05/02/2026
চলেন আজ জেনে নেই কুরআন কি বলে নারী নেতৃত্ব নিয়ে।
নারীর শাসনভার বা রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে কুরআনে সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞামূলক আয়াত নেই, তবে হাদিস এবং আয়াতের ব্যাখ্যার ভিত্তিতে আলেমদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মতামত রয়েছে:
কুরআনের বর্ণনা: পবিত্র কুরআনে রানী বিলকিসের (সাবা রাজ্যের রানী) কথা উল্লেখ আছে [১.২.৮]। সুরা আন-নামল (আয়াত ২৩-৪৪)-এ তাঁর বিচক্ষণতা, পরামর্শভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সফল শাসনের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে কোনো প্রকার নিন্দা ছাড়াই [১.২.২]।
নেতৃত্ব বিষয়ক আয়াত: অনেক আলেম সুরা নিসার ৩৪ নম্বর আয়াত— "পুরুষরা নারীদের উপর তদারককারী/রক্ষক"— উদ্ধৃত করে বলেন যে, প্রধান নেতৃত্বের জন্য পুরুষরাই বেশি উপযোগী [১.২.১, ১.৫.৪]। তবে আধুনিক অনেক গবেষক মনে করেন এটি মূলত পারিবারিক কাঠামোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের ক্ষেত্রে নয় [১.৪.৬]।
হাদিসের উদ্ধৃতি: সহিহ বুখারির একটি হাদিসে উল্লেখ আছে, যখন পারস্যের সম্রাট হিসেবে এক নারীকে নিয়োগ করা হয়, তখন রাসুল (সা.) বলেছিলেন— "সেই জাতি কখনই সফল হবে না, যারা তাদের শাসনভার একজন নারীর হাতে দেয়" [১.২.৫, ১.৩.১]।
অধিকাংশ প্রাচীন আলেম এই হাদিসের ভিত্তিতে নারীকে 'প্রধান রাষ্ট্রপ্রধান' (যেমন খলিফা বা প্রেসিডেন্ট) করার বিপক্ষে মত দেন [১.৫.৭, ১.৫.৯]।
তবে অনেক সমসাময়িক আলেম মনে করেন, এই হাদিসটি নির্দিষ্ট সেই সময়কার পারস্য সম্রাজ্যের প্রেক্ষাপটে বলা হয়েছিল [১.২.১১, ১.৩.৭]।
অন্যান্য দায়িত্ব: রাষ্ট্রপ্রধান ছাড়াও অন্যান্য প্রশাসনিক ও বিচারিক দায়িত্বে নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়ে ইসলামের ইতিহাসে নজির রয়েছে। যেমন হযরত উমর (রা.) হযরত সামরা বিনতে নুহাইক (রা.)-কে বাজারের তদারকির দায়িত্ব দিয়েছিলেন [১.২.৬, ১.৪.১০]। ইমাম আবু হানিফাসহ অনেক ইমাম মনে করেন, নারী বিচারক (Judge) হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন [১.৫.৭]।
সংক্ষেপে, ইসলামের প্রধান চার মাজহাবের অধিকাংশ আলেমের মতে নারী 'প্রধান রাষ্ট্রপ্রধান' হতে পারেন না, তবে আধুনিক ব্যবস্থায় যেখানে একক ক্ষমতা একজনের হাতে থাকে না, সেখানে সংসদ সদস্য বা অন্যান্য প্রশাসনিক পদে নারীর অংশগ্রহণ অনেকে বৈধ মনে করেন [১.৪.৬, ১.৫.৫]।
সরাসরি আল্লাহ (কুরআন) এবং নবীজি (সা.)-এর বাণী থেকে উত্তরটি নিচে দেওয়া হলো:
১. কুরআনের বর্ণনা (আল্লাহর বাণী)
পবিত্র কুরআনে কোনো নারীকে শাসনভার দেওয়া সরাসরি নিষেধ করা হয়নি [১.৪.১]। বরং কুরআনে একজন নারী শাসকের অত্যন্ত ইতিবাচক উদাহরণ দেওয়া হয়েছে:
রানী বিলকিস (সাবা রাজ্যের রানী): সুরা আন-নামল (আয়াত ২৩-৪৪)-এ রানী বিলকিসের কথা উল্লেখ আছে। কুরআন তাঁকে একজন বুদ্ধিদীপ্ত, বিচক্ষণ এবং সফল শাসক হিসেবে চিত্রিত করেছে [১.২.১, ১.২.২]।
তিনি স্বৈরাচারী ছিলেন না, বরং কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরামর্শ পরিষদের সাথে আলোচনা করতেন (আয়াত ৩২) [১.৩.৫, ১.৩.৯]।
আল্লাহ তা'আলা তাঁর রাষ্ট্র পরিচালনার দক্ষতা বা তাঁর নারী হওয়া নিয়ে কোনো সমালোচনা করেননি। বরং তাঁর সঠিক সত্য (ইসলাম) গ্রহণ করার বিষয়টিকে উচ্চমর্যাদা দিয়েছেন [১.৪.২]।
২. নবীজি (সা.)-এর বাণী (হাদিস)
নারী নেতৃত্ব নিয়ে নবীজি (সা.)-এর একটি প্রধান হাদিস রয়েছে, যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষিত আলোচনা করা হয়:
সরাসরি হাদিস: সহিহ বুখারির একটি বর্ণনায় আছে, নবীজি (সা.) বলেছেন— "সে জাতি কখনোই সফল হবে না, যারা তাদের শাসনভার একজন নারীর হাতে অর্পণ করে" [১.৫.৩, ১.৫.৫]।
প্রেক্ষাপট (Background): নবীজি (সা.) এই কথাটি তখন বলেছিলেন, যখন তিনি খবর পান যে পারস্যের সম্রাট কিসরার মৃত্যুর পর তার মেয়েকে সিংহাসনে বসানো হয়েছে [১.৫.১, ১.৫.২]। অনেক গবেষক মনে করেন, এটি নির্দিষ্ট ওই ঘটনার (পারস্য সম্রাজ্যের পতন) ভবিষ্যৎবাণী ছিল, কোনো চিরস্থায়ী আইন নয় [১.৫.৪]।
৩. সাধারণ মূলনীতি
যোগ্যতা: কুরআনের দৃষ্টিতে নেতৃত্বের মূল শর্ত হলো আমানতদারি এবং যোগ্যতা। সুরা নিসার ৫৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন আমানত বা দায়িত্ব তার উপযুক্ত ব্যক্তিকে পৌঁছে দিতে [১.৪.২]।
কর্মক্ষেত্রে অধিকার: সুরা তওবার ৭১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, মুমিন নারী ও পুরুষ একে অপরের বন্ধু ও সাহায্যকারী, তারা সৎকাজের আদেশ দেয় এবং অসৎ কাজে বাধা দেয় [১.১.৭]। এটি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নারী-পুরুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।
সারসংক্ষেপে, কুরআন রানী বিলকিসের শাসনের মাধ্যমে নারীর সফল নেতৃত্বের উদাহরণ রেখেছে [১.২.৬]। অন্যদিকে, নবীজি (সা.)-এর হাদিসটি মূলত তৎকালীন একক ক্ষমতার অধিকারী রাজতন্ত্রের প্রেক্ষাপটে ছিল.
゚viralシviralシfypシ゚viralシalシ