30/08/2026
নেপালের বিপর্যয় বাংলাদেশের জন্যও সতর্কবার্তা
সাইমন মোহসিন
নেপালের জন্য এখন দরকার জরুরি উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনরুদ্ধার।
বাংলাদেশের জন্য জরুরি প্রস্তুতি।
বাংলাদেশের বুঝতে হবে-আন্তর্জাতিক জলবায়ু ন্যায়বিচার আমাদের নিজস্ব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে পারে না
নে পাল আজ শোকাহত। বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে পুরো জনপদ; প্রিয়জনের খোঁজে অপেক্ষা করছেন অসংখ্য পরিবার। ভেসে গেছে সড়ক, সেতু, ঘরবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এমন এক ভয়াবহ দুর্যোগের মুহূর্তে প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব হলো শোকাহত মানুষের প্রতি সম্মান জানানো- নেপালের প্রতি সম্মান, প্রাণ হারানো মানুষদের প্রতি সম্মান, নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে অপেক্ষমাণ পরিবারগুলোর প্রতি সম্মান এবং নিজেদের জীবন বিপন্ন করে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাওয়া উদ্ধারকর্মীদের প্রতি সম্মান।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ঘটে যাওয়া এই বিপর্যয়ের প্রকৃত মাত্রা এখনও স্পষ্ট হচ্ছে। বরফ ও পাথরের বিপুল ধসের পর সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা মুহূর্তের মধ্যে বিপুল পরিমাণ পানি, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নিচের দিকে ধেয়ে নিয়ে যায়। ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপকতা ভয়াবহ; শত শত মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনও নিখোঁজ। কিন্তু নেপালের এই মর্মান্তিক বিপর্যয় বাংলাদেশের জন্যও একটি বার্তা বহন করে। এটি একটি সতর্কসংকেত।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও ভূতাত্ত্বিক বাস্তবতা নেপালের সঙ্গে এক নয়। কিন্তু দুটি দেশই এমন একটি অঞ্চলের অংশ, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন, অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাত, ভঙ্গুর প্রতিবেশব্যবস্থা, দ্রুত ও অপরিকল্পিত উন্নয়ন, বিপুল জনঘনত্ব এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সীমাবদ্ধতা- সবকিছু মিলিয়ে একটি প্রাকৃতিক ঝুঁকিকে মুহূর্তের মধ্যে জাতীয় বিপর্যয়ে পরিণত করতে পারে। আর বাংলাদেশ এই বাস্তবতার অভিজ্ঞতা ইতোমধ্যেই অর্জন করেছে। এ ধরনের বিপর্যয়ের পেছনে একটি অস্বস্তিকর সত্য রয়েছে- জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি যেসব দেশকে বহন করতে হচ্ছে, তাদের অনেকেই এই সংকট সৃষ্টির জন্য ঐতিহাসিকভাবে খুব সামান্যই দায়ী। বিশ্বের মোট ঐতিহাসিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে নেপালের অবদান অত্যন্ত নগণ্য। বাংলাদেশের অবস্থাও একইরকম- বিশেষ করে মাথাপিছু ও ঐতিহাসিক নিঃসরণের বিচারে। অথচ কয়েক দশক ধরে জীবাশ্ম জ্বালানি, কার্বননির্ভর শিল্পায়ন এবং অতিরিক্ত ভোগের ওপর দাঁড়িয়ে গড়ে ওঠা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পরিণতি আজ বহন করতে হচ্ছে নেপাল, বাংলাদেশসহ বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোকে। হিমালয় এখন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু সতর্কীকরণ অঞ্চল। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিমবাহ দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে, পাহাড়ি পরিবেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট হচ্ছে। পারমাফ্রস্টের অবক্ষয়, বৃষ্টিপাতের ধরন পরিবর্তন এবং উষ্ণায়নের সম্মিলিত প্রভাবে তুষারধস, ভূমিধস, হিমবাহ-সৃষ্ট বন্যা এবং একের পর এক পরস্পর-সংযুক্ত দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
