25/10/2023
-- আসুন ইহুদি চিনি --
ঈসা আলাইহিস সাল্লামকে ক্রুশবিদ্ধ করার দায় ছিল ইহুদীদের উপর। বর্তমানের মতো অতীতেও ইহুদীরা খুব শরিয়তি ছিল। ইহুদী ধর্মে শরিয়ত অনেক কঠিন। সামান্য রক্ত বের হলে পাক পবিত্র হওয়ার জন্য বহু কায়দা কানুন করতে হয়। জিনার শাস্তি হিসেবে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করা হয়। তবে গরীবের বিচার হয়, ধনীদের বিচার নীরবে নিভৃতে কাঁদে। ইহুদী মাওলানাদের বলে রাব্বি। মাওলানা আর রাব্বি একই অর্থ। এমনকি মুসলমানদের ধর্মীয় পোশাক, যেমন, লম্বা কুর্তা, টুপি ইহুদী ধর্মের প্রায় কপি। একটু একটু পার্থক্য আছে। যেমন মুসলমানরা পরে সাদা কুর্তা, ওরা কালো কুর্তা। মুসলমানদের টুপি কান পর্যন্ত, ওদের মাথার তালু পর্যন্ত। মুসলমানরা বলে টুপি, ওরা বলে কাপি।
হাদীসের মাধ্যমে বহু ইহুদী কায়দা কানুন ইসলামে ঢুকে পড়েছে। বিশেষ করে উপমহাদেশের সুন্নি ইসলামে। এর পেছনে বহু চক্রান্ত আছে।
আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, ওদের চক্রান্ত এমন যে পাহাড় টলে যায়।
ঈসা আলাইহিস সালাম ছিলেন মারেফতি প্রকৃতির। ইহুদী শরিয়তি হুজুররা ধর্মের মধ্যে মারেফতী পছন্দ করত না। এছাড়া ওরা দেখল ঈসা আলাইহিস সালাম থাকলে ধর্ম ব্যবসা শেষ।
ফলে তারা এমন ষড়যন্ত্র করল যে ঈসা আলাইহিস সালামকে ক্রুশবিদ্ধ হলো বলে খবর রটে গেল। আল্লাহ ঈসা আলাইহিস সাল্লাম কে তুলে নিলেন।
এতে রোমান ক্যাথলিকরা মারাত্মক ক্ষিপ্ত হলো এবং কয়েকশ বছর ইহুদীদের উপর অত্যাচার করল।
এই অবস্থাকে ইহুদীরা চক্রান্তের মাধ্যমে তাদের দিকে ঘুরিয়ে দিল। ইহুদীরা দীর্ঘ সময় ধরে খ্রিস্টানদের মধ্যে ফেরকা তৈরি করল। মার্টিন লুথার নামে একজনকে নিযুক্ত করল। সে বলল, এইসব পাপা কালচার মানিনা। অর্থাৎ সে প্রটেস্ট করল। তাই নতুন ফেরকার নাম হলো প্রটেস্টান্ট। সাধারন মানুষ পাপাদের থেকে হাফ ছেড়ে বাঁচল।
খ্রিস্টানদের শিখানো হলো, ইহুদীরা ছিল ইসার ভাই। কারন তারা নবী বংশের। কাজেই ইহুদীদের রক্ষা করাই খ্রিস্টানদের একমাত্র কাজ। এটাই পবিত্র জিহাদ।
এই নতুন দীক্ষিত খ্রিস্টানদের জন্য একটা আলাদা দেশ দরকার হলো। দেশ খুঁজে বের করার নিয়োগ পেল কলম্বাস নামের এক ইহুদী। সে আমেরিকা খুঁজে বের করল।
খ্রিষ্টান ধর্মে তেমন কোন শরিয়ত নাই। খুব সহজ একটা ধর্ম। আমেরিকান ধর্ম যাজকরা দেখল খ্রিষ্টান ধর্মে ইহুদীদের বাঁচানোই সর্বোত্তম জিহাদ তাই তারা সে সুযোগ লুফে নিল। কারন ধর্ম করতে গেলে তো কিছু একটা শরীয়ত লাগবে।
এভাবে ইহুদীরা চক্রান্তের মাধ্যমে খ্রিস্টানদের একটা বড় অংশকে সাহায্যকারী হিসেবে পেয় গেল।
