TimePass

TimePass Spread Love �

16/01/2024

কখনো অতীত নিয়ে ভাবতে নেই , সুন্দর কোন স্মৃতি তোমার জীবনের ঐশ্বর্যের মতন । আর খারাপ কোন স্মৃতি তোমার জীবনের শিক্ষকের মতন যাই লালন করো না কেনো তোমাকে সামনের দিন গুলোতে চলার মতন পাথেয় হয়ে থাকবে । আর ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবার কিছু নাই । ভবিষ্যৎ আমরা কেউই জানি না কি হবে । তাই বর্তমানকে মূল্যায়ন করে যে কর্ম আমরা করবো তা ভবিষ্যৎকে সুন্দর করার প্লার্টফম তৈরী হবে । আর ভবিষ্যৎ ও যে সুন্দর হতে হবে এমন কোন কথা নাই । কারন এ পৃথিবীতে কিছুই স্হায়ী না।

😹
16/01/2024

😹

🥀
16/01/2024

🥀

16/01/2024

#গল্পঃআঁড়ালে_কে #আঁড়ালে_কে_নাড়ে_কলকাঁঠি
#পর্বঃ২
শফিক
'
ফৌজিয়ার কথাটা আমি যেন ঠিক বুঝতে পারিনি।আমি তাকে আবার জিজ্ঞেস করলাম,' ফৌজিয়া কি বললে যেন তুমি?'

ফৌজিয়া আমার হাতটা ধরলো। তারপর বললো,' ভেতরে চলো।মাথা কুল রাখো।'

আমি ওর থেকে হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে বললাম,' ফৌজিয়া, আমার মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তুমি কি করে এই সর্বনাশটা করলে আমাদের?
'
কফিশপের ভেতরে ঢুকে চেয়ার টেনে বসতে বসতে ফৌজিয়া বললো,' অ্যাবরোশনের নেগেটিভিটি সম্পর্কে আমি তাকে বলেছি। তার কাছ থেকে কেস শুনতে চেষ্টা করেছি।বলেছি কেন এটা করতে চান তিনি।

তিনি বললেন, এখনই তিনি প্রিপেয়ার না মা হতে।আরো নানান ঝামেলা আছে ফ্যামিলিগত।সব বলতে পারবেন না তিনি।'

আমার রাগে শরীর কাঁপছে থরথর করে।আমি বললাম,' ফৌজিয়া, তুমি বাঁধা দিলে না কেন তাকে? কেন দিলে না বাঁধা?'

ফৌজিয়া এবার রাগ দেখালো। সে বললো,' যে গর্ভধারণ করেছে সে যদি তার গর্ভ নষ্ট করে ফেলতে চায় তবে আমি কি করবো তপু?

আমি একজন ডাক্তার। আর তোমার কাছে এই বিষয়ে কিছু বলাই আমার উচিৎ হয়নি! তোমার কাছে এটা বলাই আমার ভুল হয়েছে। এখন এটা নিয়ে কতো ঝামেলা হয় কে জানে! হয়তো এই ঝামেলায় এখন আমিও জড়িয়ে পড়বো! '

আমি একেবারে চুপ হয়ে গেলাম। ফৌজিয়া তো ভুল কিছু বলেনি।যার সন্তান সে যদি তার সন্তানকে পেটেই মেরে ফেলতে চায়, তার যদি কষ্ট না লাগে।দরদ না লাগে। তবে একজন ডাক্তারের আর কি বা করার আছে এখানে।এরপরেও ফৌজিয়া যে আমার সঙ্গে বিষয়টা শেয়ার করেছে এটাই তো অনেক বেশি!

আমি অনুতপ্ত হয়ে বললাম,' ফৌজিয়া, সরি!'
ফৌজিয়া হাসার চেষ্টা করলো।বললো, ইটস্ ওকে।'
এরপর সে বললো,' এসব বিষয়ে মাথা গরম করা যাবে না। তুমি জ্ঞানী ছেলে। তোমার সম্পর্কে আমি জানি।

এই জন্যই তোমার সঙ্গে বিষয়টা শেয়ার করেছি আমি। তোমার ভাবী যে অ্যাবরোশন করিয়েছেন। বাচ্চা নষ্ট করেছেন। এটাকে আমার স্বাভাবিক মনে হয়নি।

উনার কেমন যেন তাড়াহুড়ো ছিল! কেমন যেন অস্থির ছিলেন তিনি! তুমি ঠান্ডা মাথায় গোপনে এর কজটা বের করার চেষ্টা করবা।মাথা গরম করলে হিতে বিপরীত হবে পরে।'

আমার মাথা এবার সত্যি সত্যিই খারাপ হয়ে যাচ্ছে। কিছুই বুঝতে পারছি না আমি। আচ্ছা, ভাবী এমন কাজটা কেন করবে?

আরো একটা সন্দেহের বিষয় আছে এখানে। ভাবীর যে তিন মাসের গর্ভ হয়েছে, এই বিষয়ে বাসার কেউ কিছুই জানে না। ভাবী এই এতো দিন এই বিষয়টা গোপন রাখলো কেন? এটা কি গোপন রাখার মতো বিষয়?

