17/08/2026
১৯৭২-৭৫ এর ইতিহাস কারা চাপা দিয়ে বিকৃত করে অপপ্রচার করেছে একটু মাথা খাটালেই বুঝা যায়।
মেজর ডালিমের ভাষ্যমতে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার জন্য কোরআন মাজীদ ছুঁয়ে শপথ নেয়া হয়েছিল ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পরে খন্দকার মোশতাক থেকে পরবর্তী শাসকগণ কেন ১৯৭২-৭৫ এর ইতিহাস সরকারিভাবে প্রকাশ করেন নাই।
আওয়ামী লীগ তারপর ক্ষমতা এসেছিল ২১ বছর পরে।
তাহলে আওয়ামী লীগ কীভাবে ৭২-৭৫ ইতিহাস লুকিয়ে রাখল? বরং এই সময়ে স্বাধীনতাবিরোধীরা ও এদেশের পাকিস্তানিপ্রেমিরাই মনগড়া ইতিহাস লিখে/বলে/প্রচার শেখ মুজিবুর রহমানকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছে। কারণ শেখ মুজিবুর রহমানের কারণে পাকিস্তান ভেঙেছিল। শেখ মুজিবুর রহমান নব্য স্বাধীন যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশে পা রেখেই ভারতীয় সেনা প্রত্যাহার করিয়েছিলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত শূন্য অর্থনীতির একটা তলাবিহীন ঝুঁড়ির দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তিনি মাত্র ৩ বছর ৭ মাস ক্ষমতায় ছিলেন। ১৯৭৩ সালে শেখ মুজিব সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে তাঁর দল ভোটে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৩ আসন পেয়ে নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, উনার মেয়াদ ছিল ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত। ১৯৭৫ ফেব্রুয়ারিতে তিনি বাকশাল প্রবর্তন করেছিলেন তখনকার পরিস্থিতি বিবেচনায়, এটা নিয়ে বিভিন্ন মতামত আছে, বাকশাল কার্যকর হওয়ার ১৭ দিন আগেই তিনি ও তার পরিবারের ১৯ জন্য হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন।
তারপর এই অপকর্ম ঢাকার জন্য স্বাধীনতাবিরোধী ও শেখ মুজিববিরোধী অনেক বানোয়াট কাহিনী বানিয়ে অপপ্রচার চালিয়েছে শেখ মুজিবুর রহমানের মিশিয়ে দেয়ার জন্য, সাধারণ মানুষের কাছে ঘৃণার পাত্র হিসেবে উপস্থাপনের জন্য। কিন্তু সময়ের বিচারে শেখ মুজিব সাধারণ মানুষের কাছে এখনো শ্রদ্ধার পাত্র হয়েই আছেন। স্বাধীনতাবিরোধীরা বলে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা বীরত্বের কাজ ছিল কিন্তু শেখ মুজিবকে হত্যা করা যদি বীরত্বের কাজ হয় তাহলে শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীদের পরবর্তীতে কারোই বাংলাদেশে থাকার সুযোগ হয়নি কেন?
©️জাহাঙ্গীর আলম