16/08/2026
©️
পৃথিবীতে সবচেয়ে পরিশ্রমের কাজ কি জানেন?
সন্তান লালল পালন করা।
কিন্তু সবচেয়ে আফসোসের বিসয় কি জানেন? যিনি এই কাজটা করছে তিনি ছাড়া তার পারিপার্শ্বিক কেউ এই কাজটার গুরুত্ব দেয়না। কেউ মানে কেউই না। আপনার মা, খালা, শাশুড়ী এমনকি হাজবেন্ডও না।
আপনার আগের যারা জেনারেশন তারা তো বিসয়টাকে এমনভানে ট্রিট করবে যেন তাদের আমলে তারা সকালে একটা, বিকালে আরেকটা বাচ্চা মানুষ করে বড় করে ফেলেছে।
- "মাত্র দুইটা বাচ্চা, আমি এই হাতে ৬/৭ টা বাচ্চা পাইলা বড় করে ফেলছি।
- তোমাদের আর বাচ্চা পালতে কষ্ট কিসের? ধান-পান নেয়া লাগেনা, ডায়পার পরায় বাচ্চা পালো
- তিন জনের সংসার তাও বাচ্চা নিয়া প্যারা খাও। ৪০ জনের সংসার সামলায় আমরা বাচ্চা মানুষ করে আসছি।"
এই টাইপের কথাগুলো বলে তারা আপনার মাদারহুডের জার্নিতে কোন হেল্প করতে না পারলেও স্ট্রেস ঠিকই দিতে পারবে।
এমনকি যারা আপনার সেম জেনারেশনের অথবা তার নিজেরও হয়তো সেম আপনার মতোই একটা বাচ্চা আছে সেও আপনাকে ট্রিট করবে এভাবে-
"- তোমার আর কষ্ট কিসের, তুমি তো বাসায় বসেই বেবির টেক কেয়ার করছো। জব করে বেবি মানুষ করতা তাহলে বুঝতা কষ্ট।
- তোমার সাথে তো তোমার প্যারেন্টস আছে। তোমার আর বাচ্চা পালতে কিসের কষ্ট।
- (দেশের বাহিরে থাকা ফ্রেন্ড) তোদের আবার বাচ্চা পালতে কষ্ট লাগে নাকি। তোদের সব কিছু তো বুয়াই করে দেয়। লাগে আরো দুইটা বুয়া বাড়ায় রাখবি। আমাদের মতো কষ্ট তো আর করা লাগেনা।"
অর্থাৎ মাদারহুডের জার্নিটাকে কে কীভাবে হেল্প করবে তারচেয়ে কে কাকে কতোটা ডিমোটিভেট করতে পারছে এটা নিয়েই সবাই ব্যাস্ত।
আর এন্ড অফ অল নিজের হাজবেন্ড। তাদের সবার ডায়লগ তো সেম- বাচ্চা কী তুমি একাই পালো? সবাই তো পালছে, এ আর এমন কী।
বাট এই হাজবেন্ডদের আরো একটা কমন ডায়লগ আছে। সেটা হচ্ছে- আমার মা আমাকে খুব কষ্ট করে মানুষ করেছে।
🙄🙄🙄
তো ডিয়ার সিস্টার্স, এখান থেকে কি বুঝলা? তোমার মাদারহুডের জার্নিতে তুমি একদম একা।
আমার কাছে মাদারহুড একটা ২৪/৭ ডিউটি। মানে কাস্টমার কেয়ারের মতো। যখন তখন যে কোন সময়, যে কোন কিছু আপনার বাচ্চা আবদার করতে পারে। আপনাকে জাস্ট বলতে হবে- এক মিনিট অপেক্ষা করুন স্যার, আমি এক্ষুনি সমাধান করে দিচ্ছি।
ধরেন আপনি বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোন প্রতিষ্ঠান এর CEO। আপনার অনেক অনেক দায়িত্ব। কিন্তু তারপরও আপনি সপ্তাহে একদিন ছুটি পাবেন। আপনি চাইলে বছরে একবার সব পরিশ্রম ভুলে থাকার জন্য দেশের বাহিরে একটা ট্যুর দিতে যাবেন।
আপনি ডিউটি আওয়ারে কাজ করবেন। অফিস ছুটির পর আপনার রিল্যাক্স। ধরলাম তাও আপনি বাসায় বসে কিছু কাজ করেন, কিন্তু সেটা নিশ্চই সারা রাত নয়।
তারপর ধরেন কোম্পানি থেকে আপনি একটা লিভ নিয়েছেন নিশ্চই আপনি লিভে বসে কোম্পানির কথা ভেবে সময় নষ্ট করবেন না।
এবার বলেন, একটা মা কী করে? তার কোন সাপ্তাহিক ছুটি নেই। সাত দিনই দায়িত্ব পালন করতে হবে। রিফ্রেশ হতে ট্যুরে যাবেন, কিন্তু সেখানেও আপনাকে এই বাচ্চা নিয়ে যেতে হবে। ২৪ ঘন্টা সব দায়িত্ব ই পালন করতে হবে পার্থক্য সেটা বাসায় না বসে হোটেলে বসে পালন করছেন।
বাচ্চাদেরকে রেখে কোথাও গেলেও দেখবেন তারা কী খাচ্ছে, কী পরছে এসব ভেবেই সময় যাবে। মানে মেন্টালি আপনি ছুটি পাননি।
তো এতো কিছুর পরও দেখবেন আপনার মাদারহুডকে সবাই ছোট করছে।
আপনি কতো খারাপ মা এটা প্রমান করতে আশেপাশের সবাই ব্যাস্ত।
কী আর করা! খারাপ মা হওয়ার জার্নিটা সবার সুন্দর হোক। এই প্রত্যাশা করি।
- Nadia Parvin Juthi