মাকে বললো না, আমাকে বললো না। ভাইয়া কি জানে বিষয়টা? জানলে সে গোপন করে রাখলো কেন? আর তাদের মধ্যে ঝামেলাটা আসলে কি নিয়ে?

এই যে রাতের কান্না, চোখের উপরের দাগ এরপর আবার গোপনে অ্যাবরোশন করে বাচ্চা নষ্ট করে ফেলা, এইসব কিছু কেন হচ্ছে? এর মূল কারণটা কি? ভাইয়া এখানে কতোটা দায়ী?

নিশ্চয় এর ভেতর ভয়াবহ রকমের কোন গড়বড় আছে। কিন্তু এটা কি? কি এই ভয়াবহ রকমের রহস্য? আমি কিভাবে এটা খুঁজে পাবো?এর জট খুলবো কিভাবে?

আমি নিজের মাথার চুল ধরে টানতে টানতে বললাম,' ফৌজিয়া, আমি কিভাবে এসব খুঁজে বের করবো বলো? কিভাবে!'

ততোক্ষণে কফি এসেছে। ফৌজিয়া তার কাপে দু' চুমুক দিয়েছে। কিন্তু আমার মোটেও কফি খেতে ইচ্ছে করছে না।আমি কাপটা খানিক দূরে সরিয়ে রাখলাম।

ফৌজিয়া আমার দিকে তাকালো। তারপর সময় নিয়ে বললো,' ভাইয়া ভাবীর মধ্যে কোন রকম ঝগড়া ঝাটি বা ঝামেলা আছে কি? সাংসারিক কোন সমস্যা চোখে পড়েছে তোমার? বন্ডিং কেমন তাদের? স্ট্রং না উইক?

'
নিজের ঘরের কথা বাইরে যাবে। কিংবা বাইরের কারোর কাছে ঘরের কথা বলবো আমি।তা কখনোই ভাবতেও পারিনি আমি।

আমি কিছু বলছি না।চুপ করে আছি।
ফৌজিয়া আবার বললো,' তপু, আমায় কিছু বলতে হবে না।আমি তোমার ঘরের বিষয়ে নাক গলাতে চাই না। আমার কাছে ভাবীর অ্যাবরোশনের বিষয়টা এবং তার অতি গোপনীয়তা খুব দৃষ্টিকটু লেগেছিল।তাই তোমায় ফোন করে বিষয়টা বলা।'

আমি আরেকটু চমকালাম। বললাম,' গোপনীয়তা মানে? বুঝিয়ে বলো আমায় ফৌজিয়া?'
সে বললো,' ভাবীর নাম উম্মে নুসরাত অপি না?'

আমি বললাম,' হুম।'
'ভাইয়ার নাম অপু। মোহতাসিম বিল্লাহ অপু।তাই তো?'
আমি বললাম,' হু।'

ফৌজিয়া এবার বললো ,' ভাবী আমার কাছে তার নিজের নাম বলেছে শুধু অপি। কিন্তু স্বামীর নামের জায়গায় ভাইয়ার নাম বলেইনি।'

এবার আমি আরো বেশি চমকালাম।গা শিউরে উঠলো আমার।আমি বললাম,' কার নাম বলেছে?'

ফৌজিয়া বললো,' সে অন্য একটা নাম বলেছে। আমার না নামটা ঠিক মনে পড়ছে না। কিন্তু চেম্বারের একটা ডায়েরিতে লিখা আছে এটা।পরে দেখে বলবো তোমায়।'

আমি ফৌজিয়ার দিকে তাকালাম। আমার চোখ কেমন জ্বালা করছে। মাথা ঘুরছে। পেটে কেমন পাক দিচ্ছে খানিক পর পর।বমি টমি হবে নাকি?

ফৌজিয়া আমার হাতটা ধরলো খপ করে। তারপর বললো,' তপু তুমি ঠিক আছো?'

আমি বললাম,' এখানে দম আটকে আসছে আমার।এখান থেকে বেরুতে হবে। এক্ষুনি।'

ফৌজিয়া আমায় নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে কফিশপ থেকে বেরিয়ে এলো।আমরা এসে রাস্তার পাশে খোলা একটা জায়গায় ঘাসের উপর পা ছড়িয়ে বসলাম। এই জায়গাটা সুন্দর। নিরিবিলি। আমার একটু আরাম লাগছে এখানে।

ফৌজিয়া বললো,' ভেঙে পড়ো না তো তুমি। শক্ত থাকার চেষ্টা করো। এরচেয়ে বড় সমস্যাও কিন্তু তুমি মোকাবেলা করে এসেছো! তবে এটা নিয়ে এভাবে ঘাবড়ে যাচ্ছো কেন?'

আমি আওয়াজ করে কিছু বললাম না তাকে। চুপ করে রইলাম। ফৌজিয়া বললো,' উঠি তাহলে আজ। সাবধানে বাসায় যাও।আর অতো টেনশন করো না। সবকিছু সহজ হবে ইনশাআল্লাহ!'

