F.A.N STORY

F.A.N STORY photographer

09/08/2023

#পিচ্চি_ছাত্রী🥰
#নিঁলঁয়ঁ_
পর্বঃ১১

মনে হচ্ছে রাতটা অনেক বড় হয়ে গেছে,,,সময় যেনো যাচ্ছেই না।

আরিয়ানের একটাই চিন্তা,,,কখন সকাল হবে।এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ে আরিয়ান।

সকালে আম্মুর ডাকে ঘুম থেকে উঠলাম।ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি 8:00 টা বেজে গেছে।ওহ আল্লাহ অনেকটা দেরি হয়ে গেছে।ঐ ছেলেটাতো আমাকে সকালবেলা তারাতারি যেতে বলেছিলো নিঝুমদের বাড়ীতে।আমি খুব দ্রুত ফ্রেস হয়ে রুম হতেই বের হতেই,,,

এই আরিয়ান কই যাচ্ছিস,,,নাস্তাটা করে যা বাবা।

না মা খাবোনা এখন।

খেয়ে যা বাবা।না খেয়ে থাকলে শরীর খারাপ করবে।

সময় নেই মা।

কোথায় যাচ্ছিস সেটাতো বলে যা,,,

পরে এসে বলবো।

রাস্তায় এসেই রিকশা নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম।রিকশা তার আপন গতিতে চলছে,,,কিন্তু আমার মনে শুধু একটা কথাই বাজছে হঠাৎ আমাকে নিঝুমদের বাড়িতে কেনো ডাকা হয়েছে।

পৌঁছে গেলাম নিঝুমদের বাসায়।

ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে নিঝুমদের বাসায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।ভয়ে আমার বুকে ধুক ধুক শব্দ হচ্ছে।বুকে সাহস নিয়ে ভয়ে ভয়ে দরজার সামনে গিয়ে কলিং বেলে একবার চাপ দিলাম।কিন্তু কেউ দরজা খুললো না তাই আর একবার কলিংবেল চাপ দিতেই দরজা খুলে দিলো।

আরে ভাইজান।দুইদিন ধরে বাসায় আসেন না যে,আপাকে পড়াতে,,,?(দরজা খুলেছে কাজের মেয়ে নদী)

নিঝুম কোথায়,,,,?(আগে আমি আসার সময় হলেই নিঝুম দরজা খুলে দিতো।তাই জিজ্ঞেস করা)

আপামনি বাসায় নাই।

কার সাথে কথা বলতেছিস রে নদী।(আংকেল ওনার ঘরে থেকে)

স্যার নিঝুম আপারে পড়ায় সেই স্যার আসছে।

ওকে ভিতরে আসতে বলো।

আংকেলের কথা শুনে ভিতরে গেলাম।দেখছি আংকেল সোফায় বসে চা খাচ্ছেন।আর খবরের কাগজ পড়ছেন।

আরিয়ান বাবা আসো এখানে বসো।

জ্বি আংকেল।
(আংকেলের পাশের সোফায় বসলাম)

নদী আরিয়ানের জন্য চা নিয়ে আয়।

আনছি বড় সাহেব।

নদী এসে আমাকে চা দিয়ে গেলো।কি ব্যাপার নিঝুম কি বাসায় নেই,,,?নিচে আসছে না কেনো।ওতো আমি আসলে এতোক্ষণ রুমে থাকে না।ওহ করতো কাল বিয়ে হওয়ার কথা ছিলো।এখন হয়তো শ্বশুর বাড়ি(হঠাৎ মনে পড়লো বিয়ের কথা)

তো বাবা কেমন আছো তুমি,,,?

জ্বি আংকেল ভালো আছি আপনি?

ভালো আর কই রাখলে,,,?(আংকেলের আকস্মিক এমন কথার মানে বুঝলাম না)

কেনো আংকেল কি হয়েছে।

শুনলাম তুমি নাকি আমার মেয়েকে প্রেমের জালে ফাসিয়েছো,,,?
তোমার সাহস কি করে হলো।তুমি কি ভেবেছো আমার মেয়েকে বিয়ে করে আমার সব সম্পত্তির মালিক হতে চাও,,,?আমি এটা কখনো হতে দিবো না।আমি তোমাকে জেলের ভাত খাইয়ে ছারবো।(খুব কঠিন গলায়)

জেলের কথা শুনেই আমার গলা শুকিয়ে গেছে।ইচ্ছে করছে এক দৌড়ে পালিয়ে যাই।কিন্তু আমি পালিয়ে গেলে হবে না।আমি তো কখনো নিঝুমকে বলিইনি আমি তোমাকে ভালোবাসি।তাহলে সম্পত্তির কথা আসলো কোথা থেকে,,,নিঝুমের জন্য আমার মনে ভালোবাসা সৃষ্টি হলেও তাকে কখনো বলা হয়নি।

বলো কতো টাকা হলে তুমি আমার মেয়েকে ছেড়ে দিবে।আমি বাবা হয়ে কখনো চাইবো না আমার মেয়ের কোন এক গরীব ঘরে বিয়ে হোক।
(আংকেলের বলা কথা গুলো মাথার উপর দিয়ে গেছে)

আংকেল আপনি আমাকে হাসালেন।ভালোবাসা কখনো টাকা দিয়ে কেনো যায় না।ভালোবাসা হয় একটা সুন্দর মন থেকে,,,টাকা দেখে না।হুম আপনার মেয়েকে আমি ভালোবাসি।কিন্তু আমি তা কখনো প্রকাশ করিনি।যেখানে ভালোবাসাই প্রকাশ হয়নি সেখানে টাকার প্রশ্ন আসলো কোথা থেকে।

এমন জ্ঞান দেওয়া কথা অনেক শুনেছি।তোমাকে আমি জ্ঞান দিতে বলিনি।টাকা ছাড়া পৃথিবী অচল।বলো কতো টাকা চাই তোমার।যতো টাকা চাইবে ততো দিবো,,,তবুও আমার মেয়ের জীবন থেকে চলে যাও,,,

আংকেল আমি আগেও বলেছি এখনো বলছি আমি আমার ভালোবাসা কখনো নিঝুমের সামনে প্রকাশ করিনি।আর করবোও না।তবে একটা কথা না বললে নয়,,,টাকা কখনো জীবনে প্রকৃত সুখ দিতে পারবে না।আর কখনো কারো ভালোবাসা টাকা দিয়ে ক্রয়-বিক্রয় করবেন না।আসি ভালো থাকবেন।দোয়া করবেন যাতে আর কখনো এই বাড়িতে আসতে না হয়,,,

এই বলে বসা থেকে উঠে চলে আসতে যাবো,,,

এই বাড়িতে তুমি না আসলে আমার মেয়ের জামাই কোথায় আসবে শুনি,,,

মানে বুঝলাম না আংকেল।

তোমাদের সম্পর্ক আমি মেনে নিয়েছি।

মাথা নিচু করে আছি,,,,

কিছুক্ষন আগে বলা কথা গুলো নিয়ে ভাবছোতো,,,,,?ওগুলো বলে একটু বাজিয়ে দেখছিলাম,,,তুমি সত্যি আমার মেয়েকে ভালোবাসো কিনা।
আচ্ছা চলো,,,অনেক বেলা হয়ে গেছে,,,নিঝুমকে দেখতে যাবো,,,

নিঝুম বাড়িতে নেই,,,(কথাটা গলায় আটকে বললেন)

তাহলে কোথায় আংকেল,,,কোথাও বেড়াতে গেছে নাকি,,,?

হুম,,,তবে বেড়াতে যায়নি।হাসপাতাল গেছে,,,

কেনো,,,,,?

নিশ্চয়ই জানো গতকাল নিঝুমের বিয়ে হওয়ার কথা ছিলো,,,,,

হুম।

এই বিয়েতে নিঝুমের সম্পূর্ণ অমত ছিলো।তবুও আমরা জোর পূর্বক ওর বিয়ে দিতে চেয়েছিলাম।কিন্তু বিয়ের পূর্ব মুহূর্তে ও হাতের শিরা কেটে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলো।(নিঝুমের আত্মহত্যার কথা শুনে বুকটা ধুক হয়ে উঠলো)

ও এখন কেমন আছে আংকেল।

নিঝুম ঠিক আছে।ও এখন বিপদ মুক্ত।তবে হাসপাতালে আছে।

কোন হাসপাতালে আছে।আর কত নাম্বার কক্ষে।

অতো অস্থির হওয়ার দরকার নেই।ও এখন সুস্থ আছে।আমি যাচ্ছি হাসপাতালে।চলো আমার সাথে।

ঠিক আছে চলুন।

আংকেল এর সাথে হাসপাতালের দিকে ছুটে চললাম।হাসপাতাল পৌছে প্রথমেই রুমে যাইনি।আমি রুমের বাহিরে দারিয়ে রইলাম।প্রথমে আংকেল রুমে গেলেন,,,

বাবা এসেছো,,?(নিঝুম)

হুম মা।কেমন লাগছে এখন তোমার,,,?

