06/08/2025
"শেষ বিকেলের রংধনু"
চলছে বর্ষাকাল। গ্রীষ্মের নিষ্ঠুর খরতাপের পরে এক পশলা শান্তির বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে আসে বর্ষা। আষাঢ়-শ্রাবণ এ দু’মাস বর্ষাকাল। বর্ষায় প্রকৃতিতে সৃষ্টির অপরূপ সৌন্দর্যের ছোঁয়া পরিলক্ষিত হয়। অঝোর ধারায় বৃষ্টিস্নাত হয়ে সবুজ গাছগাছালিতে সুন্দর হয়ে ওঠে আমাদের চারপাশ।
বর্ষার দিনে বাংলার গ্রামাঞ্চলে টিনের চালে টাপুর টুপুর রিনিঝিনি বৃষ্টির ছন্দে উদাস হয় মন। বৃষ্টি ঝরে গ্রামে, হাটে, মাঠে, শহরে, নদী ও পাহাড়ে। তুমুল বৃষ্টিতে গাঁয়ের ছেলেরা নেমে পড়ে ফুটবল নিয়ে। পুকুর জলে টুপ টুপ ডুব দিয়ে আনন্দে খেলা করে হাঁসের ছানা। বর্ষার এই রূপ কখনো কি ভোলা যায়? বর্ষার সবই উপভোগ্য। তবে সাধারণত গ্রামের মতো শহরে বর্ষার সৌন্দর্য খুব একটা ফুটে ওঠে না।
বৃষ্টি নিয়ে বাংলা সাহিত্যে অজস্র ছড়া, কবিতা, গল্প ও গান দেখা যায়। কবিদের ভাবনায় বর্ষা এক অনিন্দ্য সুন্দর সৃষ্টি। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল থেকে শুরু করে তার পরের কবি লেখকরা তো বটেই আগেকার কবি-লেখকরাও বর্ষার আহ্বান করে গেছেন তাঁদের বহু কবিতা-গান-গল্পে।
বর্ষার নিমন্ত্রণ পেতে কবি হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের লিখছেন,
‘এই মেঘলা দিনে একলা
ঘরে থাকে না তো মন
কাছে যাবো কবে পাবো
ওগো তোমার নিমন্ত্রণ।`
সেদিন আমি আর বন্ধু সানি, সাঈদ বিকেলে বাতাসীর মেঠোপথ ধরে হাঁটতে বের হলাম। অনেক দিন বাসায় থাকার পড় বাইরে প্রকৃতির দৃশ্যগুলো দেখে বেশ ভালোই লাগছিল। তিন বন্ধু মিলে গল্প করছি আর হাঁটছি। আমি মনে মনে ভাবছি এই মেঘলা দিনে আকাশজুড়ে আঁকা রংধনু দেখতে পেতাম কতই না ভালো হতো। ঠিক তখনই সানি দূর আকাশের দিকে হাত দিয়ে দেখিয়ে বললো, দেখ! রংধনু দেখা যাচ্ছে। আমি তো অবাক যেই রংধনু দেখার ইচ্ছা হলো তখনই দেখতে পেলাম। আলহামদুলিল্লাহ [আর সাথে সাথে আমি সানি ভং ধরে বসে পড়লাম..বন্ধু সাঈদ সুন্দর করে ফ্রেমটি খিছে নিল তার সদ্য নেওয়া এস টুয়েন্টি ফাইভ আল্ট্রা নিয়ে] বিগত বছরগুলোতে বর্ষায় বৃষ্টি ছিল তুলনামূলক কম। তাই তখন রংধনুও তেমন চোখে পড়েনি। কিন্তু এবারের বর্ষায় বৃষ্টি বেড়েছে। তাই এবার প্রায় রংধনু চোখে পড়ে।
বর্ষার জলীয়বাষ্পে আকাশের আরেক দিকে সূর্যালোকের বিচ্ছুরণে মাঝেমধ্যে ভেসে উঠছে ছন্দের রংধনু। সাত রঙা রংধনুতে সাত রঙ মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে হৃদয়ের বর্ণিল রঙ ফুটে ওঠে।
বৃষ্টি জলীয় বাষ্পের কণার সংস্পর্শে আলোর প্রতিসরণে সৃষ্টি হয় বর্ণালী। বর্ণালী ভাগ হয় সাত রঙে। যদিও রংধনু অল্প সময় দৃশ্যমান থাকে আকাশে। সাধারণত বৃষ্টির পর আকাশে সূর্যের বিপরীত দিকে দেখা যায় রংধনু। এটি দেখতে ধনুকের মতোই বাঁকা, তাই একে রংধনু বলে।
ᩣシ