আমি বললাম,' আচ্ছা।'

ফৌজিয়াকে একটা রিক্সা ধরিয়ে দিয়ে বিদায় দিলাম। তারপর আমি আরো লম্বা সময় ধরে ওখানে বসে রইলাম। এই প্রচন্ড শীতের মধ্যেও আমার শরীর ঘামছে। এখানে হাওয়া আছে। প্রচন্ড শীত আছে।

এখানে বসে থাকতে আমার খুব ভালো লাগছে।মনে হচ্ছে পৃথিবীর সাংসারিক যে ঝঞ্জাট, এটা থেকে বহু দূরে আছি আমি।আর এই দূরে থাকাতেই যেন জগতের সব প্রশান্তি।
'
বাসায় ফিরতে আমার অনেক দেরি হয়ে গেল।রাত এগারোটা।মা বললেন,' কোথায় ছিলি তুই?'
আমি বললাম,' একটা কাজ ছিল। বাইরে গিয়েছিলাম একটু।'

' তোর ফোন রিসিভ করিসনি কেন? '

পরে মনে হলো ফোন সাইলেন্ট করা ছিল।এটা আর ঠিক করা হয়নি।

মা বললো,' তোর ভাইয়া এখনও বাসায় ফিরেনি। সে তো সাধারণত এতো রাত করে না।আজ দেরি হচ্ছে কেন? কল দিলেও রিসিভ করে না।'

আমি বললাম,' ভাবীকে জিজ্ঞেস করেছো? ভাবী কিছু জানে না?'

মা বললেন,' তোর ভাবী ঘুমিয়ে গেছে। তার শরীর খারাপ ‌। তাকে আর ডেকে তুলিনি।'

আমি ভীষণ অবাক হচ্ছি।অপি ভাবী বিয়ে হয়ে আসার পর কোনদিন ভাইয়াকে রেখে একা ভাত খায়নি। ভাইয়া অফিস থেকে ফেরার আগে কখনোই ঘুমোতে যায়নি।

এমনকি অসুখ থাকলেও না। কিন্তু এখন এসব কি হচ্ছে? এতো পরিবর্তন কিভাবে সম্ভব? আর ভাইয়া? ভাইয়া কেন এতো লেট করছে আজ? আগে তো মিটিং থাকলেও ফোন করে বলতো মিটিং আছে।

একটু দেরি হবে আসতে।আটটা বা নটা বাজবে। কিন্তু এই এগারোটা তো কোনদিন বাজেনি তার!

আমি ফোন বের করে ভাইয়াকে কল করলাম। ভাইয়ার ফোনের সুইচ অফ করা।এর আরো পনেরো মিনিট পর আবার ফোন করলাম। মোবাইলের সুইচ অফ করেই রাখা।কল দিলে বন্ধ বলে। ঘটনা কি!

মা চিন্তায় অস্থির হয়ে পড়লেন। তিনি বললেন,' তুই যা। তোর ভাইয়ার অফিসে যা। এক্ষুনি যা।'

আমি যেতে প্রস্তুতি নিচ্ছি, ঠিক তখনই কলিং বেল বাজলো।আমি তাড়াহুড়ো করে গিয়ে দরজা খুলতেই দেখি ভাইয়া। ভাইয়া এসেছে।

আমি বললাম,' এতো গুলো ফোন করা হলো রিসিভ করলে না কেন তুমি? '

ভাইয়া বললো,' আর বলিস না। ফোন চুরি হয়ে গেছে। আমি থানায় গিয়েছিলাম।জিডি করে এসেছি।'

ততোক্ষণে মা এলেন এখানে। এসে বললেন,' ফোন চুরি হয়ে গেছে এটা তুই অন্য ফোন দিয়ে কল করে বাড়িতে বলবি না? আমরা চিন্তায় অস্থির হয়ে পড়েছি এদিকে!'
মা দেখি কেঁদে ফেলেছেন। তার চোখ ভেজা।গলা ভেজা।

ভাইয়া বললো,' মা, আমি এটা নিয়ে খুব দৌড়ঝাঁপের মধ্যে ছিলাম। আমার ফোন করা উচিৎ ছিল। করতে পারিনি। সরি মা!'

রাতে ভাইয়া খাওয়া দাওয়া করেনি।মা জোর করেও খাওয়াতে পারেনি তাকে। তার মন ভীষণ খারাপ।মন খারাপ হতেই পারে। মোবাইলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস থাকে।

তাছাড়া তার মোবাইলের দামও অনেক বেশি।শখ করে কিনেছিল। খুব বেশিদিন হয়নি কিনেছে।শখের কিছু চুরি হয়ে গেলে ভীষণ খারাপ লাগারই কথা।

ভাইয়া রুমে গিয়ে দরজা আটকে শুয়ে পড়লো।
'
এরপর পরপর তিনদিন অফিস কামাই করেছে ভাইয়া। অফিসে যায়নি সে। কিন্তু বাসায় থেকেও যেন তারা নাই। ভাইয়া - ভাবীর মধ্যে কোন কথা হয় না। দুজনকে পাশাপাশি একসাথে সময় কাটাতেও দেখা যায় না।এ যেন এক ছাদের নিচে ভিন্ন দুই মানুষ, দুই মন।

তবে ভাবী আগের মতোই ঘরের কাজ করে। রান্নাবান্না করে।ঘর ঝাঁট দেয়।ভাত বেড়ে দেয়।মা কিংবা আমি কিছু জিজ্ঞেস করলে উত্তর দেয়। কিন্তু নিজ থেকে কিছু বলে না।সব সময় কেমন গম্ভীর হয়ে থাকে।