হুম ভালো।স্যার আসে নাই,,,,?

না,ও আসবে না।

আমি হাসপাতালে আছি বলছো,,,?

হুম বলেছিলাম।কিন্তু আসেনি।

ওহ।

মন খারাপ করলি মা।

নাহ বাবা।ঠিক আছি আমি।

হয়েছে আর মন খারাপ করতে হবে না।তোর স‍্যার এসেছে বাহিরে আছে।

সত‍্যি,,,(এক্সাইটেড হয়ে)

হুম।

তাহলে আমি দেখা করে আসি।(লাফিয়ে উঠে)

আরে তোকে বাহিরে যেতে হবে না।বাবা আরিয়ান ভিতরে আসো(আমাকে উদ্দেশ্য করে)

কেমন আছো নিঝুম।(আমি ভেতরে ঢোকে)

আচ্ছা তোমরা কথা বলো।আমরা বাহির থেকে হেটে আসছি।(আংকেল আমাকে আর নিঝুমকে উদ্দেশ্য করে)

আংকেল আন্টি রুম থেকে বের হতেই নিঝুম মুখটা ঘুরিয়ে নিলো।আমি গিয়ে ওর পাশে বসলাম।পাগলীটা দুইদিনে অনেকটা শুকিয়ে গেছে।

এই যে মিস্টার কি দেখেন এভাবে।মেয়ে মানুষ কি কখনো দেখেন নাই,,,?

নাহ।দেখিনি তাইতো তোমাকে দেখছি।

হয়েছে অনেক দেখেছেন এখন এখান থেকে যান।আপনি কে,,,,?আর এখানে কেনো হ্যা।বাবা,,,,,,
(আংকেলকে ডাক দেওয়ার সাথে সাথে মুখটা চেপে ধরলাম)

আরে বাবাকে ডাকছো কেনো,,,,?

ওই কে আপনার বাবা।

ইয়ে মানে তোমার বাবা।বিয়ের পরতো বাবা তাই আগে থেকে প্রেকটিস করছি।

কি,,,,?

হুম।তাহলে এবার তোমার প্রমোশন হলো বল,,,,,

কেমন প্রমোশন,,,,?

এইযে অবুঝ_ছাত্রী থেকে অবুঝ বউ হতে যাচ্ছো।😊😊😊

আমি মোটেও অবুঝ না।

অবুঝ না হলে কেউ আত্মহত্যা করতে যায়,,,?

আত্মহত্যা না করে কি ড্যাং ড্যাং করে অন্যের বউ হবো,,,?এক মিনিট,,,আপনিতো আমাকে ভালোইবাসেন না।তাহলে এখানে কেনো,,,?

কে বলেছে ভালোবাসিনা।তোমাকে এত্তগুলা ভালোবাসি।

বোঝা হয়ে গেছে আপনি আমাকে কতোটুকু ভালোবাসেন।

দেখি তোমার হাতটা।

না আপনাকে দেখানো যাবে না।আপনি খুব পঁচা।

দেখাও প্লিজ।

না দেখাবো না।

দেখি আমি।(হাত ধরে টান দিয়ে)

কি অবস্থা করেছো হাতের।

করছি ভালো করছি।আরো করবো।খালি খালি আমাকে রাগ দেখান।

ওকে সরি,,,আর রাগ দেখাবো না।এখন আসো একটু আদর দেই,,,🙊🙊🙊

না আপানকে আদর করতে হবে না।এই আপনি বসা থেকে উঠছেন কেনো,,,?

একদম চুপ।
(আমি নিঝুমের খুব কছে চলে গেলাম।ওর দিকে ঝোকতেই নিঝুমের ঠোঁট জোড়া কাপাকাপি শুরু করে দিয়েছে।ঠোঁটের কাপাকাপি দেখে নিজেকে আর সামলাতে পারিনি।ঐ দিনের প্রতিশোধটা নিয়ে নিলাম।বাকিটা বললাম না।আপনারা বুঝে নেন🙈🙈🙈।(যেহেতু নিঝুমদের পরিবার থেকে মেনে নিয়েছে।সেহেতু আর বাধা রইলো না।)
অনেক চেষ্টা করলো নিজেকে ছাড়াতে।কিন্তু আমার সাথে পেরে উঠেনি।

প্রায় পাঁচমিনিট পড় নিজ থেকে ছেড়ে দিলাম।দুজনে প্রচুর হাঁপাচ্ছি।

এটা কি ছিলো,,,,(নিঝুম)

কি থাকবে আর,,,সেইদিন যেটা দিয়েছিলে সেটাই।

আপনি কি সেই দিনের প্রতিশোধ নিলেন,,,?

নাহ।একদম নাহ।

আসতে পারি,,,,?(রাসেল)

আরে ভাইয়া যে,আসো।তুমি ভিতরে আসতে কি পারমিশন নিতে হবে,,,?(আমি ভাবছি এ আবার কেমন ভাইয়া।কোথা থেকে উদয় হলো।আগে কখনো নিঝুমদের বাসায় দেখিনি।)

তবুও তোমাদের প্রাইভেসি থাকতেই পারে,,,মুচকি হেসে,,(এইরে ওনি আবার কিছু দেকে পেলেনিতো)

আমি রাসেল।নিঝুম এর আংকেলের ছেলে।(হাত বাড়িয়ে দিয়ে)

জ্বি আমি,,,,(হ্যান্ডশেক করে)

বলার প্রয়োজন নেই,,,আপনি আরিয়ান am i right,,,

হুম,,,,(আরো কিছু কথা বলে পরিচিত হচ্ছিলাম)

শুধু তোমরা দু'জনই কথা বলবে,,,?নাকি আমার সাথে ও বলবে,,,?

তোর সাথে কথা নাই,,,তুই একাই থাক।আমি আর আরিয়ান কথা বলছি,,,তুই চুপ থাক।

(আংকেল আন্টি রুমে আসলেন।)

তোদের আবার কি হয়েছে।ভাই বোন ঝগড়া করতেছিস কেনো,,,?

মা দেখোনা ওনারা দুজন একাই কথা বলছে,,, আমার সাথে ওনারা একজনও কথা বলছে না

হয়েছে আমার নামে আম্মুর কাছে আর নালিশ করতে হবে না।আম্মু আজ আমি যাচ্ছি।আফিসে একটু কাজ আছে।
আমি চলে যাচ্ছি এখন মন ভরে কথা বলে নিস।(নিঝুমের কানের কাছে মুখ নিয়ে)

হুম তারাতারি যাওতো।

বুঝতে পারছি আমাকে আর সহ্য হচ্ছে না।ওকে বোন ভালো থাক।আমি গেলাম।আব্বু আম্মু আমি আসছি।

ঠিক ভাবে যাইস,,,,,

বাবা আরিয়ান নিঝুম অসুস্থ।তাই বলছিলাম তুমি যদি একটু ওর পাশে থাকতে,তাহলে ভালো হতো।(আংকেল)

হুম ঠিক বলেছো তুমি।বাবা আরিয়ান তুমি থাকো নিঝুমের পাশে।আমরা দুজনে একটু বাসায় যাচ্ছি।বাসায় কতো কাজ।(আন্টি)

ঠিক আছে আন্টি।আপনারা নিশ্চিন্ত হয়ে বাড়ি যেতে পারেন।

আংকেল আন্টিও চলে গেলেন।শুধু নিঝুম আর আমি রয়ে গেলাম হাসপাতালে।আমার এখানে আসা প্রায় দুপুর হয়ে গেলো।

আম্মু টেনশন করবে।তাই আম্মুকে ফোন করলাম।

হ্যা আরিয়ান।কোথায় তুই বাবা।সেই কখন বাসা থেকে গেলি।দুপুরের খাবার খেতে আসবি না,,,?(আম্মু)
না মা,,,তুমি খেয়ে নিও।

কেনো আসবিনা।কোনো সমস্যা।

না মা তেমন জটিল কিছু না।আমার এক বান্ধুবী অসুস্থ।তার কাছে এসেছি।

ওহ।ও এখন কেমন আছে,,,?

