16/03/2026
📜 প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ৩৫ টি জিকির ও দোয়া (অর্থ, আমল ও ফজিলতসহ) 📜
১. 📿 সুবাহানআল্লাহ — (আল্লাহ অতি পবিত্র)
* ফজিলত: ১০০ বার পড়লে ১০০০ সওয়াব লেখা হয় এবং ১০০০ গুনাহ মাফ হয়।
২. 📿 আলহামদুলিল্লাহ — (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য)
* ফজিলত: এটি সর্বোত্তম দোয়া এবং কিয়ামতের দিন নেকির পাল্লাকে সওয়াবে পূর্ণ করে দেয়।
৩. 📿 লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) — (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, মুহাম্মাদ সাঃ আল্লাহর রাসূল)
* ফজিলত: এটি সর্বোত্তম জিকির। ঈমান তাজা হয় এবং জান্নাত ওয়াজিব হয়।
৪. 📿 আল্লাহু আকবর — (আল্লাহ মহান)
* ফজিলত: এর মাধ্যমে বান্দার মর্যাদা আল্লাহর কাছে বৃদ্ধি পায়।
৫. 📿 আল্লাহুম্মা সল্লি ওয়া সাল্লিম আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ — (হে আল্লাহ! আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাঃ এর ওপর দরুদ ও শান্তি বর্ষণ করুন)
* ফজিলত: একবার দরুদ পড়লে আল্লাহ বান্দার ওপর ১০ বার রহমত নাজিল করেন।
৬. 📿 আস্তাগফিরুল্লাহ — (আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই)
* ফজিলত: এটি বিপদ থেকে মুক্তির পথ করে দেয় এবং রিজিকে বরকত আনে।
৭. 📿 সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আযীম — (আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি তাঁর প্রশংসা সহকারে, মহান আল্লাহ অতি পবিত্র)
* ফজিলত: এই কালিমাগুলো মুখে উচ্চারণ করা সহজ কিন্তু নেকির পাল্লায় অনেক ভারী।
৮. 📿 লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ — (আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো ক্ষমতা নেই, কোনো শক্তি নেই)
* ফজিলত: এটি জান্নাতের গুপ্তধনসমূহের একটি এবং ৯৯টি রোগের ওষুধ।
৯. 📿 আল্লাহুম্মাগফিরলি — (হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন)
* ফজিলত: মোনাজাতের শুরুতে বা শেষে এটি পড়লে আল্লাহর রহমত পাওয়া যায়।
১০. 📿 আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান্নার — (হে আল্লাহ, আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিন)
* আমল: ফজর ও মাগরিবের পর ৭ বার পড়লে জাহান্নাম থেকে মুক্তির নিশ্চয়তা পাওয়া যায়।
১১. 📿 ইয়া হাইয়ু ইয়া কাইয়ুম বিরাহমাতিকা আসতাগিস — (হে চিরঞ্জীব, হে মহাবিশ্বের ধারক! আপনার রহমতের উসিলায় আমি সাহায্য প্রার্থনা করছি)
* ফজিলত: এটি নবীজির অতি প্রিয় দোয়া। যেকোনো কঠিন বিপদে পড়লে এটি বেশি পড়তেন।
১২. 📿 ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম — (হে মহিমাময় ও মহানুভব)
* আমল: দোয়া কবুলের জন্য এই নামে আল্লাহকে ডাকতে হাদিসে উৎসাহিত করা হয়েছে।
১৩. 📿 জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মা হুয়া আহলুহু — (আল্লাহ আমাদের পক্ষ থেকে মুহাম্মাদ সাঃ কে এমন প্রতিদান দিন যার যোগ্য তিনি)
* ফজিলত: এটি পড়লে ৭০ জন ফেরেশতা ১০০০ দিন পর্যন্ত পাঠকারীর জন্য সওয়াব লিখতে থাকেন।
১৪. 📿 আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফিয়া — (হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে নিরাপত্তা ও সুস্থতা প্রার্থনা করছি)
* ফজিলত: দুনিয়া ও আখেরাতে সুস্থতা ও নিরাপত্তা লাভের শ্রেষ্ঠ দোয়া।
১৫. 📿 আস্তাগফিরুল্লাহ ইন্নাল্লাহা গাফুরুর রাহিম — (আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু)
* ফজিলত: বারবার তওবা করলে আল্লাহ বান্দার প্রতি অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন।
১৬. 📿 লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন — (আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আপনি পবিত্র! নিশ্চয়ই আমি অপরাধীদের অন্তর্ভুক্ত)
* ফজিলত: এটি দোয়ায়ে ইউনুস। বিপদের সময় পড়লে আল্লাহ নিশ্চিত উদ্ধার করেন।
১৭. 📿 ইয়া হালালাল মুশকিলাত — (হে সকল সমস্যা সমাধানকারী)
* ফজিলত: কঠিন বিপদ ও সংকট থেকে মুক্তি পেতে আল্লাহর এই গুণবাচক নাম জপ করা হয়।
১৮. 📿 আলহামদুলিল্লাহ আলা কুল্লি হাল — (সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রশংসা)
* ফজিলত: কষ্টের সময় এটি পড়লে ধৈর্য বৃদ্ধি পায় এবং নেয়ামত বাড়ে।
১৯. 📿 ইয়া আরহামার রাহিমীন — (হে শ্রেষ্ঠ দয়ালু)
* ফজিলত: তিনবার এটি বললে ফেরেশতারা বলেন, "আল্লাহ তোমার দিকে মনোযোগ দিয়েছেন, তুমি চাও।"
২০. 📿 ইয়্যা কানাহ'বুদু ওয়া ইয়্যা কানাসতাঈন — (আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য চাই)
* ফজিলত: এটি শিরকমুক্ত হওয়ার এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখার শ্রেষ্ঠ বাক্য।
