28/07/2026
#নীলাদ্রি_পাহাড়
#লেখনীতে_উর্মিলা_আক্তার
#পর্ব_১৩
(কপি করা নিষেধ)
___________________
দুপুরের সূর্য তখন ধীরে ধীরে মাথার ওপর উঠে এসেছে।শীতের দিন হওয়ায় রোদটা খুব একটা তীব্র নয়। বরং পাহাড়ি বাতাসের সঙ্গে মিশে এক অদ্ভুত আরামদায়ক উষ্ণতা তৈরি করেছে। গ্রামের সরু পথ পেরিয়ে আয়ানদের দল এবার পৌঁছাল পাহাড়ের একটু উঁচু ঢালে অবস্থিত একটি পুরোনো বাড়ির সামনে।
বাড়িটা অন্য বাড়িগুলোর মতো নয়।চারপাশে কাঠের বেড়া, উঠোনজুড়ে নানান রঙের ফুল। এক কোণে শুকাতে দেওয়া ভুট্টার ছড়া ঝুলছে। আর বারান্দার সামনে বসে একজন বৃদ্ধ বাঁশ দিয়ে ছোট ছোট ঝুড়ি বুনছেন।জাহিদ চাচা হাসিমুখে এগিয়ে গিয়ে বললেন,
"আসসালামু আলাইকুম, করিম কাকা। কেমন আছেন?"
বৃদ্ধ চশমার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললেন,
"ওয়ালাইকুম সালাম। আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি। এরা বুঝি সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা?"
"হ্যাঁ। এক মাস আমাদের পাহাড়েই থাকবে। ভাবলাম, প্রথমে আপনাদের সঙ্গেই পরিচয় করিয়ে দিই।"
করিম কাকা ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালেন।তার মুখভরা সাদা দাড়ি, কপালে গভীর ভাঁজ। কিন্তু চোখ দুটো এখনো আশ্চর্য রকম উজ্জ্বল।তিনি বললেন,
"এসো বাবারা,বাইরে দাঁড়িয়ে থাকবে কেন? অতিথি দরজায় দাঁড়িয়ে থাকলে বাড়ির বরকত কমে যায়।"
মিম হেসে বলল,
"কাকা, আপনার কথাগুলো শুনেই মনে হচ্ছে অনেক গল্প জানেন।"
করিম কাকা হেসে উত্তর দিলেন,
"গল্প জানি কি না জানি না, তবে এই পাহাড়ে আশি বছর ধরে যা দেখেছি, তা বললে তোমাদের দিন শেষ হয়ে যাবে।"
উঠোনে মাদুর পেতে সবাই বসল,কিছুক্ষণের মধ্যেই করিম কাকার স্ত্রী গরম চা, ভাজা মুড়ি আর পাহাড়ি মধু নিয়ে এলেন।আদনান কাপ হাতে নিয়ে বলল,
"খালা, এত কষ্ট করলেন কেন? আমরা তো শুধু একটু কথা বলতে এসেছিলাম।"
মহিলা মমতা ভরা গলায় বললেন,
"তোমরা এত দূর থেকে এসেছ। তোমাদের আপ্যায়ন করতে পারলে আমাদেরই ভালো লাগে।"
আয়শা মুগ্ধ হয়ে চারপাশে তাকিয়ে বলল,
"আপনাদের বাড়িটা যেন ছবির মতো সুন্দর। প্রতিটা গাছে এত যত্নের ছাপ!"
করিম কাকা হেসে বললেন,
"গাছও মানুষ চিনে মা। যত ভালোবাসবে, ততই ফল-ফুল দিয়ে উত্তর দেবে।"
আয়ান এতক্ষণ চুপচাপ সব শুনছিল।সে সামনে রাখা একটি ছোট কাঠের বাঁশি হাতে তুলে নিয়ে জিজ্ঞেস করল,
"এটা কি আপনি বানিয়েছেন?"