এখন অনেকটাই ভালো।

ঠিক আছ ভালো ভাবে থাকিস।আর তোর বান্ধবীর খেয়াল রাখিস।

ঠিক আছে মা।তোমাকে বলতে হবেনা।এখন রাখছি।

কী বললে তুমি আমার ভালো মাকে।আমি তোমার বান্ধুবী হই কোন দিক থেকে,,,?(সরাসরি আপনি থেকে তুমিতে চলে গেছে।কখন আবার তুই বলা শুরু করে আল্লাহ জানে।আল্লাহ রক্ষা করিও আমায়)
(একজনের মুখে এই ভালো মা নামটা শুনেছিলাম।তাই গল্পে ব্যবহার করলাম।পাঠকরা কিছু মনে করবেন না)

রাগ করো কেনো।মা তোমার কথা জানেনা।আম্মুকে আগে পটাতে হবে,,,তারপর তোমার কথা বলবো।

হুম ঠিক আছে।এইবারের মতো মাপ করছি।কিন্তু খুব তারাতারি বলবেন।(যাক এইবার আপনিতে আসছে)

হুম।

আচ্ছা তুমি কি খেয়েছো,,,?

কখন খেলাম।সকাল থেকেইতো তোমার সাথে আছি।

ওহ।এখানতো কোনো খাবার নেই।ফল আছে কেটে কেটে খান।

ওকে বউ😍😍😍

হাহাহা।

হাসো কেনো,,,?

বউ বললেন তাই।

বউ বলেছি বলেই হাসতে হবে,,,?

হুম।

ঠিক আছে হাসিও।এবার হা করো,,,(আপেল কেটে হাতে নিয়ে)

আপনি খান আগে।

তুমি আগে খাও।তোমাকে তারাতারি সুস্থ হতে হবেতো।

এবার আপনিও বলেন।আম্মুও জোর করে খাওয়ায়।এখন আপনিও।

এতো কথা বলো কেনো,,,?হা করো।

খেতে পারি একটা শর্তে।(এখানেও শর্ত।একবার শর্ত দিয়ে প্রতিদিন আইসক্রিম আনিয়ে খেয়েছে)

আমি এখন কোনো আইসক্রিম আনতে পারবোনা।অন্য শর্ত হলে বলো।

হাহাহা।নাহ আইসক্রিম আনতে হবে না।আমাকে আপনার হাতে খাইয়ে দিলেই হবে,,,

চলবে,,,?

09/08/2023

#পিচ্চি_ছাত্রী🥰
#নিঁলঁয়ঁ_হাঁসাঁনঁ
পর্ব:১০

মেয়ের এমন অবস্হা দেখে মমিন চৌধুরী ওখানে বসে পড়েন।ওনার খুব আদরের মেয়ের এমন অবস্থা।তার উপর বাড়ি ভর্তি মেহমান।সব মিলিয়ে তুলকালাম অবস্থা।হাসি খুশি হৈ হুল্লোড়ে মেতে উঠা বাড়িটা হঠাৎই নিস্তব্ধ হয়ে গেছে।মেয়ের এহেন অবস্থা দেখে মমিন সাহেব যেনো বোবা হয়ে গেছেন।

একমাত্র তোমার জন‍্য আজ আমার মেয়ের এই অবস্হা।আমার মেয়ের যদি কিছু হয় তাহলে আমি সবকিছু শেষ করে দিবো।(রহিমা বেগম)

কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন মমিন সাহেব।মেজেতে বসে মাথায় ডান হাত ফেলে নিস্তব্ধ হয়ে মেয়ের দিকে তাকিয়ে আছেন।(দুই মেয়েই ওনার কাছে রাজকন্যা।কিন্তু ছোট মেয়েকে তিনি অতি আদরে বড় করেছেন।)

(অনেকে দোতলায় নিঝুমের রুমে আসলেও বর এবং বরের পিতা সহ আরও অনেকেই নিছে ছিলেন।আকস্মিক ভাবে রহিমা বেগমের চিৎকার শুনে বাকি লোকজন ও ইতিমধ্যে উপরে চলে এসেছেন।সাথে বর এবং বরের পিতা ও আসলেন)

তোর মেয়ের এই আবস্হা কেনো।এটা কিভাবে হলো মমিন,,,?

নিঝুম সুইসাইড করেছে।

কেনো করলো আংকেল।(রাসেল)(বরের নাম রাসেল)

জানি না বাবা।

রাসেল দ্রুত এগিয়ে গিয়ে নিঝুমের পার্লস চেক করে চিৎকার করে বলেন,,,তারাতাড়ি এ্যাম্বুলেন্স ডাকো,,,নিঝুমকে হাসপাতালে নিতে হবে।ও এখনো বেচে আছে।

রাসেলের কথা শুনে মনে হলো মমিন সাহেবের দেহে আত্মা ফিরে পেলেন।

এই কে আছো গাড়ি বের করো।নিঝুমকে হাসপাতাল নিতে হবে।
(মেয়েকে কোলে নিয়ে দ্রুত পায়ে নিছে নামতে নামতে বললেন)

পিছু পিছু রহিমা বেগমও আসতে থাকেন।সাথে রাসেল ও।মমিন চৌধুরী মেয়েকে নিয়ে গাড়িতে বসেন।রাসেল ড্রাইভিং সিটে বসে গাড়ি ড্রাইভ করে পার্শ্ববর্তী হাসপাতালে নিয়ে যায়।সাথে রহিমা বেগমও এসেছেন।

কর্তব্যরত ডাক্তার নিঝুমকে সাথে সাথে জরুরী বিভাগে নিয়ে যায়।মমিন চৌধুরী,রহিমা বেগম এবং রাসেল বাহিরে অপেক্ষা করতে থাকেন।

কিছুক্ষণের মাঝেই মিম সহ রাসেলের আব্বু এবং আরও অনেকে হাসপাতালে উপস্থিত হলেন।

মিম এসেই মমিন সাহেবের হাতে একটা চিঠি দিলেন,,,যেটা নিঝুমের বিছানার উপর পাওয়া যায়।যা হাতের শিরা কাটার পূর্বে নিঝুম লিখেছে,,,যা আমরা সহজ ভাষায় বুঝি সুইসাইড নোট।

প্রিয়,
বাবা-মা

আমাকে তোমরা ক্ষমা করে দিও।আজ অনেক বড় একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি।জানি আমার এই সিদ্ধান্তে তোমরা অনেক কষ্ট পাবে।কিন্তু এছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই।সেদিন বাবা জীবনে প্রথম আমার গায়ে হাত তুলেছিলে।বিশ্বাস করো এতে আমি একটুও কষ্ট পাইনি।তবে আমি ভেবেছিলাম বাবা রাগের মাথায় এমনটা করেছেন।রাগ কমলে হয়তো ওমনি আমাকে বুঝবেন,,,কিন্তু আমার ধারণা ভুল প্রমাণিত করে বাবা হুট করেই আমার বিয়ে ঠিক করে পেলেন।কিন্তু আমার পক্ষে এই বিয়ে করা সম্ভব নয়।জীবনে তোমাদের কাছে যা চেয়েছি তাই পেয়েছি।কখনো আমার চাওয়া তোমরা অপূর্ণ রাখোনি।এই প্রথম তোমাদের কাছে কিছু চেয়েও পাইনি।আর সেটা আমার ভালোবাসা।না পাওয়ার যন্ত্রণা অনেক তিব্র হয়।যা জীবনে এই প্রথম উপলব্ধি করি।এমন কষ্ট নিয়ে বেচে থাকাতে পারবো না।তাইতো তোমাদের ছেড়ে একেবারে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।তোমাদের এই অবাধ্য মেয়েটাকে ক্ষমা করে দিও।

ইতি,
তোমাদের অবাধ্য আদরের মেয়ে নিঝুম।

চিঠি পড়ে মমিন সাহেব নিস্তব্ধ হয়ে পাশে থাকা কাঠের চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে পড়েন।বর্তমানে মান সম্মানের চেয়ে মেয়ের জীবনের মুল্য অনেক বেশি বলে মনে করেন মমিন চৌধুরী।তিনি নিজের ভূলটা বুঝতে পেরেছেন।কিন্তু এই সামান্যটুকু বুঝতে অনেক দেরি হয়ে গেছে।

নিঝুমকে জরুরী বিভাগে নেওয়ার প্রায় এক ঘন্টা হয়ে গেলো কিন্তু ডাক্তার বের হচ্ছে না।সবাই চিন্তিত।মমিন সাহেব অনেক্ষণ বসে থাকলেও মেয়ের চিন্তায় জরুরি বিভাগের সামনে পায়চারি করছেন।

জরুরি বিভাগের দরজা খোলার শব্দে সবাই উৎসুক দৃষ্টি নিয়ে সেদিকে তাকালেন।নাহ ডাক্তার বের হয়নি।বের হয়েছে নার্স।

এখানে রোগীর গার্জিয়ান কে,,?(নার্স)

মমিন সাহেব এগিয়ে গিয়ে,,,,
আমি রোগীর বাবা।আমার মেয়ে কেমন আছে,,,?(জিজ্ঞাসু কন্ঠে)

শান্ত হয়ে বসুন।রোগির হাতের শিরা কাটার ফলে রোগীর শরীর থেকে অনেক রক্ত বেরিয়ে গেছে। emergency A+(ve) রক্ত লাগবে।

