30/12/2025
এখনো কালকের একটা মুহূর্তে আটকে আছি। আমার সামনে, কাঁধে ব্যাগ থাকা ভাইয়া শহীদ সোহেল রানার ভাই। আমার পাশে, শহীদ আব্দুল রাকিবের ভাই। অপর পাশে, শহীদ মুন্নার মা ও বোন।
শহীদ মুন্না ৫ আগস্ট মিছিলে গিয়েছিলেন। আর ফেরেননি। ৬ মাস পর, ২৫ সালের জানুয়ারির শুরুর দিকে ঢাকা মেডিকেলের মর্গে ৬টা অজ্ঞাত লাশ পাওয়া যায়। আন্টিরা সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক্টিভ না থাকায়, তারা কিছুই জানতে পারেননি।
২ মাস পর খবর পেয়ে মা মর্গে যান। লাশ দেখতে পারেননি। ছবি দেখানো হয়, কিন্তু তাতে লাশ চেনার মতো অবস্থা ছিল না। এই দরজা, সেই দরজা, পাগলের মতো ছুটে বেড়িয়ে শেষমেষ ১ বছর পর, অর্থাৎ ২৫ সালের আগস্টে সিআইডিতে ডিএনএ জমা দেন তিনি।
এরপর আরও দুই মাস অপেক্ষা। শেষমেশ, নভেম্বরে ডিএনএ মিলে যায়।
আর আমার আবেগটা থেমে যায় ঠিক এখানেই যে, গতকাল ১৭ মাস পর, এই মা প্রথমবারের মতো নিজের ছেলের লাশের ভিডিও দেখেন।
যাত্রাবাড়ী থানার ভেতরে, অসংখ্য লাশের মাঝখানে পড়ে আছে উনার ছেলের লাশটা। মাথায় গুলি লেগেছিল তাই রক্ত গড়িয়ে অন্য লাশগুলোর নিচে চলে গেছে। আহারে শহীদের মা…
আমি যখন বললামঃ আমি আপনারই ছেলে, তিনি ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলেন। আমার গায়ে হাত বুলিয়ে দিলেন। আহারে শহীদের মা, এত এত অপেক্ষা, ছেলে কোথায়? নিজের হাতে বড় করা ছেলেটার
লাশের ভিডিও ১৭ মাস পর দেখার অনুভূতি, আমার বোঝার ক্ষমতা নেই, বোঝানোর ভাষাও নেই।