করিম কাকা মাথা নাড়লেন।
"হ্যাঁ। ছোটবেলায় আমার বাবা আমাকে শিখিয়েছিলেন। এখন আর আগের মতো চোখে দেখি না, তবু মাঝে মাঝে বানাই।"
আয়ান বাঁশিটা হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ দেখল।তারপর বলল,
"যে জিনিসে মানুষের সময় আর ভালোবাসা মিশে থাকে, তার দাম টাকা দিয়ে মাপা যায় না।"
কথাটা শুনে করিম কাকা কিছুক্ষণ আয়ানের দিকে তাকিয়ে রইলেন।তারপর মৃদু হেসে বললেন,
"তোমার চোখে কৌতূহল আছে বাবা। আর যার কৌতূহল থাকে, সে একদিন অনেক কিছু শিখে ফেলে।"
এদিকে সিয়াম ক্যামেরা নিয়ে উঠোনের এক পাশে চলে গেল।সেখানে কয়েকজন ছোট্ট বাচ্চা গোল হয়ে কাঁচের গুলি খেলছিল।সে ছবি তুলতেই একটি মেয়ে দৌড়ে এসে বলল,
"ভাইয়া, আমাকে সুন্দর করে তুলবেন কিন্তু!"
সিয়াম হেসে বলল,
"সুন্দর মানুষকে আলাদা করে সুন্দর বানাতে হয় না। শুধু হাসলেই ছবি সুন্দর হয়ে যায়।"
বাচ্চারা হেসে উঠল।একজন ছেলে বলল,
"আমাদেরও ঢাকা নিয়ে যাবেন?"
আদনান মজা করে বলল,
"ঢাকায় গেলে কিন্তু এই পাহাড়কে খুব মিস করবে।"
ছেলেটা মাথা নেড়ে বলল,
"তাহলে থাক, আমি এখানেই ভালো আছি!"
কথার ফাঁকে করিম কাকা হঠাৎ বললেন,
"তোমরা কি শুধু পাহাড় দেখতে এসেছ, নাকি মানুষের গল্পও লিখবে?"
মিম সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিল,
"মানুষের গল্পই বেশি জানতে চাই। কারণ বইয়ে পাহাড়ের ছবি পাওয়া যায়, কিন্তু মানুষের জীবন পাওয়া যায় না।"
করিম কাকার চোখে সন্তুষ্টির ঝিলিক দেখা গেল।তিনি ধীরে ধীরে বললেন,
"তাহলে একটা নাম মনে রেখো—মাধবীলতা।"
আয়ান প্রথমবার নামটা শুনে তাকাল।করিম কাকা বলতে লাগলেন,
"ও আমাদের গ্রামের মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখি করে। গ্রামের অনেক অনুষ্ঠানের বক্তৃতা, কবিতা সব লিখে দেয়। কলেজের শিক্ষকরাও ওকে খুব ভালোবাসেন।"
মিম আগ্রহ নিয়ে বলল,
"তাহলে তো ওর সঙ্গে আমাদের দেখা করতেই হবে!"
করিম কাকা হেসে বললেন,
"হবে। তবে ওকে খুঁজতে হবে না। এই পাহাড়ে যারা মন দিয়ে আসে, একদিন না একদিন ওদের সঙ্গে মাধবীলতার দেখা হয়েই যায়।"
আয়ান কিছু বলল না।কিন্তু অদ্ভুতভাবে নামটা তার মনে গেঁথে গেল।মাধবীলতা নামটার মধ্যে যেন পাহাড়ি বাতাসের মতোই এক ধরনের কোমলতা আছে।
ঠিক সেই সময় গ্রামের অন্য প্রান্তে কলেজের লাইব্রেরিতে বসে ছিল মাধবীলতা।বাংলা বিভাগের শিক্ষক শারমিন ম্যাডাম ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে এলেন।মুখে উজ্জ্বল হাসি।
"মাধবীলতা, তোমার জন্য একটা সুখবর আছে।"
মাধবীলতা অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল।
"জি ম্যাডাম?"