নিজেকে যেন একটু আড়াল করে রাখতে পারলেই বাঁচে। তার চেহারাও কেমন রোগা রোগা হয়ে এসেছে এই কদিনে। শরীর অনেকটাই শুকিয়েছে। চোখের নিচে কালসিটে দাগ জমেছে।

সবচেয়ে অবাক হবার মতো ঘটনাটা ঘটলো এর আরো সপ্তাহ খানিক পরে। তখন বিকেল। মা ঘরে নাই। পাশের বাসায় বেড়াতে গিয়েছেন।আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। কিন্তু মশার কামড়ে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেছে।

তখনই টের পেলাম ভাবী কারোর সঙ্গে কথা বলছে। তার ঘর থেকেই বলছে।ঘরের দরজা ভেজানো।আমি চুপিচুপি তার ঘরের কাছে এসে দাঁড়ালাম।ভাবী টের পায়নি। সে তখনও কথা বলছে। ফোনে।

আমি এটুকু শুধু শুনতে পেলাম,' আপনার পায়ে পড়ি, দয়া করে ভিডিও গুলো সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েন না । আপনি যা চান তাই করবো আমি।যা দিতে বলেন এর বিনিময়ে তাই দিবো আমি। তবুও আমার অতো বড় ক্ষতিটা আপনি করবেন না প্লিজ! '
'
(আমার অনেক নিরব পাঠক আছেন। যারা নিরবেই গল্প পড়ে যান। তারা কমেন্ট না করলেও অন্ততঃ একটা রিয়েক্ট দিয়ে যাবেন। এতে লিখতে আগ্রহ পাই।আমি আশা করি আমার পাঠকেরা এই কষ্টটুকু আমার জন্য করবেন। ধন্যবাদ।)
'
#চলবে

রেসপন্স করবেন সবাই ফলো দিয়ে রাখুন ।।
পেইজঃ TimePass ✅

15/01/2024

সম্পর্কে সমস্যা যেমনি হোক সেটা জলদি কথা বলে আবার ঠিক করে নেওয়া উচিত। অনেক বড় সমস্যা ও কথা বলার মাধ্যমে সহজেই সমাধান হয়ে যায়,আবার অনেক ছোট সমস্যা কথা না বলার কারণেই অনেক বড় আকার ধারন করে।

15/01/2024

ইসলাম সম্পর্কে আমার পরিপূর্ণ জ্ঞান নেই। তবে একজন মুসলমান হিসাবে যতটুকু জ্ঞান আছে তাতে এতটুকু বুঝতে পারি ইসলাম কখনোই কালেকশনের নাম করে ছোট ছোট বাচ্চাদের দিয়ে রাস্তা-ঘাটে ভিক্ষা করানোকে সমর্থন করে না।

চলতি পথে প্রায় সময় একটা জিনিস আপনারা খেয়াল করবেন, ৭-৮ বছরের পাঞ্জাবি-পায়জামা পরিহিত মাথায় টুপি দেওয়া ছোট ছোট কিছু বাচ্চা চলমান রাস্তায় ছুটাছুটি করছে আর এর ওর কাছে গিয়ে বলছে, "মাদ্রাসা-মসজিদের কাজ চলছে। কিছু সাহায্য করুন"

যেখানে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের কাছেই এইসকল ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তাগুলো পারাপার হতে হিমশিম খেতে হয় সেখানে ফুলের মতো ছোট ছোট বাচ্চারা এইসকল রাস্তা পার হয় কালেকশনের নাম করে ভিক্ষাবৃত্তি করার জন্য।

কয়েকদিন আগে আমাদের অফিসের এক কলিগ আমার কাছে একটা ঘটনা শেয়ার করেছিলো। উনার ৯ বছরের এক ভাতিজাকে হাফেজ বানানোর জন্য উনার ভাই-ভাবী তাদের একমাত্র ছেলেকে ময়মনসিংহের কোন এক মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছিলো।
ভতিজা নতুন জায়গায় কি অবস্থায় আছে সেটা দেখার জন্য আমার কলিগ যখন কিশোরগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহ যায় তখন দেখে উনার ভাতিজা স্লিপ হাতে নিয়ে ব্রিজের মোড়ে দাড়িয়ে টাকা কালেকশন করছে। মানুষের কাছে স্লিপ বাড়িয়ে দিয়ে বলছে, " মাদরাসার উন্নয়ন মূলক কাছ চলছে। আপনারা সাহায্য করুন"

এটা দেখে আমার কলিগ তার ভাতিজাকে সাথে নিয়ে মাদ্রাসার প্রিন্সিপালকে গিয়ে বললো, " আপনাদের সময় মতো বেতন দেওয়া হয়। এক টাকাও বাকি রাখা হয় না। আমাদের অবস্থা এতটাও খারাপ না যে আপনি আমার ভাতিজাকে দিয়ে কালেকশনের নাম করে আধুনিক ভিক্ষা করাবেন। এই কাজটা আপনারা কেন করলেন?"