আমার রক্ত A+(ve)(মমিন সাহেব)

তাহলে আসুন তারাতাড়ি।নার্স মমিন সাহেবকে সাথে নিয়ে অন্য রুমে চলে গেলেন।মমিন সাহেবের শরীল থেকে এক ব্যাগ রক্ত নেওয়া হলো।

আপনি এখানে শুয়ে রেস্ট নিন।

আমার মেয়েটা বাচবে তো।

আমরা আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন।

নার্স রক্ত নিয়ে দ্রুত পায়ে জরুরি রুমে চলে গেলো।

ঘড়ির কাঁটা তার নির্দিষ্ট গতিতে গুরছে।ডাক্তার জরুরী বিভাগ হতে বের হওয়ার নাম নেই।চিন্তিত মুখ নিয়ে সবাই জরুরী বিভাগের সামনে অপেক্ষা করছেন।প্রায় ঘন্টা তিনেক পর আবার দরজা খোলার শব্দ শোনা যায়।এইবার ডাক্তার বের হলেন।

ডাক্তার সাহেব আমার মেয়ের কি অবস্হা।(রহিমা বেগম)

আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করুন।আপনার মেয়ে এখন বিপদ মুক্ত।

ধন‍্যবাদ ডাক্তার সাহেব।

ধন‍্যবাদ দিতে হবে না।এটা আমার পেশা।পাশাপাশি কর্তব্য ছিলো।

আমি কি আমার মেয়ের সাথে দেখা করতে পারি,,,?

এখন রুগীর সাথে দেখা করা যাবে না।রুগীকে ঘুমের ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে।দুই ঘন্টা পর জ্ঞান ফিরবে।

(এই বলে ডাক্তার চলে গেলেন।নিঝুমকে বেড়ে দেওয়া হলো।সবাই বাহিরে রুগীর জ্ঞান ফেরার অপেক্ষা আছেন)

ঘন্টা দুই পরে নিঝুমের রুম হতে নার্স বের হয়ে ডাক দিলেন,,,
এখানে আরিয়ান নামের কে আছে।রুগীর কাছে তাকে প্রয়োজন।রুগী এই নামটা বলে চলেছে।

ও এখানে নেই।তাকে আনার ব্যবস্থা করুন।নাহলে রুগীর কন্ডিশন আরো খারাপ হয়ে পড়বে।

আন্টি এই আরিয়ান ছেলেটা কে,,,?(রাসেল)

ওর পড়ার টিচার।আমাদের বাসায় এসে নিজুমকে টিউশন করায়।

ঐ ছেলের জন‍্যই কি নিঝুম আত্মহত্যা করতে চেয়েছে,,,?

হুম।নিঝুম ঐ ছেলেকে ভালোবাসে।

তাহলে ঐ ছেলের সঙ্গে নিঝুমকে বিয়ে দিচ্ছেন না কেনো,,?

মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে ও,,,,তাই মেনে নিতে চাইনি।

শুধুমাত্র মধ্যবিত্ত বলেই মানতে পারেন নি,,,?।আর ঐ সুইসাইড নোট।তারমানে আপনারা নিঝুমকে তার অমতে আমার সাথে বিয়ে দিতে চাচ্ছিলেন।আপনাদের একটা ভুল সিদ্ধান্তের কারণে আজ নিঝুমকে হারাতে যাচ্ছিলেন।

হুম।

এসব নিয়ে পরেও ভাবা যাবে।এখন চলুন নিঝুমকে দেখে আসি।

প্রথমে রহিমা বেগম রূমে প্রবেশ করলেন।তারপর মমিন সাহেব।

নিঝুম তার মা বাবাকে দেখে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে।

মা আমাদের সাথে কথা বলবি না।(মমিন চৌধুরী)

চুপ,,,,,,,,,,,,

কি হলো মা কথা বলবি না আমাদের সাথে।(রহিমা বেগম)

মা স্যার কোথায়।মা স‍্যার আসে নি,,,?

তোর স‍্যার এসব জানেনা।
কেনো করলি মা এটা তুই।তোর কি একবারও আমাদের কথা মনে পড়েনি,,?

তোমরা আমার কথা শুনেছিলে যে তোমাদের কথা মনে করবো।আমি এই বিয়ে করবো না।আর একবার জোর করলে এর চেয়ে খারাপ কিছু হবে।

ঠিক আছে মা।আমরা তোকে আর জোরে কিছু করবো না।এবার তুই সুস্থ হ।

সত‍্যি বাবা।

হুম মা সত‍্যি।

নিঝুম এখন কেমন লাগতেছে তোমার,,?(রাসেল)

হুম ভালো।মা ওনি কে।

ওকে চিনিস না ও হচ্ছে,,,,

আমি তোমার রাজীব আংকেলের ছেলে।(রহিমা বেগমকে থামিয়ে দিয়ে)

ওহ,,,,

মমিন সাহেব মেয়ের জন‍্য ফল এনেছেন।

নে মা ফল খা।

খেতে ইচ্ছে করছে না।

ইচ্ছে করেনা বললে হবে,,,?তোকে তারাতাড়ি সুস্থ হতে হলেতো।

দরকার নেই আমার ওতো তারাতাড়ি সুস্থ হওয়ার।

তারাতাড়ি সুস্থ না হলে আরিয়ানের হাতে তুলে দিবো কিভাবে আমার মাকে,,,?

সত্যি বলছো বাবা।

হুম মা একদম সত্যি।

তাহলে এদিকে দাও আমি খাচ্ছি।
হাতে ফল নিয়েই খাওয়া শুরু করে দিয়েছে।নিঝুমের এমন পাগলামি দেখে সবাই হাসতে শুরু করেছে।কিছুটা খাওয়ার পর,,,,

বাবা আমি এতোগুলো একা খেতে পারবো না।

তোকে একবারে সব গুলো কে খেতে বলেছে।ধিরে ধিরে খাবি আর তোকে তারাতারি সুস্হ হতে হবে না।(রহিমা বেগম)

হুম ঠিক বলেছো তুমি।আমাদের মেয়েকে তারাতারি সুস্হ হতে হবে তো।

বাবা তুমিও।

রহিমা বেগম মেয়েকে কিছু ফলমূল কেটে দিলেন।

মা আমি এখন এগুলো খাবো না।

রাসেল রহিমা বেগমের দিকে তাকিয়ে আছে।আর মেয়েকে খাইয়ে দেওয়া দেখছে আর মনেমনে ভাবছে,,,
যদি আমার মা থাকতো তাহলে আমি অসুস্থ হলে আমাকেও এভাবে আদর করে খাওয়াতো।
(রাসেল এর মা নেই।রাসেল যখন খুব ছোট তখন তার মা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে পরপারে পাড়ি জমায়)

এভাবে কি দেখো বাবা।

আপনাকে দেখে মায়ের কথা খুব মনে পড়ছে।

মন খারাপ করো না বাবা।আজ থেকে নাহয় আমাকে মা বলে ডেকো।

ঠিক আছে আন্টি।

আন্টি না মা,,,

ওকে মা।(মা বলতে গিয়ে আমার চোখের পানি ছেড়ে দিয়েছে)

কান্না করতে হয় না বাবা।আমার কাছে আসো,,,
রাসেল রহিমা বেগমের কাছে গিয়ে বসে।রহিমা বেগম তার শাড়ির আচল দিয়ে রাসেলের চোখের পানি মুছে দেয়।

মা তুমি কি ওনাকেই আদর করবে,,,নাকি আমাকেও করবে।
নিঝুমের এমন কথা শুনে সবাই আবার হো হলো করে হেসে উঠে।

আমি তোকে আদর করবো।কেউ না করলেও।(মমিন সাহেব)

বাপ মেয়ের দরদ উৎলে পরছে।ও কি শুধু তোমার মেয়ে,,,,,?নিঝুম যেমন আমার মেয়ে তেমন রাসেল ও আমার ছেলে।

হুম ঠিক বলেছো।(মমিন চৌধুরী)

তাহলে এখন কি দাড়ালো,,,সবশেষে আমি একটা ভাই পেলাম।

আমিও একটা ছোট্ট মিষ্টি বোন পেলাম।

আজ থেকে রাসেলকে বড় ভাই ডাকবি।(রহিমা বেগম)

বাবা একটা কথা বলি,,,(নিঝুম)

হুম বল,,,

রাগ করবে নাতো,,,,

না বল,,,

স্যারকে একটু এখানে আসতে বলবে,,?খুব দেখতে ইচ্ছে করছে,,,,(এই মাইয়ার লাজ লজ্জা সব গেছে)

এখন মাঝরাতে ও আসবে,,,তার চেয়ে বরং কাল আসতে বলি,,,

না এখন বলো,,,,আমার কথা বলো,,,ঠিকই ছুটে আসবে,,,,

এতো ভালোবাসে আমার বোনকে।(রাসেল)

হুম অনেক অনেক ভালোবাসে।কিন্তু সমস্যা একটাই,,,নিজ থেকে কিছু বলে না।

আংকেল নাম্বার দাও আমি কল দিচ্ছি,,,,

মা বানালি,,,,বোন বানালি আর আমাকে পরে করে দিলি,,,আমাকে বাবা বলা যায়না,,,?