ম্যাডাম ফাইলটা খুলে বললেন,
"তোমার গল্পটা শুধু প্রথমই হয়নি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এটা জেলা সাহিত্য পরিষদে পাঠানো হবে। সেখানে নির্বাচিত হলে তুমি তরুণ লেখক কর্মশালায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।"
মাধবীলতা যেন কয়েক সেকেন্ড কথা বলতে ভুলে গেল।
সে আস্তে করে বলল,
"সত্যি... আমি?"
শারমিন ম্যাডাম মমতা ভরা গলায় বললেন,
"হ্যাঁ, তুমি। কারণ তোমার লেখায় শুধু শব্দ নেই, অনুভূতিও আছে। আর একজন লেখকের সবচেয়ে বড় শক্তি সেটাই।"
মাধবীলতা মাথা নিচু করে হাসল।সেই মুহূর্তে তার খুব ইচ্ছে করছিল ছুটে গিয়ে নানিকে খবরটা জানাতে।
সে জানত—এই খবর শুনে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি খুশি হবেন একজনই।তার নানি।
★★★
পরের দিন সকাল।সকালের আলো পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েছে নীলাদ্রি পাহাড়ের বুকজুড়ে।গত কয়েক দিনের মতো আজও বাতাসে শীতের কোমল স্পর্শ। পাহাড়ের চূড়াগুলোতে ভাসছে হালকা সাদা মেঘ। দূরের ঝরনার শব্দ যেন সকালটাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
ক্যাম্পে আজ একটু ভিন্ন রকম ব্যস্ততা।গতকাল সারাদিন গ্রামের মানুষদের সঙ্গে পরিচয় আর পর্যবেক্ষণের কাজ করার পর আজ শিক্ষকেরা সবাইকে নতুন একটি দায়িত্ব দিয়েছেন।প্রতিটি দলকে গ্রামের জীবন নিয়ে একটি ছোট্ট পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে।সেই জন্য শুধু ছবি তুললেই হবে না, মানুষের কথা শুনতে হবে, তাদের কাজ দেখতে হবে, তাদের অনুভূতিও বুঝতে হবে।সকালের নাস্তা শেষ করে সবাই খোলা মাঠে জড়ো হলো।অধ্যাপক মাহবুব হাসান হাতে একটি নোটবুক নিয়ে দাঁড়িয়ে বললেন,
"শুধু তথ্য লিখে কোনো প্রতিবেদন ভালো হয় না। মানুষের গল্প বুঝতে শিখতে হবে। এই পাহাড়ের প্রতিটি মানুষের আলাদা একটা জীবন আছে। তোমরা চেষ্টা করবে, তাদের চোখ দিয়ে এই জায়গাটাকে দেখতে।"
মিম নোট নিতে নিতে বলল,
"স্যার, যদি কেউ কথা বলতে না চায়?"
স্যার মৃদু হেসে উত্তর দিলেন,
"তাহলে জোর করবে না। বিশ্বাস অর্জন করতে হয়, আদায় করা যায় না।"
আদনান পাশ থেকে আস্তে করে আয়ানের কানে বলল,
"শুনলি? এক মাসে শুধু রিপোর্ট না, মানুষের বিশ্বাসও জিততে হবে!"
আয়ান হালকা হেসে বলল,
"সেটাই তো আসল শেখা।"
সিয়াম ক্যামেরার লেন্স পরিষ্কার করতে করতে বলে উঠল,
"আমি ঠিক করেছি, এবার শুধু পাহাড়ের ছবি তুলব না। মানুষের হাসির ছবিও তুলব। পরে দেখলে যেন মনে হয়, আমরা সত্যিই এখানে বেঁচে ছিলাম।"
আয়শা মুচকি হেসে বলল,
"কিন্তু আগে অনুমতি নিবি। না হলে গ্রামের সবাই তোকে দেখে পালাবে।"
সবাই একসঙ্গে হেসে উঠল।বন্ধুদের এই ছোট ছোট কথাবার্তা পুরো সকালটাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলল।
এদিকেচন্দ্রঝর্ণা কলেজের বাংলা বিভাগের কক্ষে বসে আছে মাধবীলতা।গতকালের সুখবরের পর আজও তার মুখে লাজুক হাসি।শারমিন ম্যাডাম তাকে ডেকে বলেছিলেন, গল্পটা আরও একটু পরিমার্জন করতে হবে।কলেজের ছোট্ট লাইব্রেরির জানালার পাশে বসে সে নিজের খাতায় কিছু লাইন কাটাকাটি করছে।ঠিক তখনই তৃষা দৌড়াতে দৌড়াতে এসে বলল,
"লতা! তুই এখানে বসে আছিস? আমি তোকে পুরো কলেজে খুঁজলাম!"
