30/08/2026
ভারত সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং? বাংলাদেশ কেন নয়?
চীন-ভারতের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ, বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা, ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন—সবই আছে। তবু চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যদি ভারত সফরে যান, সেটিকে চীনের ‘আত্মসম্মান নেই’—এভাবে দেখার সুযোগ কম। বরং এটি বাস্তববাদী কূটনীতির একটি উদাহরণ। রাষ্ট্রের সম্পর্ক ব্যক্তিগত রাগ-অভিমান দিয়ে পরিচালিত হয় না; জাতীয় স্বার্থ, অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলই সেখানে বড় বিষয়।
চীন ও ভারত একে অপরের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েও আলোচনা চালিয়ে যায়, কারণ প্রতিবেশী ও বড় অর্থনীতি হিসেবে তাদের পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজন আছে। মতবিরোধ থাকলেও কথা বলা, দর-কষাকষি করা এবং প্রয়োজনমতো সহযোগিতা করা—এসবই শক্তিশালী রাষ্ট্রের কূটনৈতিক সক্ষমতার অংশ।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ‘আত্মসম্মান’ শব্দটি অনেক সময় রাজনৈতিক বক্তব্যে অতিরঞ্জিত হয়ে ওঠে। কোনো দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা মানেই আত্মসম্মান বিসর্জন নয়, আবার কোনো বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিলেই আত্মসম্মান রক্ষা হয়—এমনও নয়।
আসল প্রশ্ন হলো: বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত কি বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে নেওয়া হচ্ছে? নদীর পানি, সীমান্ত, বাণিজ্য, জ্বালানি, নিরাপত্তা কিংবা আঞ্চলিক সহযোগিতা—প্রতিটি বিষয়ে বাংলাদেশের প্রয়োজন অনুযায়ী ন্যায্য দর-কষাকষি করতে পারাটাই প্রকৃত রাষ্ট্রীয় আত্মমর্যাদা।
কূটনীতিতে চোখে চোখ রাখা মানে সম্পর্ক ছিন্ন করা নয়; বরং প্রয়োজনের সময় দৃঢ়ভাবে নিজের স্বার্থ তুলে ধরে, একই সঙ্গে দরজা খোলা রাখাই পরিণত রাষ্ট্রনীতির পরিচয়।