30/04/2026
রূপপুর- জননেত্রী শেখ হাসিনার দুরদর্শিতার এক আলোকছটা
যখন বিরোধিতার ঝড় উঠেছিল, তখন শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন — আজ তার ন্যায্যতা প্রমাণ করছে ইতিহাস
২০২৬ সালের ২৮ এপ্রিল। পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত এলো নিঃশব্দে, কিন্তু সুগভীর তাৎপর্য নিয়ে। দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম চুল্লিতে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং শুরু হলো। বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভিযাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে সূচিত হলো।
এই মাইলফলকে পৌঁছানো কেবল একটি প্রকৌশলগত সাফল্য নয় — এটি একটি রাজনৈতিক সাহসিকতার ফসল। কারণ এই প্রকল্পের পথচলা মোটেও সুগম ছিল না। শুরু থেকেই বিএনপি ও তার মিত্রদের বিরোধিতার ঝড় উঠেছিল চারদিক থেকে।
বিরোধিতার সেই দিনগুলো
বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতা মোশাররফ হোসেন একদিন জোর গলায় বলেছিলেন, "রামপাল-রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্প দেশের স্বার্থবিরোধী।" আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান বলেছিলেন, ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন "অপরিণামদর্শিতার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ।"
অথচ সেই একই দলের অবৈধ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন এখন স্বীকার করছেন — রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ২ কোটি মানুষের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রাজনীতির ভাষা যখন বাস্তবতার সামনে পিছু হটে, তখন সত্যটা আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
শেখ হাসিনার একটি স্বপ্নের শুরু
২০১০ সালে জাতীয় সংসদে প্রস্তাব পাস। ২০১১ সালে রাশিয়ার সাথে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর। রোসাটোম স্টেট অ্যাটমিক এনার্জি কর্পোরেশনের কারিগরি সহায়তায় পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মার তীরে শুরু হয় ১ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পের নির্মাণ — দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক প্রকল্প।
দুটি ইউনিট, প্রতিটি ১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন। মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২,৪০০ মেগাওয়াট — যা বাংলাদেশের বর্তমান বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের ধাক্কা পেরিয়ে আজ প্রকল্পটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে।
"জ্বালানি লোডিংয়ের পর তিন মাসের মধ্যে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। প্রথমদিকেই অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।"
— নিউক্লিয়ার পাওয়ার কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড
বৈশ্বিক জ্বালানি সংক🤝