প্রিন্সিপাল তখন উত্তর দিয়েছিলো, "এমপি মন্ত্রীর ছেলে থাকলেও সপ্তাহে একদিন তাকে টাকা কালেকশনের কাজ করতে হবে কারণ মাদ্রাসায় নতুন বিল্ডিংয়ের কাজ চলছে এজন্য টাকা দরকার "

কলিগ তখন বলেছিলো, "টাকা দরকার হলে সেই টাকার ব্যবস্থা আপনারা করেন। এলাকার মেম্বার, চেয়ারম্যান, এমপির সাথে মাদ্রাসার কমিটির লোকজন গিয়ে কথা বলেন। এলাকায় নিশ্চয়ই অনেক বিত্তবান ব্যবসায়ী আছে। আপনারা মাদ্রাসা কমিটির লোকজন তাদের কাছে ডোনেশনের জন্য যান। কিন্তু এইসব না করে আপনারা ছোট ছোট বাচ্চাদের রাস্তাঘাটে নামিয়ে দিলেন। রাস্তা পারাপারের সময় যদি কোন দূর্ঘটনা হয় তখন এই দ্বায়ভার কে নিবে?"

কলিগের প্রশ্নের জবাবে প্রিন্সিপাল উত্তর দিয়েছিলো, "আরে কিছু হবে না। আল্লাহর বাণী শিখানোর জন্য নতুন ঘর নির্মাণ হচ্ছে। আল্লাহই তাদের হেফাজত করবে"

আমার কলিগ তখন কিছুটা রেগেই বলেছিলেন, "অবশ্যই আল্লাহ তার বান্দাদের হেফাজত করবেন কিন্তু তাই বলে আল্লাহ তো কখনো এটা বলে নি, "আমার ঘর নির্মাণের নাম করে বাচ্চাদের দিয়ে রাস্তাঘাট থেকে টাকা কালেকশনের নাম করে ভিক্ষা করাও"

প্রিন্সিপালের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আমার কলিগ তার ভাতিজাকে নিয়ে বাড়ি চলে আসে। পরবর্তীতে ভালো করে খোজ-খবর নিয়ে অন্য একটা মাদ্রাসায় ভাতিজাকে ভর্তি করায়....

তেমনি গতকাল আমি যখন ময়মনসিংহ থেকে নেত্রকোনা যায় তখন শম্ভুগঞ্জ মোড়ে খেয়াল করি একটা মাদ্রাসার ছোট বাচ্চা এক্সিডেন্ট করেছে। বাচ্চাটার হাত পা ছুলে গেছে।ওর ডান হাতে ছিলো কিছু খুচরো টাকা, আর বাম হাতে ছিলো একটা স্লিপ। এই শীতে বাচ্চা ছেলেটা থরথর করে কাপছিলো।

স্লিপ্টা হাতে নিয়ে দেখি একটা এতিমখানার নাম। বাচ্চাটাকে সাথে নিয়ে সেই এতিমখানায় গেলাম। এতিমখানায় গিয়ে যখন প্রশ্ন করলাম,
- এতিমখানার কোন উন্নয়ন মূলক কাজটা করছেন যার জন্য আপনারা বাচ্চাদের দিয়ে শম্ভুগঞ্জ চৌরাস্তার মতো এমন ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় টাকা তুলাচ্ছেন?"

এতিমখানার একজন লোক উত্তর দিলো,
-"এতিম পোলাপানদের জন্য নতুন বাথরুম বানানোর কাজ চলছে তাই সাহায্য প্রয়োজন। এজন্য পোলাপান কিছু টাকা তুলছে"

আমি যখন বললাম কোন বাথরুমটা তৈরি হচ্ছে সেটা আমি দেখবো তখন এতিমখানার লোকটা কিছুটা ঘাবড়ে গিয়ে বললো,
-"নির্মাণ কাজ এখনো শুরু হয় নি। টাকা কালেকশন হলেই কাজ শুরু করবো"

আমি বললাম,
-আপনাদের এতিমখানার ফান্ডে কি একটা বাথরুম নির্মাণ করার মতোও টাকা নাই?

আমার কথা শুনে লোকটা চুপ হয়ে রইলো। আমি তখন লোকটাকে বললাম,
-আপনার ছেলে মেয়ে নাই?
লোকটা বললো,
" আল্লাহ মাল আমার দুই ছেলে"
আমি বললাম,
- আপনার ছেলেরা কি টাকা কালেকশন করতে যায় না?
লোকটা কিছুটা অবাক হয়ে উত্তর দিলো,
-"আমার ছেলেরা এতিম নাকি যে তারা কালেকশন করতে যাবে? আমি তো এখনো জীবিত আছি"

কথাটা শুনে মেজাজটা খারাপ হয়ে গিয়েছিলো। নিজের রাগটা কোনরকম কন্ট্রোল করে উনাকে বললাম,
- নিজের সন্তানকে ভিক্ষা করতে পাঠাবেন না। অথচ এতিম বাচ্চাদের ভিক্ষা করতে এইসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পাঠাবেন। এইসব এতিম বাচ্চাদের দিয়ে ব্যবসা করতে একটুও খারাপ লাগে না? একটা এতিম খানায় অনেককেই সাহায্য সহযোগিতা করে। এইসব টাকা গুলো যায় কোথায়? আপনাদের কাছে টাকা না থাকলে এইখানে অনেক সংঘটন আছে তাদের সাথে যোগাযোগ করুন। অনেক দোকান আছে তাদের মালিকের সাথে একটু যোগাযোগ করুন। এতিমদের প্রতি সকল মানুষের ভিতরে সহানুভূতি কাজ করে। তারা নিশ্চয়ই সাহায্য করবে।

লোকটা বলবো,
- "আপনি কে, যে আপনার কাছে কৈফিয়ত দিতে হবে? ঝামেলা না করে যান তো"

কিছু বলার ছিলো না আর, তাই বাচ্চা ছেলেটাকে সাথে নিয়ে ফার্মেসিতে গিয়ে কিছু ঔষধ কিনে দিয়ে চলে আসলাম সেদিন..