মাধবীলতা মুখ তুলে হেসে বলল,
"কী হয়েছে এমন?"
তৃষা নাটকীয় ভঙ্গিতে দুই হাত কোমরে রেখে বলল,
"কী হয়েছে মানে? তোর গল্প নিয়ে সবাই কথা বলছে আর তুই এখানে নিশ্চিন্তে বসে আছিস!"
মাধবীলতা হেসে মাথা নাড়ল।
"গল্পটা যদি মানুষের ভালো লাগে, সেটাই তো সবচেয়ে বড় ব্যাপার।"
"আরে, শুধু ভালো লাগার কথা না! বাংলা বিভাগের স্যার পর্যন্ত বলছেন, তোর লেখায় আলাদা একটা অনুভূতি আছে। তুই বুঝতেই পারছিস না, এটা কত বড় ব্যাপার!"
মাধবীলতা একটু অপ্রস্তুত হয়ে বলল,
"এত প্রশংসা শুনলে আমার বরং ভয় লাগে। যদি একদিন ভালো লিখতে না পারি?"
তৃষা তার কাঁধে আলতো চাপড় দিয়ে বলল,
"যে মানুষ নিজের লেখাকে নিয়ে ভয় পায়, সে কখনো খারাপ লেখক হয় না। কারণ সে প্রতিদিন নিজেকে আরও ভালো করার চেষ্টা করে।"
মাধবীলতা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।তারপর জানালার বাইরে পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে ধীরে বলল,
"আমি শুধু চাই, একদিন এমন কিছু লিখতে যেটা পড়ে মানুষ নিজের জীবনের কথা ভাববে।"
তৃষা মুগ্ধ চোখে বন্ধুর দিকে তাকিয়ে রইল।তার মনে হলো, এই মেয়েটা সত্যিই অন্যরকম।দুপুর গড়িয়ে বিকেল।শিক্ষার্থীরা আবার বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে গ্রামের ভেতরে বেরিয়ে পড়েছে।জাহিদ চাচা আজ তাদের নিয়ে যাচ্ছেন পাহাড়ের ঢাল ঘেঁষে থাকা একটি পুরোনো ঝরনার দিকে।পথটা সরু, কিন্তু ভীষণ সুন্দর।
বুনো ফুলের গন্ধে বাতাস ভরে আছে।হাঁটতে হাঁটতে মিম হঠাৎ থেমে গেল।
"একটু দাঁড়াও! এই ফুলগুলো দেখো না! কী সুন্দর!"
আদনান হেসে বলল,
"মিম, তুই যদি এভাবে প্রতি পাঁচ মিনিটে দাঁড়াস, তাহলে ঝরনায় পৌঁছাতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে।"
মিম ভ্রু কুঁচকে বলল,
"সৌন্দর্য দেখার জন্য সময় দিতে হয়, মিস্টার তাড়াহুড়ো!"
