05/09/2026
বাইরে এসে একটা বিষয় খুব ভালোভাবে খেয়াল করলাম...
আপনার আত্মীয়-স্বজন, আপনজন কিংবা বন্ধুবান্ধব—যতই আপনাকে ভালোবাসুক, খোঁজখবর রাখুক কিংবা সবদিক থেকে সাহায্য করুক না কেন; দিনশেষে সবারই নিজস্ব একটা ব্যক্তিত্ব, একটা প্রত্যাশা থাকে। আর আমার মনে হয়, এই প্রত্যাশার দেয়ালটা মায়ের ভালোবাসায় সবচেয়ে কম।
কেন বললাম, একটু বলি...
দেখবেন, অনেকেই আপনার জন্য নিজের জায়গা থেকে কন্ট্রিবিউশন রাখবে, প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াবে, নিজ দায়িত্বে কয়েকবার খোঁজখবরও নেবে। কিন্তু একটা সময় পর স্বাভাবিকভাবেই তারাও প্রত্যাশা করবে—আপনিও নিজ থেকে তাদের খোঁজ নেবেন, কথা বলবেন, সম্পর্কটা ধরে রাখবেন।
এটা খারাপ কিছু নয়। বরং সম্পর্কের মধ্যে পারস্পরিকতার একটা সৌন্দর্য আছে। মানুষ যেমন ভালোবাসা দেয়, তেমন ভালোবাসা পাওয়ার প্রত্যাশাও করে—এটাই স্বাভাবিক।
কিন্তু মায়ের ক্ষেত্রে বিষয়টা যেন অন্যরকম।
মা আপনার কাছে ইফোর্টের হিসাব নিয়ে বসে থাকেন না। আপনি কতবার ফোন দিলেন, কতবার খোঁজ নিলেন—সেসবের হিসাব করে তিনি আপনাকে ভালোবাসেন না। আপনি দূরে থাকুন, ব্যস্ত থাকুন কিংবা অনেকদিন যোগাযোগ না রাখুন—তার চিন্তাটা ঠিকই থেকে যায়,
“আমার সন্তানটা কেমন আছে?”
মাতৃত্বের মাঝে বোধহয় পাওয়া-না পাওয়ার হিসাবটা থাকে না। থাকে শুধু সন্তানের জন্য একটা নিরন্তর চিন্তা।
আমি বাইরে আসার পর বেশ কয়েকজন ভালোবাসা কিংবা দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে নিজে থেকে কয়েকবার কথা বলেছেন, খোঁজ নিয়েছেন। এরপর হয়তো তারাও আমার একটি ফোনকলের অপেক্ষায় আছেন। পরিবারের বাকি সদস্যরাও নিজেদের জায়গা থেকে আমার জন্য নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, অনেক কিছু কন্ট্রিবিউট করছেন।
তাদের কাউকে ছোট করা বা তাদের ভালোবাসাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এই লেখার উদ্দেশ্য নয়। বরং এতসব সম্পর্কের মাঝেও সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসাটা যে কতটা আলাদা, কতটা নিঃস্বার্থ—সেটাই উপলব্ধি করেছি।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাবাদের মাঝেও এই গুণটা খুব সুন্দরভাবে দেখা যায়। আমার নানাকে দেখেছি, সারাদিনের কর্মব্যস্ততার মাঝেও কীভাবে তিনি তাঁর ছেলে-মেয়েদের খোঁজ নিতেন। বাবারা হয়তো ভালোবাসাটা একটু অন্যভাবে প্রকাশ করেন; তবে মেয়েদের প্রতি তাঁদের মায়াটা অনেক সময় সত্যিই আলাদা হয়ে ওঠে।
তাই জীবনে কিছু করার থাকলে, সবার আগে তাদের জন্যই করা উচিত—যারা আপনার জন্য কিছু করার সময় হিসাব করেনি।
কারণ বাইরের মানুষ তো প্রতিনিয়ত সমালোচনা করবেই। আত্মীয়-স্বজনও কম যাবে না। 🙂
সারাজীবন কে কী বলবে, কে কী মনে করবে—এসব ভেবে চলতে চলতে নিজের আপন মানুষগুলোর জন্য সময়টুকু যেন হারিয়ে না ফেলি।
শেষ পর্যন্ত...
“মরার পর মেজবানে গিয়েও আত্মীয়-স্বজন বলবে—মাংসটা ঠিকমতো সিদ্ধ হয়নি, আর লবণটাও একটু কম হয়েছে!” 😊