নেপালের এই নির্দিষ্ট বিপর্যয়ের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক নির্ধারণে অবশ্যই বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান প্রয়োজন। শুধু জলবায়ু পরিবর্তনকেই এই ঘটনার একমাত্র কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা দায়িত্বশীল হবে না। কিন্তু যে বৃহত্তর জলবায়ু বাস্তবতায় এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে, সেটিকে উপেক্ষা করাও
সমানভাবে দায়িত্বহীনতা। এখানেই বৈশ্বিক দক্ষিণের জলবায়ু অবিচারের প্রশ্নটি সামনে আসে
শিল্পোন্নত বিশ্ব যে অর্থনৈতিক মডেলের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ সৃষ্টি করেছে, তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিপুল পরিমাণ ঐতিহাসিক কার্বন নিঃসরণ। অথচ নেপাল ও বাংলাদেশের মতো দেশগুলোকে এখন সেই পরিবর্তিত জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাওয়াতে তাদের সীমিত সম্পদ ব্যয় করতে হচ্ছে- যে সংকট তৈরিতে তাদের ভূমিকা ছিল অতিসামান্য। তাই জলবায়ু ন্যায়বিচারের অর্থ কেবল ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে আরও সহনশীল হতে বলা নয়।
যেসব দেশ ও অর্থনীতি ঐতিহাসিকভাবে সবচেয়ে বেশি নিঃসরণের জন্য দায়ী, তাদের আরও দ্রুত নিঃসরণ কমাতে হবে। নিশ্চিত ও পূর্বানুমানযোগ্য জলবায়ু অর্থায়ন দিতে হবে, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় অর্থ দিতে হবে, প্রযুক্তি হস্তান্তর করতে হবে এবং জলবায়ু সহায়তাকে দাতব্য অনুদান হিসেবে দেখার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কারণ এটি ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক ঝুঁকির একটি অসম বণ্টনের মূল্য। দুর্যোগ বাংলাদেশকে নতুন করে চিনিয়ে দেওয়ার
প্রয়োজন নেই। বন্যা, আকস্মিক বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন ও ভূমিধস এখন বাংলাদেশের বাস্তবতার পুনরাবৃত্ত উপাদান। চলতি বছরের জুলাই মাসেই ভারী বৃষ্টিপাত, উজানের পানির প্রবাহ ও ভূমিধসের কারণে দেশের ১০টি জেলায় ১১ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
বাংলাদেশের ভূগোলই দেশটিকে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। আমরা হিমালয় থেকে নেমে আসা বিশাল নদীব্যবস্থার নিম্ন অববাহিকায় এবং একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের প্রান্তে অবস্থান করছি। পাহাড়ে যা ঘটে, তার প্রভাব সব সময় পাহাড়েই সীমাবদ্ধ থাকে না। তাই উষ্ণ হয়ে ওঠা হিমালয় শুধু নেপালের সমস্যা নয়; এটি বাংলাদেশেরও সমস্যা। তবে বাংলাদেশের ঝুঁকি শুধু বন্যায় সীমাবদ্ধ নয়।
চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চল বা পার্বত্য চট্টগ্রামও ক্রমবর্ধমানভাবে ভারী বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, অতিবৃষ্টিজনিত ভূমিধস এবং আকস্মিক বন্যাকে সেখানে বড় ধরনের জলবায়ু ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত
হয়েছে আরেকটি বড় আশঙ্কা- ভূমিকম্প।
বাংলাদেশ নেপাল নয়। কিন্তু বাংলাদেশও ভূমিকম্পের ঝুঁকিমুক্ত নয়। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা ভূমিকম্পপ্রবণ। আর ঢাকার ক্ষেত্রে বিপদের মাত্রা আরও ভয়াবহ হতে পারে।' । বিপুল জনসংখ্যার ঘনত্ব, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, সরু সড়ক এবং দুর্যোগের পর জরুরি উদ্ধারকাজ পরিচালনার সীমিত সুযোগ-সবকিছু মিলিয়ে একটি বড় ভূমিকম্প ঢাকাকে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে বিষয়টি আরও জটিল। কাপ্তাই বাঁধ ও জলাধার বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর অংশ। এই অঞ্চলে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে বাঁধটির কাঠামোগত নিরাপত্তা, জলাধারের সম্ভাব্য প্রভাব, নিম্নাঞ্চলে ঝুঁকি এবং জরুরি সরিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে কঠিন প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এটি কোনোভাবেই এমন পূর্বাভাস নয় যে, ভূমিকম্প হলে কাপ্তাই বাঁধ ধ্বংস হবেই। বরং প্রশ্নটি আরও মৌলিক ভূমিকম্প হওয়ার আগেই আমরা কি নিশ্চিত হতে চাই না যে, এমন পরিস্থিতিতে আমাদের প্রস্তুতি যথেষ্ট?
