18/04/2026
কিছুদিন আগে বাজার থেকে ফেরার পথে লোকাল বাসে উঠেছিলাম। ভীড় একটু কম থাকায় ভাবলাম বাসে করেই যাই। ইউনিভার্সিটির কয়েকটি ছেলেও সেই বাসে আগে থেকেই ছিল। আমার হাতে শপিং ব্যাগ। একটা ছেলে নিজের সীট টা ছেড়ে নিঃশব্দে উঠে দাড়ালো। ছেলেটা দেখতে অনেকে টা সিনেমার নায়কের মতো। আমি নিজের বয়স ভুলে বার বার তাকেই দেখছিলাম। আমার অবচেতন মন বার বার তার দিকেই চলে যাচ্ছিলো৷ তার ভদ্রতা আর মেনলি লুক আমাকে আকর্ষণ করছিল খুব৷ ব্যাপার টা সাময়িক মোহ বলা যেতে পারে৷ আমিও ভেবেছিলাম তাই। কিন্তু ব্যাপার টা বিব্রতকর হয়ে গেল তখন, যখন দেখলাম ছেলেটা আমাদের বাসায় ই যাচ্ছে। কয়েকদিন আগেই এই বাসায় আমারা ভাড়া এসেছি। লিফটে দ্বিতীয় বার ছেলেটার সাথে দেখা হয়ে আমি একটু হকচকিয়ে গিয়েছিলাম। বিব্রত ও হয়েছিলাম বলা চলে। বাসে হ্যাংলাপনা করে তাকিয়ে থেকে অবশ্য নিজেই বিব্রত হয়েছি। ভেবেছিলাম, কয়েক মুহুর্তের ই তো ব্যাপার। এরপর তো আর কখনো আমাদের দেখা হবে না। কিন্তু এই ছেলে যে আমাদের একই বিল্ডিংয়ে থাকে, তা কি আমি জানতাম? ছেলেটা অবশ্য তেমন আগ্রহ দেখায় নি। ছেলেটা ছেলেটা বলছি, কারণ ছেলেটা আমার বছর তিনেকের ছোট। এই ইনফরমেশন টা ও পেয়েছি ছেলেটার ছোট বোনের কাছ থেকে। যদিও ব্যাপার টা আমি বাসেই আন্দাজ করেছিলা।
এখন সমস্যা হচ্ছে, সেদিনের পর আমি আর স্বাভাবিক হতে পারছি না। ওর সামনে পড়লেই লজ্জায় আমার মাথা কাটা যায়। মুখোমুখি ফ্ল্যাট আমাদের। ওই ছেলেটা, মানে ফারিশ ইহতিশাম বাড়িওয়ালা আংকেলের মেজো ছেলে। ফারিশ খুব অল্পভাষী মানুষ। তেমন একটা কথা বলে না। ভালো করে তাকায় ও নি কোনদিন৷ আমার মনে আছে, শুধু দুইবার ও আমার দিকে তাকিয়েছে। বিশ্বাস করুন, আমার মনে হয় ওই দৃষ্টি আমার রূহ পর্যন্ত পড়ে ফেলেছে। গা শিউরে ওঠা চাহনি ওর। কারোর সামান্য দৃষ্টি যে অন্তরাত্মা কাপিয়ে ফেলতে পারে, তা ফারিশ কে না দেখলে আমি বুঝতে পারতাম না। আমি এরপর আর ওদের ফ্ল্যাটে যাই নি। আগামী শুক্রবার ওর বড় ভাইয়ের বিয়ে। আন্টি এসে খুব করে বলে গিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহ আমাদের তাদের বাসায় খাওয়াদাওয়া করতে। আসলে আমি একটা ছোট খাটো ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট চালাই। তাই আন্টি বিশ্বাস করে ছেলের বিয়ের প্রোগ্রামের দায়িত্ব টা আমাদের কেই দিয়েছে। এখন আমি ও বাড়ি যেতে চাইছি না, আবার কাজটাও খুব জরুরি। মোটামুটি একটা হ্যান্ডসাম এমাউন্টও পাওয়া যাবে। এখন আমি কি করবো আপনারাই বলুন?