আমাদের সমাজে অনেক মাদ্রাসা, এতিমখানা আছে যেখানে ছোট ছোট বাচ্চাদের দিয়ে এমন কাজ করানো হয়। কিছু চক্র তো এটাকে ব্যবসায় রূপান্তর করে ফেলেছে। আমাদের অনেকেরি ধর্ম সম্পর্কে পুরোপুরি জ্ঞান না থাকার কারণে এটা নিয়ে প্রতিবাদও করতে পারি না। আমাদের এই দূর্বলতার সুযোগটাই কাজে লাগিয়ে কিছু ইসলামের লেবাসধারী মানুষ ছোট ছোট বাচ্চাদের দিয়ে সাহায্যের নাম করে ভিক্ষা করাচ্ছে।

ভিক্ষাবৃত্তি
আবুল_বাশার_পিয়াস

15/01/2024

একদিন বিকেলে তরকারি কুটার সময় মা হঠাৎ করেই ভাবীকে বললেন,' তোমার চোখের উপর এই দাগটা কিসের বউমা? কিভাবে এই দাগ হয়েছে?'
ভাবী আমতা আমতা করে বললো,' কই দাগ মা?'
এরপর হাত দিয়ে কপালের নিচ দিকে চোখের উপর দাগটায় হাত রেখে বললো,' অহ্ এটা কিছু না।'
মা তখন কথা বাড়ালেন না। শুধু এটুকু বললেন,' সবকথা লুকিয়ে রাখতে নেই বউমা।এতে সমস্যা বাড়ে।কমে না!'
ভাবী হাসার চেষ্টা করে বললো,' আমি পড়ে গিয়েছিলাম মা। এছাড়া কিছুই না।'
মা অবাক হলেন। বললেন,' কোথায় পড়ে গিয়েছিলে? কিভাবে?'
ভাবি তাড়াহুড়ো করে বললেন,' বাথরুমে।'
মা আর কিছুই বললেন না।চুপ হয়ে গেলেন।ভাবীও চুপচাপ কাজ করলো।
'
এর আরো সপ্তাহ দুয়েক পরের ঘটনা।
রাত তখন দুটা বাজে। বাসায় চিকন রিনরিনে গলার একটা কান্না শুনে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল। বিছানায় বসে ভালো ভাবে খেয়াল করলেই বুঝতে পারলাম কান্না আসছে ভাবীর ঘর থেকে।ভাবী কাঁদছে। কিন্তু সেই কান্নার গলা যেন বড় না হয়, বাইরের কেউ যেন না শুনে এই চেষ্টাও করছে ভাবী।এরিমধ্যে ভাইয়ার গলাও শোনা গেল। কিন্তু কি বলছে তা স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে না।
আমি বিছানা থেকে নেমে দরজা খুলে ভাইয়ার ঘরের পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। লম্বা সময় দাঁড়িয়ে রইলাম গিয়ে। তখন আর ভাবীর কান্নার গলা কিংবা ভাইয়ার গলা কিছুই আর শোনা গেল না।বড় অবাক হলাম আমি! আচ্ছা তারা কি বুঝে ফেলেছে এখানে এসে আমি দাঁড়িয়েছি যে?
আমি কিছুই বুঝতে পারি না। কিন্তু খুব মন খারাপ হয় আমার। আমাদের হাসিখুশি আর ভীষণ রকম চঞ্চল অপি ভাবী কদিন ধরেই কেমন যেন নিভে গিয়েছে দপ করে। সব সময় চুপচাপ থাকে।কাজ না থাকলে সারাক্ষণ নিজের ঘরেই বসে থাকে। দরজা ভেজিয়ে রাখে।অথচ বিয়ের এই তিন বছরের কোনদিন তাকে এভাবে দরজা ভেজিয়ে নিজের মতো চুপচাপ, মনমরা হয়ে থাকতে দেখা যায়নি। তার সঙ্গে কথা বলতে গেলেও আনন্দ পাওয়া যায় না।'হ্যা বা না' এই দু' কথার মধ্যেই ইদানিং সে কথা শেষ করে দেয়।
এছাড়া ওইদিন ভাবীর চোখের উপরে যে একটা দাগ, এই দাগ আমি দেখেছি। এই দাগটা শক্ত কিছুতে আঘাত পাওয়ার। বাথরুমে পড়ে গিয়ে চোখের উপর এভাবে দাগ হবে না নিশ্চয়! আমার কেন জানি মনে হচ্ছে এটা দরজার চৌকাঠে অথবা টেবিলের কোনায় পড়ে গিয়ে এমন হয়েছে।
