম রোদ ধীরে ধীরে শহরের উঁচু ভবন গুলোকে আলোকিত করছে।অনেক দিন পর তার মনে হলো, আজকের সকালটা অন্যরকম।সে টেবিলের ওপর রাখা ফোনটা হাতে নিল।আদনানের নম্বরে কল দিল।ওপাশ থেকে ঘুমজড়ানো গলায় উত্তর এল—

— "হ্যালো... এত সকালে?"

আয়ান হালকা হেসে বলল,

— "আমি যাচ্ছি।"

কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।তারপর আদনানের চিৎকার,

— "কী বললি! সত্যি?"

— "হ্যাঁ। আজ ফর্ম জমা দেব।"

— "দোস্ত, তুই জানিস না, এই খবরটা শুনে আমি কতটা খুশি হয়েছি!"

আয়ান শুধু হাসল।অনেক দিন পর সেই হাসিটা সত্যিকারের ছিল।

---বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছাতেই ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ।সবাই ট্যুর নিয়েই ব্যস্ত।কারও হাতে ট্রেকিং ব্যাগের তালিকা।কেউ পাহাড়ে কী কী লাগবে সেটা লিখছে।কেউ আবার ইউটিউবে ক্যাম্পিং ভিডিও দেখছে।আদনান দূর থেকেই আয়ানকে দেখে দৌড়ে এল।

— "এই যে, অবশেষে পাহাড় জয় করতে চলেছিস!"

সিয়াম হেসে বলল,

— "আমি বাজি ধরেছিলাম, শেষ পর্যন্ত তুই রাজি হবি।"

মিম ফাইলটা এগিয়ে দিয়ে বলল,

— "এখানে সই কর।"

আয়ান কোনো কথা না বলে ফর্মে সই করে কলমের কালিটা শুকানোর আগেই মনে হলো—এই একটা সই হয়তো তার জীবনটাই বদলে দিতে চলেছে।---ঠিক তখনই বিভাগের সমন্বয়কারী অধ্যাপক সবাইকে অডিটোরিয়ামে ডাকলেন।সবাই ভেতরে ঢুকে বসল।অধ্যাপক মঞ্চে উঠে বললেন—

— "তোমরা সবাই জানো, এটা সাধারণ শিক্ষা সফর নয়।"

হলরুম নিস্তব্ধ।মিম পাশে ফিসফিস করে বলল
স্যার এই এক কথা কয় বার বলে রে....

— "তোমরা প্রায় এক মাস নীলাদ্রি পাহাড় অঞ্চলে থাকবে। সেখানে স্থানীয় মানুষের জীবনযাপন, সংস্কৃতি, প্রকৃতি, পরিবেশ—সবকিছু নিয়ে গবেষণা করবে।"

স্ক্রিনে পাহাড়ের কিছু ছবি ভেসে উঠল।সবুজ পাহাড়।
সাদা কুয়াশা,ঝরনা,বাঁশের সাঁকো,ছোট ছোট পাহাড়ি ঘর।ছবিগুলোর দিকে তাকিয়ে আয়ানের বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা অনুভূতি জন্ম নিল।সে অজান্তেই নিজের স্কেচবুক বের করে ফেলল।একটা ছবির কোণ দেখে দ্রুত কয়েকটা রেখা টেনে দিল।মিম পাশে বসে সেটা দেখে মুচকি হেসে বলল,

— "পাহাড়ে পৌঁছানোর আগেই আঁকা শুরু?"

আয়ান মাথা নিচু করেই বলল,

— "সব ছবি ক্যামেরায় ধরা যায় না। কিছু ছবি শুধু চোখে থাকে।"

মিম উত্তর দিল না।তবে মনে মনে ভাবল—এই ছেলেটা অন্যদের মতো নয়।

---ক্লাস শেষে পাঁচ বন্ধু ক্যাম্পাসের পুরোনো লেকের ধারে বসে রইল।আয়শা একটা নোটবুক খুলে বলল,

— "চলো, কাজ ভাগ করে নিই।"

আদনান বলল,

— "আমি লোকাল মানুষের সাক্ষাৎকার নেব।"

সিয়াম সঙ্গে সঙ্গে বলল,

— "আমি ভিডিও করব।"

মিম বলল,

— "আমি রিপোর্ট লিখব।"

আয়শা হাসল।

— "তাহলে আয়ান?"

সবাই একসঙ্গে তার দিকে তাকাল।সে একটু ভেবে বলল—

— "আমি পাহাড় আঁকব।"

সিয়াম হেসে উঠল।

— "শুধু পাহাড়?"

আয়ান আকাশের দিকে তাকিয়ে খুব আস্তে বলল—

— "হয়তো... পাহাড়ের মানুষও।"

এই কথাটা বলার সময় সে নিজেও জানত না—কয়েক দিন পর তার স্কেচবুকের সবচেয়ে সুন্দর ছবিটা কোনো পাহাড়ের হবে না।হবে খোলা চুলে পাহাড়ের ঢালে বসে থাকা এক অচেনা মেয়ের।

---সেদিন বিকেলে বাসায় ফিরে আয়ান প্রথমবার নিজের আলমারি খুলে ট্রাভেল ব্যাগ বের করল।

অনেক দিন ব্যবহার হয়নি।ধুলো ঝেড়ে বিছানায় রাখতেই দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিল রোশনি।

— "ভাইয়া..."

— "আয়।"

সে দৌড়ে এসে ব্যাগের ওপর বসে পড়ল।

— "তুমি কি সত্যিই অনেক দিনের জন্য চলে যাবে?"

আয়ান হেসে বলল,

— "আবার ফিরে আসব তো।"

রোশনি মুখ ফুলিয়ে বলল,

— "কিন্তু আমি তোমাকে প্রতিদিন দেখব কীভাবে?"

আয়ান কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।তারপর আলমারি থেকে একটা ছোট্ট স্কেচবুক বের করে রোশনির হাতে দিল।

— "আমি না থাকা পর্যন্ত তুই প্রতিদিন একটা করে ছবি আঁকবি।"

রোশনির চোখ চকচক করে উঠল।

— "আর তুমি?"

— "আমিও প্রতিদিন একটা করে ছবি আঁকব,আর অনেক গুলো ছবি তুলব।"

— "ফিরে এসে আমাকে দেখাবে?"

— "সবগুলো।"

রোশনি খুশিতে ভাইয়ের গলা জড়িয়ে ধরল।ঠিক সেই মুহূর্তে দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন রাফিয়া বেগম।
তিনি ভেতরে এলেন না।শুধু নিঃশব্দে হাসলেন।তার মনে হলো—আয়ান রাফিয়া বেগমের দিকে না তাকিয়ে হঠাৎ করেই বলে উঠলো

--ধন্যবাদ আপনাকে বাবাকে রাজি করানোর জন্য।

হয়তো এই সফর শুধু আয়ানের জীবনই বদলাবে না।
তাদের পরিবারের জমে থাকা বরফও একদিন গলতে শুরু করবে।

---রাত গভীর হলো।ঘুমানোর আগে আয়ান টেবিলে রাখা স্কেচবুক খুলল।আজ সে কোনো পাহাড় আঁকল না।শুধু একটা খালি বেঞ্চ।তার সামনে অস্পষ্ট কুয়াশা।
আর ওপরে লিখল—

"কখনও কখনও মানুষ কোনো জায়গায় যাওয়ার আগেই সেই জায়গা তাকে ডাকতে শুরু করে।"

সে জানত না—ঠিক সেই সময়, নীলাদ্রি পাহাড়ে বসে মাধবীলতাও তার গল্প প্রতিযোগিতার শেষ লাইনটা লিখছে।দুইজনের কলমের কালি তখন দুই ভিন্ন জায়গায় একই ভাগ্যের গল্প লিখতে শুরু করেছে...
★★★
নীলাদ্রি পাহাড়ের সকালগুলো যেন প্রতিদিন নতুন করে জন্ম নেয়।ভোরের প্রথম আলো পাহাড়ের চূড়ায় পড়তেই ধীরে ধীরে কুয়াশার সাদা চাদর পাতলা হতে শুরু করল।দূরের সবুজ পাহাড়গুলো একে একে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।ঝরনার কলকল শব্দ,নাম না-জানা পাখিদের ডাক,আর ঠান্ডা বাতাসে দুলতে থাকা বাঁশঝাড় সব মিলিয়ে পুরো পাহাড় যেন কোনো শিল্পীর নিখুঁত আঁকা ছবির মতো লাগছিল।এমন সকাল মাধবীলতার খুব প্রিয়।আজও সে বাড়ির পেছনের ছোট্ট ঢালটায় গিয়ে দাঁড়াল। হাতে তার নীল রঙের ডায়েরি।আর একটু সকাল হতেই সে দৌড়ে চলে গেল বাড়ির পেছনের সবচেয়ে উঁচু পাহাড়ের চূড়ায়।এটা তার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা।সে ঘাসের ওপর বসে ডায়েরিটা খুলল।কিছুক্ষণ কলম হাতে নিয়ে চুপচাপ রইল।
লিখবে কী?নিজের জীবনের গল্প?নাকি এমন একটা গল্প, যেখানে নিজের কথাগুলো অন্য কারও জীবনের আড়ালে লুকিয়ে থাকবে?ঠিক তখনই পেছন থেকে নানির কণ্ঠ ভেসে এলো—

— "এত সকালে আবার লিখতে বসেছিস?"

