21/02/2023
-|| গাঁজা সোসাইটি, নওগাঁ ||-
নওগাঁ শহরের প্রায় সব উন্নয়নেই গাঁজা মহলের অবদান আছে। মসজিদ, মন্দির, সেতু কিংবা চিকিৎসায় সবসময় অসামান্য ভূমিকা পালন করেছে গাঁজা সোসাইটির সম্পদ। প্রধান দপ্তর ভবনসহ এই সমিতির নিজস্ব সম্পত্তির মধ্যে ৪০ একর জমি রয়েছে।
সমিতির সম্পত্তির মধ্যে আছে ২৮টি ভবন, একটি হিমাগার, চারটি গোডাউন, একটি সরাইখানা, একটি মিটিং গ্রাউন্ড, তিনটি দাতব্য চিকিৎসালয়, ১১টি উচ্চ বিদ্যালয়, তিনটি মসজিদ, একটি মন্দির, সাতটি বড় পুকুর ও একটি লেক। এসব সম্পদ নওগাঁ সদরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। শত বছর ধরে নওগাঁর উন্নয়নে অবদান রেখে যাচ্ছে গাঁজা সোসাইটির এসব সম্পদ। এছাড়া ভারতের আসাম, কলকাতায় এবং বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতেও নওগাঁ গাঁজা সমবায় সমিতির সম্পত্তি ছিল। কলকাতাস্থ বেঙ্গল সমবায় ব্যাংকে সমিতির গচ্ছিত ৫ লক্ষাধিক টাকা এখনো রয়ে গেছে।
ব্রিটিশ আমলে গাঁজা সোসাইটির জন্ম। ওই সময় নওগাঁয় বাণিজ্যিকভাবে গাঁজার চষের প্রচলন ছিল। ছিল সরকারি পৃষ্টপোষকতাও। সাত হাজারের বেশি চাষি মিলে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে গাঁজা চাষ করতেন। নওগাঁর গাঁজা চাষিদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১৯১৭ সালে গড়ে তোলা হয় গাঁজা উৎপাদনকারী পুনর্বাসন সমবায় সমিতি লিমিটেড।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে জেনেভা কনভেনশনে মাদকদ্রব্যবিরোধী চুক্তিতে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে। ১৯৮৭ সালে দেশে গাঁজা চাষ নিষিদ্ধ করা হয়। ফলে ঐতিহ্যবাহী এই সমবায় সমিতির ৭ হাজার পরিবারের ৫০ হাজার মানুষ কর্মসংস্থানের অভাবে চরম বিপাকে পড়েন। পরে তারা ধান, সরিষা, সবজি চাষাবাদ শুরু করেন।
একসময় আসাম, উড়িষ্যা, উত্তর প্রদেশ, চেন্নাই, এমনকি লন্ডনেও গাঁজা রপ্তানি করা হতো। ১৯১৮ থেকে ১৯৪৭ সালে দেশভাগের আগ পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৫৫ হাজার মণ গাঁজা উৎপাদন করা হতো। এ থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হতো প্রায় ৬৬ লক্ষ টাকা।
বর্তমানে নওগাঁয় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কার্যালয়ের মধ্যে গাঁজার চারটি গুদাম রয়েছে। এ কারণে এই এলাকা এখনও গাঁজাগোলা মোড় নামে পরিচিত। চারটি গুদামে এখনো ২২৬ মণ গাঁজা সংরক্ষণ করা আছে। গুদামগুলো এখন সিলগালা করা। জমির মালিকানা এখন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের।
©TBS