13/07/2026
শিক্ষামন্ত্রী মিলন আজকে জোর করে এইচএসসি পরীক্ষাটা নিয়েছে।
দেশের চারদিকের বন্যা, জলাবদ্ধতা দেখে স্টুডেন্টরা ভেবেছিল হয়তো তাদের প্রতি একটু মায়াদয়া করা হবে, পরীক্ষাটা পেছানো হবে।
কিন্তু নির্দয় শিক্ষামন্ত্রী সেসব করেনি। সে নিজের ইগো বাঁচাতে গিয়ে হুট করেই রাত ৭ টায় ঘোষণা দিয়েছে পরীক্ষা হবে।
যেহেতু পদার্থবিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ছিল তাই শিক্ষার্থীরা বহু আকুতি মিনতি করেছিল কিন্তু সে মানেনি।
তাই আজকে স্টুডেন্টরা বৃষ্টি মাথায় নিয়েই পরীক্ষার হলে গিয়েছে। কেউ গাড়ি পেয়েছে, কেউ পায়নি। গাড়ি না পেয়ে কেউ কেউ কোমর সমান পানিতে হেঁটে হেঁটেই হলে পৌঁছেছে।
হাঁটতে গিয়ে এক পরীক্ষার্থী মেয়ে বারবার পড়ে যাচ্ছিল। তার ইউনিফর্ম, প্রবেশপত্র সবকিছু ভিজে যাচ্ছিল। কিন্তু তবুও সে উঠে দাঁড়িয়েছে। পরীক্ষাটা দিতে হবে যে!
তারপর পরীক্ষার পুরোটা সময় জুড়ে ভেজা শরীর নিয়ে, ভেজা প্রবেশপথ নিয়ে কাঁপতে কাঁপতে ওরা পরীক্ষাটা দিয়েছে।
এই পরীক্ষার সাথেই কতশত স্বপ্ন যে জড়িত। পরিবারের স্বপ্ন, বাবা-মায়ের স্বপ্ন , ওদের নিজেদের স্বপ্ন।
নাটোরের আরেক ছেলে মাত্র ১৫ মিনিট দেরি করায় তাকে হলে ঢুকতে দেয়া হয়নি। ছেলেটার বাবা নেই, মা টাও অসুস্থ। ছেলেটা কেঁদে কেঁদে স্যারকে বহু আকুতি মিনতি করেছিল।
বলেছিল- বৃষ্টির কারণে গাড়ি পাইনি স্যার, কোমর সমান পানিতে হেঁটে আসতে গিয়ে দেরি হয়ে গেছে। প্লিজ স্যার, ঢুকতে দেন।
কিন্তু তাকে ঢুকতে দেয়া হয় নাই।
ছেলেটার এ বছরের পরীক্ষাটা বাতিল হয়ে গেল। না জানি কত স্বপ ছিল ছেলেটার। না জানি তার অসুস্থ মা টার কত স্বপ্ন ছিল।
চট্টগ্রামের আরেক মেয়ের ঘরবাড়ি, গরু-ছাগল সবকিছু ভেসে গেছে। ঘরে বিদ্যুৎ নাই, খাবার নাই, পানি নাই। মেয়েটা চোখের পানি মুছতে মুছতে বলছিল- আমরা অনেক কষ্টে আছি, আমার বই ভিজে গেছে।
কথাগুলো বলেই কাঁদছিল মেয়েটা।
ঘরে খাবার নেই কিন্তু বইগুলোর জন্যে দরদ কারণ পরীক্ষাটা তো দিতে হবে, বাবা-মায়ের স্বপ্নটা পূরণ করতে হবে।
এমন শত শত পরীক্ষার্থী আজকে পরীক্ষা দিতে পারে নাই। যারা দিতে পেরেছে তাদেরও লেট হয়েছে কিংবা পরীক্ষাটা খারাপ হয়েছে। কারণ বন্যায় ভেসে যাওয়া ঘরবাড়ি আটকাতে গিয়ে পড়ার সুযোগটাই পায়নি ওরা।
পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার নাম্বার বুয়েটসহ সব ইঞ্জিনিয়ারিং এডমিশনেই প্রভাব ফেলে। নম্বইয়ের নিচে নাম্বার পেলে আবেদনটা পর্যন্ত করা যায় না। এ কারণে বহু স্টুডেন্ট সু*ইসাইডও করে।