28/06/2022
টগর ফুল
বর্ষার দিনে বাহারি রঙের ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় আমাদের চারপাশ। প্রকৃতি যেন সেজে ওঠে নানা রূপবৈচিত্র্যে। কদম, বকুল, কেয়া, কামিনী, ঝুমকোলতা, মালতী, কলাবতী, বেলি, টগর, চালতা, শ্বেতপদ্ম, নীলপদ্মসহ আরও অনেক ফুল মনকে উতলা করে তোলে গন্ধে ও সৌন্দর্যে। এর মধ্যে টগর অন্যতম।
ঝোপঝাড়বিশিষ্ট চিরসবুজ গাছ টগর। বৈজ্ঞানিক নাম Tabernaemontana divaricata। বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে ফুলটি দুধফুল হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশ ও ভারতে দুই রকমের টগর পাওয়া যায়। থোকা টগর ও একক টগর। একটি টগরের একক পাপড়ি, অন্যটির গুচ্ছ পাপড়ি। এদের ‘বড় টগর’ ও ‘ছোট টগর; বলা হয়।
বাংলাদেশের বনে-বাদাড়ে টগর এমনিতেই জন্মে। ছিঁড়লে সাদা দুধের মতো কষ ঝরে। পাতা ৪ থেকে ৫ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা ও এক দেড় ইঞ্চি চওড়া। পাতার আগা ক্রমশ সরু। ফুল দুধসাদা। সারা বছর ফুল ফুটলেও বর্ষায় বেশি ফোটে। থোকা টগরের সুন্দর মৃদু গন্ধ বাতাসে ছড়ালেও একক টগরের কোনো গন্ধ নেই। ফুল থেকে ফলও হয়। ফলের মধ্যে ৩ থেকে ৬টি বীজ থাকে। বড় টগরের বোঁটা মোটা এবং একক ফুল হয়। পাতাও একটু বড়। মাথা ঝাঁকড়া বলে টগর গাছকে সুন্দর দেখায়। ডালগুলো সোজা না উঠে বহু শাখা-প্রশাখা নিয়ে ঝোপের মতো বাগানের শোভা বাড়ায়।
কলম করে চারা করা যায়, আবার বর্ষাকালে ডাল পুতলেও হয়। টগর সমতল ভূমির গাছ হলেও পাহাড়ে এদের উপস্থিতি রয়েছে। টগরের মূল ও শেকড়ে কৃমি ও চুলকানি দূর হয়। ঘামাচিতে প্রতিদিন টগর গাছের কাঠ চন্দনের মতো ঘষে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।
সারা পৃথিবীতে এই গণের ৪০ টি প্রজাতি আছে। এর মধ্যে বাংলা ও ভারতে ৪টি প্রজাতি পাওয়া যায়। দক্ষিণ আমেরিকা থেকে এই গাছ ভারত উপমহাদেশে এসেছে।
টগরের মূল ও শেকড় ওষুধে ব্যবহৃত হয়। শেকড় তেতো ও কটু স্বাদের। এতে কৃমি ও চুলকানি দূর হয়। ঘামাচিতে টগরের কাঠ ঘষে প্রতিদিন চন্দনের মতো গায়ে মাখলে উপকার হয়। অনেকে টগরের কাচা ডাল চিবিয়ে দাঁতের অসুখ সারায়।