27/01/2021
𝙠𝙝𝙖𝙣 𝙈𝙪𝙝𝙖𝙢𝙢𝙖𝙙 𝙈𝙧𝙞𝙙𝙝𝙖 𝙈𝙖𝙨𝙟𝙞𝙙, 𝙾𝚕𝚍 𝙳𝚑𝚊𝚔𝚊🕌🏯
মোগল আমলের সাক্ষ বহনকারী এই প্রাচীন মসজিদটি কেল্লার গেইট থেকে মাত্র ৩০০ মিটার পশ্চিম দিকে এগিয়ে অবস্থিত।
অনেকেই তো লালবাগ কেল্লা ঘুরে দেখেন,কিন্তু এই মসজিদটির অবস্থান সম্পর্কে জানেন না।তাতে কি!এর পরের বার না হয় ঘুরে এলেন মসজিদ থেকে।চাইলে নামাজও পড়ে নিতে পারবেন।
বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৭০৪-১৭০৫ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার প্রধান কাজী, কাজী খান মোহাম্মদ এবাদউল্লাহ নির্দেশে খান মোহাম্মাদ মৃধা এই মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। প্রায় ১৭ ফুট উচুঁ প্লাটফর্মের উপর বানানো হয়েছিল মসজিদটি। মূল মসজিদের কাঠামো তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এবং এর চারিদিকে ছোট ছোট প্রায় বিশ-পঁচিশটি মিনারের মত কাঠামো রয়েছে। মসজিদের নিচের তলায় লালবাগ কেল্লার কর্মচারীদের থাকার স্থান করে দেয়া হয়েছে। ওপর তলায়ই নামাজ পড়া হয়। মসজিদটির উত্তর পূর্ব কোণে রয়েছে একটি ছোটখাটো মাদ্রাসা। ডানপাশের বাগানের পাশেই রয়েছে একটি পরিত্যক্ত কুয়া। আগে এই কুয়া থেকেই মসজিদের পানি সরবরাহ করা হত। মসজিদ আর মাদ্রাসা ছাড়া বাকি অংশ একদমই উন্মুক্ত। ধারণা করা হয় এখানেই শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হতো। আর নীচের ঘরগুলো ছিল থাকার জায়গা।
ইতিহাসবিদ মুনতাসির মামুনের তথ্যমতে, নায়েবে নাজিম ফররুখ শিয়রের আমলে ঢাকার কাজী খান মোহাম্মদ এবাদউল্লাহর নির্দেশে খান মোহাম্মদ মৃধা এই মসজিদ নির্মাণ করেন। দোতলা এ মসজিদের সাথে ঢাকার অন্যসব মুঘল আমলের মসজিদের রয়েছে বেশ বৈসাদৃশ্য। প্রাচীরবেষ্টিত মসজিদ আঙিনার সাথে লালবাগ কেল্লার গাম্ভীর্যের স্বরূপ ফুটে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনটি বড় গম্বুজ ও অল্পকিছু লম্বা মিনার বিশিষ্ট এ মসজিদের উচ্চতা নিচ থেকে ৫.১৮ মিটার। উত্তর থেকে দক্ষিণে যার দৈর্ঘ্য ৩৮.১০ এবং পূর্ব থেকে পশ্চিমে যার দৈর্ঘ্য ২৮.১৬ মিটার। সপ্তদশ শতাব্দীতে সম্রাট শাহজাহান কর্তৃক নির্মিত দিল্লির লালকেল্লার সাথে এ মসজিদের অল্পবিস্তর সাদৃশ্য পাওয়া যায়। যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে: বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর একে সংরক্ষিত প্রত্নসম্পদ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে তার প্রাঙ্গণে একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর খান মোহাম্মদ মৃধা মসজিদকে সংরক্ষিত প্রত্নসম্পদ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। অধিদপ্তরের অনুমতি ব্যতিরেকে এর কোন অংশ ধ্বংস বা ক্ষতিসাধন করা যাবেনা। যদি কারো দ্বারা এমন হয় তবে এক বছরের সাজা ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। মসজিদটি প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রাধীন থাকলেও কমিটির মাধ্যমে এটি পরিচালনা করছেন স্থানীয়রাই। মসজিদ কমিটিই এলাকাবাসীর সহযোগিতায় এটি পরিচালনা করেন বলে জানালেন মসজিদের খাদেম। মসজিদটিতে মোট চারজন স্থায়ীভাবে কর্মরত রয়েছেন।
Tοwsif Photography