01/08/2025
কত শত ভোর জানে আশিক রিচির গল্প! কত নিঃশব্দ সকাল ছিল ওদের গল্পের একেকটি পাতার মতো,
যেখানে আশিক দাঁড়িয়ে থাকত প্রীতিলতা হলের সামনে ফুল হাতে,শরতের কুয়াশা আর গ্রীষ্মের রোদের গল্প পেরিয়ে,
অপেক্ষায় একটি নাম-রিচি।
মাস দুই-তিনেক পর একবার,
কখনো বা আরও দীর্ঘ অপেক্ষার পর হয়তো কোনো শুকনো বিকেলে হঠাৎ করেই খবর আসত,
“আমি আসছি…”
Weekend পাসের সেই একদিনের ছোট্ট ছুটি ছিল না শুধু ছুটি,ছিল অপেক্ষার মুক্তি, ছিল ভালোবাসার স্বস্তি।ওই একদিনেই জমে থাকা অজস্র কথা,চোখে চোখ রেখে হেসে ফেলা ,হয়তো মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য,তবুও সে আসত…
রিচি আসত হালকা শাড়িতে,
খোলা চুল ,চোখে ঘুম, আর মুখে একটুকরো রোদেলা হাসি।এর পেছনে কত শত অপেক্ষা ।তাদের দেখা হতো, যেন প্রথম প্রেমের মতোই বারবার ।পাখির মতো ডানা মেলে ঘুরে বেড়াতো দুই মন!
আর সেই নিঃশব্দ করোনার সময়,
যখন রিচি থাকত জামালপুরে,
তখন আশিক কাঁধে ব্যাগ নিয়ে,
একটা বাইকে করে যমুনা নদী পার হয়ে ভোরবেলা চলে আসত,
ভালোবাসার টানে, ক্লান্তিকে দূরে ঠেলে।
তারা হাঁটত শহরের অলিগলি,
বসে থাকত নদীর পাড়ে,রেলস্টেশনের পুরনো সিঁড়িতে ।যেন শহরও জেনে গিয়েছিল,ওদের ভালোলাগার ভাষা ঠিক কেমন।
আর আজ?
আজ সেই প্রেম আর দূরত্বে নেই,
আজ নেই আর ছুটি গুনে দেখা করার অপেক্ষা,নেই বাইকে ভোরবেলা ছুটে আসা প্রেমিক।
আজ তারা একসাথে,পাশে পাশে-
ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে প্রথম মুখ দেখার মতো করে
আশিক আর রিচি,
এবার গল্পের এক নতুন অধ্যায়ে পা রাখল…
যেখানে ভালোবাসা শুধু অনুভব নয়,
এখন থেকে প্রতিদিনের বাস্তব।
© Glare || Shejan Mahmud