অন্য দিকের পাহাড়ি পথ ধরে কলেজ থেকে বাড়ি ফিরছিল মাধবীলতা।তার হাতে কয়েকটি বই।ব্যাগের ভেতরে যত্ন করে রাখা গল্পের খাতা।সে দূর থেকে দেখতে পেল একদল সেই অচেনা তরুণ-তরুণী হাসতে হাসতে পাহাড়ি পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে।তাদের একজনের গলায় জড়ানো লাল মাফলারটা বাতাসে হালকা উড়ছে।মাধবীলতা কয়েক সেকেন্ড থেমে তাকিয়ে রইল।তারপর আবার ধীরে হাঁটতে শুরু করল।
অন্যদিকে আয়ানও অজান্তেই একবার মাথা তুলে সামনের পথের দিকে তাকাল।পিছন ফিরে সরুপথ ধরে নিচে নেমে যাচ্ছে একটা মেয়ে।মেয়েটি একবারও পেছনে ফিরে তাকাল না।আয়ানও কিছু বলল না।
দুই অচেনা মানুষ একই পাহাড়ের একই বিকেলে, একই আকাশের নিচে,মাত্র কয়েক মুহূর্তের জন্য একে অপরকে দেখল।
★★★
বিকেলের শেষ আলো ধীরে ধীরে নীলাদ্রি পাহাড়ের গায়ে ছড়িয়ে পড়ছে।সারাদিনের রোদ যেন এখন অনেক কোমল হয়ে এসেছে। পাহাড়ের গাছগুলো দীর্ঘ ছায়া ফেলেছে ঢালু পথের ওপর। দূরে কোথাও অচেনা পাখির ডাক ভেসে আসছে। বাতাসে কাঁচা ঘাস আর বুনো ফুলের মিষ্টি গন্ধ।কলেজ থেকে ফিরে প্রতিদিনের মতো আজও নিজের ছোট্ট নীল ডায়েরিটা হাতে নিয়ে পাহাড়ের চূড়ার দিকে হাঁটছিল মাধবীলতা।এই জায়গাটা তার সবচেয়ে প্রিয়।যখন খুব আনন্দ হয়, সে এখানে আসে।মন খারাপ হলেও এখানে আসে।যখন কোনো গল্পের শেষ খুঁজে পায় না, তখনও এই পাহাড়ের নীরবতার কাছেই বসে থাকে।কারণ তার বিশ্বাস—
"মানুষের না বলা অনেক কথার উত্তর প্রকৃতি খুব নিঃশব্দে দিয়ে দেয়।"
পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছে সে বড় পুরোনো গাছটার নিচে গিয়ে বসল।সামনে বিস্তীর্ণ আকাশ,নিচে সবুজ উপত্যকা।দূরে মেঘ পাহাড়ের গা ছুঁয়ে ধীরে ধীরে ভেসে যাচ্ছে।সে ব্যাগ থেকে ডায়েরিটা বের করল।পাতাগুলো আলতো করে উল্টাতে উল্টাতে মৃদু হেসে বলল,
"আজ কী লিখব?"
কিছুক্ষণ কলমটা হাতে নিয়েই বসে রইল।তারপর লিখতে শুরু করল—
"কিছু মানুষের সঙ্গে আমাদের দেখা হয় অনেক দেরিতে। অথচ মনে হয়, যেন তাদের জন্যই এতদিন অপেক্ষা করছিলাম..."
লিখতে লিখতে হঠাৎ থেমে গেল সে।নিজেই হেসে ফেলল।
"এ আবার কী লিখলাম আমি!"
ঠিক তখনই দূর থেকে নানির কণ্ঠ ভেসে এলো।
"লতা...! ও লতা...! মা, কোথায় তুই?"
মাধবীলতা চমকে উঠে দাঁড়াল।আবার ডাক শোনা গেল।এবার কণ্ঠে একটু উদ্বেগ।
"সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে মা! কুয়াশা নামার আগে বাড়ি আয়!"
মাধবীলতা তাড়াহুড়ো করে কলমটা ব্যাগে ঢুকিয়ে দৌড়ে নিচের দিকে নেমে গেল।কিন্তু ব্যস্ততার মাঝেই...
গাছের শিকড়ের পাশে পড়ে রইল তার সবচেয়ে প্রিয় নীল ডায়েরিটা।
(চলবে..)