ওকে বাবা নাম্বার দাও আমি কল দিচ্ছি,,,

বিয়ে বাড়ি আর হাসপাতালতো অনেকক্ষণ ছিলেন,,,চলুন এবার নায়কের খোঁজ নিয়ে আসি,,,

সবাই গভীর ঘুমে মগ্ন হলেও আরিয়ানের চোখে ঘুম নেই।নিঝুমের বলা শেষ কথাটা বার বার তার কানে বাজছে"এটাই আমাদের বলা শেষ কথা"।পাগলিটা এখন কি করছে।সত্যি সত্যিই কি পাগলাটা,,,,নাহ আর কিছু ভাবতে পারছেনা।পাগলাটার মোবাইলও বন্ধ।ফোন করে জিজ্ঞেস করবো তারও সুযোগ নেই,,,আংকেলের নাম্বারও ফোন দেওয়ার সাহস হচ্ছে না।তাও আবার এতো রাতে,,,কাল সকালে একটু নিঝুমদের বাড়ি যেতে হবে।আজ যেনো রাতটা কাটছেই না।হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠলো।বুকের ভেতরটা ধুক করে উঠলো,,,,

এতো রাতে আবার কে ফোন দিচ্ছে।নিঝুম নাতো,,,,
নিঝুম কেনো ফোন দিবে,,,ওরতো আজ বিয়ে,,,এখন হয়তো অন্যের ঘরে,,,ও কিভাবে ফোন দিবে,,,,

মোবাইল হাতে নিয়ে দেখি অপরিচিত নাম্বার।ধরবো কি ধরবো না ভাবতে ভাবতে কেটে গেলো,,,

একই নাম্বার হতে আবার ফোন আসলো,,,,

আসসালামু আলাইকুম।কে বলছেন।

ওয়ালাইকুম সালাম।আমাকে আপনি চিনবেন না।আপনাকে নিঝুম ফোন দিতে বলেছে,,,,

হ্যা বলুন(এতো রাতে নিঝুম ফোন দিতে বলেছে তাও আবার একটা ছেলের মোবাইল থেকে,,,ওর কিছু হয়নি তো।আর নিঝুম কোথায় এখন)

কালকে একটু নিঝুমদের বাসায় আসতে পারবেন সকালে।

হুম।কিন্তু কেনো একটু বলবেন প্লিজ,,,,

তেমন কিছু না একটু দরকার ছিলো আপনাকে,,,,

ঠিক আছে।
আজতো নিঝুমের বিয়ে হওয়ার কথা ছিলো।কাল সকালে যেতে বললো,,,তাও আবার একটা অপরিচিত ছেলে।কোনো সমস্যা হয়নি তো।আর ছেলেটার বা কে,,,?

ভাইয়া তুমি আমার কথা বললে না কেনো।

তোর অসুস্থতার কথা শুনলে টেনশন করবে।এমনিতে মনে হয় তোর টেনশনে এখন পর্যন্ত ঘুমায়নি।কাল আসলে ধীরে সুস্থে বলবো।

বাবা চলুন তাহলে আমরা বাড়িতে যাই।(রাসেল)

ঠিক বলেছো বাবা।তোমরা চলে যাও,,,,আমি থাকবো এখানে।আর বাসাতেও কেউ নেই।(রহিমা বেগম)

ঠিক আছে আমরা চলে যাচ্ছি তুমি থাকো।আর কাল সকালে আরিয়ানকে সাথে নিয়ে আসবো।

অন্যদিকে আরিয়ানার ছোখে ঘুম নেই।তার কানে শুধু নিঝুমের বলা শেষ কথাটা বাজছে।আর এখন সকালে নিঝুমদের বাড়িতে যাওয়ার জন্য বলা ছেলেটার কথা।ঘড়ির দিকে তাকিয়ে আছে,,,মনে হচ্ছে রাতটা অনেক বড় হয়ে গেছে,,,,সময় যেনো যাচ্ছেই না।

চলবে,,,,,,?

 #পিচ্চি_ছাত্রী🥰 #নিঁলঁয়ঁ_হাঁসাঁনঁপর্বঃ০৯আন্টি আমাকে চা দেওয়ার পর চা খেতে খেতে আংকেলকে উদ্দেশ্য করে,,,,আংকেল আমাকে কেনো ...
09/08/2023

#পিচ্চি_ছাত্রী🥰
#নিঁলঁয়ঁ_হাঁসাঁনঁ
পর্বঃ০৯

আন্টি আমাকে চা দেওয়ার পর চা খেতে খেতে আংকেলকে উদ্দেশ্য করে,,,,

আংকেল আমাকে কেনো ডেকেছেন,,,?

হুম শুনো,,,,,,,,,,,,,,,,?

শুনেছি তুমি টিউশন করো।

হুম,,,,কিন্তু কেনো আংকেল।(আবার কোন ঝামেলায় ফেলে আল্লাহ জানে)

তোমাকে আমার ছেলে-মেয়ে দুই টাকে একটু পড়াতে হবে বাবা।(যেই সমস্যার আবাস পাচ্ছিলাম সেটাই হলো,,,একটা থেকে মুক্ত হতে হতেই আরেকটা প্যারা)

কিন্তু আংকেল,,,?

কোন কিন্তু না বাবা,,,তোমাকে পড়াতেই হবে। ভালো কোন টিচার পাওয়া যাচ্ছেনা।আমি শুনেছি তুমি ভালো ছাত্র এবং পড়াশুনার পাশাপাশি টিউশন করো।আর একই এলাকায় থাকি।তাই বলছি যদি তুমি পড়াতে।

ঠিক আছে আংকেল।(আংকেলের অনুরোধ উপেক্ষা করতে পারিনি)

যদিও আমি আর টিউশন করতে চাইছিলাম না।অন্যদিক থেকে সুবিধে হলো,,,সময় কাটবে,,,পাশাপাশি কিছু হাত খরচের টাকা হবে,,,(মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেদের অনেক কিছুই হিসেব করে চলতে হয়)

আশা করি তোমার কোনো সমস‍্যা হবে না।আর টাকার চিন্তা করিও না।

না আংকেল সমস্যা নেই,,,পড়াতে পারবো।

তাহলে কাল থেকে তুমি পড়াতে এসো।আর কখন পড়াতে আসবে তুমি,,,?

সকাল ৮টা থেকে আসবো।তাহলে আজ আসি আংকেল।

সন্ধ‍্যা তো হয়ে গেছে,রাতের খাবার টা এখানে খেয়ে যাও বাবা।(আন্টি)

আন্টি আজ না।অন‍্য একদিন।তাহলে আজ আসি।

ওকে যাও তাহলে।

(রফিক আংকেলের বাসা থেকে বের হয়ে বাড়ির পথে হাটা দিলাম)

রফিক ভাই কি বললো বাবা,,,(বাড়িতে পৌছানোর পর আম্মু)

আংকেল ওনার ছেলে-মেয়েকে পড়াতে বলছেন।

তোর কোনো সমস্যা না হলে পড়া।এতে তোর সময়টা ভালো কাটবে।ঐদিকে আবার নিঝুমকে পড়াবি,,,তোর নিজেরও পড়ালেখা।সব কিছু একসাথে সামলাতে পারবিতো,,,?(এইরে,,,সেরেছে,,,মাতো আর জানেনা আমি নিঝুম পড়ানো ছেড়ে দিয়েছি।এখন মাকে জানানো যাবেনা,,,যদি জানাই তাহলে কেনো ছেড়েছি,কি জন্য ছেড়েছি এসব বলে কান ঝালাপালা করে দিবে,,,কোনোমতেই মাকে জানানো যাবেনা)

ও তুমি চিন্তা করোনা মা।আমি সব সামলে নিবো।

দেখিস আবার অন্যদের পড়াতে গিয়ে আবার নিজের পড়ার বারোটা বাজিয়ে দিস না।

ওকে মা।(যাতে আর কোনো প্রশ্ন না করে তার জন্য ঔষধ হিসেবে একটা যাদুর যাপ্পি দিয়ে দিলাম)

পাগল ছেলে আমার।(মাথার চুলে হাত বুলিয়ে)(দাওয়াই কাজ করেছে😊😊😊)

