06/12/2019
সকল ফটোগ্রাফারদের জন্য আমার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর ঃ -
গত ১২ নভেম্বর সকাল ৫টায় আমি একটা উইন্টার ফটোশুটের জন্য ঘর থেকে বের হই ,যার ফটোশুটের জন্য আমি এত ভোরে বের হই সে আমাকে বলল তার ফ্যামেলিতে জানলে প্রব্লেম হবে তাই সে সকালের মধ্যেই বের হবে এবং সকাল ৮ টার মধ্যেই বাসায় চলে আসবে,সেই অনুযায়ী আমি উইন্টার ফটোশুটের জন্য কিছু কাপড় এবং আমি আমার 5D MARK (III) camera, 70-200 (L) f2.8 Lens , 35MM f1.2 Lens আর কিছু ক্যামেরা গিয়ার নিয়ে যার ফটোশুট করব তার পছন্দ অনুযায়ী কাট্টলী (কর্নেল হাট) এর পশ্চিম দিক দিয়ে রেল লাইন পার হয়ে টোল রোডের নীচে দিয়ে টোল রোডের পরে আরো হাফ কিলোঃ হেটে ব্রিক ফিল্ডের কাছাকাছি জায়গায় সকাল ৭টা পর্যন্ত ফটোশুট করি,জায়গাটি একটু নীরব এবংসামান্য কদমাক্ত হওয়াতে আমি এই ছেলেকে জিজ্ঞেস করি এত ভিতরে আর এই কদমাক্ত জায়গায় কেন এল? সে বলল এইখানে কুয়াসা র জন্য উইন্টার environment ভাল বুঝা যাবে,যাক আমি ও সেটাই ভাব্লাম , অবশেষে ফটোশুট সকাল ৭ টার মধ্যে শেষ করে চলে আসব বলে সব কিছু ঘুছিয়ে নিচ্ছিলাম এমন সময় ওই ছেলে বল্ল সে একটু প্রশ্রাব করবে বলে একটু আড়ালে যায়,আমিও আমার সব কিছু গুছাচ্ছিলাম ,এমন সময় ৩/৪ জন ছেলে আমাদের দিকে আসতে দেক্লাম ,তাদের মধ্যে একজন জুতা খুলে একটু তাড়াতাড়ি আমাদের দিকে অগ্রসর হয়ে আমাদের দিকে আসছিল কাছাকাছি আসলে দেখি তাদের মুখমন্ডল ১০ টাকা দামের মাস্ক লাগানো, আমাদের জিজ্ঞেস করছে আমরা কি করছি? আমি বল্লাম আমি ফটোগ্রাফার উইন্টার ফটোশুটের কাজ করছি , এর মধ্যেই তারা ৩/৪ জন আমার ক্যামেরা নিয়ে টানাটানি করতে থাকে, আমি তখন নীজের ক্যামেরা রক্ষা করার জন্য ওদের বলি আমি সাংবাদিক ,আমার কোন কিছুতে যেন তারা হাত না দেয়,এবং ৯৯৯ এ কল করে পুলিশ কল করব বলে হুমকি দেই , এবং ওই ছেলেকে ও ৯৯৯ এ কল করতে বলি,এই সময় ওরা ২জন আমাকে সামনে পিছন থেকে জোড় করে পা টেনে মাটিতে ফেলে দেয় আমি ক্যামেরা টি রক্ষা করার চেষ্টা করি এই ফাকে ওরা আমার কাছে রাখা HUAWEI P30 যার মডেল নং-L29, IMEI 1: - 000000000000, IMEI 2:000000000000 ,S/N : 0000000000000 (বিশেষ দ্রঃ- পুলিশি তদন্তের জন্য সঠিক নাম্বার দিলাম না ) নিয়ে নেয়,এমন কি আমাকে পেটে ছুরিকাগাত করতে চেষ্টা করে, আমি আমার ডান হাত দিয়ে রক্ষা করতে গিয়ে আমার ডান হাতের ব্রিদ্দা আংগুল এবং তরজনীর মাঝখানে তালু পর্যন্ত কেটে যায়,এর পর ও তারা একজন আমাকে পা চেপে ধরে টেপ দিয়ে আমার দুই পা পেচিয়ে ফেলে,আরেক জন আমার দুই হাত এবং মুখ পেচাতে থাকে ,একি সময়ে একজন আমার পেটে উপর্যপরি লাথি মারতে থাকে , এক পর্যয়ে আমার হাত থেকে রক্ত যাওয়ায় এবং পেটের ব্যাথায় দূরবল হয়ে পড়ে থাকি, কিছুক্ষন পড়ে চোখ এর টেপ এর বাদনের সামান্য ফাক দিয়ে আবছা দেখতে পাই আমি যেই ছেলের ফটোশুটের কাজে গিয়েছিলাম সে আমার হাত,পা , মুখের বাধন খুলে আমাকে অনেক কষ্ট করে তুলে ওর কাধে আমি দুই হাত ভর করে (পেটের ব্যাথায় সোজা হয়ে ঠিকমত দাড়াতেও পারছিলাম