11/02/2026
‘আমার একটা চাকরি হয় ইংরেজি শিক্ষক হিসাবে। যেদিন আমি চলে যাবো, তার আগের দিন রাতে ওসমান হাদি আমাকে বিদায় দেয়। সকালে নামাজ পড়তে উঠার পরে হাদি আমার হাত ধরে বলে—
জাবের, তুমি চলে গেলে আমি খুব একা হয়ে যাবো।’
‘এই কথাটা শুনে আমি চাকরি করতে যাই নাই।
শুধু হাদির জন্যই যাই নাই।’
কান্না করতে করতে জাবের বলে—
‘এই যে এতো কিছুর কথা হচ্ছে, প্লিজ ভাই আপনারা একবার বলেন—আপনারা কি শহীদ হাদি হ*ত্যার বিচার করবেন? আমরা আর কেউ রাজপথে গিয়ে দাঁড়াবো না। তিনি তো ইলেকশনটাই করতে চাইছেন।’
‘আমি হাদি ভাইকে আপন ভাইয়ের চেয়েও বেশি ভালোবাসতাম।আমার খুব আফসোস—আমি হাদি ভাইয়ের জন্য আমার ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা করিনি। আমি থেকে গেলাম, কিন্তু ভাই তো আমাকে একা রেখে চলে গেলেন।’
‘যেই রিকশায় ভাই থাকতো, আমি সব সময় সেই রিকশায় থাকতাম।ওইদিন আমি ছিলাম না। আমি থাকলে বোধহয় ভাইকে গু****লি করতে পারতো না।’
‘এই জন্যই আমি দিনের পর দিন রাস্তায় পড়ে থাকি—বিচারের জন্য।হাদি ভাই আমাকে নিজের ভাইয়ের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন।নিজের হাতে খাওয়াইয়া দিতেন, নিজে বালিশে না ঘুমিয়ে আমাদের বালিশ দিয়ে দিতেন।’
শেষে জাবের বলে—
‘আমরা জানি আমরা খুব নিঃসঙ্গ। আমাদের কোনো অভিভাবক নাই।এইজন্য আমরা একজনকেই অভিভাবক হিসাবে মেনে নিছি—আল্লাহ।
আল্লাহ ছাড়া আমাদের আর কোনো অভিভাবক নাই।’
সবাই যখন নির্বাচন নিয়ে এক্সাইটেড,
আমি শুধু আফসোস করি—
ইশ! হাদি যদি আজ এখানে থাকতে পারতো!”