মাধবীলতা ফিরে তাকিয়ে মুচকি হাসল।তুমি এখানে এসেছো কেন।

— "আজ গল্পটা শেষ করব, নানি।"

নানি ধীরে ধীরে পাশে এসে বসলেন।পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে বললেন,

— "যা মন বলে, তাই লিখিস। মানুষের মন ছুঁয়ে যায় এমন লেখা কখনো হারে না।"

মাধবীলতা নানির হাতটা আলতো করে ধরল।তার জীবনের সবচেয়ে বড় সাহস এই মানুষটিই।আজ যেন দিনটা অন্যরকম। নানীর সাথে কাটানো এক অন্যরকম মুহূর্ত।

---সকালের নাস্তা শেষ করে কলেজের উদ্দেশ্যে বের হলো সে।আজ আকাশ একেবারে পরিষ্কার।সূর্যের আলো পাহাড়ের গায়ে পড়ে সোনালি রঙ ছড়িয়ে দিয়েছে।পথে দেখা হলো কাশেম চাচার সঙ্গে।তিনি হাসিমুখে বললেন—

— "মা, শুনলাম তুই নাকি গল্প প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছিস?"

— "জি, চাচা।"

— "আজ কি প্রথম পুরস্কার নিয়েই ফিরবি কিন্তু!"

মাধবীলতা হেসে মাথা নাড়ল।

— "দোয়া করবেন।"

আরও কিছুটা এগোতেই তৃষা দৌড়ে এসে পাশে দাঁড়াল।আজও তার মুখে আগের মতোই হাসি।

---কলেজে পৌঁছেই বোঝা গেল, আজকের দিনটা অন্য রকম।অডিটোরিয়ামের সামনে রঙিন ব্যানার ঝুলছে।
ছাত্রছাত্রীরা দল বেঁধে কিছু একটা নিয়ে আলোচনা করছে।কারও হাতে খাতা।কারও হাতে প্রিন্ট করা কাগজ।কেউ আবার শেষ মুহূর্তে লেখায় কাটাকাটি করছে।মাধবীলতা এসবের মাঝেও অদ্ভুত শান্ত।.......
দারুণ। এবার পর্ব–৭ এর দ্বিতীয় অংশ থেকে গল্পে নতুন মোড় শুরু হবে। এখানে আগের অংশের কোনো ঘটনা পুনরাবৃত্তি না করে নতুন দৃশ্য, নতুন সংলাপ এবং নতুন আবহ রাখা হয়েছে।

---কলেজের অডিটোরিয়ামটা তখন প্রায় পূর্ণ।

মঞ্চের সামনে সারি সারি চেয়ারে বসে আছে ছাত্রছাত্রীরা। কেউ ফিসফিস করে কথা বলছে।মাধবীলতা একেবারে পেছনের সারিতে বসে ছিল।ঠিক তখনই অনুষ্ঠানের উপস্থাপক মাইক্রোফোন হাতে মঞ্চে উঠলেন।

— "এবার আমরা গল্প প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা করব।"

পুরো হলরুম নিস্তব্ধ হয়ে গেল।একটার পর একটা পুরস্কারের নাম ঘোষণা হতে লাগল।

তৃতীয়...

দ্বিতীয়...

তারপর—

— "প্রথম স্থান অর্জন করেছে..."

কয়েক সেকেন্ড থেমে তিনি হাসলেন।

— "বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী—মাধবীলতা।"

মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ হাততালিতে ভরে উঠল।তৃষা সবচেয়ে আগে উঠে দাঁড়াল।।সে ধীরে ধীরে মঞ্চের দিকে এগিয়ে গেল।তার হাত দুটো ঠান্ডা হয়ে গেছে।মনে হচ্ছিল বুকের ভেতর হৃদপিণ্ডটা খুব জোরে ধুকপুক করছে।

---মঞ্চে উঠে পুরস্কার নেওয়ার পর বিচারকদের একজন মাইক্রোফোন হাতে বললেন—

— "আমি একটু কিছু বলতে চাই।"

তিনি বাংলা বিভাগের প্রবীণ শিক্ষক, অধ্যাপক মাহবুব স্যার।শান্ত স্বভাবের মানুষ।কলেজে সবাই তাকে খুব সম্মান করে।তিনি মাধবীলতার গল্পের কাগজটা হাতে তুলে বললেন—

— "এই গল্পে কোনো বড় বড় শব্দ নেই।"

— "কোনো কৃত্রিম নাটকীয়তাও নেই।"

— "কিন্তু এমন কিছু অনুভূতি আছে, যেটা পড়ে মনে হয়েছে—এই লেখাটা কেউ বানিয়ে লেখেনি, বেঁচে লিখেছে।"

পুরো হলরুম আবার চুপ হয়ে গেল।স্যার আবার বললেন—

— "মাধবীলতা, তুমি কি নিয়মিত লেখো?"

মাধবীলতা লজ্জায় মাথা নিচু করে বলল—

— "জি... ডায়েরিতে লিখি।"

— "শুধু ডায়েরিতে আটকে থেকো না।"

— "তোমার লেখার মধ্যে মানুষকে স্পর্শ করার ক্ষমতা আছে।"

— "এই ক্ষমতা সবাই নিয়ে জন্মায় না।"

কথাগুলো শুনে মাধবীলতার চোখ ভিজে উঠল।কারণ জীবনে এই প্রথম কেউ তার লেখাকে এত গুরুত্ব দিয়ে দেখল।

---অনুষ্ঠান শেষে অনেকেই তার কাছে এসে অভিনন্দন জানাল।কেউ বলল—

— "তুই সত্যিই দারুণ লিখিস।"

কেউ বলল—

— "আমরা জানতামই না তুই এত ভালো লেখক!"

মাধবীলতা শুধু হাসছিল।

তার ভেতরে তখনও স্যারের কথাগুলো ঘুরছিল।

"ডায়েরিতে আটকে থেকো না..."

---কলেজ ছুটি হওয়ার পর তৃষা তার পাশে হাঁটতে হাঁটতে বলল—

— "শোন..."

— "আজকে কিন্তু মিষ্টি খাওয়াতেই হবে।"

মাধবীলতা হেসে বলল—

— "আমার কাছে টাকা কোথায়?"

— "টাকা লাগবে না।"

— "কাশেম চাচার দোকান থেকে দুইটা নারকেলের নাড়ু কিনে দিলেই হবে।"

দুজনেই হেসে উঠল।পাহাড়ি পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে বিকেলের আলো ধীরে ধীরে নরম হয়ে এল।

---রাস্তার পাশে একটা ছোট্ট ছেলে কাঁদছিল।তার হাতে থাকা কাগজের ঘুড়িটা ছিঁড়ে গেছে।মাধবীলতা হাঁটা থামাল।ব্যাগ থেকে ছোট্ট একটা আঠার টিউব বের করল।সে প্রায়ই ব্যাগে এমন ছোটখাটো জিনিস রাখে।
ঘুড়িটা খুব যত্ন করে জোড়া লাগিয়ে ছেলেটার হাতে ফিরিয়ে দিল।ছেলেটা হাসতে হাসতে দৌড়ে চলে গেল।

তৃষা তাকিয়ে বলল—

— "তুই না, সবার সমস্যাকে নিজের সমস্যা বানিয়ে ফেলিস।"

মাধবীলতা মৃদু হেসে উত্তর দিল—

— "কাউকে হাসাতে পারলে নিজের মনটাও ভালো হয়ে যায়।"

---বাড়ি ফিরে নানি দরজায় দাঁড়িয়েই বুঝে গেলেন—
আজ কিছু একটা হয়েছে।

— "কী রে?"

— "এত হাসছিস কেন?"

মাধবীলতা ব্যাগ থেকে ছোট্ট ট্রফিটা বের করে নানির হাতে দিল।নানি কিছুক্ষণ অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন।

— "এটা?"

— "আমি গল্প প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছি।"

কথাটা শেষ হতেই নানির চোখ ভিজে উঠল।তিনি ট্রফিটা বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন—

— "আলহামদুলিল্লাহ..."