না,) আস্তে আস্তে প্রায় ১০ মিনিট খুরিয়ে হেটে একটা তরকারী বিক্রেতার ভ্যান এবং একটি সিএনজি করে ওই ছেলেটি আমাকে আল-আমিন হাসপাতালে আমাকে নিয়ে এসে সে চলে যায়,তখন আমার হাতের কাটা স্থান একটি গেঞ্জি দিয়ে মোড়ানো,কিন্ত পেটে প্রচন্ড বেথায় আমি কাতরাচ্ছিলাম, এমতাবস্থায় আমার কোন মোবাইল না থাকার কারনে আমি কাউকে কল ও দিতে পারছিলামনা, পরে হাসপাতালের দাড়োয়ান এর মোবাইল থেকে আমি আমার স্ত্রী কে কল দেই, আমার স্ত্রী আমাকে এই অবস্থায় দেখে আল-আমিন হাসপাতালে Admit করায় এবং কত্যব্যরত ডিউটি ডাক্তার আমার হাত সেলাই করে ,আমার আল্ট্রাস নো করে আমার চিকিতসা অত্র মেডিকেল করতে পারবেনা বলে অপরাগত প্রকাশ করে,এমতাবস্থায় আমার স্ত্রী কোন উপায় না দেখে আমার কিছু বন্ধুকে কল দেয়,এবং আল-আমিন হাসপাতালের বিল পরিশোধ করে আমাকে আমার বন্ধুর গাড়ির মাধ্যমে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ভত্তি করায়,ইমারজেন্সিতে আমার অবস্থা অবনতি দেখে আমাকে আই সি ইউ তে নিয়ে যায়,এবং পুনরায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তার গন আমার আল্ট্রাসনো করে নিশ্চিত হয় আমার পেটে উপর্যপরি লাথি মারার কারনে আমার খাদ্যনালি ছিদ্র হয়ে যায়,এবং ঠিক সময়মত অপারেশন না করলে আমার মৃত্যু হয়ে যেতে পারে, আর অপারেশন হলেও ৩০% বাচার সম্ভাবনা ছিল, এমতাবস্থায় আমার স্ত্রী র অনুমতি নিয়ে ১২ তারিখ রাত আনুমানিক ৯ ঘটিকায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার Prof.Dr.JU Ahmed (FCPS Surgery),Dr. Nayan, and Dr,Kawser Alam আমার অপারেশন করেন, অপারেশন এর আগের ৭/৮ ঘন্টা এবং অপারেশনের পরে ও কত ঘন্টা আমার কোন জ্ঞান ছিলনা , জ্ঞান ফিরার পর আমি ৭/৮ দিন অক্সিজেন রত অবস্থায় ছিলাম,কোন কথা বলতে পারছিলাম না,এই ৭/৮ দিন আমাকে এক ফোটা পানিও দেওয়া হয় নাই, আল্লাহর অশেষ রহমতে ,আমার মা বাবার ,স্ত্রী, পরিবারের মুরব্বিদের দোয়ার বরকতে , বন্ধুদের অক্লান্ত সহযোগীতা ,সরবোপরী ডাক্তার ,নার্স দের অফুরন্ত সহযোগীতার কারনে আমি বেচে এসেছি,
যাদের কাছে আমি চিরঋন ই -
আমার বন্ধু ইফতি, রেজা,মিতু ভাবি,তানভির, রানা,রানার বউ, গিয়াস,আরিফ,সাইফুল,ইলিয়াস, আমার ছোট ভাই সাকিল ,আল্ভি
আলি বাবু (ঢাকা)
আরো আমার অনেক স্কুল ফ্রেন্ড রা যারা আমাকে দূর থেকে দোয়া করেছেন,
কিন্ত ডাক্তার আমাকে ৩ মাস কমপ্লিট বেড রেস্টে থাকতে বলেছে,
আমার এই ঘটনা টি আমি লিখলাম এই কারনে আমার মত আর যে সকল ফটোগ্রাফার যেন প্রয়োজনীয় protection এবং অপরিচিত Location, এবং কাউকে সে যতই পরিচিত হোক না কেন তাকে বিশ্বাস না করে আরো ২/৩ জন সংগী নিয়ে কাজে যাওয়া,কোথায় কোন স্থানে যাবে সেই স্থানের details পরিবারের আপন কাউকে জানিয়ে যাওয়া,
এছাড়া বিপদের সময়ে যাতে সকল ফটোগ্রাফার ভাই বোন , ফটোগ্রাফার এর দের কাজের সংগে জড়িত সক ল সাংবাদিক গন , মডেল, শিল্পী, কলাকূশলী,মিডিয়া আর্থিক ভাবে এমন কি যে যার যার স্থান থেকে সহোযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়
Md Hasan Jisan