'
এই বিষয়ে পরদিন মার সঙ্গে কথা বলতে চাইলাম আমি। কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হলো মা আমার সঙ্গে এসব নিয়ে কথা বলতে আগ্রহ দেখালেন না।আমি বিরক্ত হয়ে মাকে বললাম,' মা, আমি কান্না শুনে আর ভাইয়ার গলা শুনে ওদের ঘরের কাছে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। কিন্তু ---'
আমি কথা শেষ করতে পারলাম না।এর আগেই মা আমার দিকে চোখ গরম করে তাকালেন। তারপর বললেন,' অন্যের গোপন বিষয় শুনতে তার ঘরের কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা নোংরামি এবং অসভ্যতা।আমি তোমার কাছ থেকে এমন কিছু আশা করিনি তপু!'
আমি আরো কিছু বলতে চাইলে মা বললেন,' এখন আমার সামনে থেকে যাও বলছি।আমায় বিরক্ত করবা না দয়া করে।'
রাগ আর অভিমান নিয়ে মায়ের কাছ থেকে চলে এলাম। এরপর ভাবলাম ভাইয়াকে একটু খেয়াল করবো। কোথায় যায় আর কি করে দেখবো।
কিন্তু খানিক পরেই নিজেই নিজের বোকামির কথা মনে করে হাসলাম। ভাইয়াকে কোথায় গিয়ে আমি ফলো করবো? ভাইয়ার সকাল আটটা - বিকেল ছটা পর্যন্ত অফিস। মাঝেমধ্যে মিটিং থাকে। বাসায় ফিরতে আরো দেরী হয়। ভীষণ ব্যস্ত মানুষ সে।
কিন্তু ভাইয়া -ভাবীর সুখের সংসারে হঠাৎ করে এমন কি হলো যার কারণে সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেল? আমি কিছুই আর খুঁজে বের করতে পারি না!
'
এসব সাত- পাঁচ চিন্তায় যখন মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছিলো আমার ঠিক তখনই একটা ফোন এসে আমার মাথা আরো ভীষণ এলোমেলো করে দিলো।আমি দু' চোখে তখন কেবল অন্ধকার দেখছিলাম।ফোনটা করলো হসপিটাল থেকে। আমার বান্ধবী ফৌজিয়া ফোন করেছে। ফৌজিয়া সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করেছে। এখন ময়মনসিংহের গ্রীণ লাইফে চেম্বার করেছে। এখানেই রোগী দেখতে বসে। সে ফোন করে বললো,' পেশেন্টের প্রাইভেসি গোপন রাখা একজন ডাক্তারের ধর্ম, কিন্তু আমি একটা অপরাধ করে ফেলবো এখন।এটা না করেও পারছি না তপু। কিন্তু তোমাকে কথা দিতে হবে এটা কোনদিন প্রকাশ করবে না তুমি। কথা দিতে পারবে? '
আমি বললাম,' আচ্ছা প্রকাশ করবো না। এখন বলো।'
ফৌজিয়া বললো,' ফোনে কিছু বলবো না। তুমি শুধু আপাতত এইটুকুই জেনে রাখো, বিষয়টা তোমার ভাবীকে নিয়ে। এখন আর কিছুই বলবো না এই বিষয়ে। তুমি সন্ধ্যার পর আমার চেম্বারে আসো। আমি আটটার দিকে তোমার সঙ্গে বেরুবো।কফি খাবো।'
আমি বললাম,' আচ্ছা।'
ফোন রেখে দিলে আমি খানিকটা অবাক হলাম। ভাবীর সঙ্গে তো ফৌজিয়ার কোনদিন দেখাও হয়নি তাহলে ফৌজিয়া চিনলো কি করে ভাবীকে!
এরপর মনে হলো ফৌজিয়া অনেক অনেক বার ভাবীকে দেখেছে। ছবিতে।তাই ভাবীকে সে চিনতে পেরেছে। কিন্তু ভাবীর সম্পর্কে সে কি জানে? ভাবীর কি বড় ধরনের কোন অসুখ হয়েছে নাকি? কিছুই ভাবতে পারছি না আমি আর!