— "আমি জানতাম তুই একদিন পারবি।"

তারপর তিনি আলতো করে মাধবীলতার মাথায় হাত রেখে দোয়া করলেন।

— "আল্লাহ তোকে এমন জায়গায় নিয়ে যাক, যেখানে তোর লেখা হাজার হাজার মানুষ পড়বে।"

মাধবীলতা কিছু বলতে পারল না।শুধু নানিকে জড়িয়ে ধরল।

---সন্ধ্যার পর নিজের ঘরে এসে সে ট্রফিটা টেবিলের ওপর রাখল।তার পাশে নীল রঙের ডায়েরি।আজ ডায়েরি খুলতেই কলম যেন নিজে থেকেই চলতে শুরু করল।সে লিখল—

"আজ প্রথমবার মনে হলো, হয়তো আমার স্বপ্নগুলো শুধুই কল্পনা নয়।হয়তো সত্যিই একদিন আমার লেখা কোনো অচেনা মানুষের মন ছুঁয়ে যাবে।আর যদি সেই দিন আসে, আমি কখনো ভুলব না—আমার প্রথম পাঠক ছিলেন আমার নানি।"

লেখা শেষ করে সে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল।আজকের দিনটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। দূরে পাহাড়ের মাথায় সন্ধ্যার কুয়াশা নেমে এসেছে।পূর্ণিমার আলোয় পাহাড়গুলোকে আজ আরও রহস্যময় লাগছে।মাধবীলতা জানত না—এই লেখাগুলোই একদিন তাকে এমন একজন মানুষের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে, যে নিজেও শব্দের চেয়ে অনুভূতিকে বেশি বিশ্বাস করে।

আর সেই মানুষটি—এই মুহূর্তে ঢাকায় বসে নীলাদ্রি পাহাড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।দুই জীবনের গল্প...
এখনও আলাদা।কিন্তু সময় ধীরে ধীরে তাদের একই অধ্যায়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
★★★

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ঢুকতেই বোঝা যাচ্ছে, সবাই যেন এক অদৃশ্য উত্তেজনায় ভাসছে।কেউ বড় বড় ব্যাগ নিয়ে এসেছে, কেউ ক্যামেরার লেন্স পরিষ্কার করছে, কেউ আবার শেষ মুহূর্তে কেনাকাটার তালিকা মিলিয়ে দেখছে।কারণ আর মাত্র তিন দিন পর শুরু হবে বহু প্রতীক্ষিত গবেষণা ও ক্যাম্পিং প্রোগ্রাম।প্রায় এক মাসের এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা শুধু ভ্রমণ করবে না; পাহাড়ি মানুষের জীবন, সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করবে। ক্যাম্প স্থাপন করে সেখানেই থাকবে।ক্লাসে ঢুকতেই আদনান চেয়ার টেনে আয়ানের পাশে বসল।

— "ভাই, ব্যাগ গুছানো শেষ?"

আয়ান বই বন্ধ করে হালকা হাসল।

— "এখনও না।"

— "তুই তো সব শেষ দিনে করিস!"

ঠিক তখনই সিয়াম এসে বলল—

— "আমি কিন্তু ক্যামেরার জন্য আলাদা ব্যাগ নিচ্ছি।"

মিম সঙ্গে সঙ্গে বলল—

— "আর আমি পুরো জার্নাল লিখব। প্রতিদিন কী হলো, সব লিখে রাখব।"

আয়শা মুচকি হেসে যোগ করল—

— "এক মাস পরে ফিরে এসে দেখি, কেউ গবেষণা করেছে, আর কেউ শুধু ছবি তুলেছে!"

সবাই হেসে উঠল।বন্ধুদের এই নির্ভার হাসিগুলো আয়ানের ভালো লাগে।তাদের সঙ্গে থাকলে সে কিছুক্ষণের জন্য নিজের ভেতরের ভার ভুলে যেতে পারে।

---ক্লাস শেষে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাগানের পাশে বসে ট্যুরের পরিকল্পনা করছিল।অধ্যাপক জানিয়ে দিয়েছেন, প্রত্যেককে একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে পর্যবেক্ষণমূলক নোট তৈরি করতে হবে।কেউ লোকসংস্কৃতি নিয়ে কাজ করবে।কেউ পাহাড়ি উদ্ভিদ নিয়ে।কেউ পরিবেশ নিয়ে।আদনান আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল—

— "তুই কী নিয়ে কাজ করবি?"

কিছুক্ষণ চুপ থেকে আয়ান উত্তর দিল—

— "আমি মানুষকে নিয়ে কাজ করতে চাই।"

— "মানে?"

— "একটা জায়গাকে বুঝতে হলে আগে সেই জায়গার মানুষকে বুঝতে হয়।"

তার উত্তর শুনে সবাই কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।
তারপর মিম হেসে বলল—

— "এই জন্যই তোর কথা শুনলে মনে হয় বই পড়ছি!"

আবারও হাসির রোল উঠল।

---বিকেলে ক্লাস শেষ হওয়ার পর আয়ান সরাসরি বাসায় না গিয়ে চলে গেল পুরোনো এক আর্ট স্টোরে।
দোকানদার তাকে দেখেই চিনে ফেললেন।

— "অনেক দিন পর এলে বাবা।"

— "জি, একটু রঙ আর ক্যানভাস লাগবে।"

একটার পর একটা স্কেচবুক, পেন্সিল, চারকোল, জলরঙ আর নতুন ক্যানভাস বেছে নিল সে দোকানদার অবাক হয়ে বললেন—

— "এত কিছু?"

আয়ান শান্ত গলায় বলল—

— "এবার অনেক দিন বাইরে থাকতে হবে।"

সব জিনিস গুছিয়ে ব্যাগে রাখতে রাখতে তার চোখে এক ধরনের আলো ফুটে উঠল।যে আলো কেবল একজন শিল্পীর চোখেই দেখা যায়।

---রাতে নিজের ঘরে ফিরে সব জিনিস বিছানার ওপর সাজিয়ে রাখল সে।কাপড়, টর্চ, নোটবুক, ক্যামেরা...
সবকিছুর মাঝখানে সবচেয়ে যত্ন করে রাখল তার স্কেচবুক।সে জানে না কেন।কিন্তু তার মনে হচ্ছে—
এই সফরে এমন কিছু সে দেখবে, যা শুধু ক্যামেরায় নয়, নিজের হাতে আঁকতে হবে।

---জানালার পাশে বসে সে সাদা কাগজ খুলল।আজ অনেক দিন পর আঁকতে ইচ্ছে করছে।কিন্তু কী আঁকবে?শহরের উঁচু দালান?ব্যস্ত রাস্তা?

না...

তার হাত যেন নিজে থেকেই চলতে শুরু করলকিছুক্ষণ পর কাগজে ফুটে উঠল—একটা পাহাড়ের অস্পষ্ট রেখা।তার শুধু পাহাড়ি আঁকতে মন চাইছে, কি আছে এই পাহাড়ে, আছে তো শুধু চারপাশে কুয়াশা।আয়ান থেমে গেল,সে নিজেই অবাক।এমন ছবি সে কেন আঁকল?এই মানুষটা কে?সে তো কাউকে দেখেনি!
নিজের অজান্তেই সে ছবিটার নিচে ছোট্ট করে লিখল—

"অপরিচিতা..."

---ঠিক তখনই ফোনে একটি বার্তা এলো।আদনান লিখেছে—

"সব প্রস্তুত রাখিস। এবার এমন একটা সফর হবে, যেটা সারাজীবন মনে থাকবে।"

আয়ান মৃদু হাসল।উত্তরে শুধু লিখল—

"ইনশাআল্লাহ।"

---রাত গভীর হলো।ঘরের আলো নিভিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল সে।কিন্তু ঘুম এল না।তার চোখের সামনে বারবার ভেসে উঠছে সেই অসমাপ্ত ছবিটা।কুয়াশা...
পাহাড়...আর খোলা চুলে দাঁড়িয়ে থাকা এক অচেনা মেয়ে।সে জানে না—কয়েক দিনের মধ্যেই বাস্তবের নীলাদ্রি পাহাড়ে সেই কল্পনার ছবির সঙ্গে তার অদ্ভুত মিল খুঁজে পাবে।আর তখন থেকেই বদলে যেতে শুরু করবে তার জীবনের প্রতিটি রং।

(চলবে..)

