14/02/2026
১২ তারিখ — জাতীয় নির্বাচন দিবস
ভোর ৫টা। শহর তখনও পুরো জেগে ওঠেনি, কিন্তু দায়িত্বের ডাক ঘুম মানে না। ঘর থেকে বেরিয়েছিলাম একটাই উদ্দেশ্যে— সহধর্মিনীকে বহু দূরের ভোটকেন্দ্রে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া। তারপর শুরু হলো আরেক যাত্রা—এক কেন্দ্র থেকে আরেক কেন্দ্রে, ক্যামেরা হাতে। সারাটা দিন কীভাবে কেটে গেল, টেরই পেলাম না। পাশে ছিল প্রিয় বন্ধু মনজু, আর ভাই উজ্জ্বল। ঢাকা শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়ানো—মাঝে মাঝে বিশ্লেষণ, কোথাও অচেনা মানুষের সাথে হালকা আলাপ, বুথ ফেরত মানুষের মুখের ভাষা পড়া।
আমেরিকান ইমেজ প্রেসের প্রতি কৃতজ্ঞতা—তাদের সময়মতো দেওয়া আইডি কার্ড যেন এক অদৃশ্য সাহস জুগিয়েছিল। সংকটময় মুহূর্তেও ক্যামেরা তুলতে পেরেছি নির্ভয়ে। কখনও কখনও একটি পরিচয়পত্রও দায়িত্ববোধকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
সন্ধ্যার দিকে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান। ফলাফল প্রকাশ।একে অপরকে অভিনন্দন। উল্লাস, নিঃশ্বাস, ক্লান্তি—সব একসাথে মিশে যায়। কিন্তু দিন শেষে একটা প্রশ্ন মাথায় আসে—
আমরা কি কিছু দেখি, অথচ না দেখার ভান করি? কারণ আমরা ধরে নিই, এটাই স্বাভাবিক?
তাই হয়তো বিশেষ কিছু খুঁজে পাই না এই বিশেষ দিনের ভেতরেও।হয়তো ভুলেও যাই ধন্যবাদ জানাতে।
সকালের আলো থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত, আর অনেকের জন্য রাত থেকে পরের রাত—
নিদ্রাহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে রাখা মানুষগুলোকে আমরা কতটা দেখি?
নির্বাচন যেন নির্বিঘ্ন হয়— গণতন্ত্রের দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ আর কষ্ট যেন আবার হারিয়ে না যায়— এই নিশ্চয়তার জন্য যারা দাঁড়িয়ে থাকে নীরবে, অদৃশ্য প্রহরী হয়ে।তাদের পিঠ আমরা দেখি, মুখ দেখি না। কিন্তু দেশের মুখ তারা রক্ষা করে।
গণতন্ত্র কেবল ব্যালট বাক্সে সীমাবদ্ধ নয়; এটা নিরাপত্তার ছায়ায় বেড়ে ওঠা এক আস্থা।
আর সেই আস্থার প্রহরীরা— তাদের ত্যাগ হয়তো ইতিহাসে বড় অক্ষরে লেখা হয় না,
কিন্তু প্রতিটি শান্ত দিনের ভেতর তাদের অবদান লুকিয়ে থাকে।
সালাম সেই মানুষদের, যারা নিজের ব্যক্তিগত স্বস্তি বিসর্জন দিয়ে অন্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
যারা নিজের ঘরের আলো ছেড়ে অন্যের ভোটের অধিকারকে আলোকিত রাখে। জাতি হয়তো সবসময় মনে রাখে না, কিন্তু দায়িত্ব কখনও ভুলে যায় না।আর দায়িত্বের পথেই দাঁড়িয়ে থাকে কিছু নীরব মানুষ—অটল, সংযত, এবং অবিচল।