২১. 📿 আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা হুসনাল খাতিমাহ — (হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে মৃত্যুর সময় উত্তম পরিণতি চাই)
* ফজিলত: মৃত্যু যাতে ঈমানের সাথে ও উত্তম অবস্থায় হয়, সেই দোয়া।
২২. 📿 আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা হুব্বাক — (হে আল্লাহ! আমি আপনার ভালোবাসা প্রার্থনা করছি)
* ফজিলত: আল্লাহর ভালোবাসা পেলে দুনিয়া ও আখেরাত উভয়ই সফল হয়।
২৩. 📿 আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল জান্নাতা ওয়া আ'উযু বিকা মিনান্নার — (হে আল্লাহ! আমি জান্নাত চাই এবং জাহান্নাম থেকে পানাহ চাই)
* ফজিলত: ৩ বার পড়লে জান্নাত ও জাহান্নাম আল্লাহর কাছে বান্দার জন্য সুপারিশ করে।
২৪. 📿 আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল হুদা ওয়াস সাদাত আস সবুর — (হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে হেদায়েত, সঠিক পথ এবং ধৈর্যের শক্তি চাই)
* ফজিলত: হেদায়েত এবং সত্য পথে অবিচল থাকার জন্য অত্যন্ত কার্যকরী দোয়া।
২৫. 📿 লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু আহাদান ছমাদান লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ ওয়ালাম ইয়া কুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ — (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, অমুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং জন্ম নেননি এবং তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই)
* ফজিলত: আল্লাহকে এক ও অদ্বিতীয় স্বীকার করার মাধ্যমে ঈমান সুদৃঢ় হয়।
২৬. 📿 লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির — (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, সার্বভৌমত্ব তাঁরই, প্রশংসা তাঁরই এবং তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাশীল)
* ফজিলত: দিনে ১০০ বার পড়লে ১০টি গোলাম আজাদ করার সওয়াব পাওয়া যায় এবং শয়তান থেকে রক্ষা মেলে।
২৭. 📿 ওয়াল্লাজিনা ইয়াকুলুনা রাব্বানা হাবলানা মিন আযওয়াজিনা ওয়া জুররিয়্যাতিনা কুররাতা আই নিউ ওয়াজ আলনা লিল মুত্তাকীনা ইমামা — (হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের আমাদের জন্য চোখের শীতলতা স্বরূপ করে দিন এবং আমাদের মুত্তাকীদের ইমাম বানিয়ে দিন)
* ফজিলত: নেককার স্ত্রী ও সন্তান লাভের জন্য কুরআনি দোয়া।
২৮. 📿 ইয়া ওয়াদুদু — (হে পরম প্রেমময়)
* ফজিলত: এটি পাঠ করলে মানুষের মনে ভালোবাসা সৃষ্টি হয় এবং পারিবারিক অশান্তি দূর হয়।
২৯. 📿 রাব্বি হাবলি মিনাস সলিহিন — (হে আমার পালনকর্তা! আমাকে নেককার সন্তান দান করুন)
* ফজিলত: নেক সন্তানের জন্য ইব্রাহিম (আঃ)-এর দোয়া।
৩০. 📿 ইন্নামা আশকু বাছহি অ হুজনি ইলাল্লাহ — (আমি আমার অসহায়ত্ব ও দুঃখ কেবল আল্লাহর কাছেই নিবেদন করছি)
* ফজিলত: মন খারাপ বা চরম হতাশার সময় এটি পড়লে অন্তরে প্রশান্তি আসে।
৩১. 📿 ইন্নাল্লাহা মাআ সবেরীন — (নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন)
* ফজিলত: কষ্টের সময় নিজেকে শান্ত রাখা এবং আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার চূড়ান্ত আশ্বাস।
৩২. 📿 হাসবুনাল্লাহু ওয়ানি'মাল ওয়াকিল — (আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, আর তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক)
* ফজিলত: এটি বিপদে মুমিনের শ্রেষ্ঠ আশ্রয়। ইব্রাহিম (আঃ) আগুনের মাঝে এটিই পড়েছিলেন।
৩৩. 📿 ইয়া রাব্বিগ ফিরলি — (হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ক্ষমা করুন)
* আমল: দুই সিজদার মাঝখানে এটি পড়লে রিজিকে বরকত হয় ও জীবনের অপূর্ণতা দূর হয়।
৩৪. 📿 সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম — (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর নবীর ওপর বর্ষিত হোক)
* ফজিলত: নবীর নাম শুনলে এটি পড়া ওয়াজিব। এটি রহমতের দরজা খুলে দেয়।
৩৫. 📿 আস্তাগফিরুল্লাহ হাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়ুল কাইয়ুম ওয়া আতুবু ইলাইহি লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিউল আজিম —
(আমি সেই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, যিনি চিরঞ্জীব ও বিশ্বজগতের ধারক এবং তাঁর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই)
* ফজিলত: এটি পড়লে পাহাড় সমান গুনাহ থাকলেও আল্লাহ তা মাফ করে দেন।
পড়া শেষে সবাই কমেন্টে একটিবার 'আলহামদুলিল্লাহ' লিখুন! 😊❤️
⭕ আল্লাহ আমাদের সকলের দোয়া কবুল করুন।
-----------আমিন🤲
📍 সদকায়ে জারিয়ার নিয়তে পোস্টটি শেয়ার করে দিন। আপনার একটি শেয়ার হয়তো কারো হেদায়েতের কারণ হতে পারে।