22/05/2023
একটা ব্যাপার লক্ষ্য করলাম ক্যাম্পাসে। প্রত্যাশীর বর্ষবরণ এর আয়োজনের মাধ্যমে।
এই যে এত তীব্র গরম, এত বাধা, এত নিয়ম; এর মধ্য দিয়েও এক দল ছেলে মেয়ে কেউ কেউ হয়ত আলপনা আঁকায় ব্যস্ত, কেউ নিজেদের দোকানের পসরা সাজিয়ে বসেছে, কেউ বা নাচ আর গানের আয়োজনে মশগুল।
ক্যাম্পাসের প্রশাসনের কর্মকর্তারা বেশ অবাক হয়েই বলছেন, " তোমাদের কষ্ট হচ্ছেনা এগুলো করতে? " প্রফুল্ল কন্ঠে উত্তর আসছে, "না স্যার, আমরা বেশ আনন্দ পাচ্ছি।"
এই যে একটা ছোট্ট কথোপকথন, এখানে বেশ গভীর একটা তাৎপর্য লক্ষণীয়। প্রায়শই শুনি, " এসব নাচ, গান, আকাআকি, কো-কারিকুলার কাজ দিয়ে কি ভাত জুটবে? এগুলোর কি ভবিষ্যত আছে? "
প্রশ্নটা খুবই যৌক্তিক। কিন্তু একই সাথে খুবই রুক্ষ। এই প্রশ্নে যে দিকটা পুরোপুরি উপেক্ষিত তা হলো, আমরা মানুষ। যাদের মনের ও খাবার দরকার, বিশ্রাম দরকার, শক্তি দরকার।
নাচ, গান, আকাআকি, কো-কারিকুলার কাজ দিয়ে গুটিকয়েক লোকের ভাত জোটে, অধিকাংশেরই জোটে না। কথাটা সত্য। অপরদিকে এটার আরেকটি প্রয়োজন আছে, সেটাও সত্য। সেটা কি?
" আমরা বেশ আনন্দ পাচ্ছি "। হ্যা। এই বেঁচে থাকার জন্য যে আনন্দ দরকার, যে শক্তি দরকার, সেগুলোর উৎস এই ধরণের কার্যক্রম। কেউ ধর্মীয় আচার পালনের মাধ্যমে, কেউবা নাচ, গান, আকাআকি, কবিতা আবৃতি, স্বেচ্ছাসেবা, সাংগঠনিক কাজের মাধ্যমে তার মনটাকে বাচিয়ে রাখে।
একটা মানুষ বাঁচেই বা কয়দিন। ভাতের জোগান তার করতে হবেই। কিন্তু যদি একটা মানুষ থেকে তার মনের আনন্দটা, প্রশান্তিটা উপভোগের বা বিচরণের জায়গাটা কমিয়ে আনা হয় বা কেড়ে নেয়া হয়, তাহলে সেই মানুষটা হয়ত বেঁচেই থাকতে চাইবে না। আর যে বেঁচে থাকতে চায় না, তাকে আপনি কোন জোরে ভাত জোগানের যুক্তি বোঝাবেন?
সকল কাজের উদ্দেশ্য "ভাত জোগানো" হওয়া যে আবশ্যক নয়, এতটুকু বুঝলেই কিন্তু অনেক গুলো মানুষ বেঁচে থাকার শক্তি পায়।