23/06/2025
বছর খানেক আগে, আমি তুমুল প্রেমে পড়েছিলাম।
সে প্রেম হঠাৎ আসলো তারপর ধীরে ধীরে, নিঃশব্দে আমার ভেতর জুড়ে যায়গায় নিয়ে ফেললো অনেকখানি।
সে যখন হাসতো, আমার বুকের মধ্যে অদ্ভুত এক উথাল-পাতাল ঢেউ উঠত।
কথার মাঝখানে তার চোখের তারা হঠাৎ হঠাৎ যখন জ্বলে উঠত—
আমি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতাম, যেন এক শান্ত, স্নিগ্ধ নক্ষত্রকে দেখছি—
যে নক্ষত্র কেবল আমার আকাশেই উদিত হয়।
তার কণ্ঠে প্রতিটি শব্দ যেন ফুল হয়ে ঝরে পড়ত,হাস্নাহেনা আর কামিনীর মতো সে ছড়িয়ে দিত কোমল সুবাস।
প্রেমের অঙ্কুর থেকে গাছ হয়ে ওঠা সেই সময়টুকুতে আমার একমাত্র সম্বল ছিল—
হাজারো মেসেজ, অসংখ্য ছবি,
ভিডিও কলে কণ্ঠস্বরের কাঁপুনি,আর তাকে ভেবে লেখা একশো একটি কবিতা।
আমার প্রেমে একশো একখানা পদ্ম ছিলোনা, ছিলো একশো একখানা পদ্য!
তখন আমি আর একা তারা গুনতাম না,
ব্যালকনিতে বসে চাঁদের দিকে চেয়ে নিঃসঙ্গতা গিলতাম না।
সিগারেটের ধোঁয়ায় বিষাদ ঢালতাম না আর।
নিজেকে একধরনের সুখী মানুষ বলে মনে হতে লাগলো।
বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজে রাখা আমি—
সে সময়ে বই পড়াও বেমালুম ভুলে বসলাম।
কারণ, মন খারাপেও আমি তাকে খুঁজতাম,
তীব্র আনন্দেও তাকেই চাইতাম পাশে।
আমাদের দিনগুলো কেটে যাচ্ছিলো
হাজারো আশ্বাস, যত্ন আর প্রেমে ভরে—
আমি তাকে যতটা ভালোবাসতাম,
সে যেন ফিরিয়ে দিতো দ্বিগুণ ভালোবাসায়।
ভাঙা, চৌচির এক হৃদয় নিয়ে আমি আশ্রয় নিয়েছিলাম তার কাছে—
একটা খাঁচাবন্দী পাখির মতো,
যে হঠাৎ করে মুক্ত আকাশ পেয়ে ওড়ার সাহস পায়।
তার সরলতা আর শুদ্ধতা আমাকে বাঁচতে শিখিয়েছিল।
জীবনের দায়িত্ব নিতে, সম্পর্ককে আগলে রাখতে শিখিয়েছিল।
সে আমাকে একখানা আকাশ দিয়েছিলো।
আমরা হয়ে উঠেছিলাম এক জোড়া চড়ুই পাখি—
যারা লাফিয়ে লাফিয়ে নিজেদের প্রেম বাড়িয়ে চলেছিল।
আর সেই চড়ুই প্রেম একদিন ছুঁয়ে গিয়েছিল বাস্তবতার করুণ চিত্র ।
এক বিকেলে, আমরা প্রথম দেখা করেছিলাম।
চোখের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সেই মানুষটিকে দেখে আমার সব শব্দ যেন হারিয়ে গিয়েছিল।
তবু আমরা কথার ঝুড়ি খুলে বসেছিলাম,
হাত রেখেছিলাম হাতে—
ভরপুর বিকেল, ভারী দীর্ঘশ্বাসে গড়িয়ে গিয়েছিল সময়।
তবু শেষ পর্যন্ত ফিরে আসতেই হয়েছিল।
তারপর কেটে যায় বহু দিন,বহু মাস!
ভালোবাসার সেই সুদিন কেটে গেল,
সে আর আমার আকাশে জ্বললো না নক্ষত্র হয়ে।
আমার ফোনের প্লে-লিস্টে বাজতে থাকা গান:
"তুমি অন্য গ্রহের চাঁদ
আমার একলা থাকার ছাদ
তোমার ফেরার সম্ভাবনা
অমাবস্যায় জোছনা..."
আমার রাতগুলো হলো নির্ঘুম।
দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে উঠল রাতের বাতাস,
আক্ষেপ এসে জড়াল বুকের গহীনে।
ভেতরটা ধীরে ধীরে পুড়ে যেতে লাগল
নিকোটিনের ধোঁয়ার মতো।
এক সময়ের ভগ্ন হৃদয় আজ পুড়ে ছাই!
একলা চড়ুই পাখির মতো আমি লাফিয়ে চলি—
শেষ নিঃশ্বাস নিয়ে, শেষ আশ্বাস নিয়ে।
বুকের গভীরে জমে থাকা চিৎকার আর ক্লান্ত চোখে
আধো ঘুম, আধো জাগরণে
আমি যেন প্রতিদিনই তাকে ছুঁয়ে ফেলি আবার।
আমার তুমুল প্রেম,
আমার শুদ্ধ ভালোবাসা,
আমার একান্ত নক্ষত্র—
সবই ধোঁয়ার মতো উড়ে যায়।
কেবলই আমি পড়ে থাকি
ধ্বসে পড়া এক ভবনের ধুলোমাখা মেঝেতে—
কোনো ভোর আর জাগে না আমার ঘরে
রোদের ঝলকানিতে ভাঙ্গে না আর ঘুম।
আমার রাতজাগা তারা
তোমার আকাশ ছোঁয়া বাড়ি
আমি পাইনা ছুঁতে তোমায়
আমার একলা লাগে ভারী..
আমার একলা লাগে।
ভীষণ শূন্য লাগে।
আর কতকাল আমি যাযাবর হয়ে ঘুরে বেড়াবো এই প্রেমের ধ্বংসস্তূপে?