01/07/2026

 #নীলাদ্রি_পাহাড়  #লেখিকা__উর্মিলা  #পর্ব_৫[❌গল্পটি কপি করা সম্পূর্ণভাবে নিষেধ❌ তবে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে পাশে থাকতে ...
29/06/2026

#নীলাদ্রি_পাহাড়
#লেখিকা__উর্মিলা
#পর্ব_৫

[❌গল্পটি কপি করা সম্পূর্ণভাবে নিষেধ❌ তবে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে পাশে থাকতে পারেন,ধন্যবাদ]

এক সপ্তাহ পর মাধবীলতার প্রতিযোগিতার দিন এল আজ।মনের তীব্র আশা নিয়ে সে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করল। নিজের মনের কথাগুলো কাগজে ফুটিয়ে তুলল। সে যেন লিখছে তার মনের গল্পগুলো আর স্বপ্নগুলো।লেখাটা যেন তার একটা নেশা।

---প্রথম ক্লাস শেষ হতেই বাংলা বিভাগের শিক্ষক সাইফুল ইসলাম স্যার অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করলেন।
তার নাম শুনলেই সবাই একটু সোজা হয়ে বসে।কঠোর মানুষ।কিন্তু সাহিত্য নিয়ে অসাধারণ জ্ঞান।তিনি মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বললেন—

— "আজ কে প্রথম হবে, সেটা আমার কাছে বড় কথা নয়।"

সবাই চুপ।

— "আমি দেখতে চাই, তোমাদের লেখায় সত্য আছে কি না।"

হলরুম নিস্তব্ধ।স্যার আবার বললেন—

— "যে লেখায় হৃদয় থাকবে, সেই লেখাই জিতবে।"

এই কথাটা শুনে মাধবীলতার বুকের ধুকপুকানি বেড়ে গেল।সে কখনো বড় কোনো মঞ্চে নিজের লেখা দেয়নি।

আজ প্রথম।

---এক এক করে সবাই লেখা জমা দিতে শুরু করল।
তৃষা আগে গিয়ে নিজের লেখা জমা দিল।ফিরে এসে বলল—

— "যা, এবার তোর পালা।"

মাধবীলতা ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল।তার হাতে কাগজটা কাঁপছে।মঞ্চের সামনে গিয়ে খুব যত্ন করে নিজের গল্পটা স্যারের টেবিলে রেখে আসল।ফিরে আসার সময় তার মনে হলো—সে যেন শুধু একটা গল্প জমা দেয়নি।
নিজের জীবনের একটা অংশও রেখে এসেছে।

---বিরতির সময় সবাই ক্যান্টিনে চলে গেলেও মাধবীলতা একা কলেজের পেছনের পুরোনো আমগাছটার নিচে বসে রইল।তার হাতে আবার সেই নীল ডায়েরি।আজও সে লিখল—

"আমি জানি না আমার গল্প জিতবে কি না। কিন্তু যদি কোনো দিন আমার লেখা পড়ে একজন মানুষের মনও বদলে যায়, তাহলে সেটাই হবে আমার সবচেয়ে বড় পুরস্কার।"

ডায়েরি বন্ধ করে সে আকাশের দিকে তাকাল।সাদা মেঘ ভেসে যাচ্ছে।তার মনে হলো—হয়তো স্বপ্নও এমনই।ধরা যায় না।তবু মানুষ তার পেছনে হাঁটতে থাকে।ঠিক সেই সময়...বাংলা বিভাগের অফিস কক্ষে বসে সাইফুল ইসলাম স্যার একের পর এক গল্প পড়ছিলেন।হঠাৎ একটি লেখার প্রথম লাইন পড়েই তিনি থেমে গেলেন।চশমাটা খুলে আবার পড়লেন।তারপর আস্তে করে বললেন—

"এই লেখাটা... কে লিখেছে?"

টেবিলের ওপর রাখা কাগজের এক কোণে লেখা ছিল—

"মাধবীলতা।"

স্যারের চোখে তখন বিস্ময়।মুখে ধীরে ধীরে ফুটে উঠল এক অদ্ভুত হাসি।তিনি যেন অনেক বছর পর এমন একটি লেখা পেলেন, যার শব্দের ভেতরে শুধু গল্প নয়...
একটা জীবন্ত আত্মাও লুকিয়ে আছে।
★★★

পরের এক সপ্তাহ পর...
কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকতেই মাধবীলতার মনে হলো, আজ যেন চারপাশে অদ্ভুত একটা ব্যস্ততা। মাঠের একপাশে ছাত্রছাত্রীরা জটলা করে দাঁড়িয়ে আছে। কেউ হাসছে, কেউ উত্তেজিত গলায় কথা বলছে, আবার কেউ নোটিশ বোর্ডের সামনে ভিড় করে কিছু পড়ছে।তৃষা দৌড়াতে দৌড়াতে এসে মাধবীলতার হাত ধরে বলল,

— "লতা! তুই এত দেরি করলি কেন? সবাই তোকে খুঁজছে!"

মাধবীলতা অবাক হয়ে বলল,

— "আমাকে? কেন?"

— "আগে চল। তারপর সব বলব।"

কিছু না বুঝেই সে তৃষার সঙ্গে নোটিশ বোর্ডের সামনে গিয়ে দাঁড়াল।ভিড় একটু সরে যেতেই তার চোখ পড়ল সাদা কাগজটার ওপর।কলেজ আন্তঃবিভাগীয় গল্প প্রতিযোগিতা – ফলাফলপ্রথম স্থান...মাধবীলতা চৌধুরী।কয়েক সেকেন্ড সে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
নিজের চোখকেও যেন বিশ্বাস করতে পারছিল না।তৃষা আনন্দে তাকে জড়িয়ে ধরল।

— "আমি বলেছিলাম না! তুই পারবি!"

চারপাশ থেকে করতালির শব্দ ভেসে এলো।অনেকেই এগিয়ে এসে অভিনন্দন জানাতে লাগল।কিন্তু মাধবীলতার মনে হচ্ছিল,সবকিছু যেন স্বপ্ন।সে আস্তে করে বলল,

— "সত্যিই... আমি প্রথম হয়েছি?"

তৃষা হেসে বলল,

— "নোটিশে কি অন্য কারও নাম লেখা আছে?"

দুজনেই হেসে উঠল।

---

ঠিক তখনই কলেজের পিয়ন এসে বললেন,

— "মাধবীলতা, বাংলা বিভাগের সায়ন্তনী ম্যাডাম তোমাকে অফিসে ডাকছেন।"

মাধবীলতার বুকটা ধক করে উঠল।সে ধীরে ধীরে শিক্ষকদের কক্ষের সামনে গিয়ে দাঁড়াল।ভেতর থেকে কণ্ঠ ভেসে এলো—

— "এসো।"

দরজা খুলতেই দেখল, সায়ন্তনী ম্যাডামের সঙ্গে অধ্যক্ষও বসে আছেন।মাধবীলতা সালাম দিল।

অধ্যক্ষ মৃদু হেসে বললেন,

— "তোমার লেখাটা আমরা কয়েকবার পড়েছি।"

সে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল।সায়ন্তনী ম্যাডাম টেবিলের ওপর রাখা খাতাটা তুলে বললেন,

— "তুমি শুধু গল্প লেখোনি, অনুভূতি লিখেছ। এই বয়সে এমন ভাষা খুব কম দেখা যায়।"

মাধবীলতা লজ্জায় কিছুই বলতে পারল না।অধ্যক্ষ আবার বললেন,

— "আগামী মাসে জেলা সাহিত্য পরিষদ থেকে তরুণ লেখকদের নিয়ে একটি কর্মশালা হবে। আমরা চাই, আমাদের কলেজ থেকে তুমি সেখানে অংশ নাও।"

সে বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল।

— "আমি?"

— "হ্যাঁ, তুমি। এটা শুধু একটা সুযোগ নয়, তোমার ভবিষ্যতের দরজা হতে পারে।"

কথাগুলো শুনে তার চোখ ভিজে উঠল।ছোট্ট পাহাড়ি গ্রামের সাধারণ একটি মেয়ে...যে নিজের ডায়েরির পাতায় স্বপ্ন লিখত...আজ প্রথমবার তার সেই স্বপ্নকে কেউ গুরুত্ব দিল।

---অফিস থেকে বেরিয়ে আসতেই তৃষা অপেক্ষা করছিল।

— "কী বলল?"

মাধবীলতা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে ধীরে ধীরে সব বলল।তৃষা আনন্দে চিৎকার করে উঠল।

— "আমি জানতাম! তুই একদিন বড় লেখক হবি!"

মাধবীলতা হেসে মাথা নাড়ল।

— "এখনই এত বড় স্বপ্ন দেখিস না।"

— "স্বপ্ন না দেখলে মানুষ বড় হয়?"

কথাটা শুনে মাধবীলতা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল।তারপর মৃদু হেসে বলল,

— "হয়তো না।"

---কলেজ ছুটি হওয়ার পর সে একা বাড়ির পথে হাঁটছিল।আজ তার হাঁটার ভঙ্গিটাও অন্য রকম।বাতাসে যেন নতুন একটা আত্মবিশ্বাস মিশে আছে।
রাস্তার পাশে বৃদ্ধ কাশেম চাচা ডাক দিলেন—

— "মা, শুনলাম তুই নাকি পুরস্কার পাইছিস?"

মাধবীলতা অবাক হয়ে বলল,

— "আপনি জানলেন কীভাবে?"

চাচা হেসে বললেন,

— "এই পাহাড়ে সুখবর লুকায়া রাখা যায় নাকি?"

