19/11/2025
প্রবাসী ভাই – একটি নীরব যোদ্ধার গল্প
রাতের শেষ প্রহর। গ্রামের ঘুম ভাঙে না, কিন্তু রহমানের ঘুম ভাঙে। ফোনের অ্যালার্ম বাজে ৩টা ৪৫ মিনিটে। দূর দেশে, মরুভূমির মাঝখানে অচেনা একটি ব্যাচেলর রুমে সে উঠে বসে। মাথার পাশে রাখা মেয়ের ছবিটা একটু ছুঁয়ে দেখে। নিজের মনেই বলে—
“বাবা, আর একটু কষ্ট করি… তোমার ভবিষ্যৎটা সুন্দর হোক।”
রমজান মাস চলছে। তবুও একফোঁটা পানি মুখে না দিয়ে ভোরে সে বেরিয়ে পড়ে কোম্পানির বাসের দিকে। তপ্ত রোদের দেশে রোদের তাপ যেন আগুনের মতো। কিন্তু মনটা তার আরও বেশি জ্বলছে—পরিবারের জন্য, স্বপ্নের জন্য, আর দায়িত্বের ভারে।
কাজের সাইটে দাঁড়ালেই শুরু হয় আরেক লড়াই।
কেউ ভাবে তারা শুধু টাকা কামাতে এসেছে।
কিন্তু কেউ দেখে না দিনের পর দিন কেমন কষ্টে কাটে তাদের জীবন।
ঘাম ঝরতে থাকে, হাতে ব্যথা ওঠে, কিন্তু কাজ থামে না।
মাঝে মাঝে সহকর্মীদের বলেন—
“দোস্ত, ঘরে গেলে মায়ের রান্না খাবো… সেই চিন্তাতেই আরেকটু শক্তি পাই।”
চাকরির ভেতর অনিশ্চয়তা, বেতন দেরিতে আসে, কখনও কখনও পরিবারকে টাকা পাঠাতে দেরি হয়ে যায়—তখন গ্রামের মানুষ ভাবে—
“এত টাকা কামায়, পাঠায় না কেন!”
কিন্তু কেউ জানে না এক রিয়াল বাঁচাতে তাকে কত রাত ক্ষুধা সহ্য করতে হয়।
প্রতিদিন রাতের বেলা মায়ের কণ্ঠ শোনে—
“বাবা, কবে আসবি?”
রহমান চুপ করে থাকে। না বলতে পারে, আসতে পারবে না। কারণ ঋণ, পরিবার, ভবিষ্যৎ—সবকিছুই তাকে বেঁধে রাখে।
মাঝে মাঝে মনে হয়—
**“জীবনটা কি এভাবেই শেষ হবে?