কোনো কাজ নেই,,,রুমে এসে শুয়ে পড়লাম।খালি শোয়া আর ঘুম।
তারপর রূমে এসে শুয়ে পড়লাম।এখন শুয়ে থাকা ছাড়া কি করবো কোন কাজ নাই।বালিশের পাশে মোবাইল দেখতে পেলাম।সেইযে বন্ধ করেছি এখনো খুলিনি।পাগলি টার একটু খোঁজ নিয়ে দেখি।যেই ভাবা সেই কাজ,,,মোবাইল ওপেন করতেই ম্যাসেজ আসতে শুরু করলো।কয়েকটা missed call alert এর আর অনেক গুলো টেক্সট।আর সব গুলোই এসেছে নিঝুমের নাম্বার থেকে।

ম্যাসেজ গুলো ঠিক এমন ছিলো,,,

কেমন আছেন স‍্যার,,,,
আমার ফোন ধরছেন না কেনো,,,,
আজ পড়াতে আসেন নাই কেনো,,,,
আপনার ফোন বন্ধ কেনো,,,,
আপনার কোনো সমস্যা হয়েছে,,,,ইত্যাদি ইত্যাদি।

ম্যাসেজ দেখে মনে হচ্ছে পাগলিটা আমাকে অনেক ভালোবাসে।কিন্তু এই ভালোবাসা সমাজ মেনে নিবে না।শিক্ষকতা একটা সম্মানের পেশা।আর আন্টি আংকেল আমাকে বিশ্বাস করেই ওনাদের মেয়েকে পড়াতে দিয়েছিলেন,,,আমি তাদের সেই বিশ্বাস ভেঙে আমানতের খেয়ানত করতে পারবো না।তাই আমি নিজে থেকে দুরে চলে আসলাম।

নায়কের সম্পর্কেতো অনেক কিছুই দেখলেন এবং জানলেন,,,এইবার চলুন নায়িকার বাড়িতে কি হচ্ছে দেখে আসি,,,,

এদিকে নিঝুমকে ছেলে পক্ষ দেখতে এসেছে।আজকে নিঝুম আরো বেশি পাগলামি শুরু করে দিয়েছে।আমি এই বিয়ে করবো না বলে চিৎকার করছে।কিন্তু কে শুনে কার কথা।কারও সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই।

(আপনারা হয়তো ভাবছেন যেখানে ছেলে পক্ষ দেখতে আসছে সেখানে বিয়ের কথা আসছে কোথা থেকে,,,,আপনারা ঠিকই ধরেছেন,,,,আজ ছেলে পক্ষ দেখতে আসছে না।আসছে বিয়ে করতে,,,মেয়ে কোনো কান্ড করে মান সম্মানে আঘাত হানার আগেই তিনি বড় মেয়ের আগে ছোট মেয়ের বিয়ে দিতে চাচ্ছেন।মমিন চৌধুরী পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা।শেষ বয়সে এসে মেয়ের জন্য নিজের সম্মানটুকু হারাতে চান না।তাইতো হুটহাট করে এমন সিদ্ধান্ত।আর ছেলেও নিজের বন্ধুর ছেলে,,,তাই দেখাশোনা,আংটি পড়ানো এসব ফর্মালিটি করেননি।আর নিঝুম কিছুক্ষণ আগে জানতে পেরেছে আজ তার এনগেজমেন্ট এর বদলে বিয়ে।তাইতো এমন পাগলামো শুরু করে দিয়েছে)

পার্লার থেকে লোক এসেছে নিঝুমকে সাজাতে।লাল টুকটুকে বেনারশি শাড়ি সাথে হাল্কা মেকাপ এবং ভারী কিছু গহনা দিয়ে বউ সাজিয়েছে।তার ইচ্ছা না থাকা সত্যেও তাকে অন‍্যের বউ সাজতে হচ্ছে।মানুষ জীবনে একবারে মন থেকে ভালোবাসে কাউকে না কাউকে।কিন্তু সবার ভালোবাসা পূর্নতা পায় না।নিঝুমের ভাগ‍্যে কি আছে সেটা লেখক নিজেও জানেন না।

মেয়েকে সাজানো হয়েছে।(মমিন চৌধুরি নিঝুমের বাবা)

জ্বী আংকেল আর একটু।(পার্লারের মেয়ে)

একটু তারাতারি রেডি করো।বর পক্ষ আসলো বলে।বাহ আমার ছোট মাকে আজকে পরীর মতো লাগছে।

জ্বী আব্বু নিঝুমকে আজকে অনেক সুন্দর লাগছে।(মিম)

ঠিক আছে।তোমরা ওকে একটু তাড়াতাড়ি সাজাও আমি নিচে যাচ্ছি।

ওকে আংকেল।

নিঝুমকে পার্লারের মেয়েরা সাজিয়ে চলে গেলো।
রুমে শুধু ওর মিম আর নিঝুম।

বোন তোকে আজকে অনেক সুন্দর লাগছে (মিম)

চুপ,,,,(কোনো কথা নেই)

এই নিঝুুম।
(মিম হাত দিয়ে ধাক্কা দেওয়ায় নিঝুম ভাবনার জগৎ হতে পারে এলো।)

হুম আপু।

কি ভাবছিস।

কিছু না আপু।

তোকে আজকে অনেক সুন্দর লাগছে।আজকে তোকে বর দেখলে একেবার পাগল হয়ে যাবে।

ধন‍্যবাদ আপু।
(নিজে নিজে বক বক করছে।তার আগে তার ছোট বোনের বিয়ে হচ্ছে এ নিয়ে তার কোনো প্রকার ভ্রুক্ষেপ নেই,,,বরং সে আরো খুশি।নিঝুমের এখন তার বোনের কথা গুলো একদম ভালো লাগছে না।আর মিম বকবক করেই যাচ্ছে।)

আপু তোমার বলা শেষ হয়েছে,,,?

হুম কেনো রে।

আমাকে একটু একা থাকতে দাও।আমার ভালো লাগছে না।

ঠিক আছে তুই থাক আমি নিচে যাচ্ছি।

মিম রুম থেকে বের হতেই যেনো নিঝুম হাঁপ ছেড়ে নাচলো,,,সাথে সাথেই মোবাইলটা হাতে নিয়ে আরিয়ানকে কল দিলো।

অন্যদিকে আরিয়ান,,,
ফোনের রিংটোনের শব্দে ঘুম ভাঙ্গলো।ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি রাত নয়টা বাজে।ফোনটা হাতে নিয়ে দেখি নিঝুম দুইবার ফোন দিয়েছে।ফোন ধরবো কি ধরবো না ভেবে পাচ্ছি না।না আমাকে ফোন ধরে ওকে বলতে হবে আমি তাকে আর পড়াতে পারবো না।দেখছি আবার কল দিয়েছে।এবার ফোনটা রিসিভ করলাম,,,

আসসালামু আলাইকুম স‍্যার আপনি ঠিক আছেন।কেমন আছেন।কি হয়েছে আপনার।(একসাথে এতোগুলা প্রশ্ন।কোনটার উত্তর দিবো)

ওয়ালাইকুম আসসালাম।আরে এক সাথে এতো প্রশ্ন করলে কোনটা রেখে কোনটার উত্তর দিবো।আমি ভালো আছি।তুমি কেমন আছো,,,?

(কথা নয়,,,ফোনের ওপাশ থেকে শুধু কান্নার আওয়াজ আসছে।)

কি হয়েছে নিঝুম তুমি কান্না করছো কেনো,,,?কি হয়েছে।
(ওর কান্নার শব্দ শুনে মনে হচ্ছে আমার বুকে কে যেনো তীর দিয়ে ঘুতো দিচ্ছে।আর তা থেকে চিনচিন ব‍্যথা হচ্ছে।হয়তো এটাই ভালোবাসা।হয়তো ওর পাগলামো গুলোকে নিজের অজান্তেই ভালোবেসে পেলেছি)
(অবশেষে নায়কের মনেও ভালোবাসা সৃষ্টি হয়েছে।কিন্তু এটা বুঝতে নায়ক অনেক দেরি করে পেলেছে)

নিঝুমের কান্নার আওয়াজ আরো বৃদ্ধি পেলো।

বলবে তো কান্না করছো কেনো।না বললে ফোন রেখে দিচ্ছি।

স‍্যার ফোন কাটবেন না প্লিজ।আপনার সাথে আমার কথা আছে।এটাই আমাদের শেষ কথাও হতে পারে।

এসব কি বলছো তুমি।আমারো তোমার সাথে কথা আছে।তবে তুমি আগে বলো।

আজকে আমার বিয়ে।

কি বলছো এটা।নিশ্চয়ই তুমি মজা করছো।(আমিতো অবাক।এটা কি শুনছি আমি)