তিনি দোকানের কাচের বয়াম থেকে একটা ছোট্ট মিষ্টি বের করে তার হাতে দিলেন।

— "এটা আমার পক্ষ থেকে। বড় মানুষ হইলেও কিন্তু আমাদের ভুলে যাইস না।"

মাধবীলতার চোখ আবারও ভিজে উঠল।সে বুঝল—
ভালোবাসা সবসময় বড় উপহার দিয়ে প্রকাশ পায় না।
কখনো কখনো একটা ছোট্ট মিষ্টির মধ্যেও অনেক আশীর্বাদ লুকিয়ে থাকে।

---বাড়িতে পৌঁছাতেই নানি উঠোনে শাক কুটছিলেন।
মাধবীলতাকে দেখেই বুঝলেন, আজ কিছু একটা হয়েছে।

— "কী রে, মুখে এত আলো কেন?"

মাধবীলতা আর নিজেকে সামলাতে পারল না।দৌড়ে গিয়ে নানিকে জড়িয়ে ধরল।তারপর শিশুর মতো উচ্ছ্বাস নিয়ে সব খুলে বলল।নানি কিছুক্ষণ নিশ্চুপ হয়ে তার কথা শুনলেন।এরপর কাঁপা হাতে নাতনির মাথায় হাত রেখে শুধু বললেন—

— "আলহামদুলিল্লাহ... আজ যদি তোর মা-বাবা বেঁচে থাকত!"

এই কথাটা শুনে দুজনেই কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।বাইরে তখন বিকেলের আলো ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসছে।আর সেই আলোয় মাধবীলতার মনে হলো—
আজ তার জীবনের একটা নতুন দরজা খুলে গেছে।
কিন্তু সে জানে না...এই ছোট্ট সাফল্যই একদিন তাকে এমন এক পথে নিয়ে যাবে, যেখানে অপেক্ষা করছে ভালোবাসা, বিচ্ছেদ আর বহু বছরের লুকিয়ে থাকা এক রহস্য। ধুয়ে-মুছে আরও নির্মল হয়ে উঠেছে। রাস্তার দুই পাশের কৃষ্ণচূড়া গাছের পাতায় জমে থাকা পানির ফোঁটাগুলো সকালের আলোয় ছোট ছোট মুক্তোর মতো ঝলমল করছে।
★★★

আয়ান আজ একটু দেরিতে ঘুম থেকে উঠল।গত রাতেও ঠিকমতো ঘুম হয়নি।বারবার একই চিন্তা মাথার ভেতর ঘুরছিল—সে কি সত্যিই নীলাদ্রি পাহাড়ে যাবে?
বিছানা ছেড়ে উঠে জানালার সামনে গিয়ে দাঁড়াল সে।
দূরে শহরের উঁচু উঁচু ভবন।গাড়ির হর্ন,মানুষের ব্যস্ততা।
সবকিছুই আগের মতো।কিন্তু তার ভেতরে যেন অদ্ভুত একটা পরিবর্তন শুরু হয়েছে।নিজেই বুঝতে পারছে না কেন।

---টেবিলের ওপর রাখা স্কেচবুকটা হাতে তুলে নিল সে।
গত কয়েক মাসে খুব একটা ছবি আঁকা হয়নি।পাতা গুলো উল্টাতে উল্টাতে পুরোনো কিছু স্কেচ চোখে পড়ল।কোথাও নদী,কোথাও শুকনো গাছ।কোথাও শুধু আকাশ।একটা পাতায় অর্ধেক আঁকা একটা পাহাড়।কাল রাতে আঁকতে চাওয়া পাহাড়টি পুরোপুরি আর আঁকা হয়নি।আয়ান কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল।তারপর পেন্সিলটা হাতে নিয়ে ছবিটা শেষ করার চেষ্টা করল।কিন্তু পারল না।মাঝপথেই থেমে গেল।নিজের অজান্তেই বিড়বিড় করে বলল,

— "হয়তো আসল পাহাড়টা না দেখলে এই ছবিটাও শেষ হবে না..."

কথাটা বলেই নিজেই একটু অবাক হলো।এমন কথা সে সাধারণত বলে না।নিচে নাস্তার টেবিলে আজ অদ্ভুত নীরবতা।আরাফ রহমান সকাল সকাল অফিসের কিছু ফাইল দেখছিলেন।রাফিয়া বেগম চুপচাপ সকালের নাস্তা পরিবেশন করছেন।কেউ কোনো কথা বলছে না।
ঠিক তখনই ছোট্ট রোশনি দৌড়ে এসে ঢুকল।হাতে রঙ পেন্সিলের একটা বাক্স।চোখেমুখে চিরচেনা উচ্ছ্বাস।

— "ভাইয়া!"

আয়ান তাকাতেই সে হাসল।

— "দেখো তো, আমি কী কিনেছি!"

রঙ পেন্সিলগুলো টেবিলের ওপর সাজিয়ে দিল।বারো রঙের ছোট্ট একটা সেট।খুব দামি কিছু নয়।তবু ওর চোখে যেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সম্পদ।আয়ান হেসে বলল,

— "বাহ! কে কিনে দিল?"

রোশনি গর্ব করে বলল,

— "রাফি... মানে... আম্মু।"

শব্দটা বলেই সে থেমে গেল।একবার আয়ানের দিকে তাকাল।সে জানে, ভাইয়ের সামনে "আম্মু" শব্দটা খুব সাবধানে বলতে হয়।আয়ান কিছু বলল না।শুধু মাথা নিচু করে চা খেতে লাগল।রাফিয়া বেগমও চুপচাপ ছিলেন।তার মুখের হাসিটা যেন এক মুহূর্তে মলিন হয়ে গেল।রোশনি পরিবেশটা বুঝতে না পেরে আবার বলল,

— "ভাইয়া, তুমি তো অনেক সুন্দর ছবি আঁকো। আমাকে একটা পাহাড় এঁকে দেবে?"

আয়ান এবার মুচকি হাসল।

— "আজ রাতে আঁকব।"

রোশনি খুশিতে হাততালি দিল।

— "প্রমিস?"

— "প্রমিস।"

---বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছাতেই ক্যাম্পাসে অস্বাভাবিক ব্যস্ততা চোখে পড়ল।মাঠের এক পাশে বড় বড় ব্যাকপ্যাক নিয়ে কয়েকজন ছাত্র দাঁড়িয়ে আছে।কেউ ট্রেকিং জুতা নিয়ে আলোচনা করছে।কেউ পাহাড়ে রাত কাটানোর অভিজ্ঞতা শোনাচ্ছে।আয়ান ধীরে ধীরে ডিপার্টমেন্টের দিকে হাঁটছিল।ঠিক তখনই পেছন থেকে পরিচিত একটা কণ্ঠ—

— "এই শিল্পী!"

পেছনে ফিরে দেখল আদনান।তার সঙ্গে সিয়াম, মিম আর আয়শাও আছে।আদনান এসে কাঁধে হাত রাখল।

— "তুই তো একদম গায়েব হয়ে গেছিস!"

আয়ান হেসে বলল,

— "তোদেরই তো খুঁজে পাই না।"

সিয়াম সঙ্গে সঙ্গে বলল,

— "মিথ্যা কথা! তুই নিজেই লাইব্রেরিতে লুকিয়ে থাকিস।"

মিম হেসে মাথা নাড়ল।

— "ওকে আর বদলানো যাবে না।"

আয়শা মজা করে বলল,

— "আমার মনে হয়, ও গোপনে কোনো উপন্যাস লিখছে।"

চারজনের কথায় আয়ানও অনেক দিন পর প্রাণ খুলে হেসে উঠল।ক্যাম্পাসের পুরোনো অশ্বত্থ গাছটার নিচে বসে সবাই চা খাচ্ছিল।আদনান ব্যাগ থেকে একটা কাগজ বের করল।

— "দেখ।"

আয়ান কাগজটা হাতে নিল।নীলাদ্রি পাহাড় ক্যাম্পিং প্রোগ্রামের পূর্ণ সময়সূচি।প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সব লেখা।সিয়াম উত্তেজিত গলায় বলল,

— "শুনেছি আমরা শুধু ঘুরতে যাচ্ছি না।"

মিম যোগ করল,

— "লোকাল কালচার নিয়ে একটা প্রজেক্টও করতে হবে।"

আয়শা বলল,

— "আর পাহাড়ি জীবন নিয়ে ডকুমেন্টেশনও থাকবে।"

আদনান চোখ টিপে বলল,

— "মানে, এক মাস শুধু ঘুরে বেড়ানোর অফিসিয়াল অনুমতি!"