ইহুদীদের হারিয়ে যাওয়া দশ ভাইয়ের নয় ভাই চলে গেল আফগানিস্তান। তারা অতি ধার্মিক মুসলমান হয়ে গেল। ওরা ক্ষমতা দখল করার পর ইহুদিরা দেখল সর্বনাশ। এজন্য বাকি ভাইরা তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে গত বিশ বছর মার খাওয়ালো। আসলে ষড়যন্ত্র ইহুদিদের রক্তে। শিরায় শিরায় রক্ত, ষড়যন্ত্রের ভক্ত।
আসলে ওরা এমন ষড়যন্ত্রকারী, ভাইকে কুয়ায় ফেলে দিতেও দ্বিধাবোধ করে না। তাছাড়া ওদের অন্তর এতো কঠিন যে, ভাইয়ের জন্য বাবার চোখ কাঁদতে কাঁদতে অন্ধ হয়ে যায়, তাও বাবাকে বলে না, ভাইকে বাঘে খায়নি। কুয়ায় ফেলছি, মনে হয় জীবিত আছে।
ইহুদীদের হারিয়ে যাওয়া দশ ভাইয়ের এক ভাইয়ের নাম ডান। সে ছিল সবচয়ে খিপ্র। সে দৌড়িয়ে দ্রুতগামী ঘোড়ার খুর ধরে আরোহীকে ফেলে দিতে পারত।
এই ভাই চলে যায় ইংল্যান্ড। সেখানে তাদের নাম হয় ভাইকিং। তারা সেখানে জলদস্যুতা করত। এরাই বর্তমান কিং। এরা খ্রিষ্টান হলেও রোমান ক্যাথলিকদের আনুগত্য মেনে নেয় না। তারা ইংল্যান্ডে রাজার নামে আলাদা চার্চ দা চার্চ অফ ইংল্যান্ড প্রতিষ্ঠা করে। সে জন্যই ইংল্যান্ড কখনো ইউরোপের অন্য দেশের সাথে মিলে না। ব্রেকজিটের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। তাদের মুদ্রাও আলাদা।
এজন্য ইংল্যান্ড সবসময় চোখ বন্ধ করে আমেরিকার সাথে থাকে। ইহুদীরা ধর্ম পরিবর্তন করে না। এমনভাবে চুপ করে থাকে যে বুঝার কায়দা নেই সে ইহুদী।
হেজেল যখন ইহুদী রাষ্ট্র ইসরাইল প্রতিষ্ঠা করল তখন সেখানে ইহুদীরা আসতে চায় না। প্যালেস্টাইনের ক্যাকটাস গাছের মরুভূমির মধ্যে কে আসবে? তাও মিউনিখ, বার্লিন, প্যারিস, লন্ডন ছেড়ে। এজন্য নিয়োগ করা হলো হিটলারকে যে নিজেও ইহুদী। সে পিটিয়ে ইউরোপের ইহুদীদের ইসরাইল পাঠালো। ইউরোপে ইহুদীরা নির্বাসনে ছিল আল্লাহ কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত হয়ে।
আল্লাহ ওদের নির্বাসন দিয়েছিলেন এক এক জায়গায়। ২০০০ বছর কোন জায়গায় থাকলে ঐ এলাকার একজনের মতো হয়ে যায়। ইহুদিরা চালাক জাতি। যে যেই জায়গায় নির্বাসন পাইছে সে সেই জায়গার নাম, টাইটেল ব্যবহার করছে। যেমন রাশিয়ার ইহুদিরা ইলিয়ভস্কি, জেলোনস্কি, ইন্ডিয়ারগুলো মিত্র, ইরানেরগুলো মির্জা, নাদির, নাভিদ, জার্মানেরগুলো লুই, নুহা ইত্যাদি।
এখন আবার তাদের ফিরে আসা কুরআন অনুযায়ী প্রমান করে, ইয়াজুজ মাজুজ বের হয়ে গেছে। কবি ইকবাল এই ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছিলেন। যা নাকি পবিত্র কুরআনে জেরুজালেম বইয়ে পাবেন।
ইসরাইলে ফিরে আসার কারন হলো,
তৌরাতে আছে, আল্লাহ ওদের নীল নদ থেকে ইউফ্রেটিস পর্যন্ত দিবেন। কিন্তু এর পরের লাইনে যে আছে, এই শর্তে যে, তারা সেখানে, অর্থাৎ পবিত্রভূমিতে গোলমাল করবে না। অর্থাৎ আর্মি বানাবে না, রাষ্ট্র বানাবে না। গোলমাল করলে আবার কঠিন শাস্তি হবে।।
