04/07/2026
পরকীয়ার ভিডিওর পর সামাজিকভাবে তালাক, এরপর প্রবাসী স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা: ঈদগাঁও থানার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সৌদি প্রবাসী সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তার সাবেক স্ত্রী মোহেছনা আক্তারের পারিবারিক বিরোধ নতুন মোড় নিয়েছে। পরকীয়ার অভিযোগে সামাজিকভাবে তালাক সম্পন্ন হওয়ার পর এখন তার বিরুদ্ধে ঈদগাঁও থানায় মামলা হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাইফুল ও তার পরিবার।
সাইফুল ইসলামের বাড়ি চকরিয়া উপজেলার খুটাখালি ইউনিয়নের পূর্ণগ্রাম এলাকায়। অপরদিকে তার সাবেক স্ত্রী মোহেছনা আক্তারের বাড়ি কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী ইউনিয়নের খামারপাড়া এলাকায়। তাদের দাম্পত্য জীবনে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
সাইফুল ইসলামের দাবি, তাদের বিয়ে সৌদি আরবে উভয় পক্ষের স্বজনদের উপস্থিতিতে সামাজিকভাবে আকদের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। সে সময় উভয় পক্ষের সম্মতিতে একটি ‘বিবাহের অঙ্গীকারনামা ও চুক্তিনামা’ সম্পাদিত হয়। ওই চুক্তিপত্রে দেনমোহর, মোহরানা, স্বর্ণালংকার, ভরণপোষণ, দাম্পত্য দায়িত্বসহ বিভিন্ন শর্ত লিখিতভাবে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ফিরে সরকারিভাবে কাবিন নিবন্ধন করার কথাও চুক্তিতে উল্লেখ ছিল। তবে দেশে ফেরার পর সেই কাবিন নিবন্ধন আর সম্পন্ন হয়নি। ফলে তাদের নামে বাংলাদেশ সরকারের কোনো নিবন্ধিত কাবিননামা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
সাইফুল ইসলামের ভাষ্য, সৌদি আরবে অবস্থানকালে স্ত্রীর আচরণে সন্দেহ হলে তিনি নিজ কক্ষে একটি গোপন ক্যামেরা স্থাপন করেন। পরে সেই ক্যামেরায় তার স্ত্রীর সঙ্গে তার পোশাক কারখানার এক কর্মচারীর আপত্তিকর অবস্থানের প্রায় ৪ মিনিট ২৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ধারণ হয়। ওই ভিডিও দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে স্ত্রী কান্নাকাটি করে ভুল স্বীকার করেন বলে দাবি তার। মেয়ের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তিনি বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে পুনরায় সংসার শুরু করেন। তবে পরবর্তীতে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে উভয় পক্ষের স্বজনদের উপস্থিতিতে সামাজিকভাবে তাদের তালাক সম্পন্ন হয় বলে জানান তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, সামাজিকভাবে তালাকের সময় সাবেক স্ত্রীর পাওনা এবং তার কাছে থাকা প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ফেরত চাননি। যদিও সে সময় তার সাবেক স্ত্রী ৭ ভরি স্বর্ণ থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। বর্তমানে ওই স্বর্ণের মূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকারও বেশি। এছাড়া মানবিক বিবেচনায় সাবেক স্ত্রীর দেশে ফেরার বিমান ভাড়া, কপিল (স্পন্সরশিপ সংক্রান্ত) খরচসহ অন্যান্য ব্যয়ও তিনি বহন করেন।
সাইফুলের অভিযোগ, তালাকের পরও সাবেক স্ত্রী তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন। তার ভাষ্য, গত ২১ জুন ইসলামাবাদ ইউনিয়নের বাঁশঘাটা এলাকায় তার বাড়িতে গিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হট্টগোল সৃষ্টি করা হয় এবং পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ দেওয়া হয়।
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনে। পরে ঈদগাঁও থানার এসআই আজিমুল বিষয়টির তদন্তভার গ্রহণ করেন। একাধিক দফায় উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, সমঝোতার আলোচনা চলছিল এবং পরবর্তী বৈঠকের দিন-তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছিল।
কিন্তু নির্ধারিত সেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম শিফাতুল মাজদারের নির্দেশে অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।