সবাই হেসে উঠল।শুধু আয়ান চুপ।সে কাগজটার দিকে তাকিয়ে আছে।

"নীলাদ্রি পাহাড়"

দুই শব্দ বারবার তার চোখে পড়ছে।কেন যেন মনে হচ্ছে...এই নামটার সঙ্গে তার অদ্ভুত কোনো সম্পর্ক আছে।যদিও সে কখনো সেখানে যায়নি।ঠিক তখনই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এসে দাঁড়ালেন।

— "তোমরা সবাই শুনে রাখো।"

সবাই চুপ হয়ে গেল।অধ্যাপক ধীরে ধীরে বললেন,

— "এই ক্যাম্পিং প্রোগ্রাম শুধু ভ্রমণ নয়। এটা তোমাদের ব্যক্তিত্ব, ধৈর্য আর দলগত কাজ শেখারও একটা অংশ।"

তিনি একটু থেমে আবার বললেন,

— "যারা যাবে, তাদের জীবনে এই সফর একটা স্মৃতি হয়ে থাকবে।"

আয়ান জানে না কেন...এই কথাটা শুনে তার বুকের ভেতর হালকা একটা কাঁপন অনুভব হলো।যেন কেউ অদৃশ্যভাবে তাকে ডাকছে।দূরে কোথাও...কুয়াশায় ঢাকা কোনো পাহাড় থেকে।

---সেদিন বিকেলে ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার সময় আদনান আবার বলল,

— "একটা কথা বল।"

— "কী?"

— "তুই যাচ্ছিস তো?"

আয়ান কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থাকল।তারপর খুব আস্তে বলল,

— "এখনও সিদ্ধান্ত নিইনি।"

আদনান দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

— "দোস্ত... জীবনে সব সিদ্ধান্ত মাথা দিয়ে নেওয়া যায় না। কিছু সিদ্ধান্ত শুধু মন দিয়ে নিতে হয়।"

কথাটা শুনে আয়ান কিছু বলল না।কিন্তু বাড়ি ফেরার পুরো পথজুড়ে সেই একটি বাক্যই তার মাথায় ঘুরতে লাগল।

"সব সিদ্ধান্ত মাথা দিয়ে নেওয়া যায় না..."

সে জানত না—সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরে তাকে এমন এক কথোপকথনের মুখোমুখি হতে হবে, যা তার আর আরাফ রহমানের সম্পর্ককে আরও কঠিন পরীক্ষার সামনে দাঁড় করাবে।আর সেই সিদ্ধান্তই ধীরে ধীরে তাকে নিয়ে যাবে...
★★★
ড্রয়িংরুমে তখন পিনপতন নীরবতা।ঘড়ির টিকটিক শব্দটাও যেন স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে।আয়ান চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখে এখনও জেদ, কিন্তু সেই জেদের আড়ালে কৌতূহলও আছে। কারণ সে বুঝতে পারছে—আজ তার বাবা এমন কিছু বলতে যাচ্ছেন, যা তিনি এত বছর ধরে নিজের ভেতর লুকিয়ে রেখেছেন।
আরাফ রহমান ধীরে ধীরে উঠে জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন।বাইরে রাত নেমে গেছে। দূরের শহরের আলো ঝাপসা হয়ে জ্বলছে।কিছুক্ষণ চুপ থেকে তিনি বললেন,

— "তুই কি জানিস, আমি কেন তোকে এত বেশি আটকে রাখতে চাই?"

আজ যেন তার বাবার কন্ঠে কঠোরতা অনেক বেশি। আয়ান কোনো উত্তর দিল না।তার মনে হলো, এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো তার জানা নেই।আরাফ রহমান মৃদু হেসে বললেন,

— "তুই ভাবিস আমি শুধু তোকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাই। কিন্তু কখনো কি একবারও ভেবেছিস, একজন বাবা কেন এমন করে?"

আয়ান এবার ধীরে বলল,

— "আপনি কখনো আমাকে বুঝিয়ে বলেননি।"

— "তুই কখনো শুনতেও চাসনি।"তুই কেন এমন করছিস বাবা, তুই আমাকে বুঝিস না কেন।আমার কি অপরাধ বল তুই।

কথাটা শুনে আবার নীরবতা।কেউ কারও দিকে তাকাচ্ছে না।কিছুক্ষণ পরে আরাফ রহমান বুকভরা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,

— "শিরিন চলে যাওয়ার পর আমি ভেঙে পড়েছিলাম, আয়ান। বাইরে থেকে মানুষ আমাকে সফল ব্যবসায়ী দেখেছে। কিন্তু ভেতরে আমি প্রতিদিন হেরে গেছি।"

আয়ানের বুকটা হালকা কেঁপে উঠল।বাবার মুখে এতটা ভাঙা স্বর সে বহু বছর শোনেনি।

— "তোর বয়স তখন খুব কম। রোশনি তো সেদিনই পৃথিবীতে এলো। আমি একদিকে দুইটা ছোট বাচ্চা, অন্যদিকে হাজার মানুষের দায়িত্ব... আমি বুঝতেই পারছিলাম না কীভাবে সব সামলাব।"

আরাফ রহমান থেমে গেলেন।তার চোখে জমে থাকা জল তিনি লুকানোর চেষ্টা করলেন।

— "আমি দ্বিতীয় বিয়ে করেছি নিজের সুখের জন্য না... তোদের ভবিষ্যতের জন্য।"

আয়ান চোখ নামিয়ে ফেলল।এই কথাটা সে বহুবার শুনেছে।কিন্তু আজ বাবার কণ্ঠে যেন অন্যরকম সত্য ছিল।

— "রাফিয়া কোনোদিন শিরিনের জায়গা নিতে চায়নি। বরং আজও শিরিনের কথা উঠলে ও চুপ হয়ে যায়।"

আয়ান ধীরে বলল,

— "তবুও আমি পারিনি..."

— "আমি জানি।"

— "আম্মুর জায়গায় অন্য কাউকে কল্পনা করতে পারিনি।"

আরাফ রহমান মাথা নাড়লেন।

— "তোর ওপর আমি কখনো রাগ করিনি। কারণ তুই তখন ছোট ছিলি। কিন্তু আজ তুই বড় হয়েছিস। তাই চাই, মানুষকে নতুন করে দেখার চেষ্টা কর।"

ঠিক তখনই সিঁড়ির ওপর থেকে খুব আস্তে একটা শব্দ ভেসে এলো।আয়ান তাকিয়ে দেখল—রোশনি দাঁড়িয়ে আছে।হাতে সেই সাদা কাগজটা।সে সব কথা শুনেনি।
কিন্তু এতটুকু বুঝেছে, আব্বু আর ভাইয়া আজ ঝগড়া করছে না।ধীরে ধীরে নিচে নেমে এসে কাগজটা আয়ানের হাতে দিল।

— "ভাইয়া... এটা তোমার জন্য।"

আয়ান কাগজটা খুলে দেখল।ক্রেয়ন দিয়ে আঁকা একটা ছোট্ট ছবি।একটা বাড়ি।তিনজন মানুষ।আর পাশে একটা ছোট্ট মেয়ে।ছবির নিচে বড় বড় অক্ষরে লেখা—

"আমার পরিবার"

আয়ান ছবিটার দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল।তারপর আস্তে করে জিজ্ঞেস করল,

— "এখানে চারজন কেন?"

রোশনি অবাক হয়ে বলল,

— "কারণ আমরা তো চারজন।"

— "কে কে?"

রোশনি আঙুল দিয়ে দেখাতে লাগল।

— "এইটা তুমি।"

— "এইটা আব্বু।"

— "এইটা আমি।"

তারপর একটু থেমে হাসল।

— "আর এইটা... আম্মু।"

আয়ানের হাত কেঁপে উঠল।সে ছবির দিকে তাকিয়ে রইল।একটা দশ বছরের শিশুর কাছে পরিবার এতটাই সহজ।সেখানে কোনো সম্পর্কের জটিলতা নেই।কোনো অভিমান নেই,কোনো দূরত্ব নেই।রাফিয়া বেগম দূর থেকে সবকিছু দেখছিলেন।তার চোখ ভিজে উঠেছে।
কিন্তু তিনি এগিয়ে এলেন না।কারণ তিনি জানেন—
কিছু মুহূর্তকে দূর থেকেই দেখতে হয়।জোর করে ছুঁয়ে দিলে সেগুলো ভেঙে যায়।

রাত গভীর হয়ে এলো।নিজের ঘরে ফিরে আয়ান অনেকক্ষণ চুপচাপ বসে রইল।টেবিলের ওপর রোশনির আঁকা ছবিটা রাখা।পাশেই তার স্কেচবুক।
সে ধীরে ধীরে পেন্সিল তুলে নিল।আজ রোশনিকে কথা দিয়েছিল পাহাড় আঁকবে।কাগজে প্রথমে আঁকল বিশাল একটা পাহাড়।তারপর পাহাড়ের গায়ে কুয়াশা।
কিছু গাছ।দূরে একটা ছোট্ট কুঁড়েঘর।অদ্ভুত ব্যাপার—আজ ছবিটা আর মাঝপথে থেমে গেল না।প্রথমবারের মতো সে সম্পূর্ণ একটা পাহাড় এঁকে ফেলল।ছবিটার দিকে তাকিয়ে তার নিজেরই মনে হলো—

"হয়তো আমাকে সত্যিই সেখানে যেতে হবে..."