কিন্তু তারা গোলমাল করেছে। ওদের মায়ের পেটের আপন জমজ ভাই প্যালেস্টাইনিদের হত্যা করেছে, বাড়িঘর কেড়ে নিয়ে উদ্বাস্তু বানিয়ে দিয়েছে। খাবার, পানি, ইলেকট্রিসিটি, ইন্টারনেট সব বন্ধ করে দিয়েছে। অর্থাৎ জুলুম করছে। ফলে কুরআন অনুযায়ী তাদের পুনরায় শাস্তি প্রাপ্তির সময় দ্রুত ঘনিয়ে আসছে।
শুধু খ্রিস্টানদের মধ্যেই তারা ফেরকা বানায় নাই। মুসলমানদের মধ্যেও ফেরকা বানিয়ে দিয়েছে।
মুসলমান হাজার জাতী সারা বিশ্বে। কুরআন হাজার জাতিকে এক করেছে তাওহীদের ভিত্তিতে। কিন্তু ইহুদীরা হাদীস ঢুকিয়ে মুসলমানদের মধ্যে ফেরকা বানিয়ে দিয়েছে। কেউ বলে ঘুমাইলে ওযু যাবে, কেউ বলে ঘুমাইলে ওযু যাবে না। কেউ বলে নামাজে পেটে হাত বাধো, কেউ বলে বুকে হাত বাধো। কেউ বলে চেগিয়ে দাড়াও, কেউ বলে চার আঙ্গুল ফাঁক করে দাড়াও। এমন অবস্থা হয়েছিল যে, কাবা ঘরের চারিদিকে আলাদা আলাদা ফেরকা আলাদা আলাদা ইমামের পিছে নামাজ পড়ত।
এই কাজগুলো করেছে ইরানের ইহুদীরা। হজরত উমর জ্ঞানপিপাসু ব্যাক্তি ছিলেন। এছাড়া ইহুদীদের প্রতি একটু দয়া পরবশ ছিলেন। একদিন বাইবেল পরে মহাউৎসাহে নবীজী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলেন। নবীজী রাগে লাল হয়ে গেলেন। বললেন, আজকে মুসা আলাইহিস সালাম থাকলে তাকেও কুরআন অনুসরণ করতে হতো। অর্থাৎ কুরআন অনুসরন করা ব্যতীত মুসাও নিষ্কৃতি পেতেন না।
উমর আল আকসা বিজয়ের পর ইহুদীদের কচুকাটা করেন নাই। সেখানে থাকার অনুমতি দিয়েছিলেন কিছু লোককে। আর কিছু লোককে ইরানে সেটেল করেছিলেন।
যেহেতু ইহুদী ও ইসলাম খুব কাছাকাছি ধর্ম, আল্লাহ কুরআনে আমাদের শিখিয়েছেনও ওদের উদাহরন দিয়ে। তাই তারা সুযোগ পায় ইসলামের মধ্যে দ্রুত অনুপ্রবেশ করতে। যেভাবে তারা খ্রিস্টানদের মধ্যে ফেরকা বানিয়েছে, সেভাবে মুসলমানদের মধ্যেও ফেরকা বানায়। এখনো মাদ্রাসায় ফারসি পড়ানো হয়। যদিও আবার ফার্সিদের শিয়া বলে ঘৃণা করে।
আসলে ইহুদীদের চক্রান্ত বলে শেষ করা যাবে না। শুধু তাই না। তাদের হৃদয়টাও কঠিন। আল্লাহ কুরআনে বলছেন, কিছু কিছু পাথর ফেটে ঝর্ণা বের হয়, কিছু পাথর আল্লাহর ভয়ে ফেটে যায়, ডুবে যায়, কিন্তু ইহুদীদের অন্তর এতো শক্ত যে সেখানে কিছু হয় না।
এতো কিছুর পরও ইহুদীরা বেহেশতে যাবে। কারন জাতি হিসেবে এরা প্রথম আল্লাহর প্রতি বুঝেশুনে ঈমান এনেছে। এর পূর্বে জাতিগতভাবে কেউ ঈমান আনে নাই। আ'দ জাতি, সামুদ জাতিসহ বহু জাতি গেছে, কাজ হয় নাই। জাতি হিসেবে কেউ ঈমান আনে নাই। জাতিগতভাবে সবাই ঈমান প্রত্যাখ্যান করেছে। কিন্তু বনি ইসরাইল সেই সময় ঈমান এনেছে। কোন তলোয়ারের মুখে ঈমান আনে নাই। আমাদের যেমন মক্কা বিজ়য় হয়েছে, পরে আবু সুফিয়ানের মতো বহু লোক রাজনৈতিক ঈমান এনেছে। ওদের ব্যাপারটা সেরকম নয়।