সন্ধ্যা হবার সঙ্গে সঙ্গেই আমি বেরিয়ে গেলাম। আমার আর কিছুই ভালো লাগছে না। তাড়াহুড়ো করে সব শুনে ফেলতে আমার ইচ্ছে করছে ।
'
ফৌজিয়া আটটায় বের হতে পারলো না চেম্বার থেকে। শুক্রবার থাকায় রোগীর ঝামেলা বেশি। তাকে বের হতে হলো নটা বিশ মিনিটে। অবশ্য সে ফোন করে আমায় বলেছে, ' তপু, আরেকটু অপেক্ষা করো প্লিজ! রোগী বেশি। এদের রেখে চলে যাওয়াটা অমানবিক হবে। অনেক দূর দূরান্ত থেকে এইসব রোগীরা আসে!'
ফৌজিয়ার প্রতি কেমন জানি রাগ হচ্ছে আমার। ওর সঙ্গে স্কুল- কলেজে পড়াশোনা করেছি আমি। পরীক্ষায় আমি ফার্স্ট হতাম সব সময়। ফৌজিয়া সেকেন্ড হতো। আমাকে টপকে যেতে সে সবরকম চেষ্টায় করেছে। কিন্তু স্কুল কলেজের কোথাও আর আমায় উতড়াতে পারেনি। কিন্তু ইন্টারমিডিয়েট সেকেন্ড ইয়ারে পড়ার সময় হুট করেই আমার জীবন এলোমেলো হয়ে পড়ে। আমার কাছের এক বন্ধু খু*ন হয় এক রাতে। সেই খু*নের মামলায় আমায় ফাঁসানো হয়।এর জন্য দীর্ঘদিন আমি পলাতক ছিলাম। অবশ্য যখন সবকিছু ঠিক হলো। মূল আসামী ধরা পড়লো।আসামীদের সাজা হলো। আমার উপর থেকে মামলা সরানো হলো। ততোদিনে আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়টা পেরিয়ে গেছে। মেডিক্যালে পড়ার যে তীব্র ইচ্ছে কিংবা স্বপ্নটা আমার ছিল তা ধূলিসাৎ হয়ে গেছে ততোদিনে। কিন্তু ফৌজিয়া।কি সুন্দর ভাগ্য তার! আচ্ছা আমিও তো ওর মতোই এমন ডাক্তার হতে পারতাম হয়তো। আমার এখানেও রোগীদের উপচে পড়া ভীড় থাকতো এভাবে।আর আমার বন্ধুরা এলে আমিও তাদের বলতে পারতাম, আরেকটু অপেক্ষা করো বন্ধু, আজকে রোগীর ভীষণ চাপ!
ঘড়িটা দেখলাম আমি।নয়টা বেজে গেছে।গাল দুটো কেমন ভিজে গেছে জলে।আমি কি তাহলে কাঁদছি? কাঁদছিই তো। আচ্ছা জীবন এমন কেন? আমি তো কারোর কোন ক্ষতি করিনি।জেনেও না।না জেনেও না। তবুও আমার ভাগ্য এমন কেন হলো? সবচেয়ে সুন্দর ইচ্ছে টা কেন আমার পূরণ হলো না!
'
ফৌজিয়া এলো নয়টা বিশ মিনিট বাজতেই। কাঁধে কারোর হাতের স্পর্শে আমি চমকে উঠলাম। পেছন ফিরে তাকাতেই দেখি ফৌজিয়া।
ভাগ্যিস খানিক আগেই রুমাল দিয়ে দু চোখ মুছেছি। নয়তো সর্বনাশ হতো। ফৌজিয়া যদি দেখতো আমার চোখ ভর্তি জল।গাল দুটো ভেজা। চুপসানো। তখন কি হতো! কান্নার কারণ জানতে চাইলে কি বলতাম তাকে আমি?
ফৌজিয়া লজ্জিত হবার ভঙ্গিতে বললো,' সরি তপু! লেট হয়ে গেছে। এখন চলো যাই।'
আমরা হসপিটালের বাইরে গিয়ে রিক্সায় উঠে বসলাম।
ফৌজিয়া বললো,' ইদানিং লিখা লিখি কম করছো নাকি? ফেসবুকে পোস্ট করতে দেখি না যে!'
আমি বললাম,' লিখতে আর ইচ্ছে করে না। '
ফৌজিয়া বললো,' লিখতে হবে।এটা ছাড়া যাবে না। তুমি পয়সার জন্য লিখো না আমি জানি। তুমি যে টপিক নিয়ে লিখো এটা নিয়ে কজন পুরুষ লেখক লিখে? নারীদের তো আজকাল সবাই পুতুল ভাবতে পারলেই বাঁচে। তাদের নামে সব দোষ চাপিয়ে দিতে পারলেই যেন তারা স্বর্গে যেতে পারে।এতো সবের মধ্যে তুমি যে তাদের কথা লিখছো। তাদের অধিকার নিয়ে কথা বলছো।এটা তো ছোট কিছু না তপু! '
আমি এই বিষয়ে আর কথা বাড়ালাম না।আমি টপিক চেঞ্জ করে বললাম,' ভাবীর কি হয়েছে তা বলো।কি জানো তার সম্পর্কে তুমি?'
রিক্সা থেকে তখন নেমেছি আমরা কেবল। রিক্সার ভাড়া চুকিয়ে আমরা যেই না কফিশপের দিকে পা ফেলবো ঠিক তখনই ফৌজিয়া কথাটা বললো। সে বললো,' ভাবী গত সপ্তাহে আমার কাছে এসে অ্যাবরোশন করিয়ে গিয়েছেন। তার তিন মাসের প্রেগন্যান্সি ছিল।'
'
#চলবে
'
'
'
#আঁড়ালে_কে_নাড়ে_কলকাঁঠি
্ব
#অনন্য_শফিক
'
২য়নতুন পর্ব পোস্ট করার পর সবার আগে টাইমলাইনে পেতে TimePass পেজটিতে ফলো দিয়ে রাখুন

🥶
15/01/2024

🥶

শীত সবার জীবনে রোমান্টিক হয় না, অনেকের জীবনে কষ্ট ও বয়ে আনে! 😊💔
15/01/2024

শীত সবার জীবনে রোমান্টিক হয় না, অনেকের জীবনে কষ্ট ও বয়ে আনে! 😊💔

28/12/2023
17/12/2023

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when TimePass posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category