না আমি মজা করছিনা।আমি সিরিয়াস,,,

এটা তুমি মিথ‍্যা বলছো।বলো এটা মিথ্যে তাইনা।এসব নিয়ে মজা করো না।

না আমি সত‍্যি বলছি।আজকে আমার বিয়ে আপনি আমাকে এখান থেকে নিয়ে যান।আমি যদি বিয়ে করি তাহলে আপনাকেই বিয়ে করবো।আমাকে এখান থেকে নিয়ে যান।নাহলে আমি আত্মহত্যা করবো।আমি এই বিয়ে করবো না।
(এইবার বুকের ব্যাথা আরও বেড়ে গেলো।তবুও নিজেকে সামলে নিলাম)

নিঝুম পাগলামি করো না।তোমার বাবা মা সব সময় চাইবে যে মেয়েকে বড় ঘরে বিয়ে দিতে।বাবা মা কখনো মেয়ের খারাপ চাইবে না।তারা সবসময় চাইবে তাদের মেয়ে সুখে থাক।

আমিতো তখনই সুখি হবো,,,যখন আপনাকে পাবো।কেউ বুঝতেছে না আমার কষ্ট টা।আমি পালাতে রাজি আছি।আপনি আমাকে এখান থেকে নিয়ে জান প্লিজ।

এটা হয় না নিঝুম।আমি তোমাকে নিয়ে পালাতে পারবো না।মনে করো আমরা দুজনই পরিস্থিতির শিকার।এটাই আমাদের মানতে হবে।তুমি তাকেই বিয়ে করো যাকে তোমার মা বাবা পছন্দ করেছে।

আমি এই বিয়ে করবো না।ওকে বায় ভালো থাকবেন।এটা আমাদের শেষ কথা।

এই নিঝুম পাগলামি করো না।কথা শেষ না হতে কল কেটে দিয়েছে।এবার আমি ফোন দিলাম কিন্তু ফোন বন্ধ।

তো মমিন তোর মেয়েকে নিয়ে আয়।কতক্ষন বসিয়ে রাখবি।(ছেলের বাবা)

হুম কতক্ষন বসিয়ে রাখবেন ভাইজান।(ছেলের মা)

আর একটু।মিমের মা নিঝুমকে নিয়ে এসো।

তোমরা বসে আর একটু গল্প করো।আমি নিয়ে আসছি।

রহিমা বেগম মেয়েকে আনতে গিয়ে দরজার সামনে রক্ত দেখতে পেলেন।রহিমা বেগম দরজা খুলে দেখেন নিঝুম ফ্লোরে পড়ে আছে।আর পুরো রুম রক্তে লাল হয়ে আছে।

মিমের বাবা নিঝুম কি করেছে দেখে যাও,,তারাতাড়ি এ্যম্বুলেন্স ডাকো।
নিঝুম এটা তুই কি করেছিস।তুই আমাদের ছেড়ে এভাবে যেতে পারিস না।তুই কেনো করলি এটা।
(নিঝুম সুইসাইট করতে হাতের শিরা কেটে পেলেছে)

নিঝুমের মায়ের ডাকাডাকি শুনে মমিন চৌধুরী সমেত বাড়ি ভর্তি মেহমান উপরে চলে এসেছে।এসে দেখেন নিঝুম মেজেতে শুয়ে আছে আর পূরো রুম রক্তে লাল হয়ে আছে।আর রহিমা বেগম মেয়ের পাশে বসে কান্না করছেন।মেয়ের এমন অবস্হা দেখে মমিন চৌধুরী সাথে সাথে ওখানে পড়ে যান।

চলবে,,,,,,,?

09/08/2023

#পিচ্চি_ছাত্রী🥰
#নিলয়_হাসান
পর্বঃআট।

মিম অনেক্ষণ ধরে খাবার নিয়ে ডাকাডাকি করে শেষে বিরক্ত হয়ে চলে যায়।অন্যদিকে নিঝুম বারবার আরিয়ানের মোবাইলে কল দিয়েই যাচ্ছে।প্রত্যেকবারই মোবাইল বন্ধ দেখাচ্ছে।

(নিঝুম সারাদিন ঘর বন্ধী হয়ে আছে।সে সারাদিন ঘর থেকে বাহিট হয়নি।নিঝুমের আব্বু বাড়িতে আসার পরে,,,)

তুমি এসেছো।দেখো তোমার মেয়ে সারাদিন ঘরের দরজা বন্ধ করে আছে।কিছু খাচ্ছে না।(আন্টি।আংকেলকে উদ্দেশ্য করে)

কেনো কিছু হয়েছে কি?(আংকেল)

তোমার মেয়ে তার স‍্যার এর প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে।এটা শুনার পরে তাকে দুইটা থাপ্পর মেরেছি তাই সে আর রূমের দরজা খুলতেছে না।

তুমি ওকে থাপ্পর মেরেছো কেনো।ও এখনো ছোট।ওকে বুঝিয়ে বললেই হতো।

ওকে আমি বুঝিয়েছি কিন্তু ও বুঝতেছে না।আমি আর পারবোনা।তুমি বুঝাও তোমার মেয়েকে।

ঠিক আছে আমি দেখতেছি।নিঝুম মা আমার দরজা খুলো।কি হয়েছে বলো আমাকে।

দরজা খুলবো না আমি।আমাকে স‍্যারকে এনে দাও।স‍্যার আমার ফোন ধরতেছে না।ওনার ফোন বন্ধ করে রাখছে।আগে ওনাকে শাস্তি দেবো।তারপর দরজা খুলবো।

ঠিক আছে কিন্তু দরজা তো খুলো আগে।সারাদিন নাকি কিছু খাওনি।না খেয়ে থাকলে শরীর খারাপ করবে।

আমি দরজা খুলবো না।আর কিছু খাবো ও না।

এইবার কিন্তু বেশি হয়ে যাচ্ছে মামনি।(আর যাইহোক,,আমার জানামতে মেয়েরা বাবার কলিজা হয়,,,যার কারণে হয়তো বাবারা মেয়ের উপর রাগ করতে পারেনা।)

চুপ,,,,,,

কি হলো দরজা খুলো।

চুপচাপ।দরজা খোলার নাম নেই।

কি হলো মিমের মা।তোমার মেয়ে দরজা খুলেছে,,,?(আন্টিকে উদ্দেশ্য করে)

খুলতেছে না।মেয়েকেতো আদর দিয়ে দি বাদর বানায় ফেলছো।এখন সমলাও,,,আমাদের মান সম্মান নিয়ে টানাটানি করতেছে।

আমি কি করেছি।

কি করেছো মানে।গরীব ঘরের ছেলের সাথে প্রেম ভালোবাসা করতেছে।এটা তুমি জানো না।ঘরে থেকে কি করো ঘরের খবর জানো না।এগুলো কথা বাহিরের মানুষ শুনতে পারলে আমাদের আর সম্মান থাকবে।

এবার চলো দুই জনে যাই ডাকতে।(যতই হোক,,,কলিজার টুকরো মেয়ে না খেয়ে আছে)

ওকে চলো।

নিঝুম দরজা খুলো।তোমার বাবা কিন্তু অনেক রাগ করেছে।দরজা না খুললে তোমার স‍্যারকে জেলে দিবে।তারাতারি দরজা খুলো।

সাথে সাথে দরজা খুলে গেছে।আর যাই হোক ভালোবাসার মানুষ জেলে যাবে,,,এটা মেনে নিতে পারব না।তাই দরজা খুলে দিয়েছ।দরজা খুলেই অবাক হয়ে যায়।কারণ দরজার সামনে ওর মা বাবা দুজনই দাড়িয়ে আছে।

তারাতারি ফ্রেস হয়ে আসো এক সাথে খাবো।(আংকেল)

ঠিক আছে বাবা (মাথা নিচু করে)

ফ্রেস হয়ে দেখে আংকেল খাবার টেবিলের বসে নিঝুমের জন‍্য অপেক্ষা করছে।আর আন্টি প্লেটে খাবার তুলে দিচ্ছে।

নিঝুম মা এখানে বস।(আংকেল)

জ্বি বাবা।

আচ্ছা আমি এগুলো কি শুনতেছি তুমি নাকি তোমার স‍্যারকে ভালোবাসো।আচ্ছা বলো তো আমাদের কি কোন কিছুর অভাব আছে।আর ওই ছেলেটার কি আছে যে ওকে ভালোবাসো।ও তো একটা গরীব ঘরের ছেলে।ওর সাথে তোমার বিয়ে হলে কখনো তোমাকে সুখ দিতে পারবে না।ও তোমার চাহিদা পূরন করতে পারবে না।

আমি এসব কিছুই জানিনা।আর জানতে ও চাইনা।আর বিয়ের কথা বলোতো,,,যদি বিয়ে করি,,,তাহলে আরিয়ান স‍্যারকেই করবো।

