03/08/2026
ইরাককে যে শ্মশানে পরিণত করেছিল, তার চাবিকাঠি ইরানের হাতে ছিল না, বরং ছিল আরব বিশ্বের তথাকথিত 'সুন্নি ভাইদের' হাতে।
বিষয়টি পরিষ্কার করতে আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় একটি ট্র্যাজেডি বুঝতে হবে। আশির দশকে সাদ্দাম হোসেন ইরানের ওপর দীর্ঘ ৮ বছরের এক ভয়াবহ যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে ইরানের প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছিল, পঙ্গু হয়েছিল আরও কয়েক লক্ষ। অথচ ২০০৩ সালে যখন আমেরিকা 'অক্ষশক্তি' নাম দিয়ে ইরাক আক্রমণ করতে আসে, তখন কিন্তু ইরান তাদের সেই পুরনো ও জানমালের চরম শত্রু সাদ্দামকে হটাতে আমেরিকার সাথে হাত মেলায়নি। ইরান সেদিন নিরপেক্ষ থেকেছে।
কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো, সাদ্দাম হোসেন যাদের জন্য বুক চিতিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন, সেই কুয়েত আর সৌদি আরবই সবার আগে আমেরিকার হাতে ইরাকের চাবি তুলে দিয়েছিল।
ইরাক ধ্বংসের নকশাটি কোনো যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, বরং তৈরি হয়েছিল মক্কা-মদিনার মিম্বর আর বিলাসবহুল আরব রাজপ্রাসাদগুলোতে।
ইতিহাস না জানা মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত অবাক করা তথ্য যে, যখন মার্কিন ট্যাংকগুলো বাগদাদের দিকে এগোচ্ছিল, তখন সৌদি আরবের বড় বড় আলেমরা—যেমন শেখ ইবনে বায এবং ইবনে উসাইমীন—ফতোয়া দিচ্ছিলেন যে, সাদ্দাম একজন 'কাফির' এবং তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে খ্রিস্টান ও ইহুদিদের (আমেরিকা ও ইউরোপ) সাহায্য নেওয়া জায়েজ! শুধু তাই নয়, রবি আল-মাদখালির মতো আলেমরা কিতাব লিখে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিলেন যে, আরব মুসলিমদের উচিত হবে আমেরিকার এই দখলদারিত্ব মেনে নেওয়া। যে সুন্নি ভাইয়েরা সাদ্দামকে একসময় 'আরব বিশ্বের ঢাল' বলে ডাকত, তারাই ফতোয়া দিয়ে তাকে ও তার লক্ষ লক্ষ সেনাকে ধর্মচ্যুত ঘোষণা করল।
আরও রুদ্ধশ্বাস তথ্য হলো, মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো যখন ইরাকি শিশুদের ওপর বোমা বর্ষণ করছিল, সেই বিমানগুলো উড়েছিল সৌদি আরব, জর্ডান এবং কুয়েতের মাটি থেকে। কুয়েত তার পুরো ভূখণ্ডকে আমেরিকার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিল যাতে তারা সহজে ইরাক আক্রমণ করতে পারে। সৌদি প্রিন্স বান্দর বিন সুলতান তো রীতিমতো লবিং করেছিলেন যাতে আমেরিকা দ্রুত ইরাক দখল করে নেয়। অর্থাৎ, ইরাককে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়ার জন্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারের যে লজিস্টিক সহায়তা, তা সাদ্দামের 'সুন্নি ভাইয়েরাই' দিয়েছিল। সাদ্দামের চিরশত্রু খামেনিরা তখন কেবল দূর থেকে এই ঐতিহাসিক বিশ্বাসঘাতকতা আর আরব শাসকদের মূর্খতা পর্যবেক্ষণ করছিল।
আজ যখন আমরা দেখি ইরাক ধ্বংসের জন্য কেবল ইরানকে দায়ী করা হয়, তখন আমাদের মনে রাখা উচিত—ইরান কেবল আরবদের তৈরি করে দেওয়া এই ধ্বংসস্তূপ আর শূন্যতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের প্রভাব শক্ত করেছে।
যারা নিজেদের মুসলিম ভাইকে জ* বাই করার জন্য কসাইকে (আমেরিকা) ভাড়া করে নিয়ে এসেছিল, সেই আরব শাসক আর তাদের দরবারি আলেমরাই হলো এই মহাবিপর্যয়ের মূল কারিগর। সাদ্দাম ইরানের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিলেও ইরান কোনোদিন আরবদের মতো বেঈমানি করেনি। ইরাক ধ্বংস হয়েছে মূলত নিজেদের ঘরের শত্রুদের হাতেই, যারা ব্রিটিশ ও মার্কিন ডলারে নিজের ভাইকে বিক্রি করে দিতে দ্বিধা করেনি। এটিই সেই নির্মম সত্য যা আজকের তথাকথিত 'মাদখালি' বা রাজকীয় আলেমরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আড়াল করতে চায়।
পোস্টটি শেয়ার করে সবাইকে দেখার সুযোগ করে দিন।
#ফিদা_এ_আহলুল_বাইত