জাতি হিসেবে আল্লাহ তাদের পছন্দ করেছেন। আল্লাহ নিজেই বলেছেন, আমি তাদের জগতসমূহের উপর প্রাধান্য দিয়েছি, জ্ঞানের মাধ্যমে।
আল্লাহ কিন্তু কুরআনের এই আয়াত বাতিল করেন নাই।
এজন্য মানব জাতির জন্য জ্ঞান-বিজ্ঞানের যেকোন জিনিস প্রথম ইহুদিদের মাধ্যমে আসে। ওদের অন্তরে ইলহাম হয়। জাপানিরা পৃথিবীতে সবচেয়ে আইকিউ সম্পন্ন হওয়ার পরও নতুন কিছু আবিষ্কার করতে পারে না। আবিষ্কৃত জিনিস ডেভেলপ করতে পারে। কিন্তু নতুন জ্ঞান মানবজাতির জন্য ইহুদীদের মাধ্যমে আসে। এবং সেটা তারা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেয়। পরে অন্যান্যরা সেটা নিয়ে কাজ করে।
অনেকে বলে তারা মুহাম্মদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নবী মানে না। এটাও ভুল। যেকোন ইহুদি রাব্বি বা খ্রিস্টান ফাদারকে জিজ্ঞেস করলে জানবেন, মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে? তারা বলবে, প্রফেট। চ্যাট জিপিটিকে জিজ্ঞাসা করেও দেখতে পারেন, হু ইজ মুহাম্মদ? তবে স্বভাব অনুযায়ী তারা একটু ঘুরিয়ে ঘাড়িয়ে স্বীকার করে, প্রফেট।
কিন্তু তারা শরীয়ত মানে তওরাতের। কুরআন অনুযায়ী, বেহেস্তে যাওয়ার জন্য সর্বনিম্ন ক্রাইটেরিয়া হলো, আল্লাহকে বিশ্বাস, পরকালে বিশ্বাস, ও সৎ কাজ।
তবে এটা সত্য, ওরা চক্রান্ত করেছে। আল্লাহ বলেছেন, আমি আরো বেশি চক্রান্ত করি। কারণ আল্লাহ তাদের চক্রান্তকে পজিটিভ দিকে ঘুরিয়ে দেন। যেমন, এক ভাইকে দশ ভাই মিলে কুয়ায় ফেলে দিয়েছে। কিন্তু আল্লাহ তাদের সবাইকে, সেই কুয়ায় পড়া ভাইয়ের মাধ্যমে তাদের সবাইকে মিশরে ভিআইপি করে সেটেল করে দেন।
আল্লাহ ওদের কুরআনে অনেক বকাবকি করেছেন। ওরা বলে, আল্লাহ আমাদের ভালোবাসেন বলেই বকাবকি করেছেন। জাপানিদের তো আল্লাহ বকা দেন নাই।
কুরআনে ওদেরকে আল্লাহর নিন্দা দেখে মুসলমানরাও গালাগালি করে। মুসলমানরা বুঝে না যে ওরা আল্লাহর ক্রীতদাস। আল্লাহ তাদের জান্নাতী খাবার খাওয়ায়েছেন। আপনাকে খাওয়ায়েছেন? মুসলমানরা আল্লাহর দাস। মুসলমানরা তখনই ক্রীতদাস হবে যখন সে জান্নাতে যাবে। বেলা বহুদূর।
আল্লাহ নদীর উপরে ওদের কর্তৃত্ব দিয়েছিলেন। তাদের জন্য নদী দুই ভাগ হয়ে গেছে। মুসলমানরা নদীর স্রোতের উপর এমন কর্তৃত্ব পাবে জান্নাতে। সেখানে সে নদীর গতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
মুসলমানদের ভাগ্য ভালো যে এরপর আসমানী কিতাব আসবে না। আসলে বুঝা যেত, মুসলমানদের আল্লাহ কিভাবে বকাবকির মাধ্যমে হোয়াইট ওয়াশ করেন।