দেখো তোমার মেয়ে কেমন বেয়াদব হয়ে গেছে।এই দিনটাই দেখার বাকি ছিলো।মুখে মুখে তর্ক করতেছে।

আরে তুমি চুপ করোতো খেতে বসে এতো কথা বলো কেনো,,,?ওকে আমি পরে বুঝিয়ে বলবো।এখন কোনো কথা নয়,,,খাবার দাও,,,মেয়েটা সারাদিন কিছু খায়নি।

বুঝাও তোমার মেয়েকে। যদি না বুঝে তাহলে ওকে বিয়ে দিতে হবে।তখন ওর কোনো কথাই শুনবো না আর।

(নিঝুম না খেয়ে কিছু একটা ভাবছে)

কি ভাবছিস খেতে বসে।(আন্টি)

মা আমার খেতে ইচ্ছে করছে না।(নিঝুম)

সারাদিন কিছুই খেলি না।একটু খা মা,না হলে শরীর খারাপ করবে।

ইচ্ছে না থাকা সত্যেও জোড় করায় কিছুটা খেয়ে আবার রুমে চলে যায় নিঝুম।আবারও ফোন দিতে থাকে আরিয়ানার নাম্বারে।কিন্তু না এখনো একই কথা বলছে "আপনার কাংক্ষিত নাম্বারে এই মুহুর্তে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না" এই কথাটা শুনতে শুনতে খুব বিরক্ত হয়ে গেছে নিঝুম।এখন মোবাইলটা ভেঙে পেলার উপক্রম।

তোমার মেয়ে কিন্তু বেশি বেয়াদব হয়ে গেছে।ওকে বুঝাও ভালো করে।না হলে পড়াশুনা সব বাদ দিয়ে বিয়ে দিয়ে দিবো আমার বন্ধুর ছেলের সাথে।ছেলে ভালো সরকারী চাকরী করে।(আংকেল)

শুধু বিয়ের কথা বললেই হবে।মেয়ে তো এখনো বড় হয়নি।অনেক ছোট আমার মেয়ে।তার উপর আবার মিম আছে।(আন্টি)

তোমার মেয়ে বড় না হলে প্রেম করে বেড়াতো না ওকে।আমি ওতো কিছু বুঝি না,,,কালকে ওকে দেখতে আসবে।মেয়েকে বলে দিও।বিয়ে এখন না হলেও শুধু এংগেস্টমেন টা করে রাখতে চাই।মিমের বিয়ের পর নাহয় ওর বিয়ে দিবো।

তুমি একটু বেশি বুঝ,,,আমাকে না জানিয়ে এতো কিছু করে পেলেছো,,,?

বেশি বুঝাই ভালো, কালকে ওকে দেখতে আসবে এটাই শেষ কথা।

ঠিক আছে কি করবে করো।শুধু তো তোমার মেয়ে আমার না।তাই তুমি যেটা করবে সেটাই হবে।

হুম।

আংকেল এর কথা শুনে আন্টিও রাগ করে রুমে চলে যায়।

আংকেলও খাওয়া শেষ করে তার রুমে ফিরে যায়,,,

কিছুক্ষণ পর আন্টি নিঝুমকে দেখতে তার রুমের দিকে এগিয়ে যান।গিয়ে দেখেন নিঝুম উপুর হয়ে বিছানায় মন মরা হয়ে শুয়ে আছে।

তোর বাবা কি বললো শুনিস নাই।তোর এই সমস‍্যার জন‍্যে আমাকে তোর বাবা বকা দিলো।আর একটা কথা,,,কালকে তোকে ছেলেপক্ষ দেখতে আসবে।তোর বাবার বন্ধুর ছেলে।ছেলে নাকি সরকারী চাকরী করে।যদি কালকে তোকে তাদের পছন্দ হয় তাহলে একবারে তোকে আংটি পড়িয়ে যাবে।(আন্টি)

আমি এই বিয়ে করতে পারবো না।তোমরা বুঝতেছো না মা।যদি আমাকে বিয়ে করতেই হয় তাহলে আরিয়ান স্যারকেই করবো।

এটা বললে কি আর হয় মা।মানুষ যেটা চায় সেটা সব সময় পায় না।মানুষ পরিস্থিতির শিকার হয়ে অনেক সময় অনেক কিছু হারায়।মনকে শক্ত কর।কালকে তোকে দেখতে আসবে।

মা তুমি একটা কথা ভালো করে শুনো,,,তোমরা যদি আমাকে আর এসব নিয়ে জোড় করো তাহলে আমি কিন্তু নিজের ক্ষতি করবো।

এটা কেমন কথা নিঝুম।আমরা সব সময় তোর ভালোর জন‍্য করি।তুই ওখানে ভালো থাকবি।কালকে তোকে ছেলে পক্ষ দেখতে আসবে এটাই তোর বাবার শেষ কথা।

মা এখনোতো আপু আছে,,,আগে আপুকে বিয়ে দাও,,,

তোর বাবা বলেছে তোর এনগেজমেন্ট করে রেখে দিবে,,,

রহিমা বেগমের কথা গুলো শুনে হিঝুম তার রুমে শুয়ে কান্না করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ে।

(তো গল্পের নায়িকা ঘুমিয়ে একটু রেস্ট করুক।এবার নায়কের কথা বলি)

আম্মুর ডাকে ঘুম ভাঙলো ঠিক 4:30 মিনিটে।অনেকদিন পরে আজকে এতোক্ষন ঘুমালাম।

বাবা ঘুম ভাঙলে গোসল করে খেতে আয়।(মা)

বিছানা ছেড়ে গোসল করতে গেলাম।গোসল করে এসে,,,

মা খাবার দাও।খুব ক্ষিদে পেয়েছে।

তুই বস আমি খাবার দিচ্ছি।

হঠাৎ মা বলে উঠলো,,,

বাবা একটা কথা বলি,,,

হুম মা বলো।

আমাদের পাশের বাসার রফিক ভাই আছে না।

হ্যা কি হয়েছে মা কিছু বলেছে কি?

হুম বাড়িতে এসেছিলো 3;00 টার দিকে,,,এসে তোর কথা জিগ্যেসা করলো।তখন তুই ঘুমাচ্ছিলি।

ওহ,,,তার কি বলেছে মা।

তোকে ওনার সাথে বিকালে দেখা করতে বলেছে।কি যেনো কাজ আছে।

ওকে মা দেখা করবো।

(খাবার খেয়ে আমি রূমে আসলাম।কিন্তু রফিক আংকেল আমাকে কেনো ডেকেছে।কেনো ডেকেছে সেটা ওনার সাথে দেখা করলেই জানতে পারবো।তাই রফিক আংকেলের সাথে দেখা করতে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়লাম।আংকেলের বাসার সামনে গিয়ে দুইবার কলিংবেল দিতেই দরজা খুলে দিলো ওনার ছেলে ইমরান।বয়স প্রায় 10 হবে ওনার আর একটা মেয়ে আছে ক্লাস সিক্সে পড়ে।

আরে আরিয়ান ভাইয়া যে।তুমি তো আর আমাদের বাসায় আসোই না।

আরে ভাইয়া আমি একটু ব্যাস্ত আছি তো তাই আসা হয় না।তো কেমন আছো তুমি আর তোমার বাবা কি বাসায় আছে।
আমি ভালো আছি।আর বাবাও বাসায় আছে।

ইমরান কার সাথে কথা বলছো কে এসেছে।(আংকেল)

বাবা আরিয়ান ভাইয়া এসেছে।তোমার সাথে দেখা করতে।

ওহ তোমার ভাইয়াকে নিয়ে ভিতরে আসো।

ভাইয়া আসো ভিতরে।

ভিতরে গিয়ে দেখি আংকেল সোফায় বসে চা খাচ্ছে।

বসো বাবা এখানে।(আংকেল)

(আংকেলের পাশের সোফায় বসলাম)

আংকেল আপনি নাকি আমাকে ডেকেছেন।

হুম তোমার সাথে একটা জরুরী কথা আছে।তার আগে বসো।চা খাও তুমি,,,?

হে মাঝে মাঝে।

ঠিক আছে।ইমরানের মা আরিয়ানকে চা দাওতো।

ঠিক আছে দিচ্ছি।(রান্না ঘর থেকে আন্টি)

আন্টি আমাকে এক কাপ চা দিলেন।চাই খেতে খেতে,,,

তো আংকেল আমাকে কি জন‍্য ডেকেছেন।

হুম শুনো তাহলে,,,,,,,,,,,,,,,,?

আমি তো আংকেলের কথা শুনে অবাক কারন,,,,

কেনো অবাক হয়েছি তা পরবর্তী পর্বে জানতে পারবেন।পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন।)

চলবে,,,,,,?

Address

Dhaka
1000

Telephone

01795804161

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when F.A.N STORY posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category