ঠিক তখনই ফোনে একটা মেসেজ এলো।

আদনান।

> "দোস্ত, কাল ট্যুরের ফাইনাল কনফার্মেশন। যা করার কালই করতে হবে। দেরি করিস না।"

মেসেজটা পড়ে আয়ান ফোনটা নামিয়ে রাখল।তারপর জানালার বাইরে তাকাল।দূরের আকাশে গোল চাঁদ উঠেছে।সে খুব আস্তে নিজের মনেই বলল—

— "নীলাদ্রি পাহাড়... আমি কি সত্যিই আসছি?"

অনেক দূরে...শত শত কিলোমিটার দূরে...সেই একই পূর্ণিমার আলোয় নীলাদ্রি পাহাড়ের এক টিনের ঘরে বসে মাধবীলতাও তার ডায়েরির নতুন পাতায় কিছু লিখছিল।তারা এখনও একে অপরকে চেনে না।তবু ভাগ্য ধীরে ধীরে তাদের গল্পকে একই পথে নিয়ে আসছে।

(চলবে..)

 #নীলাদ্রি_পাহাড়  #লেখিকা__উর্মিলা  #পর্বঃ৪[⛔গল্পটি কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ⛔]আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশে যেন আলাদা এক উত্...
26/06/2026

#নীলাদ্রি_পাহাড়
#লেখিকা__উর্মিলা
#পর্বঃ৪

[⛔গল্পটি কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ⛔]

আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশে যেন আলাদা এক উত্তেজনা ছড়িয়ে ছিল।প্রশাসনিক ভবনের সামনে ছোট ছোট দলে দাঁড়িয়ে সবাই একটাই বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে।নীলাদ্রি পাহাড়,দীর্ঘমেয়াদি ক্যাম্পিং ও গবেষণা ট্যুর।প্রায় এক মাসের জন্য।প্রকৃতি, পাহাড়ি সংস্কৃতি,স্থানীয় জীবনযাত্রা এবং ফিল্ড স্টাডির অংশ হিসেবে এই ট্যুরের আয়োজন করা হয়েছে।কেউ বলছে পাহাড়ে রাত কাটানোর কথা,কেউ বলছে ক্যাম্প ফায়ারের কথা,আবার কেউ ব্যাগে কী কী নেওয়া উচিত তার তালিকা করছ

ক্যাম্পাসের বড় অশ্বত্থ গাছটার নিচে দাঁড়িয়ে আদনান একটা কাগজ হাতে নিয়ে সবার অপেক্ষা করছিল।
আয়ান গেট দিয়ে ঢুকতেই দূর থেকে হাত নাড়ল সে।

— এইদিকে আয়!

আয়ান ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো।সিয়াম মুখে দুষ্টু হাসি নিয়ে বলল,

— আজকে কিন্তু পালানোর সুযোগ নেই।

মিম সঙ্গে সঙ্গে যোগ করল,

— আজ ফাইনাল লিস্ট জমা দেবে স্যার।

আয়ান শান্ত গলায় বলল,

— জানি।

আয়শা অবাক হয়ে তার দিকে তাকাল।

— তুই এত শান্ত কেন? মনে হচ্ছে যেন ট্যুরে না, পরীক্ষায় যাচ্ছিস!

আদনান হেসে কাঁধে হাত রাখল।

— ওকে চিনিস না নাকি? বাইরে বরফ, ভেতরে আগুন।

সবাই হেসে উঠল।আয়ানও হালকা হাসল,অনেক দিন পর বন্ধুদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে তার ভালো লাগছিল।এদের সঙ্গে থাকলে অন্তত কেউ তাকে তার বাবার পরিচয়ে ডাকে না।এখানে সে শুধু—আয়ান।ঠিক তখনই বিভাগের সমন্বয়কারী শিক্ষক এগিয়ে এলেন।

— তোমরা সবাই শুনো।

চারপাশটা এক মুহূর্তে শান্ত হয়ে গেল।স্যার হাতে থাকা ফাইল খুলে বললেন,

— এই ক্যাম্পিং প্রোগ্রামটা অন্য সব ট্যুরের মতো নয়। তোমাদের প্রায় এক মাস পাহাড়ে থাকতে হবে। সেখানে গবেষণার কাজ থাকবে, স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা পর্যবেক্ষণ করতে হবে, রিপোর্ট তৈরি করতে হবে। শুধু ঘুরতে যাওয়া নয়, শেখাটাই হবে মূল উদ্দেশ্য।

একজন ছাত্র প্রশ্ন করল,

— স্যার, নেটওয়ার্ক থাকবে?

সবাই হেসে উঠল।স্যারও মুচকি হেসে বললেন,

— সব সময় না।

আর সেটাই তোমাদের জন্য ভালো।কিছুদিন মোবাইলের বাইরে থেকেও মানুষ বাঁচতে পারে।এই কথায় পুরো ভিড় আবার হাসিতে ফেটে পড়ল।কিন্তু আয়ানের মনে অদ্ভুত একটা অনুভূতি কাজ করল।
এক মাস...এই শহর থেকে এক মাস দূরে।এই পরিচয় থেকে এক মাস দূরে।হয়তো সেটাই তার দরকার।

---

ক্লাস শেষ হওয়ার পর পাঁচ বন্ধু ক্যান্টিনে বসল।গরম চা আর সিঙ্গারা নিয়ে গল্প জমে উঠেছে।সিয়াম বলল,

— আমি ঠিক করে ফেলেছি, পাহাড়ে গিয়ে প্রতিদিন সূর্যোদয় দেখব।

মিম সঙ্গে সঙ্গে বলল,

— তুই? সকাল আটটার আগে ঘুম থেকে উঠতে পারিস না, আবার সূর্যোদয়!

আবারও সবাই হেসে উঠল।আদনান এবার আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল,

— তুই কী করবি পাহাড়ে গিয়ে?

কিছুক্ষণ চুপ থেকে আয়ান বলল,

— ছবি আঁকব।

চারজনই অবাক হয়ে গেল,আয়শা বিস্মিত চোখে বলল,

— তুই এখনও আঁকিস?

আয়ান মাথা নাড়ল।

— অনেক দিন হলো ঠিকমতো আঁকা হয় না। কিন্তু পাহাড়ে গেলে আবার শুরু করতে চাই।

আদনান মৃদু হেসে বলল,

— আমি জানতাম।

সিয়াম কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করল,

— কী জানতিস?

— ও বাইরে থেকে যতটা শক্ত, ভেতর থেকে ঠিক ততটাই শিল্পী।

আয়ান হালকা বিরক্ত হয়ে বলল,

— নাটক কম কর।

মিম হাসতে হাসতে বলল,

— না, সত্যিই কিন্তু। তোর আঁকা ছবিগুলো একদিন প্রদর্শনীতে যাবে, দেখে নিস।

আয়ান কিছু বলল না।শুধু চায়ের কাপটা হাতে নিয়ে জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল।দূরের আকাশটা আজ অদ্ভুত নীল।কেন জানি মনে হচ্ছিল—এই আকাশের নিচেই কোথাও তার জন্য নতুন কিছু অপেক্ষা করছে।

---

বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার আগে সে নোটিশ বোর্ডের সামনে আরেকবার দাঁড়াল।বড় অক্ষরে লেখা—

"নীলাদ্রি পাহাড় ক্যাম্পিং ও গবেষণা কর্মসূচি"নিচে তারিখ,সময়।নিয়মাবলি।সবশেষে একটা লাইন— "অংশগ্রহণকারীদের মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে।"

লাইনটা পড়ে আয়ান অজান্তেই মুচকি হাসল।

"মানসিকভাবে প্রস্তুত..."সে কি সত্যিই প্রস্তুত?নাকি সে শুধু পালাতে চাইছে?উত্তরটা সে নিজেও জানে না।

---

সন্ধ্যার একটু আগে বাড়ির গেটে গাড়ি থামল।গেট খুলতেই নিরাপত্তারক্ষী সম্মান জানিয়ে সরে দাঁড়াল।
আয়ান ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকল।আজ তার বুকের ভেতর অদ্ভুত চাপা উত্তেজনা।কারণ আজই তাকে বাবাকে বলতে হবে—সে নীলাদ্রি পাহাড়ে যাচ্ছে।আর সে জানে...এই কথাটা বলার পর বাড়ির পরিবেশ আর আগের মতো থাকবে না।ড্রয়িংরুমের দিকে এগোতেই ভেতর থেকে ভেসে এলো আরাফ রহমানের গম্ভীর কণ্ঠ...

