20/06/2026
এই সিঁড়িটা গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের। আর ইট মাথায় লোকটা নির্মাণ শ্রমিক। পাশেই লিফট, উঠছে নামছে। শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা আরামে উঠছেন-নামছেন। কেউ কেউ দোতলায় উঠতেও লিফট ধরেন।
আর এই নির্মাণ শ্রমিক ২০টি ইট মাথায় নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠছেন ছয় তলা পর্যন্ত! শুধু ইট নয়, প্রায় এক মণের বেশি, ৫০ কেজির সিমেন্টের বস্তাও একইভাবে বয়ে নিচ্ছেন শ্রমিকরা।
একুশে শতকের সভ্যতার অন্যতম বড় একটি বিষয় ছিল, মানুষের পরিশ্রম কমিয়ে আনা। শিক্ষিত, টেকনিক্যাল মানুষ মগজের ওপর চাপ কমিয়ে এআই এর সহযোগিতা নিচ্ছেন।
সেখানে ভারী ওজনের ইট, সিমেন্ট তোলার ক্রেন তো নেই-ই। ব্যবহার করার সুযোগ নেই লিফটও!
ভাবুন তো! লোকটা আপনার আমার পরিবারের কেউ! আপনজন, স্বজন! এই কষ্ট কী করে সহ্য করতেন? এই পরিশ্রম কি একটুও নাড়া দিত না?
এই নির্মাণ শ্রমিকের সঙ্গে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনে উঠতে উঠতে কথা হচ্ছিল। শরীর যেন চলে না! ইট রেখে নেমে রীতিমতো কেউ কেউ গা এলিয়ে দিচ্ছেন মাটিতে, শরীরকে একটু বিশ্রাম দিতে।
জিজ্ঞেস করলাম, এতগুলো ইট কই নেন! বললো ছয় তলা ওপরের ছাদে।
জিজ্ঞেস করলাম, লিফট কেনো ব্যবহার করেন না? বললো, কখনও কখনও নামার সময় লিফটে চড়তে পারেন। কিন্তু ওঠার সময় মোটেই লিফটে ওঠেন না।
কি কারণ? বললেন, ইটের ময়লা পড়ে যাতে লিফট নোংরা না হয়, সেজন্য লিফটে ওঠেন না।
তবুও বললাম, আপনার নিয়োগকারীকে বলেন, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে লিফটে সিমেন্টের বস্তা বা কিছু বিছিয়ে অন্তত ইট তোলা যায় কিনা!
এসব কথা বলার পরও দুপুরের পর যখন ফিরি, একইভাবে ইট ও সিমেন্টের বস্তা তোলা চালিয়ে যাচ্ছিলেন শ্রমিকরা।
বিশ্ববিদ্যালয় হলো জ্ঞান বিতরণের জায়গা। মানবিকতা শেখার জায়গা। সেখানে যদি একজন শ্রমিকের কষ্ট লাঘবের ভূমিকা না রাখা যায়, ভীষণ ব্যর্থ লাগে। একগুচ্ছ ব্যর্থতার এই যাপিত জীবন লজ্জার। সবার জন্য লজ্জার।
১৬.৬.২৬, মঙ্গলবার
ধামরাই, ঢাকা।
-কালেক্টেড