কারণ দুর্যোগের ক্ষেত্রে প্রতিরোধ ও প্রস্তুতির ব্যয় প্রায় সব সময়ই পুনর্গঠন ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার চেয়ে কম। বাংলাদেশ অবশ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য সাফল্যও দেখিয়েছে। ১৯৭০ সালের তুলনায় ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানি কমাতে বাংলাদেশ প্রায় ১০০ গুণ সাফল্য অর্জন করেছে। এই সাফল্য আমাদের আত্মবিশ্বাসী করবে- কিন্তু আত্মতুষ্ট নয়। নেপালের এই বিপর্যয় বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করার কারণ হওয়া উচিত নয়। বরং এটি হওয়া উচিত প্রস্তুতির আহ্বান। সরকারকে জলবায়ু ও দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতাকে জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও অতিবৃষ্টির জন্য আরও কার্যকর রিয়েল-টাইম আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তৈরি করতে হবে উচ্চনির্ভুলতার দুর্যোগ ঝুঁকি মানচিত্র। ভবন নির্মাণ বিধিমালা কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। স্কুল, হাসপাতাল, সেতু এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিয়মিত ভূমিকম্প-নিরাপত্তা নিরীক্ষা করতে হবে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও
পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য বাস্তবসম্মত জরুরি সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকতে হবে।
কাপ্তাই বাঁধেরও প্রয়োজন একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন ভূমিকম্প সহনশীলতা এবং কাঠামোগত নিরাপত্তা মূল্যায়ন। সম্ভাব্য সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে জলপ্রবাহের মডেলিং এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বাস্তবভিত্তিক সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও থাকা জরুরি।
আমাদের নগর পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন আনতে হবে। জলাভূমি ভরাট, প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সংকুচিত করা, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ঢালে বসতি স্থাপন এবং পরিবেশগত সক্ষমতা বিবেচনা না করে নগর সম্প্রসারণ- এসব বন্ধ করতে হবে। তবে দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়। জলবায়ু সহনশীলতা একটি সামাজিক দায়িত্বও।
মানুষকে জানতে হবে জরুরি পরিস্থিতিতে কোথায় আশ্রয় নিতে হবে। স্কুলে নিয়মিত ভূমিকম্প ও বন্যা মহড়া হওয়া উচিত। ভূমিধসপ্রবণ এলাকার মানুষকে ভূমিধসের পূর্বলক্ষণ এবং জরুরি করণীয় সম্পর্কে প্রশিক্ষিত করতে হবে। ভবন পরীক্ষা করতে হবে, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং প্রতিটি পরিবারকে ন্যূনতম জরুরি সরঞ্জাম ও যোগাযোগ পরিকল্পনা রাখতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, পরিবেশ ধ্বংসকে 'অন্য কারও সমস্যা' হিসেবে দেখার মানসিকতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। পাহাড় কাটা, জলাভূমি দখল, পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করা, নদীতে বর্জ্য ফেলা এবং অপরিকল্পিত নির্মাণ হয়তো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য স্বল্পমেয়াদি সুবিধা তৈরি করে। কিন্তু সম্মিলিতভাবে এগুলো আমাদের পুরো সমাজকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। নেপালের মানুষের এখন প্রয়োজন সংহতি, সহায়তা এবং শোক করার সময়। তাদের এই বিপর্যয়কে কেবল জলবায়ু পরিবর্তনের একটি সুবিধাজনক উদাহরণে পরিণত করা উচিত নয়। কিন্তু নেপালের এই দুর্ভোগ বাংলাদেশের জন্য এমন একটি বার্তা বহন করছে, যা উপেক্ষা করার সামর্থ্য আমাদের নেই।
জলবায়ু সংকট আর কোনো দূরবর্তী ভবিষ্যতের পূর্বাভাস নয়। এটি এখন একের পর এক পরস্পর-সংযুক্ত ঝুঁকির বাস্তবতা- হিমবাহধসের পর আকস্মিক বন্যা, অতিবৃষ্টির পর ভূমিধস, ভূমিকম্পের পর অবকাঠামো ধস এবং দুর্যোগের পর বাস্তুচ্যুতি, রোগব্যাধি, অর্থনৈতিক ক্ষতি ও সামাজিক অস্থিরতা। নেপালের জন্য এখন দরকার জরুরি উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনরুদ্ধার। বাংলাদেশের জন্য জরুরি প্রস্তুতি। বাংলাদেশের বুঝতে হবে-আন্তর্জাতিক জলবায়ু ন্যায়বিচার আমাদের নিজস্ব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে পারে না।
আমাদের প্রয়োজন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, দূরদর্শী পরিকল্পনা, নিরাপদ অবকাঠামো, বৈজ্ঞানিক ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং এমন জনগোষ্ঠী, যারা দুর্যোগকে বিপর্যয়ে পরিণত হওয়ার আগেই মোকাবিলা করতে সক্ষম। প্রশ্নটি উন্নয়ন বনাম দুর্যোগ-সহনশীলতার নয়। প্রশ্ন হলো- আমরা কি এমন উন্নয়ন গড়ে তুলছি, যা ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে টিকিয়ে রাখতে পারবে?
সাইমন মোহসিন: রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক বিশ্লেষক