— "আয়ান, তোমার সঙ্গে আমার কিছু জরুরি কথা আছে।"

আয়ান থেমে গেল।কয়েক সেকেন্ড স্থির দাঁড়িয়ে রইল।
তার মনে হলো হয়তো ঝড়টা শুরু হয়ে গেছে...
★★★

আয়ান ধীরে ধীরে ড্রয়িংরুমে ঢুকল,ঘরটা অস্বাভাবিকভাবে নীরব।বড় জানালার পর্দা অর্ধেক সরানো,বিকেলের শেষ আলো মেঝেতে লম্বা ছায়া ফেলেছে। আরাফ রহমান সোফায় বসে কিছু কাগজ দেখছিলেন। সামনে চায়ের কাপ রাখা, কিন্তু চায়ে একবারও চুমুক দেওয়া হয়নি।আয়ানকে দেখেই তিনি কাগজগুলো টেবিলে রেখে দিলেন।

— বসো।

আয়ান চুপচাপ বিপরীতের সোফায় বসল,কিছুক্ষণ কেউ কোনো কথা বলল না,শেষ পর্যন্ত আরাফ রহমানই নীরবতা ভাঙলেন।

— আজ তোমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফোন এসেছিল।

আয়ান ভ্রু কুঁচকে তাকাল।

— কেন?

— তোমাদের ক্যাম্পিং প্রোগ্রামের ব্যাপারে।আয়ানের বুকের ভেতরটা হালকা কেঁপে উঠল।তাহলে খবরটা বাবার কাছে পৌঁছে গেছে।আর তাকে কিছু বলতে হলো না।আরাফ রহমান ধীর গলায় বললেন,

— তুমি নীলাদ্রি পাহাড়ে এক মাসের জন্য যেতে চাও?

— হ্যাঁ।

— আমাকে না জানিয়েই?

আয়ান শান্ত স্বরে বলল,

— আজই বলতাম।

— আজ?

আরাফ রহমান হালকা হেসে মাথা নাড়লেন।

— যদি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফোন না আসত, তাহলে কি বলতে?আমি তো করেই দিয়েছি।তাও তুমি রেজিস্ট্রেশন করে এসেছ।

প্রশ্নটার উত্তর আয়ানের কাছে ছিল না।সে শুধু চুপ করে রইল।ঘরের বাতাসটা যেন আরও ভারী হয়ে উঠল।কিছুক্ষণ পর আরাফ রহমান আবার বললেন,

— তুমি জানো আমি কেন আপত্তি করছি?

আরাফ রহমান ধীরে বললেন—

— তুমি জানো না পৃথিবী কতটা নিরাপদ আর কতটা বিপজ্জনক।

— আমি ছোট বাচ্চা না।

— কিন্তু তুমি এখনও আমার ছেলে।

— আর সেই কারণেই কি সব সিদ্ধান্ত আপনাকে নিতে হবে?

আরাফ রহমান এবার গম্ভীর কণ্ঠে বললেন—

— তোমার নিরাপত্তা আমার দায়িত্ব।

— নিরাপত্তা না, নিয়ন্ত্রণ।

— আয়ান!

— ভুল বললাম? কারণ আপনি আমাকে বিশ্বাস করেন না।

— ভুল।

কণ্ঠটা এবার অনেক নরম।

— আমি পৃথিবীকে বিশ্বাস করি না।

আয়ান এবার বাবার চোখের দিকে তাকাল।বহুদিন পর।আরাফ রহমান বললেন,

— তুমি ছোটবেলা থেকেই নিজের মতো চলতে শিখেছ। আমি কখনো তোমার স্বপ্ন থামাতে চাইনি। কিন্তু কিছু জায়গা আছে, যেখানে একজন বাবার চিন্তা করাটাই স্বাভাবিক।

— আমি একা যাচ্ছি না।

— আমি সেটা জানি।

— তাহলে?

— তবুও আমার অস্বস্তি হচ্ছে।

আয়ান ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল।

— আব্বু... আপনি কি কখনো ভেবেছেন, আপনার এই অতিরিক্ত চিন্তাগুলোই আমাকে আপনার থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে?

কথাটা শুনে আরাফ রহমান কয়েক মুহূর্ত নিশ্চুপ রইলেন।তারপর খুব আস্তে বললেন,

— হয়তো।

— আমি আমার জীবনটা নিজের মতো করে বাঁচতে চাই।

— আর আমি শুধু চাই, তুমি নিরাপদে থাকো।

আয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

— আমি যদি সারাজীবন আপনার ছায়াতেই থাকি, তাহলে নিজের পরিচয় তৈরি করব কীভাবে?

এই কথার পর আর কেউ কিছু বলল না।দুজনের মাঝখানে আবার সেই পরিচিত নীরবতা নেমে এল।
ঠিক তখনই সিঁড়ি বেয়ে ছোট্ট পায়ের শব্দ ভেসে এল।

রোশনি।

সে দৌড়ে এসে থেমে গেল।চারদিকে তাকিয়ে বুঝে ফেলল, পরিবেশ ভালো না।সে ধীরে ধীরে আয়ানের হাতটা ধরল।

— ভাইয়া...

আয়ান নিচে তাকিয়ে মৃদু হাসল।

— কী হয়েছে?

রোশনি ফিসফিস করে বলল,

— তোমরা আবার ঝগড়া করছ?

আয়ান কিছু বলল না।রোশনি এবার বাবার দিকে তাকাল।

— আব্বু... ভাইয়াকে বকা দিও না।

আরাফ রহমান মেয়ের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন।

— আমি বকা দিচ্ছি না, মা।

— তাহলে ভাইয়ার মুখ এমন কেন?

এই ছোট্ট প্রশ্নটার উত্তর কারও কাছে ছিল না।ঘরের ভারী পরিবেশটা একটু নরম হয়ে গেল।ঠিক তখন রান্নাঘর থেকে রাফিয়া বেগম বেরিয়ে এলেন।তিনি একবার আয়ানের দিকে,একবার আরাফ রহমানের দিকে তাকালেন।সব বুঝতে তার বেশি সময় লাগল না।
তিনি শান্ত গলায় বললেন,

— চা ঠান্ডা হয়ে গেছে। আমি নতুন করে বানিয়ে আনছি।

আয়ান বলল,

— লাগবে না।

রাফিয়া কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইলেন।তারপর শুধু বললেন,

— রাগের সময় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনেক সময় পরে মানুষকে কষ্ট দেয়।

কথাটা বলে তিনি চলে গেলেন,আয়ান কোনো উত্তর দিল না।কিন্তু কথাটা তার মনে গেঁথে রইল।রাত অনেক হয়ে গেছে।নিজের ঘরে ফিরে ব্যাগটা খুলে বিছানার ওপর রাখল সে।ধীরে ধীরে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস গুছাতে শুরু করল।একটা নোটবুক।কয়েকটা বই।ক্যামেরা।আর ড্রয়ারের ভেতর থেকে বের করল পুরোনো একটা স্কেচবুক।অনেক দিন পর সেটা হাতে নিল।পাতাগুলো উল্টাতে উল্টাতে পুরোনো কিছু আঁকা ছবি চোখে পড়ল।কোথাও নদী।কোথাও পাহাড়।কোথাও শুধু আকাশ।শেষের পাতাটা একেবারে ফাঁকা।আয়ান কলমটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল।
তারপর ছোট্ট করে লিখল—

"নীলাদ্রি পাহাড়..."

এর বেশি আর কিছু লিখতে পারল না।জানালার বাইরে তাকিয়ে তার মনে হলো কেন যেন এই নামটার সঙ্গে তার অদ্ভুত একটা টান তৈরি হয়েছে।যেন এই পাহাড়ের সঙ্গে তার কোনো অদেখা সম্পর্ক আছে।হয়তো কল্পনা।
হয়তো শুধুই অনুভূতি।অথবা...ভাগ্যের শুরু।

অন্যদিকে,
ঠিক সেই সময় নীলাদ্রি পাহাড়ে রাত নেমেছে।

মাধবীলতা জানালার পাশে বসে গল্প প্রতিযোগিতার জন্য লেখা শেষবারের মতো পড়ে দেখছিল।হঠাৎ কলেজ থেকে আসা একটা মেসেজ তার ফোনে ভেসে উঠল—

"আগামীকাল সকাল দশটায় বাংলা বিভাগের সকল প্রতিযোগীকে উপস্থিত থাকতে বলা হচ্ছে।"

মাধবীলতা মেসেজটা পড়ে চুপচাপ ফোনটা রেখে দিল।
তার কোনো প্রত্যাশা নেই।সে শুধু নিজের মনের কথা গুলো লিখেছে।কিন্তু সে জানে না আগামীকাল সেই লেখাই তার জীবনের প্রথম বড় দরজা খুলে দিতে চলেছে।আর বহু দূরে...ঢাকার এক ঘরে বসে আয়ানও জানে না তার জীবনের সবচেয়ে বড় যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে।একজন শহরের ছেলে।একজন পাহাড়ের মেয়ে।এখনও তাদের পথ আলাদা।কিন্তু ভাগ্য নীরবে তাদের জন্য একই গল্প লিখতে শুরু করেছে...

(চলবে..)

Address

Chittagong

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when কল্পনার রাজ্য posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share