এমন একটা পোস্ট গত কয়েকদিন যাবৎ সোশাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। রুশা যখনই অনলাইনে ঢুকে, এই এক পোস্ট নাকের ডগায় ঘুরতে থাকে। ভাগ্যিস, নাম গোপন করে পোস্ট করেছিল সে! নয়তো আর মুখ দেখাতে হতো না। তবে লাভ ও কিছুটা হয়েছে বলা চলে। কয়েকজনের দেয়া আইডিয়া তার মনে ধরেছে। এবং সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফারিশের দিকে একবার ও তাকাবে না। কাজটা প্রফেশনালি হ্যান্ডেল করবে। ফারিশ তার ছোট ভাইয়ের মতো। সেভাবেই ট্রিট করবে তাকে।
"ছোট ভাই" শব্দটা নিজের কানেই বিশ্রী ভাবে বাজে তার। ছিঃ! এই ছেলে কিছুতেই তার ছোট ভাইয়ের মতো না।
রুশা বারান্দায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কফির কাপে চুমুক দিয়ে ভাবলো, সে ই হয়তো বেশি ভাবছে। ফারিশ তো অমন ছেলে ই নয়। সবার সঙ্গেই খুব হাম্বল। সে হয়তো ভুল বুঝেছে। রুশা নিজে মনে সান্তনা দেয়। মনটা শান্ত ও হয় খানিক। কফির কাপে ফুরফুরে মনে চুমুক দিয়ে তাকায় পাশের বারান্দায়৷ গ্রে কালারের টিশার্ট গায়ে ট্রাউজারের পকেটে হাত ঢুকিয়ে ফারিশ দাঁড়িয়ে। দৃষ্টি তার দিকেই স্থির। রুশা থতমত খেল। তার গায়ে বেবি পিংক লং স্কার্ট আর সাদা কুর্তি। গলায় একটা চিকন ওড়না পেচানো। রুশা সোজা হয়ে দাঁড়ায়৷ ছেলেটা এমন করে তাকিয়ে আছে কেন! মুখের ওপর আসা চুল গুলো সরিয়ে হাসার চেষ্টা করে সে। সৌজন্যতার হাসি৷ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে নিজ থেকেই জিজ্ঞেস করে,
“কেমন আছো?”
ফারিশ সহসা জবাব দেয় না। তার দৃষ্টি তীক্ষ্ণ থেকে তীক্ষ্ণতর হচ্ছে। রুশা অসহায় বোধ করলো। চলে যেতে চাইছে সে। কিন্তু ব্যাপার টা অভদ্রতা দেখায়, তাই সে যেতেও পারছে না। ফারিশ এতক্ষণ দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। এবার সে সোজা হয়ে দাড়ালো। গলার স্বর গম্ভীর করে বলল,
“ভেতরে যান, রাইট নাও।”
রুশা স্তব্ধ হয়ে গেল! ছেলেটা তাকে এভাবে আদেশ করলো! তাকে? তার বিশ্বাস হতে চায় না। অবিশ্বাস্য চোখে তাকিয়ে রয় ফারিশের দিকে। ফারিশ চোখ বন্ধ করে ফোস করে শ্বাস ফেললো। আরেকটু এগিয়ে এলো রুশার দিকে। বারান্দার রেলিঙে হাত রেখে হালকা ঝুঁকে শীতল গলায় বলল,
“কুর্তির ভিতরে কালো কিছু একটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। ভেরি ব্যাড চয়েজ!”
রুশা একলাফে নিজের রুমে চলে গেল। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে স্তব্ধ হয়ে গেল সে। বদমায়েশ টা এতক্ষণ দাঁড়িয়ে এসব দেখছিল! রুশার ইচ্ছে হলো একলাফে ওই বারান্দায় গিয়ে এক চড়ে সবগুলো দাত ফেলে দিতে শয়তানটার। এই ছেলে সবার সামনে ভদ্রলোক সেজে ঘুরে বেড়ায়! নিজের মুগ্ধতায় থু ফেলতে ইচ্ছে হলো তার। ছিঃ ছি ছি! সে এবার মুখ দেখাবে কি করে!
#বাগানবিলাস_১
#সানজিদা_বিনতে_সফি
***এমনিই লিখছি। ভাল্লাগলে পড়েন, নইলে বরাবরের মতো ইগনোর করেন। মন চাইলে বিরিয়ানিও খাইতি পারেন। হা করেন,,,